বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত অধিকার খর্ব করতে রাজ্যপালের ফরমান… Governor’s Diktat To Curb Democratic Rights Of The Universities…

 

রাজ্যপালের ফতোয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় চলবে?

সুদর্শন রায়চৌধুরী

    রোমহর্ষক কাহিনী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের প্রাথমিক পর্ব নিয়ে। বর্তমান মাননীয় উপাচার্যের কাজের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী মাসের মাঝামাঝি। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের প্রাথমিক পর্ব সেরে ফেলতে হবে এখনই। আইনে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃস্থানীয় সংস্থা কোর্টের সভা ডেকে সেখান থেকে সর্বসম্মতভাবে আগামী উপাচার্য হিসাবে একটি নাম প্রস্তাবিত হবে। সেই নামের সুপারিশ যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় আচার্য তথা মহামহিম রাজ্যপালের কাছে। তিনিই উপাচার্যের আইনত নিয়োগকর্তা। আর কোর্টে যদি কোনো একটি নামে সর্বসম্মতি না জোটে তো সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে তিনটি নাম যাবে আচার্যের কাছে। তিনি তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে বেছে নেবেন একটি নাম। এইভাবেই নিযুক্ত হবেন নতুন উপাচার্য।

    সুতরাং আইন অনুসারে, উপাচার্য নিয়োগের প্রাথমিক হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো কোর্টের এই সংক্রান্ত সভা।

    রবীন্দ্রভারতীর নতুন উপাচার্য নিয়োগের জন্য এই কারণেই রাজ্যপাল তথা মাননীয় আচার্যের সচিবালয় থেকে গত ২৭মে রবীন্দ্রভারতীর রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি আসে। সেখানে বলা হয় উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে কোর্টের সুপারিশ যেন সচিবালয়ের কাছে দ্রুত পাঠানো হয়। আরও বলা হয় বিষয়টিকে যেন ‘অত্যন্ত জরুরী’ হিসেবে ধরা হয়।

    এরই ভিত্তিতে ৩০ মে রেজিস্ট্রার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন, কোর্টে সভা বসবে ১৫ই জুন দুপুর একটায়। আলোচ্য বিষয় উপাচার্যের নাম সুপারিশ করা। বিজ্ঞপ্তি পৌঁছে যায় সব সদস্যের কাছে। মনে রাখবেন কোর্টের প্রথম সদস্য হলেন মাননীয় আচার্য স্বয়ং। তাঁকে না জানিয়ে কোর্টের সভা করাই যায় না। তাঁর অসুবিধা থাকলে কোর্টের সভার দিনক্ষণও পালটে নেওয়া যায়। সর্বোপরি কোর্টের সভার সিদ্ধান্তের শরিক তিনিও। উপস্থিত থাকুন আর না-ই থাকুন।

    এবার সেই সভা বসল ১৫ই জুন। মাননীয় উপাচার্যসহ কোর্টের সদস্যরা হাজির। দুপুর একটায় শুরু হলো সভা। নতুন উপাচার্য কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা প্রস্তাব উত্থাপন-সমর্থন ইত্যাদি চলছে। এবার চূড়ান্ত বাছাইপর্ব যখন শুরু হবে তখন স্বয়ং রাজ্যপাল তথা মাননীয় আচার্যের কাছ থেকে এলো এক ফ্যাক্সবার্তা। সময় তখন তিনটের কাছাকাছি। ফ্যাক্স পাঠানো চিঠির তারিখ অবশ্য ১৪ই জুন। স্পষ্টতই চিঠির ভালমন্দ নিরপেক্ষে সেটা পাঠানো যেত আগের দিনই বা নিদেনপক্ষে সভা শুরুর ঘণ্টা তিনেক আগে।

    কিন্তু চিঠিতে কী বলা হলো? সরকারী পরিভাষায় একে বলা যায় লেটার-অ্যাডভাইসরি। উপদেশপত্র। তবু স্বয়ং রাজ্যপালের চিঠি। সুতরাং একে উপেক্ষা করাও সমস্যা। রাজ্যপাল হলেন সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর লেখা চিঠিতে বলা হচ্ছে ‘‘উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য (রাজ্য) সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়েছেন…। এটা সম্ভব যে আলাপ আলোচনার পর এই কমিটি উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং কার্যপদ্ধতিতে কতকগুলো পরিবর্তন আনবেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপাতত এটা বাঞ্ছনীয় হবে যে, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার কর্তৃপক্ষ/সংস্থাগুলো কেবল রুটিন সিদ্ধান্ত নেবেন।’’ অতএব মাননীয় আচার্য মাননীয় উপাচার্যকে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার সংস্থাগুলো যেন কেবল রুটিন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন এবং আরও সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।’’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোন্‌গুলো? এর মধ্যে পড়বে ‘‘শিক্ষা সংশ্লিষ্ট এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নয় এমন সব পদে নতুন বাছাই ‍‌ও নিয়োগ। বিশেষত বিভিন্ন সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের নির্বাচনের নোটিস জারি… (এদের) সদস্যদের নির্বাচন এবং কলেজগুলোর পরিচালন সমিতিসহ বিভিন্ন সংস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় বা তার কর্তৃপক্ষ/সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি মনোনয়ন…।’’ আচার্য জানালেন যে এই সব কিছু ‘‘আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা না পাঠানো পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হবে।’’

    কোর্টের সভায় উপস্থিত সবাই হতভম্ব। শেষ পর্যন্ত সভা বন্ধ করে দেওয়া হলো। এমন প্রশ্ন অবশ্য কেউ কেউ তুলতেই পারেন যে, সভার মূল যে কাজ — উপাচার্য পদে বিভিন্ন নামের উত্থাপন ও বিবেচনা যখন হয়েই গেছিল তখন বেলা একটার সভা তিনটের সময় ‘রুটিন বিষয়’ বলে বিবেচিত করা যেত কিনা এবং চূড়ান্ত নাম (এক বা একাধিক) বাছাই করে আচার্যের কাছে পাঠানো যেত কিনা। কিন্তু যা অতীত তা অতীত।

    রাত পোহাতে দেখা গেল চিঠিটা শুধু রবীন্দ্রভারতীতে যায়নি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও পৌঁছিয়েছে। কলকাতা, যাদবপুর বা দূর গৌড়বঙ্গ সর্বত্র।

    সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন রাজ্যপালের পরামর্শমতো তাঁর চিহ্নিত নিষিদ্ধ এলাকাগুলোয় তৎপর হওয়া চলবে না। অপেক্ষা করতে হবে রাজ্যসরকার নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। খবরের কাগজের ভাষায় এটা অবশ্য উপদেষ্টা কমিটি। আনন্দবাজার (সুতরাং সরকারের পরিশুদ্ধ এবং উচ্চমেধার মুখপত্র) উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে যে ‘‘রাজ্যের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নীতি নির্ধারণের যাবতীয় ব্যাপারে পরামর্শ দেবে এই কমিটি। …প্রয়োজনে কমিটির পরামর্শ অনুসারে সেনেট-সিন্ডিকেট ইত্যাদি পুনর্গঠন করা হতে পারে।’’ এমনকি উচ্চশিক্ষার নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য যে রাজ্য উচ্চশিক্ষা সংসদ আছে যেখানে রাজ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সদস্য তাকেও ছাপিয়ে এই নতুন উপদেষ্টা কমিটি কাজ করবে। মন্ত্রী বলেছেন — ‘‘তবে উচ্চশিক্ষা সংসদ অকেজো হয়ে যাবে কিনা, তা পরে ঠিক হবে।’’ এই উপদেষ্টা কমিটি কাদের নিয়ে তৈরি হলো? এখানে রয়েছেন কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কিন্তু একই সঙ্গে আছেন তৃণমূলজীবী শিক্ষকশিক্ষাবিদ- প্রাক্তন আমলারা।

    তবে এ প্রসঙ্গ এখন থাক। মূল বিষয়টি হলো আচার্য তথা রাজ্যপালের ফরমান। সেখানে উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ কমিটির উল্লেখকে কেউ যদি ঘটনাপরম্পরার কারণে নিতান্ত অজুহাত ভাবে তো দোষ দেবো? এই কমিটি তো তৈরি হয়েছে ৯ই জুন। তাই আচার্যের সচিবালয় থেকে ২৭শে মে তারিখে রবীন্দ্রভারতীতে চিঠি এসেছিল, কোর্টের সভা ডাকতে হবে। খুবই পরিষ্কার।
কিন্তু ২৭শে মে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ব্যাপার ঘটল। সিন্ডিকেটের সভায় প্রশ্ন উঠল সেনেট নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি কেন তখনও পর্যন্ত জারি হয়নি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মহলের খবর এপ্রিলেই এ বিষয়ে ঘোষণা হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ১৬ই মে তারিখে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। রেজিস্ট্রার তা জারি করবেন। ১০ই মে সিন্ডিকেটের সভা হলো। সেখানেও কোনো খবর নেই, কেবল আবছা খবর চলছে রাজভবন থেকে পরোক্ষে নির্দেশ এসেছে, এখন এসব থাক। পরে দেখা যাবে। (রাজভবনের কি আন্দাজ ছিল — পরিবর্তন হবে এবং এসব তখন উলটে-পালটে যাবে?)

    ১৩ই মে ভোটের ফল বেরোল। পরিবর্তন। ২৭শে মে সিন্ডিকেটের সভায় কথা উঠল নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারির কী হলো। মাননীয় উপাচার্য জানালেন বাস্তবিকপক্ষেই রাজভবন থেকে তাঁর কাছে টেলিফোনে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি স্থগিত রাখার নির্দেশ এসেছে। আচার্যের ইচ্ছাকে অমর্যাদা করা স্বভাবতই উপাচার্যের পক্ষে অসৌজন্যের মনে হয়েছে।

    তা হলে? ১৪ই জুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশেষজ্ঞ কমিটির উল্লেখ করে ফ্যাক্স পাঠানোর আগেই এবং বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশেরও আগে থাকতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সেটা পরোক্ষে। ৯ই জুন কমিটি তৈরি হওয়ার পরে প্রত্যক্ষ ফ্যাক্স এলো ১৪ই জুন।

    এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুপ্রার্থিত স্বশাসনের কী হবে? কেউ কখনও শুনেছেন যে, সব বিশ্ববিদ্যালয়কে পাইকারি হারে বলা হচ্ছে আইনবহির্ভূত এক বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ এবং তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত যতদিন না পাঠানো হচ্ছে ততদিন হাঁ করে বসে থাকো, ‘এন্‌জয় দা ছুটি’? কেবল রুটিন ব্যাপার চলতে পারে। কিন্তু রুটিন কাজ কোন্‌টাকে বলব? নিশ্চয়ই নিদেনপক্ষে পঠনপাঠন ও গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়াকে। কিন্তু কে বোঝাবে যে এসব কাজ করতে গেলেও নতুন শিক্ষক নিয়োগ করতে হয়। গবেষণার বিষয়/পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তৃত নীতিগত সিদ্ধান্তও নিতে হয়। ইউ জি সি-র কাছ থেকে অনেক সময় অনুদান নিতে গেলে কথা ওঠে তোমাদের ওখানে স্বশাসনের ব্যবস্থা আছে কিনা। কারিগ‍‌রি শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার সময় চুক্তিবদ্ধ হতে হয় স্বশাসন বজায় থাকবে — সেটা কোন এক বিশেষজ্ঞ কমিটির নির্দেশসাপেক্ষে অল্প কিছুদিনের জন্যেও ‘ঝুলিয়ে রাখা’ যাবে না। সর্বোপরি কোন্‌টা রুটিন আর কোন্‌টা অরুটিন এই সিদ্ধান্ত নেওয়াও তো নীতিগত প্রশ্ন। সেজন্যেও কি আচার্যের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় থাকতে হবে?

    নতুন নির্বাচিত সরকার তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নতুন আইন বানাবে। এ অধিকার নিশ্চিতভাবেই তাঁদের আছে। সেই আইন সমর্থনযোগ্য হলে সবাই সমর্থন করবেন। এমন তো নয় যে চলতি বিশ্ববিদ্যালয় আইনগুলো একেবারে সংশোধনের ঊর্ধ্বে। আবার নতুন আইনে বিরোধিতার কিছু থাকলে বিরোধিতাও হবে। এমন তো নয় যে আগাম দাসখত লিখে দিতে হবে। সেটা নিশ্চয় সরকার চাইবেও না।

    কিন্তু চলতি আইনকে বাতিল না করে নতুন আইন না বানিয়ে শাসনতান্ত্রিক প্রধান রাজ্যপাল এমন নির্দেশ পাঠাবেন যে চলতি আইনকে মেনে চলতে হবে না, স্থগিত রাখো। — এটা কী গণতন্ত্রের পথ?

    আর এসব বলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়‍গুলোকে, বামফ্রন্টের আমলে যাদের স্বশাসন ঘুচে গেছে বলে নতুন সরকারের গুণগ্রাহী বিদ্বজ্জনেরা ক্ষণে রোদনশীল ক্ষণে রোষকষায়িত।

কিন্তু প্রেসিডেন্সি?
    এখন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়েরই বা কী হবে? সেখানে বিগত রাজ্য সরকার যে পরিচালন-কাউন্সিল গড়েছিলো তাতে তো আছেন ডাকসাইটে গুণিজনেরা। অর্থনীতিবিদ অমিয় বাগচী, বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ, পরিসংখ্যানবিদ শংকর পাল, বসু বিজ্ঞান মন্দিরের শিবাজী রাহা, ন্যাকের ডাইরেক্টর রঙ্গনাথন, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ মুশিরুল হাসান — এই সব মানুষ সেই কাউন্সিলের সদস্য। আছেন কলকাতা ‍‌ও যাদবপুরের দুই মাননীয় উপাচার্যও। এই কাউন্সিল একটি আইনবিহিত সংস্থা।

    বর্তমান সরকার চেয়েছে এরও উপরে একটি মেন্টর গ্রুপ থাকুন — তার প্রধান হলেন অমর্ত‌্য সেন, সঙ্গে আছেন অধ্যাপক সুগত বসু। এঁরাই বেছে নেবেন গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের। এই গ্রুপকে এখনও কোনো আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া নেই। নিশ্চয়ই সে সব করা হবে। কিন্তু এঁদের মতো মানুষ নিশ্চয়ই স্বাগত।

    নতুন উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ কমিটি রাজ্যের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিবেচনা করার অধিকারী হলেও প্রেসিডেন্সিকে তাঁদের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ১০ই জুন আনন্দবাজার লিখছে ‘প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যেহেতু পৃথক ‘মেন্টর গ্রুপ’ আছে তাই ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এই উপদেষ্টা কমিটি কোনো সুপারিশ করবে না’ বলে জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

    কিন্তু এখন জানলাম মাননীয় আচার্যের ১৪ই জুনের চিঠির ফ্যাক্স সেখানেও পৌঁছিয়েছে। কেবল ‘সাদামাটা’ রবীন্দ্রভারতীতে ফ্যাক্স গেছিল ১৫ই তারিখ দুপুর ২‍‌টো ৫৩ ‍‌মিনিটে আর প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে ঘিরে এত গর্ব এত সাধ এত স্বপ্ন, এমনকি যাকে বিশ্বমানের করে তোলার জন্য ‘অস্পৃশ্য’ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ, সেখানে ফ্যাক্স পৌঁছাল ঐদিনই দুপুর ২টো ৫৯ মিনিটে।

    তা হলে প্রেসিডেন্সি এখন দু-দুটো সংস্থার অভিভাবকত্বে — মেন্টর গ্রুপ যা এখনও গড়ে ওঠেনি আর উপদেষ্টা কমিটি যার সভাপতি প্রথম সভাতেই বলেছেন সভাপতিত্ব করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। দ্বিতীয় সভা হচ্ছে নাকি ২৪শে জুন।

    কিন্তু কাউন্সিল কী করবেন? অমিয় বাগচী বা বিকাশ সিংহ-রঙ্গনাথনেরা, মুশিরুল হাসান বা সুরঞ্জন দাশেরা? কাদের কথায় বা চলবেন মাননীয় উপাচার্য? ‘পিলার থেকে পোস্ট’-এ ছুটবেন শেষ কথাটি জানার জন্যে?

আর রবীন্দ্রভারতী?
    কোর্টের সভা তো হলো না। তাহলে বর্তমান উপাচার্য জুলাইয়ের মাঝামাঝি অবসর নিলে চলবে কি করে? ওঁদের আইনে আছে, এরকম পরিস্থিতিতে অনধিক ছ’মাসের জন্য যে কাউকে (‘এনি পার্সন’) উপাচার্যের কাজকর্ম করতে বলা যাবে। এই ‘যে কেউ’ স্থির করবেন মাননীয় আচার্য মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে।

    এই ‘যে কেউ’ কি ষান্মাসিক দলতন্ত্রের ইঙ্গিত নিয়ে আসবেন? সব দেখেশুনে কারো যদি হুল্লোড়-হাসির হিন্দি ছবির ডায়ালগ মনে আসে তো দোষ দেওয়া মুশকিল — শোরুম দেখেই বোঝা যাচ্ছে গোডাউন কেমন হবে।

লেখক প্রাক্তন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী

Advertisements

Tags: , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: