TATA’s Sharp Reaction on Singur Bill

 

কড়া প্রতিক্রিয়া টাটাদের: আক্রমণ, হুমকিতেই সরানো হয় কারখানা

নিজস্ব প্রতিনিধি

    tata-singurকলকাতা, ১৪ই জুন— সিঙ্গুর বিল খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে টাটা মোটরস। মঙ্গলবারই রাজ্য বিধানসভায় সিঙ্গুর বিল পাস হওয়ার পর এক প্রেস বিবৃতিতে এই প্রক্রিয়া জানানো হয়েছে টাটা মোটরসের তরফে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিঙ্গুরে কারখানা তৈরি না করা এবং প্রকল্পটিকে পরিত্যাগ করে যাওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে টাটা মোটরসকে। কিন্তু, কোন্‌ পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ করতে হয়েছিলো এবং কারখানা স্থানান্তরিত করা হয়েছিলো তার কারণ বিলে বলা হয়নি।

    টাটা মোটরসের তরফে এদিন বলা হয়, সিঙ্গুরে ঐ কারখানাটি গড়ার জন্য প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলো টাটা মোটরস। সমস্ত যন্ত্রপাতি বসানো হয়ে গিয়েছিলো এবং পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে উৎপাদনও শুরু হয়ে গিয়েছিলো। এখনও সেখানে রয়ে গেছে কোম্পানির বিল্ডিং, শেড এবং অন্যান্য পরিকাঠামো, যাতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিলো। এছাড়াও টাটা মোটরসের সহযোগী ১৩টি যন্ত্রাংশ কারখানা (ভেন্ডর)-ও তাদের কারখানা নির্মাণ করেছিলো। এছাড়াও আরও ১৭টি সংস্থার কাজও চলছিলো বিভিন্ন পর্যায়ে। যাতে তাদেরও খরচ হয়েছিলো প্রায় ১৭১ কোটি টাকা।

    প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার রাজ্য বিধানসভায় এদিন যে ‘দি সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলি‍‌টেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিল, ২০১১’ বিলটি পাস করে, তাতে সিঙ্গুরে জমি পাওয়ার ৪ বছরেও কারখানাটি চালু না করা এবং ছেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে টাটা মোটরস এবং তাদের সহযোগী যন্ত্রাংশ কারখানাগুলিকে। বিলে আরও বলা হয়, সেখানে কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন না হওয়ায়, প্রকল্প এলাকা এবং তার সংলগ্ন এলাকায় মানুষ কোনোভাবেই উপকৃত হননি। বিলে বলা হয়েছে, অথচ কারখানা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেই টাটা মোটরস এবং তাদের অনুমোদিত যন্ত্রাংশ কারখানাকে দেওয়া হয়েছিলো ৯৯৭.১১ একর জমি।

    এদিনের প্রতিক্রিয়ায় বিলের সেই অংশের উল্লেখ করে, তার ওপর প্রতিক্রিয়া জানায় টাটা মোটরস। বিবৃতিতে তারা বলে, কোন্‌ পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ করে কারখানা স্থানান্তরিত করতে হয়েছিলো, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই বিলে। বিবৃতিতে টাটা মোটরস বলে, সংঘর্ষ, কাজ বন্ধ করে দেওয়া, সম্পত্তি নষ্ট করা, কর্মীদের হুমকি দেওয়ার মতো অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেই কাজ চালাতে হচ্ছিলো সংস্থাকে। ২০০৮ সালের ২২শে আগস্ট, কাজের উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরির জন্য একটি আবেদনও জানানো হয়েছিলো। কিন্তু, পরিবর্তে তা প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় সড়ক অবরোধের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছিলো। কর্মীদের শারীরিক হেনস্তা এবং হুমকির মাত্রাও বাড়তে থাকে। সেই পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিস্তিতি এবং নিরাপত্তার কোনো গ্যারান্টি ছিলো না। বাধ্য হয়ে টাটা মোটরস ২০০৮ সালের ৩রা অক্টোবর কাজ বন্ধ করে, কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    টাটা মোটরসের তরফে এদিন আরও বলা হয়, টাটা মোটরসের তরফে সিঙ্গুরে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পও চালু করা হয়েছিলো ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই। এমনকি, কারখানার নির্মাণ কার্য শুরুর আগে থেকেই সে কাজ শুরু করা হয়েছিলো। ৭৬৭ জন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিলো। চালু করা হয়েছিলো হেলথ্‌ ক্লিনিক যাতে কাজ বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। স্থানীয় বিদ্যালয়গুলিকে পরিকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হয়েছিলো। স্থানীয় পুরুষ এবং মহিলাদের স্বনির্ভরতার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছিলো। টাটা মোটরস জানায়, রাজ্যের গাড়ি নির্মাণ শিল্পের পুনরুজ্জীবনের স্বার্থে এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আমন্ত্রণেই সেখানে প্রকল্পটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো টাটা মোটরস। যদি কারখানাটি হতো তবে সরাসরি মূল কারখানায় ২ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান এবং যন্ত্রাংশ কারখানা ও তাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য পরিষেবা‍‌ ক্ষেত্র মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ কাজ পেতেন। যা এখন যেখানে কারখানাটি হয়েছে, সেখানে হচ্ছে। টাটা মোটরস বিবৃতিতে বলেছে, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো, সেই পরিস্থিতির কারণেই সেখান থেকে কারখানাটি সরিয়ে নেওয়ার যন্ত্রণাদায়ক সিদ্ধান্তটি নিতে বাধ্য হয়েছিলো টাটা মোটরস।

    প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর বিল নিয়ে এই প্রথম প্রতিক্রিয়া জানানো হলো টাটা মোটরসের তরফে। এবং তা যথেষ্ট কড়া ভাষায়। দিন কয়েক ধরেই সিঙ্গুর বিল নিয়ে রাজ্য রাজনীতি আলোড়িত হলে‍‌ও, টাটা মোটরসের তরফে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। কিন্তু, এদিন রাজ্য বিধানসভায় ঐ কারখানা না গড়ার জন্য যেভাবে একতরফাভাবে টাটা‍‌ মোটরস ও তাদের সহযোগী যন্ত্রাংশ কারখানাগুলিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, এদিনের বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট, সে কারণেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলো টাটা মোটরস। বিলটি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণেরও কথা বলেছে টাটা মোটরস।

    প্রসঙ্গত, যে অভিযোগে টাটা মোটরসের কাছ থেকে জমি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের দ্বিচারিতা স্পষ্ট। বিলে এই কারখানা তৈরি না করতে পারার জন্য টাটা মোটরসকেই দায়ী করে আসলে তৃণমূল কংগ্রেস তার সেসময়ের দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনৈতিক আন্দোলনকেই বৈধতা দিতে চেয়েছে। যদিও, বিলে তার সম্পর্কে একটি কথাও সত্যিই উল্লেখ করা হয়নি। এখনও বলা হচ্ছে, অনিচ্ছুক জমি মালিকদের জমি ফেরত না দিলে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটবে। কিন্তু, তাকে কারা উসকানি দিয়েছিলো, বিলে তার সম্পর্কে একটি কথাও বলা হয়নি। ঠিক যেমন বলা হয়নি, যেখানে রাজ্য সরকারই এখনও মনে করছে অনিচ্ছুকদের জমি (দাবি অনুযায়ী ৪০০ একর) ফেরত না দিলে সমস্যা হবে, সেখানে ৯৯৭.১১ একরে টাটা মোটরস বা তাদের যন্ত্রাংশ কারখানগুলি কিভাবে প্রকল্প রূপায়ণ করতে পারে? আর, তা যদি সম্ভব না হয়, তবে তার দায় তাদের ওপর একতরফাভাবে চাপানো যায় কীভাবে?

Advertisements

Tags: , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: