পশ্চিম বঙ্গে মানুষের মনন আর অধিকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে সন্ত্রাস…

 

মনন আর অধিকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে সন্ত্রাস

চন্দন দাস

    তেলেঙ্গানায় ওরা আমাদের নিকেশ করতে পারেনি। নকশালবাড়ির বিভ্রান্তিতেও খতম হইনি আমরা। সোভিয়েতের আর পূর্ব ইউরোপের বিপর্যয়ের পরেও মাথা তুলেই বেঁচে থেকেছি আমরা। এবারও আমরা আক্রান্ত। তবু, এবারও আমরা লড়বো এবং জিতবো।

    ‘আমরা’ মানে গুটিকয় লোক নয়। একটি পার্টি বা ফ্রন্ট নয়। ‘আমরা’ মানে সেই দুর্দান্ত স্বপ্ন, অনবদ্য অহঙ্কার — বামপন্থা।

    রাজ্যে সরকার বদলেছে। আক্রান্ত হয়েছে সেই বামপন্থা। আক্রমণ শারীরিকভাবে হচ্ছে। হচ্ছে মনের জগতেও—মননেও। যেহেতু দরিদ্রতমদের অধিকারের লড়াই এবং কমিউনিস্টদের স্বার্থ অঙ্গাঙ্গি, তাই রাজ্যের প্রতি প্রান্তে আক্রান্ত গরিব মানুষের লড়াই আদপে বামপন্থার আদর্শ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম।

    আর তাই সন্ত্রাসের একটি লক্ষ্য বামপন্থীদের নিকেশ। আর একটি লক্ষ্য বামপন্থা সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি। এ এক আশ্চর্য চেষ্টা মননে আঘাত হানার। গরিব, মধ্যবিত্তের উপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে রাজ্যে চলছে সন্ত্রাসসৃষ্টিকারীদের শ্রেণী চরিত্র আড়ালের। এই ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী — একদিকে বামপন্থীদের খতম করতে শাসকের হাতিয়ার হয়েছে অতি বামপন্থার নামে মাথা চাড়া দেওয়া উগ্রপন্থা। আবার সেই একই শাসকশ্রেণী তার সঙ্গী তৃণমূলকে একটি বামপন্থী শক্তি হিসাবে সাজিয়ে গুছিয়ে, রঙ মাখিয়ে হাজির করতে উদ্যত। লক্ষ্য — আর্থিক মন্দায় দিশাহারা গরিব আর উদ্‌ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত, পেটি বুর্জোয়াকে বিভ্রান্ত করা, কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে ঘনীভূত লড়াই থেকে দূরে রাখা।

    পশ্চিমবঙ্গ তাই এবার আর এক পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসই এই সময়ের অভিনবত্ব, বৈশিষ্ট্য এবার এই রকমই।

‘শি ইজ দ্য লেফ্ট’ — আক্রান্ত মনন

    রাজ্যের শহর, মফস্বল এবং গ্রামের শিক্ষায়, আর্থিক অবস্থায় কিছুটা এগিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইদানীংকালে এই ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে দেওয়ার সংগঠিত উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, লালগড়—নৈরাজ্য, নাশকতার সবকটি ঘটনাকে এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।

    ‘শি’ মানে মমতা ব্যানার্জি। প্রচার হচ্ছে তিনি বামপন্থী। কেউ কেউ বলছেন — তিনিই বামপন্থী। এই প্রচারের দায়িত্বে কারা? মূলত কিছু হত্যোদ্যম, গত ৩৪ বছরে নিশ্চিন্তে জীবন কাটানো, প্রাক্তন নকশালপন্থী এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবী, তথাকথিত মানবাধিকার কর্মী। কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘মা মা‍‌টি মানুষ’ নামে একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নামে একটি ধারাবাহিক লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যে তিনি প্রতি সপ্তাহের লেখা নিজেই লিখছেন, তর্কের খাতিরে তা ধরে নেওয়া যাক। সেই ধারাবাহিকের ২২তম কিস্তিতে (৫ই আগস্ট প্রকাশিত) তিনি মাওবাদীদের উদ্দেশে অস্ত্রত্যাগ করে সংসদীয় গণতন্ত্রে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে মাওবাদীদের পরামর্শ দিতে গিয়ে লেনিন, মাও জে দঙএবং চে গুয়েভারার শিক্ষা, পরিবেশ-পরিস্থিতি-নির্দিষ্ট সমাজ জীবন অনুযায়ী বিপ্লবী রণকৌশল প্রয়োগের শাশ্বত ধারণার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনিও সাম্য চান, বৈষম্যর অবসান চান। সাধু!

    ধরে নিচ্ছি লেখাটি তাঁর। এবং ছাপানো হয়েছে তাঁর অনুমোদন নিয়েই। এখানেই ওঠে প্রশ্ন। এক নয়, একাধিক। ভারতীয় সমাজের অসাম্য, বৈষম্য দূর করার জন্য সমাজ পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। তাঁর দলের কর্মসূচীতে কোথাও তা আছে? না, নেই। ভারত রাষ্ট্রের শ্রেণী চরিত্র, কংগ্রেস-বি জে পি যে জোতদার এবং দেশের একচেটিয়া পুঁজিপতিদের দল — এইসব নিয়েও তাঁর কী কোনো বক্তব্য আছে? না, নেই। তাহলে তিনি কিসের বামপন্থী?

    আদপেই তিনি বামপন্থী নন। দেশ, রাজ্য তথা দুনিয়াজোড়া মন্দা, আর্থিক সঙ্কটে দিশাহারা গরিব, মধ্যবিত্ত। প্রবল দোদুল্যমান পেটি বুর্জোয়ারা। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম এবং লালগড়ের নৈরাজ্যের ঘটনাপ্রবাহে সমাজের এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীগুলির আর্থিক, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সেই সামাজিক অবস্থানজনিত চেতনায় ওলটপালট, বিভ্রান্ত হয়েছে। তারই প্রকাশ ঘটেছে ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনে। সেই তথাকথিত, বিপুল প্রচারলালিত ‘পরিবর্তনে’ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে অতি বামপন্থার নামধারী উগ্রপন্থা এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি। তৃণমূলের পক্ষে ছিল মাওবাদীরা এবং বি জে পি, জামাতেও।

    সেদিনও বামপন্থীরা আক্রান্ত ছিল। তাঁরা শহীদ হয়েছেন। ঘরছাড়া হয়েছেন। ধর্ষিতা কিংবা সর্বস্বহারা হয়েছেন। সেদিন মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন—কোনো মাওফাও নেই। সব সি পি আই (এম)-র চক্রান্ত। অথচ তৃণমূল নেত্রীর তৃণমূল ভবনে আয়োজিত বৈঠকে মাওবাদীদের উপস্থিতির কথা লিখেছেন খোদ তৃণমূলেরই সাংসদ কবীর সুমন। এখন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সেই তৃণমূল নেত্রীই সভায়, লেখায় রাজ্যে মাওবাদীদের সশস্ত্র অস্তিত্ব স্বীকার করছেন। একদিন আড়াল করেছিলেন, কারণ খুন হচ্ছিল সি পি আই (এম) কর্মীরা। বিধানসভা নির্বাচনে মাওবাদী সন্ত্রাসে ভর করে জয়লাভ তাঁর দরকার ছিল। আজ সেই মাওবাদীদের সুবোধ বালক হতে বলছেন, কারণ সংঘর্ষ হলে দায় তাঁকে নিতে হবে। তাঁর ‘বামপন্থী’ হিসাবে গড়ে উঠতে শুরু করা মুখোশ আহত হবে, ছিঁড়ে খুঁড়ে যাবে। তাঁকে ঘিরে সমাজের একাংশের ঘোর নষ্ট হবে।

সন্ত্রাস জারি আছে ….

    তৃণমূলের সন্ত্রাস কিন্তু অব্যাহত আছে। তারা সন্ত্রাস চালাচ্ছে মূলত যেখানে সি পি আই (এম)-র জনসমর্থনে আঘাত জোরদার হয়নি। সেই সব জায়গায়। তা কলকাতার বেলেঘাটা, যাদবপুরের একাংশে। তবে তৃণমূলী সন্ত্রাসের ব্যাপক আগ্রাসন মূলত গ্রামকেন্দ্রিক। আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য তিনটি — জমি, পঞ্চায়েত এবং টাকা। ইতোমধ্যেই তৃণমূল নেতা, কর্মী এবং তাদের মদত পাওয়া দুর্বৃত্তদের হামলায় ৩০ জন সি পি আই (এম) কর্মী খুন হয়েছেন। অনেক বামপন্থী কর্মী, সমর্থককে ঘরছাড়াও করা হয়েছে। এর কারণ প্রধানত, জমি, পঞ্চায়েত দখলের জন্য গ্রামের নিরঙ্কুশ এলাকা দখল।

    বামপন্থা সম্পর্কেই ভুল বোঝানো মুখ্যমন্ত্রী দূরবীন দিয়েও সন্ত্রাস দেখতে পাননি। কিন্তু তাঁরই আয়ত্তাধীন পুলিসের রিপোর্ট বলছে বিধানসভা নির্বাচনের পর এখনো পর্যন্ত শহীদ তালিকায় যুক্ত হয়েছে ৩০ জন বামপন্থী কর্মীর নাম। সংখ্যাটা লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ধরলে দাঁড়াবে ৪১৩জন। যে ৩০ জন খুন হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৯জন সংখ্যালঘু, ৩ জন আদিবাসী, ১ জন বাগদী, দু’জন মহিলা। এই সব নেহাতই তাঁদের সামাজিক অবস্থানের একটি দিক। কিন্তু প্রধান বৈশিষ্ট্য — তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ খেতমজুর, গরিব কৃষকও। তৃণমূলীদের তোলা আদায়ের টাকা না দিতে পারার আতঙ্কে কিংবা মানসিক নির্যাতনে আত্মহত্যা করা গরিব মানুষের সংখ্যাও প্রায় ১৫।

   অর্থাৎ সন্ত্রাস বর্ণ মানে না। ধর্ম মানে না। কিন্তু বিলক্ষণ শ্রেণী মানে।

    রাজ্যের সিংহভাগ মানুষ গ্রামবাসী। তাই সন্ত্রাসও মূলত গ্রামমুখী। আর উল্লেখযোগ্যভাবে, এই রাজ্যের সন্ত্রাসের লক্ষ্য গরিবের জীবনের পাশাপাশি জমি, পাট্টা, পঞ্চায়েত। আক্রান্ত গ্রাম এবং গ্রামের গরিব, মধ্যবিত্ত। কারণ, জমির অধিকার মূলত তাঁদের হাতে। পঞ্চায়েত মূলত তাঁরাই পরিচালনা করেন। আর পঞ্চায়েতকে দুর্বল করা, কৃষকের হাত থেকে জমি কেড়ে ক্ষমতা হারানো জোতদারদের উত্তরসূরিদের দীর্ঘ, সযত্নলালিত স্বপ্নপূরণই এই সন্ত্রাসের লক্ষ্য। সঙ্গে রয়েছে বেপরোয়া তোলা আদায়।

    তাই ভাঙড়ে হামলা। আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য ‘চাষীর বেটা’ রাজ্যের প্রাক্তন ভূমিসংস্কার মন্ত্রী আবদুর রেজ্জাক মোল্লা। একই কারণে নির্বিচারে কৃষক, বর্গাদার হটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা বর্ধমানে, হুগলীতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, উত্তর ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। এই প্রসঙ্গে মনে রাখতেই হবে, এই পাট্টাদার, বর্গাদারদের হটিয়ে জমি কাড়ার কাজ তৃণমূল শুরু করে দিয়েছিল ২০০৮-’০৯ থেকেই। তখন তা মূলত পূর্ব মেদিনীপুরেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা ব্যাপক। এবং ক্রমশ বামপন্থী মোড়ক নেওয়ার চেষ্টা করা মমতা ব্যানার্জির দল প্রথম আটকেছিল ভূমিসংস্কারের কাজ — সেই ২০০৮ থেকেই। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা অধিকাংশ এলাকা সহ রাজ্যের যেখানে যেখানে বামফ্রন্ট বিরোধীরা জয়ী হয়েছে, সেখানেই বন্ধ হয়েছে জমি বণ্টনের কাজ। ভূমি সংস্কার এবং পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গরিব, মধ্যবিত্তের হাতে ক্ষমতা — দুইই অপছন্দ দেশের শাসকদের। রাজ্যের সন্ত্রাসের তাই অবশ্যই শ্রেণী চরিত্র আছে।

    সেদিন, সেই ২০০৮-এই হুগলীর বলাগড়, পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি, পটাশপুরের মতো কিছু জায়গায় বন্দুকের মুখে গ্রাম দখল করে দুষ্কৃতীরা বলছে —‘পাট্টা পাওয়া জমি ফেরত দিতে হবে।’ সেখানে পাট্টাদার, বর্গাদারকে উচ্ছেদ করে অন্য লোককে জমি দিয়ে দেওয়ার কাজও করে ফেলেছিল তারা। একই সঙ্গে সেই সময়ে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর, মুগবেড়িয়া, খেজুরির একাংশের মতো কিছু জায়গায় গ্রাম দখল করে নেওয়া দুর্বৃত্তরা ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছিল পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় শতাধিক নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন সেই সময়ে। এখনো তৃণমূলের সন্ত্রাসে সেই ধারাই অব্যাহত। এখন তা আরো ব্যাপক। জমির অধিকার মানে পাট্টা। ৩৪ বছরে পাট্টা বণ্টন হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৩২ একর জমির। পাট্টা পেয়েছেন ২৯ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৪০টি গরিব পরিবার। রাজ্যের গ্রাম মানে ৩৩৪১টি পঞ্চায়েত — গ্রামের সরকার। যেখানে নির্বাচিত হন যাঁরা, তাঁদের সিংহভাগ গরিব এবং মধ্যবিত্ত। তাই আক্রান্ত প্রধানত গরিব, মধ্যবিত্তরাই।

    শুধুমাত্র তৃণমূলের আক্রমণে এ পর্যন্ত ৪০০০মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকশো পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন। প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সন্ত্রাসে ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন। রাজ্যের ১২টি জেলায় ১৯১১ জনের উপর ১১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেছে তৃণমূল। সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ৩৩ লক্ষ টাকা একজনের উপর। তাঁকে কিস্তিতে জরিমানা দিতে বলা হয়েছে। থানায় অভিযোগ জানানো যাবে না। জানালে আরো শাস্তি। সাড়ে ৫ হাজার একর জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে হাজার হাজার গরিব কৃষককে। উচ্ছেদ হওয়া কৃষকেরা ফের নিজের জমিতে নামতে গিয়ে হাড়োয়ায় পুলিসের গুলির মুখে পড়েছেন। জমির অধিকার রক্ষায় গুলিবিদ্ধ হতে হয়েছে চারজন আদিবাসী কৃষককেও।

    ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটিয়ে গোটা দেশের কাছে পথ দেখিয়েছিলো এরাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। দেশের সংবিধান সংশোধন করে পঞ্চায়েতীরাজ বিল আনার আগে এরাজ্যের সেই পঞ্চায়েত ব্যবস্থারই প্রশংসা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। এখন সেই পঞ্চায়েত ব্যবস্থাই তৃণমূলের দৌরাত্ম্যে মুখ থুবড়ে পড়ার মুখে। দখলের রাজনীতিকে প্রসারিত করতে গিয়ে বর্ধমানে এখনই সি পি আই (এম) পরিচালিত প্রায় ১৫৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কাজ করতে পারছেন না। বাঁকুড়া জেলাতেও ১৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বামপন্থীরা পরিচালনা করে ১৪৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত। সেখানেও প্রায় ৫৫ টির মতো পঞ্চায়েতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দখল করেছে তৃণমূলীরা। সন্ত্রস্ত খানাকুল জানিয়েছে, সেখানে দুটি পঞ্চায়েত সমিতি আর ২৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের কোথাও নির্বাচিত সদস্যদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর যে জঙ্গলমহলে উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নানা প্যাকেজের কথা শোনাচ্ছেন, সেখানেও অধিকাংশ পঞ্চায়েতে গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ বন্ধ।

    তাই, মমতা ব্যানার্জির পথে গরিবের মাথা তোলা, অধিকার স্থাপনের কোন কথা নেই। তাই, তৃণমূলের সন্ত্রাসের মূল লক্ষ্য গরিবের অধিকার, মধ্যবিত্তের জীবন। তাই, ‘শি’ অর্থাৎ মমতা ব্যানার্জি কখনো বামপন্থী নন। কখনো ছিলেন না। হওয়ার কথাও নয়।

    সন্ত্রাসই তার প্রমাণ।

Advertisements

Tags: , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: