How Media & Mamata Turns 180 degrees with Time

 

উলটে গিয়ে ওরা পালটে যায় কখন কেন কীভাবে

অনীক চক্রবর্তী

logo-moyna tadanta

    এবারে আর খবরে লেখা হলো না এই মন্তব্য, ‘মুশকিল আসান একজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

লেখা হলো না এবারের খবরে এই মন্তব্য, ‘দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে একজনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

    সমাজতত্ত্ববিদ আশিস নন্দীর মন্তব্য এবার খবরে ঠাঁই পেল না, যিনি এর আগে বলেছিলেন, ‘সমাজ যখন ধাক্কা মারতে মারতে মানুষকে মাটিতে ফেলে দেয় বা তাঁর পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়, তখনই সে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে।’

    এবার লেখা হলো না ‘বাস্তববাদী অংশ’-এর এমন অভিমত যে, ‘নিরাপত্তা কর্মীদের আপত্তিকে আমল না দিয়ে জনতাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাছে আসতে দিয়েছেন, তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনেছেন, তাই জনতারও তাঁর উপর একটা দাবি ও বিশ্বাস জন্মেছে যে তিনিই সব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।’

    এসব মন্তব্য-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বাদ দিয়ে এবার প্রথম পাতায় আট কলাম জুড়ে তিনটি ছবির সঙ্গে ‘বেনজির অত্যাচারে ধ্বস্ত জননেত্রী’ শি‍রোনাম দিয়ে, যাকে বলে ‘ক্যাপশন নিউজ’, তাতে লেখা হলো, ‘‘তিনি জনতার মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তায় তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে জনতা। কিন্তু বুধবার বারাসতে জেলাশাসকের দপ্তরে ঘটল তাঁর রাজনীতির জীবনে নজিরবিহীন ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেরনো মাত্রই হাঁটু জড়িয়ে তাঁকে মাটি থেকে তুলে ফেলতে যান এক মহিলা। অন্য একজন টেনে ধরেন হাত। কোনও মতে নিজেকে সামলে মমতা দেখেন, বাঁ হাতে ঘড়িটি নেই। ডান হাতে নেই মায়ের দেওয়া বালা। ঘড়ি পরে উদ্ধার হলেও বালার খোঁজ মেলেনি। কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর আশঙ্কা, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টাও হতে পারে।’’

    ২০‍‌শে অক্টোবর আনন্দবাজার পত্রিকায়। মুখ্যমন্ত্রী বারাসত গিয়েছিলেন ১৯শে অক্টোবর। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করতে। তারপর কী হয়েছিল তিনটি ছবিতে তার বিবরণ। মুখ্যমন্ত্রীর হাঁটু জড়ি‍‌য়ে ধরে ‘মাটি থেকে তোলা’, তাঁর ‘হাত টেনে ধরা’ এবং শেষে ‘ধ্বস্ত’ মুখ্যমন্ত্রীর ছবি!

    খোলাখুলি বলছি, বারাসত-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে যা হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। কোনও ভি আই পি-র ক্ষেত্রেই এমনটি হওয়া উচিত নয়। আমরা কিছুতেই একথা বলতে পারবো না যে এসব ‘আই ওয়াশ’! যেমন বলেছিলেন মমতা ব্যানার্জিই ২০০৮ সালের ২রা নভেম্বর শালবনীতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে যখন মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল মাওবাদীরা। বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জি তখন বিপদের গুরুত্ব, উদ্বেগ, সৌজন্য সব বিসর্জন দিয়ে বলেছিলেন, ‘এসব আই ওয়াশ!’ বারাসত-কাণ্ডে আমরা বলতে পারবো না এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা। কিন্তু আমরা এই প্রসঙ্গে মনে রাখবো অন্য একটি দিক। অবশ্যই মিডিয়াকে নিয়ে।

    চলতি বছরেই, গত ১৪ই সেপ্টেম্বর আনন্দবাজার পত্রিকা প্রথম পাতায় একটি বিশাল খবরের শিরোনাম করেছিলো, ‘এসেছে নয়া সরকার, তাই বাছলাম এই জায়গাই।’ সেই খবরটা আজ একবার মনে করা খুব দরকার। হয়েছিল কী, আগের দিন ১৩ই সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরের বাসিন্দা এক দম্পতি সঞ্জীব পাল ও শিল্পা পাল তাদের দেড়মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে মহাকরণের সামনে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। আগুন লাগানোর আগেই পুলিস তাদের ধরে ফেলে। পারেননি ওঁরা আত্মহত্যা করতে।

    নিঃসন্দেহে খুব গুরুত্বপূর্ণ খবর। উদ্বেগের খবরও বটে। তাই বর্তমান পত্রিকা পরের দিন তাদের ওই খবরের শিরোনাম করেছিল, ‘রাইটার্সের সামনে মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা দম্পতির’। খবরটা শুরুও তারা করেছিল ঘটনার বর্ণনা ও পরিণতি জানিয়ে। অন্য খবরের কাগজগুলিও লিখেছিল প্রায় তাই। কিন্তু আনন্দবাজার সেদিন খবরটা করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে কত ‘ভরসা’র, সেই অভূতপূর্ব ‘অ্যাঙ্গেল’কে সামনে রেখে। বোঝানোর চেষ্টা করলো, এই যে মুখ্যমন্ত্রীর অফিস মহাকরণের সামনে ওই দম্পতি আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন, তার অর্থ, মমতা ব্যানার্জিই তাদের বড় ভরসার জায়গা!

    ভাবা যায় না এমন কোনও ‘অ্যাঙ্গেল’ দিতে হলে ওরা বলতে পারতো, মৃত্যুই এই দম্পতির কাছে প্রিয়, জীবন নয়, তাই আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন! কিন্তু এতে তো মমতা ব্যানার্জিকে মহান করার উপাদান থাকে না। অতএব ওরা সেদিনের সেই খবরে লিখেছিল, ‘‘কারো একটা চাকরি চাই। কেউ সহ্য করতে পারছেন না চুরির মিথ্যে অপবাদ! মুশকিল আসান একজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ ছুটে আসছেন তাঁর চলন্ত গাড়ির জানলায়। কেউ স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মহাকরণের সেন্ট্রাল গেটের সামনে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে একজনের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’

    এইভাবেই সেদিন আনন্দবাজার খবর লিখে মুখ্যমন্ত্রীকেই ‘ভরসা’ বোঝাতে সমাজতত্ত্ববিদ আশিস নন্দীর অভিমতও ছেপেছিল। সেই আনন্দবাজারই একমাস যেতে না যেতেই মুখ্যমন্ত্রীর বারাসত-কাণ্ডে ছবিসহ ক্যাপশনে লিখলো, ‘বেনজির অত্যাচারে ধ্বস্ত জননেত্রী’!

    একমাস আগেই ওরা গর্বের সঙ্গে লিখেছিল, ‘মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই রোজ তাঁর বাড়ির সামনে বিভিন্ন ধরনের আরজি নিয়ে শত শত মানুষের ভিড় হয়।’

    এখন ওই মানুষের ভিড়কে ওরা বলতে শুরু করেছে ‘পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা।’

একমাস আগেও মিডিয়া লিখতো, ‘…দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে ভেবেই লোক মমতার পিছনে দৌড়চ্ছে।’

    এখন একই প্রবণতাকে ওরা লিখছে, ‘ঘটল তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নজিরবিহীন ঘটনা।’

    অথচ বারাসত-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হাঁটু জড়িয়ে ‘তুলে ফেলার’ চেষ্টা করছেন যে মহিলা, (ছবিতে যা দেখা গিয়েছে), তিনি তৃণমূল কংগ্রেসী এবং তাঁর নাম ধাম পরিচয়ও জানা গিয়েছিল। নিজের দুরবস্থার জন্যই যে কাজ চাওয়ার আবেদনপত্র জমা দিতে মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে ধরতে গিয়েছিলেন, ওই মহিলা নিজেই তা জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। তাহলে খবর এভাবেই এবারও হতে পারতো, ‘দুরবস্থায় পড়েছেন। একটা কাজ চাই তাঁর। ভরসা একজনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়…।’ কিন্তু হলো না।

    হলো না শুধু নয়, আনন্দবাজার গোষ্ঠীর টিভি চ্যানেল স্টার আনন্দ স্টুডিওতে আলোচনাসভা বসিয়ে সেখানে বারাসত পৌরসভায় তৃণমূলী চেয়ারম্যানকে দিয়ে ওই মহিলার রাজনৈতিক পরিচয় ও চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলালো!

    যেমন আগে হতো, বারাসত-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে সেই খবর যে হলো না, বরং বালা-কাণ্ড শুনিয়ে ‘পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা’র গল্প পরিবেশন হলো, তার কারণ বোঝা গেল ২১শে অক্টোবরের আনন্দবাজারীয় খবরে। প্রথম পাতায় ওরা বড় করে খবরের শিরোনাম করলো, ‘মমতার নিরাপত্তায় এন এস জি চায় কেন্দ্র।’ সেই খবরের প্রথমেই ওরা লিখলো, ‘‘জঙ্গলমহলে দাঁড়িয়ে তাদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর পরে মাওবাদীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। গোয়েন্দা সূত্রে খবর এসেছে, মমতা যেভাবে মাওবাদীদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, তাতে মাওবাদী সংগঠনের একটা অংশ তাঁর উপর আঘাত হানতে চাইছে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আরো বাড়াতে চাইছে কেন্দ্র।’’

    অর্থাৎ এখন মমতা ব্যানার্জিকে কড়া নিরাপত্তা নিতে হবে। যা সম্পর্কে এতদিন তিনি ‘নিষ্পৃহ’ ছিলেন বলে প্রচার হয়েছে মিডিয়ায়। এবার যদি তা তিনি নেন (নেওয়া উচিত ছিল আগেই), তাহলে তো মানুষ অন্যরকম ভাবতে পারেন। অতএব, তাঁকে ঘিরে অতীতের পরিচিত দলীয় ‘আবেগ’-এর ছবিকেও এখন বলতে হবে ‘নিরাপত্তার শঙ্কা’ কিংবা ‘বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র’! তার দায় এমনকি ‘সি পি এম’এর ঘাড়েও চাপাতে হবে দরকার হলে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর ‘বারাসত-কাণ্ড’ এখন শঙ্কার! কিন্তু তার চেয়েও বড়রকমের তাৎপর্যপূর্ণ খবর হলো আনন্দবাজারের এই লাইনটি, ‘জঙ্গলমহলে দাঁড়িয়ে তাদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর পরে মাওবাদীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।’

    এর অর্থ কী? একটাই অর্থ। এতদিন, মানে মমতা যখন বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন, তিনি যে মাওবাদীদের চ্যালেঞ্জ জানাননি, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চার মাসেও জানাননি, তা স্বীকার করে নেওয়া হলো আনন্দবাজারে। এজন্যই তো আমরা বলি, রাজনৈতিক যে লড়াই চাই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে, সেটা না হলে হবে না। তৃণমূলে তো সেটারই অভাব। এখন যে ‘চ্যালেঞ্জ’ জানানো হচ্ছে, তা কতখানি আন্তরিক বা দায়ে পড়ে, বলবে সময়। কিন্তু আমরা আসুন মনে করি সময়ের সঙ্গে উলটে গিয়ে পালটে যাওয়ার আরেকটি উদাহরণ। তা একইসঙ্গে মিডিয়া ও মমতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

    চলুন দেখি, দু’বছর আগে ২০০৯ সালের ৪ঠা অক্টোবর আনন্দবাজার কী লিখেছিল। তখন বামফ্রন্ট সরকার। মমতার মুখে তখন ‘কোনও মাও-ফাও নেই’ বলে সদম্ভ উক্তি। আনন্দবাজারের খবরের শিরোনাম, ‘মাওবাদীদের সাহায্য করে থাকলেও শাস্তি।’ খবরের ভিতরে লেখা হয়েছিল, ‘‘জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের দিকে যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, এবার তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিসের ডিজি ভূপিন্দার সিংহ শনিবার পরিষ্কার জানিয়েছেন, কলকাতার অনেকেই ওদের পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থ সাহায্য করেছেন।… ছত্রধর ও ধৃত কয়েকজন মাওবাদী নেতা-কর্মীকে জেরা করে সহায়তাকারী অনেকের নাম পাওয়া গিয়েছে বলে ইতোমধ্যেই জানিয়েছে পুলিস।’’

    এই খবরের পরেরদিন ৬ই অক্টোবর আনন্দবাজার ‘বিশিষ্টদের সমর্থনে হুঁশিয়ারি মমতার’ শিরোনামের খবরে লিখেছিল, ‘‘ছত্রধর মাহাতো এবং সেই সূত্রে মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে সাহিত্যিক, অভিনেতা, শিল্পী কলাকুশলীদের কেশাগ্র স্পর্শ করা হলে রাজ্যে আগুন জ্বলবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রেলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে লঙ্কাকাণ্ড বাধলে তার দায় রাজ্য সরকারের উপরেই বর্তাবে বলে সোমবার সাফ বলেছেন তিনি।… তিনি এদিন বলেন, লালগড়ে সাধারণ আদিবাসীরা আন্দোলন করেছিলেন। সেখানে আমরা প্রত্যেকে সমর্থন দিয়েছি। সেটা নৈতিক কর্তব্য।’’

    সেই মমতা ব্যানার্জিই এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর সিঙ্গুরের জনসভায় ও পরে একাধিকবার বলেছেন, ‘কলকাতা থেকে কারা মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন আমি জানি।’ হুঁশিয়ারির ভঙ্গিতে তিনি বলেছিলেন, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিডিয়ায় সেই খবরও বেরিয়েছে।

    দু’বছর আগে অক্টোবরে মমতা যাদের কেশাগ্র স্পর্শ করলে আগুন জ্বলবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন, এই অক্টোবরে তিনি নিজেই তাদের নজরদারিতে আনছেন! ২২শে অক্টোবরে মহুয়া খবর চ্যানেল জানালো, কলকাতার কোন অংশের কাদের উপর জঙ্গলমহলে গিয়ে যোগাযোগের জন্য প্রশাসন ‘আতস কাচে’ নজরদারি চালাচ্ছে! কী বলবেন একে? উলটে গিয়ে পালটে যাওয়া নয়?

    দেখলেন তো মানুষ, গত ২২‍‍‌‍‌‍‌শে অক্টোবর শনিবার মাওবাদীদের ডাকা বন্‌ধের দিনে ঝাড়গ্রামে তৃণমূলীরা বাইক মিছিল করলো। সশস্ত্র ছিল সেই মিছিল, বিভিন্ন পত্রিকায় সেই সশস্ত্র ছবিও বেরিয়েছে। তৃণমূলীরা যে ভৈরব বাহিনী গড়ে তুলেছে জঙ্গলমহলে, যা কীনা বর্তমান পত্রিকাতেই খবর হয়েছিল, এটা সেই বাহিনীর মিছিল। স্টার আনন্দ সেই ছবি দেখিয়ে ব্যাখ্যা করলো, ‘বনধের বিরুদ্ধে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল’ ইত্যাদি বলে। এই স্টার আনন্দসহ প্রায় সব মিডিয়া মনে আছে আমাদের, জঙ্গলমহলে আমরা যদি লালপতাকা নিয়ে বাইক মিছিল করি, তখন বলে ‘হার্মাদদের হামলা’, ‘হার্মাদ মিছিল’ ইত্যাদি। এভাবেই এতদিন ওরা ব্যাখ্যা করেছে। এখন পরিবর্তনের জমানা। তাই তৃণমূলের ভৈরববাহিনীর সশস্ত্র মিছিল ওদের কাছে হয়ে গিয়েছে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল! এরও কারণ আছে। এতদিন মাওবাদীদের দিয়ে সি পি আই (এম) নেতাকর্মী সমর্থকদের খুন করিয়েছে তৃণমূল। এবার অপারেশনের দায়িত্ব নিতে চায় তৃণমূল নিজেই। তাই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে মিছিলের নামে ওই সশস্ত্র সজ্জা দৃশ্যত দেখানো হলেও, এই সজ্জা আসলে নয়া উদ্যমে সি পি আই (এম) বিরোধী হিংসার আরেক অভিযানের প্রস্তুতি।

Advertisements

Tags: , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: