Indira Awas Yojana Scam By The Trinamoolis

 

ইন্দিরা আবাসের টাকা হাতিয়ে তৃণমূল নেতাদের হুমকি, ‘চিরদিনের’ ঘরের ব্যবস্থা করে দেবো!

নিজস্ব সংবাদদাতা

    পুরশুড়া, ৬ই মার্চ — কেন্দ্রের সরকারের সঙ্গে কথা বলে ইন্দিরা আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির ব্যবস্থা মমতা ব্যানার্জিই করে দিয়েছেন। তাই ইন্দিরা আবাস যোজনার প্রাপ্য টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হবে তৃণমূলীদেরই। এবং বাড়িও তৈরি করে দেবে স্থানীয় তৃণমূলীরাই। তাই টাকা আর পাসবই দিতে হবে তাঁদেরই হাতে।

    তথাকথিত পরিবর্তনের স্লোগান আওড়ানো তৃণমূলীদের নয়া বিধান।

    সাক্ষী পুরশুড়ার বড়দিগরুই গ্রামের ২৭টি পরিবার। লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই তৃণমূলীদের নির্বিচার সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলো পুরশুড়ার শ্যামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বড়দিগরুই,পরশ্যামপুর, নেওটা-বটতলাসহ একের পর এক জনপদ। বাস্তুভিটে থেকে শুরু করে চাষের জমি, সব কিছু ছেড়ে ঘরছাড়া হয়ে থাকতে হয়েছিলো শত শত মানুষকে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের জানকবুল লড়াইয়ের প্রত্যয়ে ফের গত বছরের ডিসেম্বরে ঘরে ফেরে পুরশুড়া। কিন্তু সন্ত্রাসের ঐ ১৮মাস পুরশুড়াকে চিনিয়েছে তৃণমূলীদের স্বরূপ।

    বড়দিগরুই বাসস্ট্যান্ড থেকে মুণ্ডেশ্বরীর পাড় ধরে ভাঙাচোরা বাঁধের রাস্তা ধরে মসজিদতলায় দেখা হলো সুলতানা বেগম, জিলু মণ্ডল, আখতার মল্লিকদের সঙ্গে। রীতিমতো উত্তেজিত অবস্থায় জানাচ্ছিলেন রেলমন্ত্রীর দলের কাণ্ডকারখানা। কিভাবে গরিব মানুষের টাকা লুট করা হচ্ছে সে কথা জানাতে গিয়েই তাঁরা বলছিলেন তৃণমূলীদের নয়া বিধানের কথা। মসজিদতলার মোড়ে দাঁড়িয়ে সুলতানা বেগম বলছিলেন, গত বছরের ২৮শে অক্টোবর এখানকার তৃণমূল নেতা শেখ আবুধ, আবদুল মিদ্যা, অলোক ব্যানার্জিরা হুমকি দিয়ে জানিয়েছিলো, ইন্দিরা আবাস যোজনায় তোমাদের নতুন ঘর হবে এবং সেই ঘরের টাকা তুলতে হবে তোমাদেরই। এই বলে আমাদের নিয়ে যায় ব্যাঙ্কে। সেসময় আমাদের বলা হয়েছিল এখন তোমরা পাবে সাড়ে বাইশ হাজার টাকা। অর্ধেক কাজ এগিয়ে গেলে সেই কাজ দেখিয়ে আরো সাড়ে বাইশ হাজার টাকা পাবে পুরো বাড়ি তৈরির জন্য। ওদের কথা অনুযায়ী আমরা ওদের সঙ্গেই ব্যাঙ্কে যাই, কিন্তু টাকা তোলার পরই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা শেখ আবুধ, অলোক ব্যানার্জি, আবদুল মিদ্যারা আমাদের কাছ থেকে ব্যাঙ্কের পাসবই সহ সমস্ত টাকা নিয়ে বলে এই সমস্ত বাড়ির কাজ দিল্লির সরকারের সঙ্গে কথা বলে তৃণমূলরাই করে দিচ্ছে। সে কারণে আমরা পাঁচ হাজার করে টাকা পার্টির জন্য নিলাম, আর বাড়ি আমরা করে দেব সেজন্য টাকা পাসবইও আমাদের কাছে রেখে দিলাম।

    সুলতানার জনমজুর স্বামী রফিক আক্ষেপ করে বললেন ‘তখন বাধ্য হয়ে বিশ্বাস করেছিলাম। টাকা তোলার পরের দিনই কাজও শুরু হয়েছিল। চারদিন কাজ হয়েছিল। সাতজন লেবার আর একজন মিস্ত্রি, সঙ্গে দেড় হাজার ইঁট, দশবস্তা সিমেন্ট, নব্বই বস্তা বালি। আমাদের মসজিদতলা এলাকা আর তার পাশে কয়েক ঘর সব মিলিয়ে সাতাশ জনের ঘর হবে, কথা ছিল। চারদিন পর দেখলাম সবাই কাজ ছেড়ে চলে গেল। আমরা সেই দেখে তৃণমূল নেতা আবদুল মিদ্যার কাছে গিয়েছিলাম ঘটনা জানাতে। উনি প্রথমে কোন কথাই শুনতে চাইছিলেন না। পরে বললেন, ‘তোমাদের যা কাজ হয়েছে তাতেই সব টাকা খরচ হয়ে গেছে’।

    সুলতানা বেগমের ঘরের সামনে গিয়ে দেখা গেল একটা দশফুট বাই দশফুট জায়গায় মাত্র আড়াই ফুট উঁচু আর পাঁচ ইঞ্চি চওড়া দেওয়াল উঠে থমকে গেছে ইন্দিরা আবাস যোজনার বাড়ি। যার খরচ হয়েছে সাড়ে বাইশ হাজার টাকা। অভিজ্ঞদের কথা অনুযায়ী, এই কাজের জন্য খরচ হয় ১৪হাজার টাকা মতো। দোলেহার বিবি, বয়স্ক শেখ সিরাজুদ্দিনরা এখানে দাঁড়িয়েই জানালেন বাইশটা ঘরতো এভাবে শেষ করেছে। আমাদের পাঁচ জনের তো কোন কিছুই হয়নি। একটা মাটি খোঁড়ার কাজও হয়নি, বাড়ি তো দূরের কথা। টাকা কিন্তু সবার থেকেই ওরা নিয়েছে। আগে জানলে আমরা সাফ জানিয়ে দিতাম, আমাদের ঘরের দরকার নেই।

    মরজিনা বিবি জানালেন ক’দিন আগেই ওদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমাদের ঘরগুলোর কি হবে? তাতে ওদের কাছ থেকে যে উত্তর মরজিনা বিবিরা পেয়েছিলেন তা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। শেখ আবুধরা মরজিনা বিবির প্রশ্নের উত্তরে বলেছিল, তোমরা এখন হার্মাদদের কাছে ভিড়েছো। বিধানসভার ভোট হোক মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তোমাদের চিরদিনের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করে দেবো। সেটা কিরকম জানতে চাওয়ায় আবুধরা উদাহরণ হিসাবে দিয়েছিল, গ্রামের দু’জন যেভাবে চিরদিনের ঘর পেয়েছে সেইরকম। এই দু’জন আসলে হলেন বড়দিগরুইয়ের কৃষক নেতা কমরেড শেখ হাসিবুল হোসেন আর সাইফুন্নেসা বিবি। গ্রাম দখলের উদ্দেশ্যে তৃণমূলের জল্লাদবাহিনী যাঁদের নৃসংশভাবে খুন করে।

    তবে সুলতানা বেগম, মরজিনা বিবি, দোলেহার বিবিরা তৃণমূলের ঘাতকবাহিনীর কথা শুনে দমে যাননি। তৃণমূলীদের স্বরূপ চিনেছেন, বুঝেছেন প্রকৃত বন্ধু কারা। তাই আজ লাল পতাকার মিছিলেই পা মেলান সুলতানা বেগম, আখতার মল্লিকরা।

Advertisements

Tags: , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: