Haroa – Day 5… Mamata’s Police Fired On Poor Farmers…

 

কৃষকের ওপর পুলিসের গুলি

নিজস্ব সংবাদদাতা
হাড়োয়ায় জখম ৪কৃষক || নিজেদের জমিতে চাষে নামতেই হামলা || সশস্ত্র আক্রমণ তৃণমূলেরও || আহতদের চিকিৎসাতেও বাধা

haroa-gazitala

    হাড়োয়া, ৯ই জুলাই— নিজেদের জমি থেকেই উচ্ছেদ হওয়া গরিব কৃষক, বর্গাদার ও পাট্টাদারদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালো পুলিস। একইসঙ্গে পুলিসের সামনেই গরিব কৃষকদের ওপর বোমা, বন্দুক নিয়ে আক্রমণ করলো তৃণমূলীরাও। পুলিস-তৃণমূলের যৌথ হামলায় গুলিবিদ্ধ হলেন চারজন গরিব আদিবাসী কৃষক।

    শনিবার রক্তাক্ত হলো হাড়োয়া। প্রকাশ্যে দিনের আলোয় শিউরে ওঠা এই বর্বরতার ঘটনা ঘটলো হাড়োয়ার গাজীতলা ও দেওয়ান ঘেরিতে। কোনোরকম প্ররোচনা ছাড়াই গরিব মানুষ, কৃষক, পাট্টাদারদের উপর ১২রাউন্ড গুলি চালিয়েছে পুলিস। এমনকি গুলিতে জখম ,রক্তাক্ত চারজন আদিবাসী কৃষককে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া যায়নি। গোপালপুর থেকে মুন্সীরঘেরী যাওয়ার রাস্তা আটকে রেখেছে সশস্ত্র তৃণমূলীরা। রয়েছে পুলিস, র‌্যাফের বিশাল বাহিনীও। যে চারজন আদিবাসী কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁরা হলেন সাহারাব সর্দার,দীপক বেরা, কানাই সর্দার ও মন্টু সর্দার।

    চারদিন আগে উচ্ছেদ হওয়া গরিব কৃষক, পাট্টাদার,বর্গাদার ও আইনী অনুমতি জমির দখলদার কৃষকেরা ফের চাষের জন্য নিজেদের জমিতেই নামার জন্য পেলেন বুলেটের ক্ষত, লাঠি-বোমার আঘাত।

    গরিব কৃষকের ওপর পুলিস-তৃণমূলের এই যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা করেছে উত্তর ২৪পরগনা জেলা বামফ্রন্টের তরফে। ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘ভয়ঙ্কর ঘটনা, এত সহজেই জমির ওপর কৃষকের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। আমরা আছি এবং থাকবোও গরিব কৃষক, পাট্টাদার, বর্গাদার ও সেখানে আইনী অনুমতিতেই দীর্ঘদিন ধরে জমির দখল রাখা কৃষকদের পাশে। রাজ্যজুড়েই এর বিরুদ্ধে তীব্র জনমতে গড়ে তোলা হবে’। পুলিস-শাসকদল যৌথভাবে গুলি চালাচ্ছে গরিব কৃষক, বর্গাদারের ওপর। যদিও নীরব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। গুলিতে জখম হলেন চারজন আদিবাসী কৃষক, আর হাড়োয়ার তৃণমূলী বিধায়ক জানালেন, এরা কেউ কৃষক নয়,সবাই হার্মাদ!

    গত সোমবার থেকেই হাড়োয়ার গোপালপুর-১ ও ২নম্বর পঞ্চয়েত এলাকা জুড়েই চলছে তৃণমূল-পুলিসের যৌথ সন্ত্রাস। গরিব কৃষকের কাছ থেকে খাস হওয়া জমি দখল, পাট্টাদারদের উচ্ছেদ করতে এই নির্মম সন্ত্রাসে ইতোমধ্যে কয়েকশত গরিব মানুষ, সি পি আই(এম) কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া। গত সোম ও মঙ্গলবার হাড়োয়ার এই দুটি পঞ্চায়েতের মুন্সীরঘেরী, বাতাগাছি, তেঁতুলিয়া আবাদ ও নেবুতলা মৌজার ৭৭৬৩ বিঘা খাস জমি থেকে প্রায় ১০হাজার গরিব মানুষ, পাট্টাদার, বর্গাদার ও আইন অনুমতিতে জমির দখল রাখা কৃষকদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেড়শোরও বেশি আলা ঘর।

    এই নজিরবিহীন হামলা ও কৃষক, পাট্টাদারদের জমি থেকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে শুক্রবারই গোপালপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েতের মুন্সীরঘেরীর ছওয়ানি বাজারে এসে আক্রান্ত মানুষদের সঙ্গে দেখা করেন সূর্যকান্ত মিশ্রের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট পরিষদীয় দল ও জেলা বামফ্রন্টের এক প্রতিনিধিদল। ছওয়ানি বাজরে শুক্রবারই উচ্ছেদ হওয়া মানুষকে নিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশও হয়। এই সমাবেশ থেকেই প্রত্যয়ের সঙ্গেই ঘোষণা করা হয়েছিলো যে, উচ্ছেদ হওয়া কৃষকেরা ফের তাঁদের জমিতে নামবে এবং এই উচ্ছেদ হওয়া কৃষকদের নিজেদের জমিতে নামার অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে পুলিসকেই।

    ঘটনার সূত্রপাত এদিন সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ। বিদ্যাধরীর শাখা নদীর একধারে গাজীতলা অন্যদিকে দেওয়ানভেড়ি। এই সমস্ত এলাকায় নিজেদের জমি থেকেই উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ১৩০০জন পাট্টাপ্রাপক, বর্গাদার ও দখলীকৃত কৃষক গাজীতলা ও দেওয়ানভেড়িতে নিজেদের জমিতেই নামে। এই এলাকা থেকেই কিছুটা দূরে রয়েছ পুলিস ক্যাম্প। জড়ো হওয়া গরিব কৃষক, পাট্টাদাররা জমা হতেই পরিকল্পনামাফিক হাড়োয়া ও মিনাখাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে সশস্ত্র বহিরাগত তৃণমূলীরা জড়ো হয় সেখানে। নেতৃত্ব দেয় তৃণমূলীনেতা ছোটন মুন্সী, মাদার মোল্লা, লালটু মোল্লারা। কোনরকম প্ররোচনা ছাড়াই গরিব কৃষকদের ওপর নির্বিচারে বোমাবাজি শুরু করে দেয়। জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে কৃষকেরাও কোনরকমে প্রতিরোধ গড়তে শুরু করেন। কৃষকেরা প্রথম দিকে প্রতিরোধ গড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলীরা পুলিসকে খবর দেয় । এমনকি পুলিসের তরফে সেময় গুজব ছড়ানো হয় যে কৃষকেরা পুলিস ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। এরপরেই বিশাল পুলিসবাহিনী চলে আসে ঘটনাস্থলে। সঙ্গেই ছিলো রীতিমতো আধুনিক অস্ত্র হাতে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা।

    তখন সকাল প্রায় সাড়ে এগারোটা। এরপর কোনরকম প্ররোচনা ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে পুলিস। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রায় ১২রাউন্ড গুলি চালায় তৃণমূলীরা। পুলিসের গুলি চালানোর সময়েই তৃণমূলীরাও চালাতে শুরু করে গুলি। এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য— গুলি চালাচ্ছে পুলিস, পিছনের দিক থেকে একই সঙ্গে গুলি চালাতে চালাতে, বোমাবাজি করতে করতে গরিব কৃষকদের দিকে এগোচ্ছে তৃণমূলও। পুলিস-তৃণমূলের সশস্ত্র হামলায় এরপরে কার্যতঃ নিজেদের জীবন বাঁচাতে পালাতে শুরু করেন গরিব কৃষক, পাট্টাদাররা। ছিলেন মহিলারাও। কোনমতে তাঁরা এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করে। গাজিতলা থেকে দেওয়ানঘেরির দিকে আক্রমণ চালাতে চালাতেই এগতে থাকে পুলিস-তৃণমূল যৌথবাহিনী। সেসময়তেই পুলিসের নির্বিচার গুলিতে গুরুতর জখম হন মুন্সীরঘেরীর বাসিন্দা আদিবাসী কৃষক সাহারাব সর্দার, দীপক বেরা, কানাই সর্দার ও মন্টু সর্দার। সাহারাব সর্দার ও দীপক সর্দার দুজনেরই পিঠে ও পায়ে গুলি লেগেছে। এতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কৃষকেরা যখন পালাচ্ছে সে সময় পিছন থেকেই গুলি চালানো হয়েছে। পুলিসের উপস্থিতিতেই এরপর তৃণমূলীরা নতুন করে ভেড়ির দখল নেয়। আরো ১০টি আলা ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এই ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়েই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দেব এদিন বলেন, তৃণমূলের তথাকথিত কৃষকপ্রেমের মুখোশ খুলে পড়ছে। গরিব কৃষকের উপর গুলি চালাচ্ছে মা মাটি মানুষের সরকার। এত সহজে ছেড়ে দেওয়া হবে না। জমি কাড়তে আক্রমণ করলে কৃষকেরা প্রতিবাদ-প্রতিরোধই করবেন। পুলিস কী করে গুলি চালালো গরিব কৃষকদের ওপর, তার জবাব দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। এই ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানিয়ে সি পি আই (এম) রাজ্য কমিটির সদস্য অমিতাভ নন্দী বলেন, এদিন গোটা ঘটনায় পুলিস মিথ্যা কথা বলছে, তারাই গুলি চালিয়েছে কৃষকদের ওপর। গোটা জেলাজুড়েই এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    শনিবার রাত পর্যন্ত গোটা এলাকা থমথম করছে। অধিকাংশ জায়গা থেকে নতুন করে আরো অসংখ্য মানুষ ঘরছাড়া হতে শুরু করেছেন। তৃণমূলীরা সশস্ত্র অবস্থায় গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে, যাতে করে আক্রান্ত মানুষ বাইরে যেতে না পারেন কিংবা আক্রান্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতেও কেউ না আসতে পারেন।

Advertisements

Tags: , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: