Youth Immolate In Front Of Mamata’s House in Kalighat, Kolkata

 

immolated-youth

মমতার বাড়ির সামনে গায়ে আগুন দিলেন রেলে চাকরির নামে প্রতারিত যুবক

নিজস্ব প্রতিনিধি

    কলকাতা, ৬ই মার্চ — কথামতো রেলের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার না পেয়ে রবিবার সকালে কালীঘাটে মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে গায়ে ডিজেল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক যুবক। ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে টালিগঞ্জের এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি ঐ যুবককে কলকাতার একটি নার্সিংহোমে তুলে নিয়ে যান তৃণমূল নেতারা। হাসপাতালে নিজেদের ঐ যুবকের আত্মীয় বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে রীতিমতো বন্ডে স্বাক্ষর করে সেখান থেকে সরিয়ে নেয় ঐ তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা। রাত পর্যন্ত ঐ যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আত্মহত্যার চেষ্টা করা এই যুবকের নাম প্রসূন দত্ত (৩৪)। বাড়ি হুগলীর বাঁশবেড়িয়ায়। তিনি তৃণমূলেরই কর্মী। নার্সিংহোমে ভর্তি করার পর ঐ যুবকের দাদা প্রণয় দত্তকে চূঁচুড়া থেকে নিয়ে আসা হয়েছে নার্সিংহোমে। চূঁচুড়ার উপ পৌরপ্রধান অমিত ঘোষকে দাদা প্রণয় দত্তের সঙ্গে থাকার দায়িত্ব দিয়েছেন কলকাতার তৃণমূল নেতারা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রোজই কালীঘাটে মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে সকাল থেকে রেলের চাকরি আশায় সমবেত হয় বহু যুবক। এদিনও মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে রেলের ক্যাম্প অফিসে এসেছিলেন প্রসূন দত্তের মতো আরো ২০জন। দীর্ঘসময় ধরে অপেক্ষা করার পর তাদের তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা জানিয়ে দেন নির্বাচনের তারিখ যেহেতু ঘোষণা হয়ে গেছে তাই ঐ ক্যাম্প এখন বন্ধ। প্রসূন দত্ত তাদের জানান, তাঁকে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে তাঁর চাকরি হয়ে গেছে। চুঁচুড়ার তৃণমূল নেতা তপন দাশগুপ্তের সঙ্গে কথাও হয়েছে। তৃণমূলী নেতারা এর কোন উত্তর না দিয়ে মমতা ব্যানার্জির বাড়ির মধ্যে ঢুকে যান। একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে আসা প্রসূন দত্ত এরপর চূড়ান্ত বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যান। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘দিদির সঙ্গে দেখা করবো, বলুন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত পাঠিয়েছে’। কিন্তু ভিতর থেকে কোন উত্তর আসেনি। সম্ভবত প্রসূন দত্তের ধারণা ছিলো এদিনই তাঁকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেওয়া হবে। তাঁকে বলা হয়েছিলো কালীঘাটে দিদি রয়েছেন। কিন্তু প্রসূন দত্ত জানতেন না মমতা ব্যানার্জি এখন রয়েছেন দিল্লিতে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল করছেন প্রসূন।

    পুলিস জানিয়েছে, বাঁশবেড়িয়ায় এ এম বি সি কেবল অপারেটরের কাজে আংশিক সময়ের কর্মী প্রসূন দত্ত। পাড়া ঘুরে কেবলের তার ঠিক করেন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পেরেছে রেলে এই চাকরির নামে টাকা পয়সার লেনদেনও হয়েছে এবং বকুলতলায় এ এম বি সি অপারেটরের মালিক অমল নাগ তাঁকে চাকরির জন্য টাকা ধার দিয়েছে। বাড়িতে তিনি বলে দিয়েছিলেন রেলে তাঁর এই বয়সেও চাকরি হয়ে গেছে ।

    সম্ভবত প্রসূন দত্তের ধারণা ছিল মমতা ব্যানার্জি না হোক, তৃণমূলের ওপরতলার কেউ তাঁকে চাকরি পাওয়ার একটা সুসংবাদ দেবে। কিন্তু তা হলো না দেখে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন প্রসূন দত্ত। মমতা ব্যানার্জির বাড়ির পিছনের খালের ধার বরাবর একটি জেনারেটর রাখা থাকে। ইটের পাঁজার পাশে ঘুরতে ঘুরতে আচমকা প্রসূনের দত্তের চোখে পড়ে যায় জেনারেটরটি। জেনারেটরের পাশে রাখা ছিল এক ড্রাম খোলা তেল। সেই তেল গায়ে ঢেলে গায়ে আগুন জ্বেলে দেন তিনি। প্রসূন এতটুকু চিৎকারও করেননি। আগুন লেগেছে, ধোঁয়া বের হচ্ছে দেখে মমতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়, সঙ্গে আরও কয়েকজন। তখন মমতা ব্যানার্জির বাড়ির লাগোয়া খালপাড়ে ‘তারা মা ঘাটে’ দাউ দাউ করে জ্বলছেন প্রসূন দত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুকুল রায় তাঁকে ধাক্কা মেরে টানি নালায় ফেলে দেন। ইতোমধ্যেই রেলমন্ত্রীর ঘরের বাইরে থাকা কালীঘাট থানার পুলিস কর্মীরা বিষয়টি দেখতে পান। পুলিস এসে খাল থেকে উদ্ধার করেন ঐ যুবককে। পুলিসই জিপে করে তাঁকে নিয়ে চলে যায় টালিগঞ্জের এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। সেখানেই বার্ন ওয়ার্ডে দ্রুততার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। কালীঘাটের সাব ইন্সপেক্টর বিনয় চক্রবর্তী তাঁকে ভর্তি করে দেন ডাঃ অসীম চক্রবর্তীর অধীনে। চিকিৎসাও শুরু হয়ে যায়।

    ততক্ষণে তৃণমূল নেত্রীর কাছে খবর পৌঁছে গেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে সামাল দিতে নামেন তৃণমূলের নেতারা। ফোন যায় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে তৃণমূল কর্মী ইউনিয়নের সম্পাদক রেজ্জাক আলি পুরকায়েতের কাছে। হাসপাতাল সামলাতে হবে এই খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যান ৯৪নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি সুদীপ্ত দাস এবং তাঁর সঙ্গীরা। হাসপাতালের বার্ন ওয়ার্ডের দরজা আটকে দীর্ঘসময় তৃণমূলের নেতাদের সলাপরামর্শ করতেও দেখা যায়। এরপরে সেখান থেকে পুলিসের সামনে দিয়ে ঐ দগ্ধ দেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ক্যাম্প পুলিসকে অবশ্য দেখানো হয় রোগীকে সরানোর বন্ড। তবে পরে জানা যায় ঐ বন্ডে আত্মীয় সেজে অন্য কেউ স্বাক্ষর করেছে। প্রসূন দত্তকে বেলভিউ নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮৩শতাংশ জ্বলে গেছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষছেন প্রসূন।

    কিছুক্ষণ পরে আসেন প্রসূন দত্তের দাদা প্রলয় দত্ত। একটি সাদা রঙের মারুতি চেপে, সঙ্গে চুঁচুড়া পৌরসভার তৃণমূলী উপপ্রধান অমিত ঘোষ। জানা গেছে, পুলিস কর্মীদের দরজার বাইরে রেখে নিজেদের মত করে ঘটনার বয়ান লিখিয়ে তাতে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে চাকরির নামে প্রতারিত হওয়া ওই যুবকের। ওই বয়ানে নাকি লেখা রয়েছে সি পি এমের লোকজন তৃণমূলে ঢুকে দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। দিদিকে সেকথাই জানাতে এসেছিলাম।সেজন্যই নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা। অভিযোগ উঠেছে এই বয়ানে সই করানোর সময় পুলিসের কেউ ছিল না। আরো প্রশ্ন উঠেছে, ৮৩ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ব্যক্তি বয়ানে সই করলেন কী করে? এর উত্তরও পুলিস দিতে পারছে না।

Advertisements

Tags: , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: