Bofors Case Withdrawn … বোফর্স মামলা তুলেই নেওয়া হ’ল

অবশেষে তুলেই নেওয়া হলো বোফর্স মামলা

সংবাদ সংস্থা

    নয়াদিল্লি, ৪ঠা মার্চ — স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি, কালো টাকা উদ্ধারে সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের ধমকের মাঝেই বোফর্স কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ওত্তাভিও কাত্তোরোচ্চির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারে নাছোড় সি বি আই-কে বেমালুম অনুমতি দিয়ে দিল দিল্লি আদালত।

    দু’দশকের পুরানো কাত্তোরোচ্চির বিরুদ্ধে মামলা গুটিয়ে নেওয়ার জন্য সি বি আই-র আবেদন শুক্রবার দিল্লির তিস হাজারি আদালতের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিনোদ যাদব বিলকুল মেনে নিয়েছেন। আদালতের যুক্তি, এরমধ্যেই ২৫০কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। ‘কখন গিয়ে এই খরচের শেষ হবে? তাছাড়া, কাত্তোরোচ্চিকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।’ অথচ, বছরের গোড়ায় এই আদালতই ‘মামলা গুটিয়ে নেওয়ার জন্য’ সি বি আই-র আবেদনকে ভর্ৎসনা করেছিল। ‘অসৎ উদ্দেশ্য থেকেই কাত্তোরোচ্চির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সি বি আই’ — সেদিন বস্তুত এমনই গুরুতর অভিমত জানিয়েছিল দিল্লির আদালত। সেদিন যাদবের সুনির্দিষ্ট অভিমত ছিল, ‘এক্ষেত্রে কিছু অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে আমিও একমত। এব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’
   

    বোফর্স বরাতে কাত্তোরোচ্চি ও উইন চাড্ডার ঘুষ নেওয়ার ঘটনা আয়কর দপ্তরের ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হওয়ার পরেও তা আড়াল করতে শুরু থেকেই মরিয়া ছিল কেন্দ্র। ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে নির্দিষ্টভাবে জানায়, বোফর্স হাউইৎজার কামান বেচাকেনায় ৪১কোটি টাকা উৎকোচ পেয়েছিলেন ইতালীয় ব্যবসায়ী ওত্তাভিও কাত্তোরোচ্চি এবং উইন চাড্ডা। এরপরেও কাত্তোরোচ্চির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে চায় সি বি আই। যে কাত্তোরোচি গত দু’দশকে ভারতের কোনও আদালতে কখনও হাজির হয়নি। ১৯৯৩তে নরসিমা রাওয়ের আমলে পালিয়ে যেতে দেওয়া হয় কাত্তোরোচ্চিকে। চার বছর আগে ইন্টারপোলের নোটিসের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনা আটক করে কাত্তোরোচিকে। সি বি আই তখন তথ্য অনুবাদের জন্য সময় নেয়। ভারতের হাতে কাত্তোরোচিকে প্রত্যর্পণের জন্য দৃশ্যতই টালবাহানা করে। আর এভাবেই আর্জেন্টিনা আদালতে নিছক অনুবাদকের দোহাই দিয়ে কাত্তোরোচ্চিকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ করে দেয় কেন্দ্র। এবং চার মাস বাদে, শেষ পর্যন্ত কাত্তোরোচিকে প্রত্যর্পণের মামলা হেরে যায়।
   

    বছরের গোড়ায় আয়কর দপ্তরের ট্রাইব্যুনালের রায়ে ফের মাটি ফুঁড়ে বেরোয় বোফর্স কেলেঙ্কারি। একের পর এক দুর্নীতর ধাক্কায় জর্জরিত কেন্দ্রের ইউ পি এ সরকার। তার ওপর ২৫বছর ধরে কংগ্রেসকে তাড়া করা বোফর্স মামলা। সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ ইতালীয় ব্যবসায়ী কাত্তোরোচ্চিকে আড়াল করতে সি বি আই মামলা প্রত্যাহারে শুরু থেকেই তাই তৎপর ছিল কেন্দ্র। বস্তুত, গত বছর সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা গুটিয়ে আনার আবেদন জানায় সি বি আই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেন, ‘এটা কোনো ভা‍লো বিষয় নয় যে, দেশের আদালতে মানুষকে হয়রান করা এবং কাত্তোরোচ্চির মামলা এই প্রসঙ্গে সরকারের কাছে অস্বস্তিকর।’ তখন এভাবেই কাত্তোরোচ্চিকে রেহাই দেওয়ার সঙ্কেত দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী এবারে কি বলবেন? ট্রাইব্যুনালের রায়ে ঘুষ নেওয়া প্রমাণিত। এবং প্রধানমন্ত্রী যথারীতি চুপ।

    এদিন সি বি আই-র পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল পি পি মালহোত্রা দাবি করেন, ‘পঁচিশ বছর হয়ে গিয়েছে। কাত্তোরোচ্চিকে প্রত্যর্পণের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কখন আমরা তাকে পাব? কখন শুনানি হবে? সেকারণে আমরা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    ১৯৮৬’র ২৪শে মার্চ। চারশোটি ১৫৫মিলিমিটার হাউইৎজার কামান কেনার জন্য সুইডেনের এ বি বোফর্স সংস্থার সঙ্গে ১৪৩৭কোটি টাকার চুক্তি সই করে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। বছরখানেক বাদে সুইডিশ রেডিও-র চাঞ্চল্যকর ঘোষণা। চুক্তি পাকা করার জন্য ভারতীয় রাজনীতিক ও প্রতিরক্ষার ক্ষমতাশালী অফিসারদের প্রচুর ঘুষ দিয়েছে বোফর্স । দেশজোড়া সমালোচনার মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী লোকসভায় আশ্বাস দিলেন, ‘বোফর্স চুক্তিতে কোন দালাল যুক্ত ছিলো না, কোন ঘুষও কাউকে দেওয়া হয় নি।’ ঘুষের অভিযোগ তদন্তের জন্য বি শঙ্করানন্দের নেতৃত্বে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জে পি সি) গঠন। শেষে ১৯৮৯’র লোকসভা নির্বাচনে হেরে যায় কংগ্রেস।

Advertisements

Tags: , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: