Trinamool Minister’s Connivance with the Murder of Trinamool Leader Tapan Dutta of Bali

 

তৃণমূল নেতা খুনের মামলা

মন্ত্রীকে বাঁচাতে অতি-তৎপর পুলিস, প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি

    কলকাতা, ২৫শে সেপ্টেম্বর — হাওড়ার বালিতে তৃণমূলীদেরই হাতেই তৃণমূল নেতা তপন দত্ত খুনের মামলায় সি আই ডি পুলিসের দেওয়া চার্জশিটে উল্লেখ করা ‘অরূপ রায়’ নামটি তাঁর নয়, দাবি করেছিলেন রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী ও হাওড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরূপ রায়।

arup
    তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুব্রত বক্সী বলেছিলেন, এই অরূপ রায় কে, তা খুঁজে দেখার দায়িত্ব সি আই ডি-রই। আমাদের কোনও দায় নেই এই অরূপ রায়ের পরিচয় খুঁজে বার করার।

    রবিবার ভবানী ভবনে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সি আই ডি পুলিসের ডি জি (ক্রাইম) বি ভি থাম্বি যা বলতে চাইলেন, তাতে চার্জশিটে উল্লেখ থাকা ‘অরূপ রায়’ নামটির পরিচয় সম্পর্কে আর ধন্দ রইলো না। এই অরূপ রায় রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী এবং হাওড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি-ই!

    যদিও ডি জি (ক্রাইম) সি আই ডি বি ভি থাম্মি প্রথমে বলে ফেললেন, বালির তৃণমূল নেতা তপন দত্ত খুনের মামলায় দেওয়া চার্জশিটে অরূপ রায়ের নাম নেই।

    ভুল বললেন। কিংবা অসত্য দাবি করলেন। স্বাভাবিক। দলের নেতা খুনের তদন্তের চার্জশিটে দলেরই নেতার নাম রেখেছে সি আই ডি আর তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস, যারা সরকার চালাচ্ছে, তারা চুপ থাকবে এমনটি তৃণমূলের মতো দলে হয় না। হয়নি। বোঝা গিয়েছে, তৃণমূল দল ও প্রশাসন থে‍কে প্রবল বকাঝকা কিংবা চাপ খেয়ে রবিবারের মতো ছুটির দিনে একেবারে সকাল ৯টায় ভবানীভবনে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠানোর ছবিতেই। অতঃপর বলা হলো, চার্জশিটে অরূপ রায়ের নাম নেই।

    আছে। সি আই ডি-রই তৈরি করা চার্জশিটে ১৬ পৃষ্ঠায় অরূপ রায়ের নাম আছে।

    থাম্বি বললেন, আপনারা যে মন্ত্রীর কথা বলছেন, তাঁকে কিন্তু অভিযুক্ত হিসাবে চার্জশিটে রাখা হয়নি।

    আইনী ভাষায় ঠিকই বলেছেন তিনি। ঠিকই, অভিযুক্ত হিসাবে, অর্থাৎ তপন দত্তকে খুন করার অভিযুক্ত হিসাবে অরূপ রায়ের নাম নেই চার্জশিটে। খুনের অভিযুক্ত হিসাবে যে পাঁচজনের নাম আছে, তারা সুভাষ ভৌমিক ওরফে বাবন, কার্তিক দাস ওরফে শ্বেতী বাপি ওরফে লিপস্টিক বাপি, রমেশ মাহাতো, ষষ্ঠী গায়েন এবং অসিত গায়েন। এরা সবাই স্থানীয় তৃণমূলী। রমেশ, কার্তিক এবং বাবন এরই মধ্যে জামিন পেয়ে গিয়েছে আদালত থেকে। বাকি দু’জনও জামিন পেয়ে যাবে বলে এখন আশঙ্কিত তপন দত্তের বিধবা স্ত্রী প্রতিমা দত্ত। তাই তিনি এই মামলায় সরকারী আইনজীবী বদলের দাবি তুলেছেন। এই যে পাঁচজন অভিযুক্ত, তাতে নাম নেই অরূপ রায়ের। আইনী ভাষায় এটা ঠিক।

    কিন্তু চার্জশিটের অন্য অংশে, যেখানে কেন এবং কীভাবে ঘটেছিলো তপন দত্তকে খুন করার ঘটনা, সেই বিবরণ দেওয়া আছে, সেখানে তো রয়েছে অরূপ রায়ের নাম। ১৬ পৃষ্ঠায় খোদ সি আই ডি যেখানে বলেছে, ‘‘….তপন দত্ত জলাভূমি বাঁচাও কমিটি নামে একটি সংগঠন গড়েন ভরাট আটকানোর জন্য। তখন তৃণমূল নেতা গোবিন্দ হাজরা, কল্যাণ ঘোষ (জেলা আহ্বায়ক), ষষ্ঠী গায়েন, অরূপ রায়, অমিত পালচৌধুরী, বাবু মণ্ডল ও অন্যরা ওই ইস্যুতে তপন দত্তের উপর প্রবল ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। তারা তপন দত্তকে টাকা ও অন্যান্য কিছুর বিনিময়ে প্রভাব খাটিয়ে নিরস্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি অনড় থাকেন।’’

    চার্জশিটের এই অংশে যেভাবে রয়েছে অরূপ রায়ের নাম, কীভাবে এবং কেন তা রাখলো সি আই ডি, তা নিয়ে সি আই ডি-র ডিজি (ক্রাইম) বিস্তারিত ব্যাখ্যায় না গিয়ে ভাসা ভাসা ব্যাখ্যায় এদিন বলেছেন, ‘তপন দত্তের স্ত্রী তৃণমূলের কিছু কর্মী ও নেতার নামে অভিযোগ করেছিলেন এবং আমরা তদন্ত করে দেখেছি, তা ঠিক নয়।’ ভালো কথা। তদন্তের সময় ‘যা ঠিক নয়’ বলে পাওয়া যায়, তা চার্জশিটে হয় অনুল্লেখিত থাকে। নয়তো বলা হয়, ‘এই অভিযোগ ঠিক ছিলো না’!

    এক্ষেত্রে চার্জশিটে কিন্তু সি আই ডি তা লেখেনি। বরং অন্য তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে অরূপ রায়‍‌ও যে তপন দত্তের উপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন ও তাকে নিরস্ত কর‍‌তে চেষ্টা করেছিলেন, তা স্পষ্ট করেই লেখা হয়েছে। খুনে অভিযুক্ত হিসাবে নাম না থাকলেও, চার্জশিটে ঘটনার বিবরণে অরূপ রায়ের ভূমিকা যা লেখা হয়েছে, নৈতিক দিক থেকে তা এড়িয়ে যাওয়া যায় কি? এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায় অবশ্য বি ভি থাম্বির নয়। কিন্তু বালি-নিশ্চিন্দা এলাকার তৃণমূল কর্মীদের একাংশ এবং তৃণমূলের হাতে খুন হয়ে যাওয়া তৃণমূল নেতা তপন দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্ত, যিনি নিজেও তৃণমূলের নেত্রী, এরা সবাই জানেন, জবাব দেওয়ার দায় পালন করেন না তাদের দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিও!

    তপন দত্ত খুন হয়ে যাওয়ার এক বছর আগে, ২০১০ সালে যখন লোকসভা নির্বাচনে সবে ভালো ফল করেছিলো তৃণমূল, মমতা ব্যানার্জি যখন রেলমন্ত্রী, তখনই বালি-নিশ্চিন্দা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সন্দীপ রায়, সঞ্জীব দাস, সমর পাত্র, কল্যাণী মাজি, গোপাল গায়েন প্রমুখ মমতা ব্যানার্জিকে চিঠি দিয়েছেন। তাতে জলাভূমি ভরাট নিয়ে দলীয় কোন্দলের সবটা জানিয়ে ওরা চিঠিতে মমতা ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, ‘‘এটা বিশ্বাস করা কষ্টসাধ্য যে দলের উচ্চ নেতৃত্ব এই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত নন। আজও পর্যন্ত দল হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান এই ইস্যুতে কী, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট হলো না।

    আমরা মনেকরি, যারা সামনে থেকে তৃণমূলের মতো দলকে নেতৃত্ব দেবে, তাদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঘোষিত রোজগার থাকা দরকার। সেই যোগ্যতাসম্পন্ন এমন নেতৃত্ব আমাদের ব্লকে অবশ্যই আছে। কিন্তু দল তাদের পেশা না হওয়ায় প্রতিদিন তাঁরা হাওড়া কোর্ট কিংবা ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে হাজিরা দিতে অক্ষম। এইসব সৎ ভাবমূর্তি সম্পন্ন নেতৃত্বের উপর ভর করে দল নির্বাচনী সাফল্য লাভ করলেও আজ তারা দলে ব্রাত্য। …আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই পত্র লিখলাম এই কারণে যে আজ আমরা ভালো আছি, আগামীতেও ভালো থাকতে পারবো তো? সবশেষে জানাই, এই পত্রে এমন কোনও বিষয়ের উল্লেখ নেই, যা আমরা প্রমাণ করতে পারবো না।’’

    এই রকম অবাক চিঠির কোনও জবাব দেননি স্বয়ং মমতা। এই চিঠির অনুলিপি ওই তৃণমূলীরা সুব্রত বক্সী থেকে শুরু করে মুকুল রায়, পূর্ণেন্দু বসুকে দিলেও, জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ রায়কে কিন্তু দেননি কখনও। এই চিঠিতে হাজিরা প্রসঙ্গে উল্লেখ করা ‘হাওড়া কোর্ট’ কিন্তু তৃণমূলের জেলা সভাপতি অরূপ রায়েরই ডেরা ছিলো তখন। চিঠিতে তৃণমূলীরা লিখেছিলেন, ‘‘আজ এমন অনেককে নেতৃত্বে দেখা যাচ্ছে, যাদের দলের দুঃসময়ে সরীসৃপের মতো শীতঘুমে দেখা গেছে।…

    সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, বিরোধের মূল বিষয় অসৎ পথে রোজগারের ভাগাভাগি। বর্তমান জেলা নেতৃত্বও এই ভাগাভাগির কুশীলব।’’

Advertisements

Tags: , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: