‘Whatever has gone, has gone’ — says Mamata
April 24, 2013Another TMC MP – Another ‘Cheat’ Fund
April 23, 2013Trinamool’s Nexus with Fraudulant Chit Funds
April 21, 2013US Plot in Venezuela
April 20, 2013America’s New Gameplan in Korea
April 9, 2013Sudipto Enters into Eternity
April 9, 2013ফ্যাশন, নাকি প্রয়োজন?
March 13, 2013হলিউডের নায়কের মতো চুল, শার্ট-প্যান্ট-জুতোতে হলিউড বা বলিউডের ছাপ — এই ছিল একটা সময় পর্যন্ত পুরুষের ফ্যাশনের সীমা। মেয়েদের ক্ষেত্রটা একটু প্রসারিত। পোশাকের ছাঁটে নিত্যই নতুনত্বের দেখা না মিললেও বছর ঘুরে নতুন ডিজাইন আসতই। চুল থেকে নখ অবধি মেকাপের ক্ষেত্রেও নানা বৈচিত্র্য ছিল। মেয়েদের পার্স বা ভ্যানিটি ব্যাগ, অলঙ্কারকেও ফ্যাশনসামগ্রী হিসেবেই দেখা হতো, পুরুষের বেলায় যা ঘড়ি, আংটি বা অন্য কিছু অলঙ্কারে সীমাবদ্ধ। পুরনো এসব ফ্যাশনসামগ্রীর প্রভাব এখনও অটুট, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু বস্তু।
সাম্প্রতিক পরিভাষায় এগুলোর নাম গ্যাজেট। বলতে গেলে, মোটামুটি অবস্থাপন্ন সকলেরই একটি করে গ্যাজেট থাকে। আর নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের কাছ থাকে একাধিক গ্যাজেট। সবার কাছে আছে মোবাইল ফোন। তরুণ-তরুণীদের কাছে মোবাইলের সঙ্গে আইপ্যাড, ট্যাবলেট কি নিদেনপক্ষে একটা এমপিথ্রি থাকবেই। আগে দেখা যেত, তরুণরা পথ চলছেন কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে, গান হচ্ছে। পকেটে এমপিথ্রি বা এমপিফোর।
এখন মোবাইলের ভেতরই ঢুকে গেছে গান শোনা, ছবি তোলা, ভিডিও করা, ছবি দেখা মায় ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের খুঁটিনাটি সবকিছু। মোবাইলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এসেছে। ফলে কম্পিউটারে যা কিছু সম্ভব সবই এখন মোবাইলেই করা যাচ্ছে। থ্রিজি কানেকশন থাকলে তো কথাই নেই। আগের ফোন ছিল অতি প্রয়োজনের জিনিস, কথা বলা, রেডিও শোনা আর মেসেজ বিনিময় ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ তার কার্যক্রম। এখনকার ফোন সব কাজ করে। এই ফোনের নাম স্মার্টফোন।
আজকাল পত্রপত্রিকায় যেসব মোবাইলের বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলোতে স্মার্টফোনেরই দৌরাত্ম্য। দোকানে গেলে দেখা যায়, অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন স্মার্টফোনের দোকানে। বাজারে এসেছে বাহারি সব মোবাইল। বহুমূল্য ফোনের পাশে আছে সাশ্রয়ী ও চাইনিজ স্মার্টফোনও। স্মার্টফোনের নামই বলে দেয় এ বস্তু কেমন ফ্যাশনদার। স্মার্টফোনের আগে কোনো বস্তু নিজেকে স্মার্ট দাবি করেনি। আগে বলা হতো, এটি ব্যবহার করুন, এ বস্তু আপনাকে স্মার্ট করবে। এখন ফোন নিজেই বলছে, আমি স্মার্ট। ফোন এখন প্রয়োজনের সীমা পেরিয়ে ফ্যাশনসামগ্রী। নিয়মিত ফোন না বদলালে ফ্যাশন ধরে রাখা কঠিন। শুধু যে রঙ আর আকারের পরিবর্তনের কারণেই ফোন পরিবর্তন করা অপরিহার্য হয়ে উঠছে, তা নয়। কোম্পানিগুলো নিত্যনতুন সেবা দিয়ে নতুন অপশন চালু করে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করছে।
সমানে বিক্রি হচ্ছে, নতুন মডেলের গ্যাজেট। স্মার্টফোন নিজেই একটা কম্পিউটার। কম্পিউটারের সব কাজ এতে হয়। তারপরও সঙ্গে অনেকেই ট্যাবলেট রাখেন, নয়তো ল্যাপটপ। ল্যাপটপ দুই প্রস্থ বস্তু। কিন্তু ট্যাবলেট একেবারে এক প্রস্থ। দেখতে মোবাইলের বড় ভাই। কাজ একেবারে পিসির মতো। তাই ল্যাপটপের চেয়ে এর কদর বেশি। মোবাইলের ছোট পর্দার কাছে ট্যাবলেটের পর্দাই অনেক বড়। ল্যাপটপ তো আরও বড়। যারা মোবাইলে ছবি দেখতে অভ্যস্ত তাদের কাছে হয়তো পিসিতে দেখা ছবিই লাইফ সাইজ মনে হয়। সিনেপ্লেক্সের বড় পর্দা বিগার দ্যান লাইফ। দেখতে দেখতে পিসি বা পার্সোনাল কম্পিউটারের কদরও কমে এলো। অফিসে পর্যন্ত ডেক্সটপের জায়গা দখল করে নিয়েছে ল্যাপটপ। কিছুদিন পর হয়তো ল্যাপটপের জায়গা নেবে ট্যাবলেট। তারপর? সবই মোবাইলের ভেতর ঢুকবে।
সত্যিই কি তাই? সবকিছু ওই ছোট যন্ত্রে ধরবে? অনেক কিছুই ধরে যাবে নিশ্চিত। বিশেষ করে কেউ যদি শুধু সাবস্ক্রাইব করে যেতে চান গ্রহীতা হিসেবে তবে কোনো সমস্যাই নেই। কিন্তু কেউ যদি কিছু তৈরি করতে চান তবে বড় পর্দার দ্বারস্থ হতেই হবে। ডেস্কটপে লেখালেখি ভালো চলে, ল্যাপটপেও। কিন্তু ট্যাবলেটে কি সম্ভব? মোবাইলে তো আরও সম্ভব নয়। মোবাইলে পড়াটা খুব সম্ভব। কিন্তু পড়াটাই তো শেষ কথা নয়, কাউকে না কাউকে তো লিখতে হবে। গান শোনাটাই তো শেষ কথা নয়, কাউকে না কাউকে তো গাইতে হবে। সিনেমা বানাতে হবে, দুনিয়ায় আরও বহু কাজ হতে হবে। সেসব মনে রাখাও কিন্তু জরুরি।







