The Present Crisis of US Economy

 

মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান সঙ্কট প্রসঙ্গে

প্রণব চট্টোপাধ্যায়

    মার্কিন অর্থনীতির সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ ঋণ সঙ্কট বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষত আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদের প্রধান প্রধান কেন্দ্রগুলিকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। এমনকি বিশ্বায়নের স্লোগানকে সামনে রেখে ভারতবর্ষের মতো যে সমস্ত উন্নয়নশীল দেশ এদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছে, তাদের পরিস্থিতিও আদৌ সুখকর নয়। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা বিশ্ববাসীকে অবশ্য এই বলে আশ্বস্ত করছেন যে, অল্পদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে; কিন্তু বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারের চেহারায় অন্তত সেই লক্ষণ পরিলক্ষিত হ‍‌চ্ছে না।

    দুটি ঘটনা মার্কিন অর্থনীতিকে ধাক্কা দিয়েছে। ওদেশের প্রচলিত নিয়ম হলো কংগ্রেস মোট ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেবে। অর্থাৎ সরকার যতো খুশি ঋণ গ্রহণ করতে পারবে না। প্রথম মহাযুদ্ধের সময় থেকেই এই ব্যবস্থা চলে আসছে। এই সীমা বৃদ্ধি করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। সর্বশেষ ঊর্ধ্বসীমা ছিলো ১৪.৩ ট্রিলিয়ন বা ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি ডলার। এই ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে থেকে ২রা আগস্ট পর্যন্ত ব্যয় নির্বাহ সম্ভব হতো; কিন্তু তারপরই প্রয়োজন হতো এই সীমা বৃদ্ধি করার। মার্কিন কংগ্রেসের দুইকক্ষ সেনেট ও প্রতিনিধি সভা বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। সেনেটে ওবামার দল অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু প্রতিনিধি সভায় বিরোধী দল রিপাবলিকানদের প্রাধান্য।

    উভয় দলই বাজেট ঘাটতি কমাতে চায়; কিন্তু কি প্রক্রিয়ায় হ্রাস পাবে তা নিয়ে বিরোধ। ডেমোক্র্যাটরা চায় সামাজিক খাতে ব্যয়কে অটুট রেখে বিত্তবানদের উপর কর বৃদ্ধি। বিপরীত মত রিপাবলিকানদের। যাইহোক শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ঋণের ঊর্ধ্বসীমা আরও ২.৪ ট্রিলিয়ন বা ২ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি ডলার বৃদ্ধি করা হবে; কিন্তু আগামী দশ বছরের মধ্যে সরকারী ঘাটতি কমাতে হবে তিন লক্ষ কোটি ডলার। এই ঘাটতি কিভাবে কমানো হবে তা নির্ধারণের জন্য উভয় কক্ষের বারোজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা যে, আগামী দিনে সমাজকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় কমিয়ে ঘাটতি হ্রাস করা হবে। এই ঋণের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে মার্কিন প্রশাসনের আর্থিক দেউলিয়ার একটি দিক উন্মোচিত হয়।

    মার্কিন কংগ্রেসে ঋণের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার রেশ কাটার পূর্বেই হ্রাস পায় আমেরিকার ঋণ রেটিং। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর’স (এস অ্যান্ড পি) ৫ই আগস্ট তাদের রেটিং-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘এ এ এ’ পর্যায় থেকে একধাপ নামিয়ে ‘এ এ +’ স্থানে বসিয়েছে। এর অর্থ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা একধাপ হ্রাস পেয়েছে। এস অ্যান্ড পি-র হিসাব অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১৭ লক্ষ কোটি ডলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সব থেকে বেশি ঋণ দিয়েছে চীন। এর পরিমাণ বর্তমানে ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি ডলার। এর পরেই রয়েছে জাপান (৯১,২০০ কোটি ডলার)। এছাড়া ঋণদাতাদের মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন, ব্রাজিল, রাশিয়া, কানাডা প্রভৃতি দেশ। ভারত রয়েছে ঋণদাতাদের তালিকায়। এর পরিমাণ ৪১০০ কোটি ডলার।

    এই উভয় ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন আধিপত্য বেশ কিছুটা প্রশ্নের মুখে দাঁড়ায়। এমনিতেই ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনীতিতে মহামন্দার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তাছাড়া বিগত এক বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বিশেষত গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালির অর্থনীতি বেশ সঙ্কটে রয়েছে যার প্রতিফলন ইউরোপীয় ‍‌ইউনিয়নের অভিন্ন মুদ্রা ‘ইউরো’-এর ওপর পড়েছে। এককথায় বলা চলে যে, সাম্রাজ্যবাদী লগ্নীপুঁজি পরিচালিত বিশ্বায়নের টিকে থাকার অক্ষমতা এইসব ঘটনার মধ্য দিয়ে এখন প্রমাণিত।

   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ রেটিং হ্রাস পাওয়ার ঘটনা বিশ্ব শেয়ার বাজারকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়। মাত্র তিনদিনের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত শেয়ারসূচক ডাওজোন্স, এস অ্যান্ড পি (৫০০) এবং ন্যাসডাক যথাক্রমে ৪.১৯ শতাংশ, ৫.৫০ শতাংশ এবং ৫.৫৩ শতাংশ হ্রাস পায়। ইউরো এলাকার দেশগুলির সম্মিলিত শেয়ারসূচক ইউরো স্টক্স, এফ টি এস ই ১০০ যথাক্রমে ৩.৭২ শতাংশ এবং ৩.৩৯ শতাংশ হ্রাস পায়। ফ্রান্সের শেয়ারসূচক সি এ সি ৪০ এবং জার্মানির শেয়ারসূচক ডাক্স ৫.০২ শতাংশ হ্রাস পায়। জাপানের শেয়ারসূচক নিক্কেই এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারসূচক কোস্‌পি হ্রাস পায় যথাক্রমে ২.১৮ শতাংশ ও ৩.৮২ শতাংশ। ভারতবর্ষের শেয়ারসূচক এক ধাক্কায় ১৭ হাজারের নিচে নেমে যায় যা বিগত ১৪ মাসের মধ্যে সব থেকে কম। বিশ্ব শেয়ার বাজারে সম্মিলিত মূল্যায়নের (মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন) ভিত্তিতে লোকসানের পরিমাণ আড়াই লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশি। ভারতে এর পরিমাণ প্রায় পাঁচলক্ষ কোটি টাকা।

    মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান ঋণসঙ্কট, ঋণ গ্রহণের বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পাওয়ার পরিণতিতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, অনেকে এর মধ্যে দিয়ে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মহামন্দার প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কা করছেন। অবশ্য বারাক ওবামা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় পর্যন্ত সকলেই আশা প্রকাশ করছেন যে, বর্তমান পর্যায়ের সঙ্কট তেমন ভয়াবহ কিছু নয়, তা শীঘ্রই অতিক্রম করা যাবে। বলা বাহুল্য ২০০৮ সালের মহামন্দার সাথে বর্তমান সময়কার পরিস্থিতির পার্থক্য আছে ঠিক, কিন্তু এর মধ্যেও ভবিষ্যৎ শঙ্কার উপাদান রয়ে গেছে। যাকে অস্বীকার করা যায় না।

    একথা সকলেরই স্মরণে আছে যে, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছিলো বন্ধকী সঙ্কটের মধ্য দিয়ে। সাম্রাজ্যবাদী লগ্নী পুঁজির ধারক ও বাহক পাঁচটি বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক বিয়ার স্টার্নস, লেমন ব্রাদার্স, মেরিল লিঞ্চ, মর্গান স্ট্যানলি এবং গোল্ডম্যান স্যাক্‌স দেউলিয়া হয়ে যায়। প্রায় একইসাথে জেনারেল মোটরসের ন্যায় দানবীয় বহুজাতিক কর্পোরেশন নিজে‍‌কে দেউলিয়া ঘোষণা করে। এর প্রভাব দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটেনের র‌য়্যাল স্কটল্যান্ড ব্যাঙ্ক, সুইজারল্যান্ডের ব্যাঙ্ক অব সুইস প্রভৃতি দেউলিয়া হয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সঞ্চয় নিমেষের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে ‘দ্য ইকনমিস্ট’ সাপ্তাহিক ‘পুঁজিবাদ গাড্ডায়’ বলে প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশ করে। মার্কিন প্রশাসনসহ বিভিন্ন পুঁজিবাদী দেশের সরকার কোটি কোটি ডলারের বেইল আউট প্যাকেজের মধ্য দিয়ে দেউলিয়া ব্যাঙ্কগুলিকে উদ্ধার করার উদ্যোগ নেয়।

    কিন্তু বর্তমান সঙ্কট ব্যাঙ্ক ও বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা এখন রাষ্ট্রীয় স্তরে প্রসারিত হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বিশেষত গ্রিস এই সঙ্কটে পড়ে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সঙ্কটের আঘাতে গ্রিসের ঘটনাও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিকাশের গতি প্রায় স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারী রাজস্ব ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে এবং ঘাটতি বেড়ে যায়। ২০০৯ সালের শেষার্ধে পরিস্থিতি এমন অস্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায় যারফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সৃষ্টি হয় আতঙ্কের পরিবেশ। কারণ মনে করা হয় যে, গ্রিস রাষ্ট্রীয়ভাবে ঋণ পরিশোধে অসমর্থ একটি দেশে পরিণত হতে চলেছে। এই দায় পূরণের জন্য ২০১০ সালের মে মাসে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আই এম এফের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এর শর্ত অনুযায়ী গ্রিস ১৪৫০০ কোটি ডলার সাহায্য পাবে কিন্তু তার বিনিময়ে দেশে চূড়ান্ত ব্যয় সঙ্কোচনের এক কর্মসূচী বাস্তবায়িত করতে হবে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি ঠিক একইরকম না হলেও তার ঋণ গ্রহণের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাওয়া এবং আগামী বছরগুলিতে ৩ লক্ষ কোটি ডলার ব্যয় সঙ্কোচনের আশ্বাস, এই উভয় ঘটনাই বিশ্বের দরবারে মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। লেমন ব্রাদার্স বা বিয়ারস্টার্ন দেউলিয়া হয়ে পড়ায় মার্কিন সরকার ডলারের থলি নিয়ে এদের পাশে দাঁড়িয়েছিলো; কিন্তু খোদ মার্কিন সরকার ঋণের ঊর্ধ্বসীমা যদি অতিক্রম করে যায় এবং আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা যদি ঘোষণা করে যে, তাদের ঋণ দেওয়া পূর্বের মতো নিরাপদ নয়, তাহলে মার্কিন প্রশাসনকে কে উদ্ধার করবে? এই প্রশ্নটি বর্তমান সময়ে একান্ত জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে।

    এই পরিস্থিতির আশঙ্কা করে সি পি আই (এম)-এর ৭-১০ই আগস্ট ২০১০, কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত অধিবেশনে গৃহীত রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়েছিল ‘‘বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির দেউলিয়া দশা থেকে বর্তমান সঙ্কটের উৎপত্তি এবং দেউলিয়া দশা কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারী কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে। এর সঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলেছে রাষ্ট্রীয় দেউলিয়াপনা।’’

    বর্তমান সঙ্কট এই ‘রাষ্ট্রীয় দেউলিয়াপনা’-কেই সামনে নিয়ে এসেছে। এখন প্রশ্ন হলো কোন্‌ পথে এই দেউলিয়াপনাকে মার্কিন প্রশাসন বা অন্যান্য দেশ মোকাবিলা করতে চাইছে? বলাই বাহুল্য, সমস্ত সঙ্কটের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে শ্রমজীবী জনগণের উপর। গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরকারী ব্যয় সঙ্কোচনের নীতির পরিণতিতে বেতন হ্রাস, অবসরগ্রহণের বয়ঃসীমা বৃদ্ধি, জনকল্যাণমূলক ব্যয় ছাঁটাই, কর্মসঙ্কোচন নীতি প্রভৃতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। বলা বাহুল্য, মার্কিন প্রশাসনও সেইপথেই অগ্রসর হবে। ইতোমধ্যে গত জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেকারীর হার ৯ শতাংশ অতিক্রম করে‍‌ গেছে। এক তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ৩৪ শতাংশ কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ ৬০ লক্ষ মানুষ কর্মচ্যুত হয়েছে। আগামী দিনে তিনলক্ষ কোটি ডলারের ব্যয় সঙ্কোচের যে সিদ্ধান্ত মার্কিন কংগ্রেস গ্রহণ করেছে তার পরিণতিতে অভ্যন্তরীণ অবস্থার যেমন অবনতি ঘটবে তেমনি অন্যরাও পার পাবে না।

    বর্তমান মার্কিন সমাজে আয় ও সুদের বৈষম্য পাহাড়প্রমাণ। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক শতাংশ ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দে‍‌শের মোট আয়ের ২১.২ শতাংশ, অন্যদিকে দরিদ্র ৫০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের আয় হলো দেশের মোট আয়ের মাত্র ১২.৮ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়সঙ্কোচনের নীতি, আগামী দিনে এই বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

    আমাদের দেশে বিগত দুই দশক ধরে বিশ্বায়ন, বেসরকারীকরণ, উদারীকরণের মধ্য দিয়ে নব্য উদারনীতির প্রয়োগ ঘটে চলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির নেতিবাচক প্রবণতা এদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে বাধ্য এবং তা করছেও। মার্কিন প্রশাসন তাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আউটসোর্সিংকে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি ভাবছে। এরফলে আমাদের দেশের উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প বা পরিষেবা বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র সমস্যায় পড়বে। ইতোমধ্যে টি সি এস, ইনফোসিস প্রভৃতির ন্যায় সংস্থার শেয়ার সব থেকে হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া গত ৫ ও ৬ই আগস্ট বিদেশী বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলি (এফ আই আই) ৬৬ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার বাজার থেকে তুলে নিয়েছে। এপর্যন্ত সর্বমোট ১৫০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার এরা বিক্রি করে দিয়েছে। বামপন্থীদের চাপে কেন্দ্রীয় সরকার এম এস তারাপোড়ে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী মূলধনী খাতে ভারতীয় মুদ্রার পূর্ণ বিনিময় যোগ্যতা (capital account convertibility) স্থাপন করতে পারে‍‌ নি। ফলে বড় ধরনের সঙ্কট থেকে জাতীয় অর্থনীতি রক্ষা পেয়েছে।

   এক সময় এদেশের দক্ষিণপন্থীরা ঠাট্টা করে বলতো যে, মস্কোতে বৃষ্টি পড়লে, ভারতে কমিউনিস্টরা মাথায় ছাতা ধরে; এটা অবশ্য কোনোকালেই সত্য ছিলো না; কিন্তু এখন সকলেই দেখছে যে, বারাক ওবামার ঠাণ্ডা লাগলে মনমোহন সিং-প্রণব মুখোপাধ্যায়রা গায়ে কম্বল জড়িয়ে নেন। বিশ্বায়নের এমনই মহিমা।

    সাম্রাজ্যবাদী লগ্নী পুঁজির এই চরিত্রকে বিশ্লেষণ করে সঠিকভাবেই সি পি আই (এম)-এর পূর্বোক্ত রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে ‘বর্তমানের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সঙ্কটের দর্পণে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নী পুঁজিপুষ্ট বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার ভঙ্গুরতা এবং তার ক্ষণস্থায়ী চরিত্রটাই প্রতিফলিত হচ্ছে। এইভাবে নয়া উদারনীতির পতাকাবাহী পুঁজিবাদের বিকল্পের সন্ধানে সংগ্রামের পথ খুলে যাচ্ছে।’

Advertisements

Tags: , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: