তৃণমূলের শাসনের প্রথম একমাসে খুন ২৯ জন… 29 Killed in One Month of Trinamool Rule in WB…

 

হিসাবে কারচুপি করেও বিধানসভায় রাজ্য জানালো, একমাসে খুন ১৮জন!

নিজস্ব প্রতিনিধি

 

Party leaders, workers paying homage to the CPI(M) leader Comrade Jiten Nandy who was killed by Trinamool goons in Garbeta on May14.

    কলকাতা, ২৭শে জুন — তাঁর সরকারের একমাস পূর্তির দিনে দিল্লিতে ক’দিন আগেই সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সগর্বে জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা এখন নিয়ন্ত্রণে। কোনও গোলমাল নেই।

    ৬ দিনও কাটলো না, সেই সরকারের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর হয়ে যে হিসাব দিলেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে তৃণমূলের সরকার প্রতিষ্ঠার পর একমাসেই ১৮জন রাজনৈতিক কর্মী খুন হয়ে গিয়েছেন!

    যদিও ওই হিসাবে যে কারচুপি আছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কমিয়ে দেখানো আছে রাজনৈতিক কর্মী খুনের হিসাব। কেননা, রবিবার পর্যন্ত ধরলে, রাজ্যে নয়া তৃণমূলী জোট সরকারের আমলে একমাস ছয় দিনেই শুধু বামফ্রন্টেরই ১৯জন নেতাকর্মী খুন হয়ে গিয়েছেন। এরমধ্যে সি পি আই (এম)-র ১৮ জন। আর এস পি-র ১জন। অথচ রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে বিধানসভায় যে হিসাব দিয়েছেন, তাতে খুনের হিসাব এইরকম, সি পি আই (এম)-র ৮জন, তৃণমূলের ৬জন, কংগ্রেসের ৩জন এবং জি এন এল এফ-এর ১জন। এদের নামধাম খুনের স্থান ও দিনক্ষণ কিছু তিনি জানাননি এদিন বিধানসভায়। সরকারী খাতায় কেমন হিসাব রাখেন ওঁরা, তার একটা নমুনা অবশ্য এদিন মিলেছে বিধানসভায়। যেমন পার্থ চ্যাটার্জি প্রথমে বললেন, মোট ১৭জন রাজনৈতিক কর্মী খুন হয়েছেন। অথচ রাজনৈতিক দল পরিচয়ে খুনের যে সংখ্যা দিলেন, তার যোগফল করে সাংবাদিকরা দেখেন ১৮ হচ্ছে! এনিয়ে অবশ্য প্রশ্ন ওঠেনি বিধানসভায়।

    তবে হিসাবে যে কম দেখানোর কারচুপি আছে, তার প্রমাণ বামফ্রন্টের দেওয়া তালিকা। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে ধরলে এবং নয়া সরকারের আমলে ১ মাস ৬দিনে যে ১৯জন বামফ্রন্ট কর্মী খুন হয়েছেন রাজ্যে, তাদের নামধাম ও খুনের তারিখ হলো,

১৪ই মে- জিতেন নন্দী (গড়বেতা) ও পূর্ণিমা ঘোড়ুই (রায়না),

১৫ই মে- অজিত লোহার (তালডাংরা),

১৯শে মে-রামপ্রবেশ রায়, মুন্দাকলা রায় (দুর্গাপুর) ও দহিরুদ্দিন (চোপড়া),

২১শে মে — মহম্মদ খোদারাখা (মাড়গ্রাম),

 ২৩শে মে-অমল সমাদ্দার (বারুইপুর), ২৪শ মে-মহবুল শেখ ও মোফাসের শেখ (বেলডাঙা),

২৯শে মে- শেখ সাহদাত (পুরশুড়া),

৩০শে মে- সুদেব বর্মা (বালুরঘাট),

৪ঠা জুন – রবি সাউ (ঝাড়গ্রাম),

৯ই জুন-লক্ষ্মীকান্ত সর্দার (গড়বেতা),

১২ই জুন-অলোক বেওড়া (কোতুলপুর),

১৪ই জুন-ভবেশ শবর (ঝাড়গ্রাম),

২২শে জুন – নরেন গায়েন (বারুইপুর),

২৫শে জুন – সীতারাম কুণ্ডল (বিষ্ণুপুর) এবং

২৬শে জুন – যদুনাথ মণ্ডল (রানাঘাট)।

    কেউ জানে না, ১৯জনের তালিকা নিয়ে এই খবর যখন মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে, তার আগে কোথাও আরো কোনও বামফ্রন্ট কর্মী খুন হয়ে যাবেন কীনা! তবে অবস্থা এমনই। এই অবস্থাকেই আড়াল করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানা‍র্জি বলেছিলেন, তাঁর সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে। অথচ তার সরকারের কম করে দেখানো হিসাবেও রাজনৈতিক কর্মী খুন ১৮ জন! বলা হয়েছে ৬জন তৃণমূল কর্মী ও কংগ্রেসের ৩জন কর্মী খুন হয়েছেন। যদি তা-ই হয়, সেটাও কেন প্রশাসনের দায় নয়, এমন প্রশ্ন ওঠেনি এদিন বিধানসভায়। বরং ঘটনা হলো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ভাঙরে তৃণমূল যুব কংগ্রেস কর্মী মইনুদ্দিন মোল্লার খুন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাবের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অনুপস্থিতিতে তাঁর হয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি যে বিবৃতি পেশ করেছেন বিধানসভায়, তাতে তাৎপর্যপূর্ণভাবে লেখা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি মইনুদ্দিন মোল্লা পেশাগতভাবে ইমারতি দ্রব্য সরবরাহ ও জমি কেনাবেচায় যুক্ত ছিলেন। পৃথক একটি দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাবের উত্তরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত না থাকায় তাঁর হয়ে পার্থ চ্যাটার্জি জানান, বাঁকুড়ার তালডাংরায় সি পি আই (এম) নেতা অজিত লোহারকে খুন করেছে ‘একদল দুষ্কৃতী’। এদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবৃতিতে জানাননি তিনি।

    ঘটনা হলো কারচুপি করে কম দেখানো হিসাবে রাজ্যে একমাসে ১৮জন রাজনৈতিক কর্মীর খুন হয়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়েও পার্থ চ্যাটার্জি এদিন বলেছেন, ‘রাজ্যে খুন নিয়ন্ত্রণে। দু-এটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা এদিক ওদিক ঘটছে।’ হিসাব বলছে, তৃণমূলের ৬জন ও কংগ্রেসের ৩জন এবং জি এন এল এফ-এর ১জন যদি খুন হন, এই ১০জনের হিসাবের সঙ্গে বামফ্রন্টের খুন হওয়া (যার হিসাব এই প্রতিবেদনে নামধাম তারিখ সহ দেওয়া হয়েছে) ১৯জন ধরলে এই অল্প সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মী খুনের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯জন!

    বামফ্রন্ট আমলে যখন তৃণমূল-মাওবাদী বা অন্য বিরোধীদের আক্রমণে বামফ্রন্টের কর্মীরা খুন হতেন, বিধানসভায় তার তথ্য বামফ্রন্ট বিধায়করা সরকার পক্ষে থেকেও উল্লেখ করলে, বিরোধী বেঞ্চে বসা তৃণমূল ও কংগ্রেস থেকে বলা হতো, যে দলেরই খুন হোক, দায় নিতে হবে প্রশাসনকে। খুন হচ্ছে মানে প্রশাসন দুর্বল। সে যে দলেরই খুন হোক।

    যারা বলতেন একথা, আজ তারা ক্ষমতায়। খুন হচ্ছে; আর ওরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে! এগুলি সব বিক্ষিপ্ত এদিক ওদিকের ঘটনা!

Advertisements

Tags: , , ,

2 Responses to “তৃণমূলের শাসনের প্রথম একমাসে খুন ২৯ জন… 29 Killed in One Month of Trinamool Rule in WB…”

  1. P.Ch.Roy Says:

    কলকাতা, ২৮শে জুন—আর কত মানুষ খুন হলে, বামপন্থীদের আর কত রক্ত ঝরলে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয় বলে স্বীকার করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি?

    মঙ্গলবার মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্ন তুললেন সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেব। বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে তথ্য পেশ করতে গিয়ে রাজ্য সরকার যে মিথ্যাচার করেছে তাও এদিন সাংবাদিকদের হাতে ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূল-কংগ্রেস জোটের সন্ত্রাসে নিহত বামফ্রন্ট কর্মীদের তালিকা তুলে দিয়ে প্রমাণ করে দেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে এখনো পর্যন্ত রাজ্যে ১৯জন বামপন্থী নেতা, কর্মী ও সমর্থক খুন হয়েছেন। এই শহীদদের মধ্যে ১৮জনই সি পি আই (এম)-র নেতা, কর্মী অথবা সমর্থক। বাকি একজন আর এস পি কর্মী।

    কয়েকদিন আগেই রাজ্যের বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস-কংগ্রেস জোট সরকারের এক মাস পূর্তির দিনে দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। এরপর সোমবার রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুপস্থিতিতে তাঁর হয়ে রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি যে হিসাব দিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সি পি আই (এম)-র ৮জন কর্মী খুন হয়েছেন। পাশাপাশি, এই সময়ের মধ্যে রাজ্যে তৃণমূলের ৬জন, কংগ্রেসের ৩জন এবং জি এন এল এফ-র ১জন খুন হয়েছেন বলেও মুখ্যমন্ত্রীর তরফে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বলে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের মুখের দাবি এবং পরে বিধানসভায় তাঁর হয়ে পার্থ চ্যাটার্জির দেওয়া খতিয়ানের সঙ্গে বাস্তবের যে আসমান-জমিন ফারাক তা এদিন সাংবাদিকদের সামনে তথ্য দিয়েই তুলে ধরেন রবীন দেব।

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিধানসভায় মিথ্যাচার করা হয়েছে এই অভিযোগ তিনি করবেন কিনা তা জানতে চাওয়া হলে রবীন দেব বলেছেন, বর্তমানে বিধানসভা চলছে। তাই রীতি মেনে আমাদের বিধায়করাই এ’বিষয়ে বিধানসভায় তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। তবে তৃণমূল নেত্রী মুখে যা বলছেন তার সাথে বাস্তবের যে কোনো মিল নেই তা আমরা যেমন আপনাদের কাছে তথ্য দিয়ে তুলে ধরছি তেমনই মানুষের কাছেও বলছি। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে পার্থ চ্যাটার্জি যে তালিকা দিয়েছেন তাতে কারো নাম, খুনের জায়গা বা দিনক্ষণ কিছু নেই। আমরা হত্যাকাণ্ডের দিনক্ষণ এবং জায়গার নাম দিয়ে যাঁরা খুন হয়েছে তাঁদের নামের তালিকা সুনির্দিষ্টভাবে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। এর থেকেও আপনারা যেমন প্রকৃত সত্য বুঝতে পারবেন তেমনই রাজ্যের মানুষের কাছেও আমরা প্রকৃত সত্য তুলে ধরবো।

    নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে ধরলে নয়া সরকারের আমলে ১মাস ৭দিনে যে ১৯জন বামফ্রন্ট কর্মী খুন হয়েছেন রাজ্যে, তাদের নামধাম ও খুনের তারিখের এই তালিকা সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়ে রবীন দেব আরো বলেন, এই সময়ের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের আক্রমণে জখম হওয়ায় ৬২০জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বামফ্রন্ট বিরোধী এই শক্তির হাতে ১৮৯জন মহিলা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের তাণ্ডবে বামফ্রন্টের ৪০হাজার কর্মী ঘরবাড়ি অথবা এলাকাছাড়া হয়েছেন। সি পি আই (এম)-র ৬২৮টি দপ্তর ভাঙচুর করা হয়েছে। দখল করা হয়েছে পার্টির ১৯৩টি কার্যালয়। বামফ্রন্টের শতাধিক নেতা ও কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। বর্গাদারদের কাছ থেকে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। একথা উল্লেখ করে রবীন দেব বলেন, আর কত খুন হলে, আর কত হিংসা হলে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বলে স্বীকার করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি?

    এদিনের এই সাংবাদিক সম্মেলনে রবীন দেব আরো বলেন, ১৩ই মে যেদিন বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হলো সেদিনই পাথরপ্রতিমায় বিজয় উল্লাসে মত্ত তৃণমূল কর্মীদের হামলায় জখম হন সি পি আই (এম)-র প্রাক্তন বিধায়ক এবং পার্টির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য যজ্ঞেশ্বর দাস। তার পর থেকে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লাগাতার হামলা, সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। কলকাতাতেও হামলা চালিয়ে সি পি আই (এম)-র দপ্তর দখল করেছে তৃণমূল। এমনকী প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর দপ্তরও দখল করেছে ওই দলের কর্মীরা।

    রবীন দেব আরো বলেন, এইসব হামলা ও সন্ত্রাসের ঘটনা নিয়ে আমরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে যেমন ডেপুটেশন দিয়েছি তেমনই রাজ্যপালকেও সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাঁর এই আশ্বাসে আমরা আস্থা রেখেছি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কোথায় কোথায় হামলার ঘটনা ঘটছে সেগুলি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে। আমরা বিভিন্ন জেলায় থানা, এস ডি পি ও, বিভিন্ন জেলায় পুলিসের এস পি এবং জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছি। বিধানসভাতেও আমরা প্রসঙ্গটি উত্থাপন করছি। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অনেক বিষয়ই মুখে যা বলছেন তার সাথে বাস্তবের বিস্তর ফারাক থেকে যাচ্ছে।

    সাধারণ মানুষের জীবন, জীবিকার উপরে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে সন্ত্রাস ও আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে সি পি আই (এম)-র পক্ষ থেকে যেমন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে তেমনই মূল্যবৃদ্ধিসহ কেন্দ্রের জনবিরোধী আর্থিক নীতির বিরুদ্ধেও আরো তীব্র লড়াই সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে বলেও এদিন সাংবাদিকদের জানান রবীন দেব। কসবার যে এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে সেই এলাকায় বুধবার বামফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল যাবে বলেও তিনি জানান।

  2. P.Ch.Roy Says:

    বীরভূমে অন্ততঃ ১৪০০ কৃষক, বর্গাদার হারিয়েছেন জমি, চাষের অধিকার

    সিউড়ি, ২৮শে জুন— বৃষ্টির জলে সিক্ত মাটি দেখেও জমির ধারে যেতে পারছেন না শেখ শ্যামবাবু। দিন ১৫আগেই তাঁর অধিকারে থাকা জমির দখল নিয়েছে জোতদার।

    বর্ষার ধান চারা নয়, পরিবর্তনের রাজ্যে বীরভূমের দুবরাজপুর থানা এলাকার শেখ শ্যামবাবুদের ধান জমির চারপাশে এখন ১৪৪ধারার বেড়াজাল!

    ‘গ্রামের মধ্যেই পঞ্চায়েত থেকে মাইকে করে ঘোষণা করে দিয়ে গেছে ১৪৪ধারা জারি হয়ে গেছে। ঐ জমির ধারেপাশে আমরা তাই আর কেউ যেতে পারছি না। আমরা থানাতে গিয়েছিলাম। এখন শুনছি ১৩ই জুলাই সিউড়ি কোর্টে কেসের দিন পড়েছে।’ বলছিলেন এক দশকের উপর দখলে রাখা চাষজমি থেকে উৎখাত খাওয়া কৃষক আবুল কাশেম। দুবরাজপুর থানা এলাকার সাহাপুরেই জমি থেকে উৎখাত হওয়া প্রান্তিক কৃষকের সংখ্যা ১০০ছাড়িয়েছে। এক সময়ে জমি হারানো জোতদাররা আবার কৃষককে জমি থেকে উচ্ছেদ করে দখল করে নিচ্ছে জমি। দুবরাজপুর, নানুর, ইলামবাজার থেকে শুরু করে গোটা জেলায় চলছে কৃষককে জমি থেকে উচ্ছেদ করার এক কর্মসূচী। জোতদারের স্বার্থে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের কাছে এখন এটাই যে অন্যতম কর্মসূচী তা স্বীকার করে নিয়েছেন দলের বীরভূম জেলা কমিটির সভাপতিও।

    সম্প্রতি বোলপুরে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভায় তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন তার দলের কতজন কর্মী মানুষের কাছে গিয়ে তোলাবাজি জরিমানা চাঁদা আদায় করছেন তা তিনি জানেন, এমনকি তারা সংখ্যায় কতজন সে উল্লেখ করে তিনি কর্মীদের সাবধানও করেছেন। কিন্তু কে শুনবে কার কথা ?

    তৃণমূলীরা এখন বীরভূমে বর্গাদার পাট্টাদারদের তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে সেই জমি জমির মালিককে ফিরিয়ে দিতে ব্যস্ত। এবার বর্ষা ভালো হওয়ায় কৃষকরা যখন ভালো করে চাষ করা নিয়ে ব্যস্ত তখন বীরভূমের অন্তত ১৩৯৪জন কৃষক তাদের জমির কাছেই যেতে পারছেন না তৃণমূলের হামলার ভয়ে। তাঁদের চাষ করা ১১৯৮একর জমি হয় এখনও অনাবাদি আছে নতুবা সেই সব জমি চাষ করছে জমির মালিকের অনুগত বাহিনী। বীরভূমের কৃষকসভার নেতৃত্বের হিসেব মতন ২৯জন রায়ত, ১০৭জন পাট্টাদার, ১৩০জন বর্গাদার এবং আইন মেনে দখলী জমিতে চাষ করা ১১৮৭জনকে তাদের জমির অধিকার নির্বাচনের পর কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কার্যত দর্শকের ভূমিকায় থাকছেন। পুলিস অধিকাংশ ক্ষেত্রে গরিব কৃষকদেরই সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকসভার। ইতোমধ্যে ৭৩টি সাজানো মামলায় কৃষকদের জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বীরভূমের বোলপুর মহুকুমা এলাকার বোলপুর, নানুর, ইলামবাজার প্রভৃতি এলাকায় এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।

    সেই অত্যাচারের কথাই বলছিলেন দুবরাজপুর থানা এলাকার সাহাপুরের বাসিন্দা শেখ শ্যামবাবু। দিন ১৫আগেই শেখ শ্যামবাবু, আবুল কাশেমরা জানতে পারেন তাঁদের দখলে থাকা জমিতে হঠাৎই ট্রাক্টর নামিয়ে চাষ করছে জমির মালিক। জমির মালিক মানে! জোতদার সুবোধ পালের কথাই বলছিলেন উৎখাত হওয়া কৃষকরা। ‘জোতদারের হাত থেকে জমি কেড়ে নিয়ে আমাদের মধ্যে বিলি করেছিলো লালপার্টি। সেই জমিতেই এখন আমাদের উৎখাত করে দখল নিয়েছে জোতদার।’ বলছিলেন জমি হারানো কৃষক। গ্রাম সূত্রেই জানা গেছে, গ্রামের জোতদার সুবোধ পালের বেনামী জমি উদ্ধার করে গরিব মানুষের মধ্যে বণ্টন করে বামফ্রন্ট সরকার। উদ্ধার হওয়া জমির কিছুটা পাট্টা দেওয়া সম্ভব হলেও জোতদারদের মামলার জন্য বাকি জমির পাট্টা দেওয়া সম্ভব হয়নি। যে জমির পাট্টা দেওয়া সম্ভব হয়নি সেই জমিই এতদিন নিজেদের দখলে রেখে চাষ করে আসছিলেন আবুল কাশেম। বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই হারানো জমি ফিরে পেতে এখন মরিয়া জোতদাররা। বীরভূম জেলাজুড়ে চলছে তাদেরই জমি ফেরানোর কাজ।

    ইলামবাজার থানা এলাকার ধরমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আকোনা গ্রামে জরিমানা না দিলে চাষ করতে না দেওয়ার হুমকি অব্যাহত। ইলামবাজারেরই বাতিকার পঞ্চায়েত এলাকার মাকড়া গ্রামে ১০জন কৃষকের কাছ থেকে ন্যূনতম ২০হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করে টাকা আদায়ও করে নিয়েছে তৃণমূলীরা।

    বীরভূমের কৃষকসভার নেতৃবৃন্দের অভিযোগ গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে নানাভাবে তৃণমূল বর্গাদার, পাট্টাদারদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে সব এলাকাতে প্রকাশ্যে তৃণমূলীরা কৃষকদের উচ্ছেদের জন্য হামলায় নেতৃত্ব চালাচ্ছেন। তারা নির্দিষ্ট অভিযোগ করে বলছেন খেতমজুরদের যে হারে মজুরি দেওয়া হতো তৃণমূল সরকারে আসায় জমির মালিকরা সেই মজুরির অর্ধেক দিতে চাইছেন। ফলে গরিব কৃষকদের হাতে এবং ভাতে মারার লক্ষ্যে তৃণমূলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জেলাজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কৃষকসভা। বামফ্রন্ট জমানায় অর্জিত অধিকার মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে কৃষক খেতমজুরদের নিয়ে টানা প্রচার কর্মসূচীও নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: