Mamata Threatens To Bring Back 1970s…

 

৭০-এর দশক ফিরিয়ে আনার হুমকি!

মানব মুখার্জি

    মধ্যযুগীয় পাঁকের সাথে মেশান হচ্ছে বিশ্বায়নের পারফিউম। মৃন্ময়ী থেকে ক্রমশ চিন্ময়ী হচ্ছেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে কদাকার রাজনৈতিক প্রতিমাটি। সৌজন্য ‘৭০ থেকে ৭৭’র ‘যুগ যুগ জিও’ রাজনীতি এবং আনন্দবাজারের এয়ার কন্ডিশন সম্পাদক/ মালিকের চেম্বার।

    একটানা চেষ্টা চালাচ্ছে ৬ নম্বর প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটের রাজনৈতিক বিউটিশিয়ানরা, প্রমাণ করতে হবে ‘উনি একজন নয়া প্রজন্মের দক্ষ প্রশাসক।’ মঞ্চ থেকে নেমে ‘যুবককে থাপ্পর মারলে’ জানা চেনা সাংবাদিকরা আবেগে বিহ্বল হয়ে লিখছেন — এরকম প্রশাসক হয় না। ঠিকই পুলিস লাগে না, আদালত লাগে না – হবু ‘মুখ্যমন্ত্রী’ থাপ্পর মেরে দেশকে ঠাণ্ডা রাখে। দুরন্ত থেকে উড়ন্ত নানা ধরনের ট্রেনের প্রতিশ্রুতি — আহা, কি প্রশাসক। শিলায় শিলায় বাংলা এক নতুন শিলালিপি — দারুণ! রেলের ভাণ্ডার ফতুর করতে লেগেছে মাত্র দেড় বছর – ভাবা যায় না। চার মাসে রাজ্যের সব বেকারকে কাজ হিটলারের পর উনিই পারবেন। আর আনন্দবাজার কত লিখবে। শুধু লিখলে চলবে না, কত কিছু মুছতে হচ্ছে। খেটেখুটে নেত্রী নাম কিনলেন ‘অগ্নিকন্যা’ বলে। এই নামের পেছনে অনেক পরিশ্রম, অনেক রক্ত ঘাম। একজনের ডাকে সবচেয়ে বেশি বাংলা বন্‌ধ, সবচেয়ে বেশি রেল অবরোধ (এই কৃতিত্বের জন্যই বোধহয় রেলমন্ত্রী হয়েছেন) সবচেয়ে বেশি ট্রামে, বাসে আগুন লাগিয়েই তো এই উপাধি অর্জন করেছিলেন। এই উপাধি গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে নিখোঁজ। কারণ শান্তির জল ছিটিয়ে অগ্নিকন্যা উপাধি পেয়েছেন — এটা সর্বাধিক প্রচারিত নিরপেক্ষরাও পাওয়াতে পারবে না। কিন্তু ভাবমূর্তির রঙ মিস্তিরিদের কারুকার্য ফুটে আসল চেহারা বেরিয়ে যাচ্ছে। নানা ভাবে ম্যানেজ করে ‘অগ্নিকন্যা’কে লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’এ পরিণত করার পরও সামনে চলে আসছে ৭০ থেকে ৭৭’এর রাস্তা থেকে গাড়ির মাথায় নেচে বেড়ান’র চেহারাটা।

    যাকে ঘষে মেজে ‘একটু কালো’ মার্গারেট থ্যাচার হিসাবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছিল তিনিই হঠাৎ প্রতিপক্ষকে ‘ঢুকিয়ে দেবার’ ইচ্ছা প্রকাশ করে ফেলেছেন প্রকাশ্যে। রঙ মিস্তিরিরা এখন কি করে?

    বাজারে প্রোডাক্ট ছাড়ার আগেই তো বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিপক্ষকে মাত্র ৭৪টা আসনে আটকে বলে দেওয়া হয়েছে তাদের কোম্পানির এই নতুন মালটি কিনলে ঝাঁ চকচকে পরিবর্তন অবধারিত। সঙ্গে পাচ্ছেন থার্ড জেনারেশন দাগহীন প্রশাসক।

    এখন বিজ্ঞাপিত নেত্রী প্রশাসন কন্ট্রোল না করে, মাস্তানদের কন্ট্রোল করার আসল চরিত্রটি প্রকাশ করে দিলে প্রোডাক্টের বাজার কমে শুধু তাই না, কোম্পানিরও শেয়ার দর কমে যায়।

    বেরিয়ে আসছে অন্ধকার, বেরিয়ে আসছে ক্লেদ, মেকআপ সরিয়ে বে‍‌রিয়ে আসছে ৭০-৭৭’এর বাংলা চিবিয়ে খাওয়া পুতনা রাক্ষসীরা।

    ফেসবুকে একটা কথা ঘুরছে, পরিবর্তন মানে আজকের দিদি, কালকের মোদি। হালকা চালের এই কথাটির মধ্যে প্রকাশিত এক গভীর সত্য। এইসব মিডিয়া কুল এখন মোদিকেই তো দেশের সামনে আইকন বানাচ্ছে। ক্রিকেটের রিপোর্ট লিখতে গিয়েও মোদি বন্দনা করতে ভুলছেন না। মোদি মানে উন্নয়ন, মোদি মানে যোগ্যতম প্রশাসক। এক মধ্যযুগীয় মতাদর্শের প্রচারক। হিংস্র দাঙ্গাবাজ আর আধুনিক প্রশাসকের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। বরং তৃতীয় বিশ্বের বিশ্বায়নের নেতারা হবে এরকম। যারা চিন্তায় হবেন প্রগতি-বিরোধী। গণতন্ত্র-বিরোধী। কারণ বিশ্বায়নের যোগ্য প্রশাসক তিনি, যিনি বুলডোজার দিয়ে মানুষের প্রতিরোধ আগেই ভাঙতে পারেন। আর লাগাতার লুট করতে দেওয়াটাইতো প্রশাসকের কাজ। আনন্দের ঘরে বসে আহ্লাদিত নেত্রী বলে দিয়েছেন — বন্‌ধ, ধর্মঘট এই সব কিছু নিষিদ্ধ হবে — এর থেকে মধুমাখা কথা কর্পোরেটদের কাছে আর কি হতে পারে। বিনা কারণে তো হেলিকপ্টার দেয়নি।

    এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন ‘সি পি এমের কত ক্ষমতা জানা আছে। বাহাত্তর-সাতাত্তরে হেরে গেছিল — সব পালিয়ে গেছিল। তারপর আবার জয়প্রকাশ নারায়ণের হাত ধরে ফিরে এসেছে। কত সাহসী সব জানা আছে।’

    আপত্তি জয়প্রকাশ নারায়ণে, আপত্তি ফিরে আসায়। অর্থাৎ ’৭২-’৭৭টা চিরস্থায়ী হলেই ভালো হতো। এবার কোন চিন্তা নেই, ’৭২-এ যদি বোমা পিস্তল থাকে, এবার সঙ্গে আছে কিষেনজীর একে-৪৭ আর তার থেকে বেশি আছে মিডিয়ার সর্বশক্তি, মিডিয়ার কলম আর ক্যামেরা।

    অতএব পরিবর্তনের জন্য তৈরি হোন। জানিয়েছেন ওনাকে দশ বছর কিছু বলা যাবে না। সি পি এম ‘পালিয়েছে’, ধর্মঘট-বন্‌ধ সব নিষিদ্ধ, প্রতিবাদ করলে ‘গুণ্ডা ভেতরে ঢুকিয়ে দেবো’। মুখবন্ধ করে থাকুন, যদি অসহ্য হয়, যা না পড়লে পিছিয়ে পড়তে হয়, সেই আনন্দবাজার পড়বেন —

    যাক যদি যায় প্রাণ, কালীঘাটের রানী ভগবান।

    একবার শুধু পরিবর্তন করে দিন, একবিংশ শতাব্দীতে ১৯৭২কে ফিরিয়ে আনবেন।

    চিতা থেকে কি হাততালি দিয়ে উঠে বসছেন সিদ্ধার্থশংকর রায়। আগেই বলেছিলেন — মমতা আমার যোগ্য উত্তরসূরি। তবে একটা কথা জানানো প্রয়োজন। শুধু সিদ্ধার্থ রায় জাগছে না। জাগছে আরো অনেকে। জাগছে বরানগর-বেলেঘাটার শহীদ ছেলেগুলো, প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতর পিটিয়ে মারা হয়েছিল যাঁদের সেই ছেলেগুলো। মিঞাবাগানের রাস্তায় নেমে এসেছে সি আর পি-র গুলিতে মরা তেরো বছরের শিপ্রা সাহা। কালনা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে উঠে দাঁড়িয়েছেন কমরেড মহাদেব মুখার্জি। আর বিমল দাশগুপ্তকে জ্বলন্ত চেয়ারে বসিয়ে রাখা যাবে না।

    দেখা হবে — লড়াইয়ের ময়দানে। দেখি কার জোর বেশি — কর্পোরেটের টাকায় ওড়া হান্টারওয়ালীর দল না লাল ঝাণ্ডার ঘামঝরানো মিছিল।

    দেখা হবে লড়াইয়ের ময়দানে।

Advertisements

Tags: , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: