A Clear Case of Political Vendetta

আগের খবর

sushanta

মেদিনীপুর, ১১ই আগস্ট— সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশতই রাজ্য সরকারের তরফে সাজানো হয়েছিলো মামলা। হাইকোর্টের তরফে এই মামলার শুনানিতে জামিন মঞ্জুর করা এবং সুপ্রিম কোর্টের তরফে সেই রায়কে সমর্থন জানানোর পরেও বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর আদালত খারিজ করে দিলো গড়বেতা কেন্দ্রের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের জামিনের আবেদন। সুশান্ত ঘোষের সাতদিনের সি আই ডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে মেদিনীপুর আদালতের সি জে এম মনোজ রাইয়ের এজলাস। মেদিনীপুর আদালতে চত্বরে তৃণমূলীদের জমায়েত, উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সন্ধ্যায় সুশান্ত ঘোষকে নিজেদের হেফাজতে নিলো সি আই ডি। এদিন রাতেই তাঁকে ভবানীভবনে নিয়ে আসা হয়।

    গড়বেতা কেন্দ্র থেকে পরপর আটবার জিতে আসা সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে সি পি আই(এম)- বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই এই মামলা সাজানো হয় রাজ্য সরকারের তরফে। গত বিধানসভা নির্বাচনে শত কুৎসা, ষড়যন্ত্রের পরেও গড়বেতা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন সুশান্ত ঘোষ। মমতা ব্যানার্জির সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্টই— জামিনঅযোগ্য ধারায় সাজানো খুনের মামলা এনে পার্টিনেতা সুশান্ত ঘোষকে কারান্তরালে রাখা এবং পার্টিকে অপদস্থ করা। সুশান্ত ঘোষ এবং সি পি আই (এম)-কে হেয় করার লক্ষ্যে নিয়েই যে সরকার ও প্রশাসন এই ষড়যন্ত্রের মামলা সাজায় তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিলো হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি চলাকালীনই। প্রাক্তন অ্যাডভোকেট বলাই রায় সেই সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন চন্দ্রকোনার বেনাচাপড়ায় উদ্ধার হওয়া কঙ্কালে সুতোয় তৈরি কাপড় এবং অন্তর্বাস কীভাবে একটানা ৯বছর মাটির তলায় চাপা পড়ে থাকার পরেও অবিকৃত থাকতে পারে ?

    ২০০২সালের সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনার পর ২০১১সালে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের শরীরে কীভাবে প্রায় অবিকৃত থেকে গেলো কাপড়ের অন্তর্বাস তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বস্ত্র বিশেষজ্ঞরাও। অথচ এই অন্তর্বাস দেখেই নাকি বাবার কঙ্কাল চিনতে পেরেছিল তার ছেলে। যদিও এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে কার্যত ধর্তব্যের মধ্যে না এনেই হাইকোর্টের মত মেদিনীপুর আদালতেও সরকারী আইনজীবীদের হুবহু একই সওয়ালের ভিত্তিতেই এদিন মেদিনীপুর সি জে এম আদালতে খারিজ হয়ে গেলো সুশান্ত ঘোষের জামিনের আবেদন। যে পয়েন্টে অব আর্গুমেন্টে হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায় সরকারী আইনজীবীদের আবেদেন, সেই একই সওয়ালের ভিত্তিতে এদিন সুশান্ত ঘোষের সাতদিনের সি আই ডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় মেদিনীপুর আদালত।

                *****            *****            *****

অস্ত্রভাণ্ডার মিলেছিল বন্দুকবাজ শ্যামলের বাড়িতেই

নিজস্ব প্রতিনিধি
মাওবাদী নাশকতায় যুক্ত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল যৌথবাহিনী

    কলকাতা, ১৩ই আগস্ট- সেদিন রাতে একের পর এক তাণ্ডব চালিয়ে মাওবাদীরা ঝাড়গ্রামের বাঁধগড়ায় এক প্রাথমিক শিক্ষকসহ দুই জন এবং ধরমপুরে একজন সি পি আই (এম) কর্মীকে নৃশংসভাবে খুন করেছিল।

    সেই রাতে অর্থাৎ ২০০৯সালের ১৭ই ডিসেম্বর যৌথবাহিনী তল্লাশি চালিয়েছিল তার বাড়িতে। তার বাড়িতেই মিলেছিল অস্ত্রভাণ্ডার। মাওবাদী নাশকতার কাজেই ব্যবহার করার জন্য জড়ো করা হয়েছিল সেই অস্ত্র। মিলেছিল মাওবাদী নথিপত্রসহ একাধিক ছবি। মাওবাদী অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবিরে অনায়াস দক্ষতায় বন্দুক তাক করে লক্ষ্যবস্তুতে গুলি চালানোর পোজ দেওয়া তাঁর একটি ছবিও হাতে রয়েছে সি আই ডি-র। উদ্ধার হয়েছিল তার ডেরা থেকেই।
shyamal_acharya

    মারাত্মক এই ব্যক্তির নামই শ্যামল আচার্য। মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দু-সপ্তাহের মধ্যেই নয় বছর আগের কেশপুরের এক ঘটনার ভিত্তিতে ফের নতুন করে সি পি আই (এম) নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে এই শ্যামল আচার্য। যে মামলার নিষ্পত্তি ইতোমধ্যেই মেদিনীপুর আদালতে হয়ে গেছে সেই ঘটনাই ফের নতুন করে ‘ওপেন’ করেছে রাজ্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা সি আই ডি- এবং তা হয়েছে শুধুমাত্র এই ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই!

    যার নিজেরই সি আই ডি হেফাজতে থাকার কথা, সেই ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই সি আই ডি জেরার সামনে গড়বেতা কেন্দ্রের সি পি আই (এম) বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ! কেশপুরের খাটুয়ার বাসিন্দা কট্টর সি পি আই (এম) বিরোধী অজয় আচার্য-কাণ্ড প্রমাণ করে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই রাজ্য সরকারের তরফে সি পি আই (এম) নেতা সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র চলছে।

    দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমও নিশ্চয় খবর রাখছেন, মাওবাদী নাশকতা এবং অস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগ থাকা এক দুষ্কৃতীর সাজানো এফ আই আর-এর ভিত্তিতেই রাজ্যের এক জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করে অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখাচ্ছে তাঁর দলের সঙ্গেই জোট করে চলা রাজ্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা।

    শ্যামল আচার্য এখন কেশপুরে নেই। কলকাতায় তৃণমূলী আতিথেয়তায় থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কষ্টকল্পিত সেই সব ‘হাড় হিম’ সন্ত্রাসের বর্ণনা দিতে ব্যস্ত। বারে বারে চেষ্টা করেও এদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

    শ্যামল আচার্য কেশপুরে নেই কেন এই প্রশ্ন তুলে নিশ্চিত আজ তৃণমূলীরা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করবে না। যদিও ২০০৯সালে শ্যামল আচার্য বাড়িতে নেই অর্থাৎ সি পি আই (এম) তাকে অপহরণ করেছে এই মর্মে থানাতে অভিযোগ করেছিল তৃণমূলীরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবং গোপন সূত্রে নির্দিষ্ট কিছু খবর পাওয়ার পরেই ১৭ই ডিসেম্বর রাতে মেদিনীপুর শহরের উদয়পল্লীতে একটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় যৌথবাহিনী। উদয়পল্লীতে স্বপন দেবনাথ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতেই ভাড়া থাকতো শ্যামল আচার্য। সেদিন রাতে তল্লাশির খবর পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল সে। মেদিনীপুর সদর ব্লকে তখন তৃণমূলীরা প্রচার চালাচ্ছিল যে, শ্যামল আচার্য নামে এক তৃণমূল কর্মীকে অপহরণ করেছে সি পি আই (এম)।

    এরপর শ্যামল আচার্যের বাড়ি থেকেই পুলিস উদ্ধার করেছিল ২৫০রাউন্ড কার্তুজ। পাওয়া গিয়েছিল এই থ্রি ফিফটিন রাইফেলের কার্তুজ। পরেও লালগড়, বেলপাহাড়ি, শালবনীসহ সদর ব্লক এলাকায় একাধিক মাওবাদী নাশকতার ঘটনায় মিলেছিল থ্রি ফিফটিন রাইফেলের কার্তুজ। ২৫টি প্যাকেটে ১০টি করেছিল এই কার্তুজ। তা বাজেয়াপ্তও করে পুলিস। শ্যামল আচার্যের ঘর থেকেই মিলেছিল মাওবাদী নথিপত্রের পাশাপাশি কিছু ছবিও। সেখানেই পুলিস পেয়ে যায় শ্যামল আচার্যের বন্দুক তাক করে প্রশিক্ষণ নেওয়ার একটি ছবি। রীতিমতো আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এই শ্যামল আচার্য!

    পুলিসের হাতে ধরাও পড়েছিলো এই ব্যক্তি। মাওবাদীদের ডেরা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে এই ব্যক্তিকেই একবার বর্ধমান আরেকবার জামশেদপুরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিস। ভিন রাজ্যে মাওবাদী ডেরা ও অস্ত্র ভাণ্ডারের সন্ধান পেতে যাকে নিয়ে যাওয়া সেই রকম মারাত্মক এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয়ে গেলো সি পি আই (এম) বিরোধী এই ষড়যন্ত্রের নাটক যার জন্য নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধিকে হেয় করতে মজবুত কোন প্রমাণ ছাড়াই পার্টি নেতা সুশান্ত ঘোষকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করাও শুরু করে দিলো সি আই ডি। আর মাওবাদী নাশকতায় যুক্ত এই বিপজ্জনক ব্যক্তিই এখন তৃণমূলী চ্যানেলে চ্যানেলে ঘুরে সি পি আই (এম)-র সন্ত্রাসের গল্প পরিবেশন করছে। অভিযোগ তার বাবা অজয় আচার্যকে খুন করেছে সি পি আই (এম)-র কর্মীরা। মৃত্যুর সময় তার বাবার পরনে থাকা অন্তর্বাস প্রায় অবিকৃত অবস্থায় ৯বছর পর উদ্ধার হলো চন্দ্রকোনার দাসেরবাঁধ এলাকার বেনাচাপড়া থেকে!

    শ্যামল আচার্যের দাদা গৌতম আচার্যকেও দশ বছর আগে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। গৌতম আচার্য জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করতো। এই জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে এম সি সি মিশে গিয়ে ২০০৪সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) তৈরি হয়। ২০০১সালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয় জনযুদ্ধের সক্রিয় কর্মী এই গৌতম আচার্যকে। দাদার সূত্রেই শ্যামল আচার্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় জনযুদ্ধের। সেই ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতেই মাওবাদী নাশকতায় হাত পাকানো শুরু হয় শ্যামল আচার্যের। জঙ্গলমহলে মাওবাদী-তৃণমূলী সন্ত্রাসের সময় সদর ব্লকে জনসাধারণের কমিটির হয়ে রীতিমতো ভাড়াও খাটে এই তৃণমূল কর্মী। গড়বেতার মাওবাদী নেতা অসিত সরকারের ঘনিষ্ঠ আশিস প্রামাণিকের নেতৃত্বেই শ্যামল আচার্যের এই তৃণমূল-মাওবাদী ঘনিষ্ঠতা। আশিস প্রামাণিক একবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিল এবং হেরেছিল।

    এহেন ব্যক্তিই এখন হয়ে উঠেছে সি পি আই (এম) বিরোধী ষড়যন্ত্রে সি আই ডি-র অন্যতম সাক্ষী।

    যে কায়দায় কলকাতা হাইকোর্টে মঞ্জুর হওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টে সেই রায়ের পক্ষে সমর্থন জানানোর পরেও নিম্ন আদালতে সুশান্ত ঘোষের জামিনের আবেদন খারিজ হয় তাতেই স্পষ্ট হচ্ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশতই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। আর মাওবাদী নাশকতার সঙ্গে যুক্ত, অস্ত্রভাণ্ডার বাড়িতে মজুত রাখার অপরাধে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ৯বছর বাদে এক এফ আই আর-এর ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের সাজানো মামলা, সুশান্ত ঘোষের গ্রেপ্তার—মমতা ব্যানার্জির সরকারের প্রতিহিংসার মনোভাব নিয়ে চলার অভিযোগকেই দৃঢ় করছে।

Advertisements

Tags: , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: