Mamata Govt. Robbing Rights of the Elected Panchayats

 

পঞ্চায়েতের অধিকার কেড়ে দেওয়া হচ্ছে অফিসারদের

নিজস্ব প্রতিনিধি

    কলকাতা, ৩রা নভেম্বর — গ্রামের জনজীবন, উন্নয়ন আর স্থানীয় মানুষ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামত, উদ্যোগনির্ভর থাকছে না। গ্রামের উন্নয়নের দন্ডমুণ্ডের কর্তা হতে চলেছেন আমলা বি ডি ও-রা এবং সরকারী কর্মীরা। বলা বাহুল্য, তাঁদের দায়বদ্ধতা স্থানীয় মানুষের কাছে নয়। তাঁদের যাবতীয় দায়বদ্ধতা হবে তৃণমূলের সরকারের প্রতি। বৃহস্পতিবার এই নয়া অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন জনতার ভোটে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই সংক্রান্ত সরকারী শিলমোহর বিশিষ্ট নির্দেশিকা মুখ্যসচিব সমর ঘোষ কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ করবেন, এমনটিও এদিন জানা গেছে।

    এদিন দুপুরে রাজ্যের ৩৪১টি ব্লকের বি ডি ও, ৬৫জন এস ডি ও-র সঙ্গে মমতা ব্যানার্জি টাউন হলে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজ্যের কয়েকটি দপ্তরের সচিবরাও ছিলেন। সভায় যথারীতি মমতা ব্যানার্জিই বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, প্রতিটি জেলায় তিনটি কমিটি হবে তিনটি পর্যায়ে। ব্লক পর্যায়ে কমিটির মাথা হবেন বি ডি ও-রা। মহকুমা পর্যায়ের কমিটির প্রধান হবে মহকুমা শাসক বা এস ডি ও-রা। জেলা পর্যায়ে কমিটির কর্তা হবেন জেলা শাসকরা। প্রতিটি পর্যায়ের কমিটিতেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অফিসার, কর্মীরা সদস্য হবেন। এই কমিটিগুলিই গ্রামোন্নয়নের কাজের তদারকি, নজরদারি করবে। মুখ্যমন্ত্রী বি ডি ও-দের রাস্তায় নেমে কাজ করতে বলেছেন। জোর দিতে বলেছেন রেগা, ইন্দিরা আবাস যোজনার মত কাজে। বৈঠক সেরে টাউন হল ছাড়ার মুখে মুখ্যমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক প্রশ্ন ছিল, তাহলে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ কী করবে ? মুখ্যমন্ত্রীর সটান জবাব —‘‘পঞ্চায়েত তার কাজ করবে।’’

    কিন্তু উন্নয়নের কাজে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া, তা রূপায়ণের যাবতীয় দায়িত্ব চাকরিজীবী আমলাদের হাতে ন্যস্ত করার পর পঞ্চায়েতের আর কী কাজ থাকতে পারে ? রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী আনিসুর রহমানের বক্তব্য —‘‘সংবিধানকে অস্বীকার করবেন কী করে? পঞ্চায়েতের ভূমিকা, দায়িত্ব, অধিকার সংবিধান সম্মত। বামফ্রন্ট সরকারে থাকাকালীন পঞ্চায়েত পরিচালনায় আরো মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, ও বি সি-দের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া তফসিলী জাতি, আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষণও হয়েছে। আর এই সরকার গ্রামের মানুষের অধিকার সঙ্কুচিত, খর্ব করছে। দুই সরকারের তফাৎ স্পষ্ট। পরিবর্তনও স্পষ্ট।’’

    রাজ্যে পঞ্চায়েতের তিনটি পর্যায়ে নির্বাচিত মোট সদস্য হলেন ৫১৪৯৯জন। মোট জেলাগুলিতে মোট ৩৪১টি পঞ্চায়েত সমিতি, ৩৩৫১টি পঞ্চায়েত। মোট ৪১৮৮৪জন পঞ্চায়েত সদস্য আছেন। তাঁদের মধ্যে সংখ্যালঘু রয়েছেন প্রায় ২৪ শতাংশ —মোট ৯৭৩৫জন। পঞ্চায়েতে তফসিলী জাতিভুক্ত সদস্য আছেন ১৪৫৭১ জন। আদিবাসী মানুষ আছেন ৩৩৯২ জন। পঞ্চায়েতগুলিতে বর্তমানে মোট মহিলা সদস্য আছেন প্রায় ১৫০০০। এছাড়াও রাজ্যের ৩৪১টি পঞ্চায়েত সমিতির মোট সদস্য ৮৮৬০ জন। সেখানেও সমাজের সব অংশের মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। রাজ্যের ১৯টি জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ৭৫৫জন। তিনটি পর্যায়ের নির্বাচিত এই সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। এরাই মূলত গ্রামোন্নয়নের কাজের তদারকি, রূপায়ণ করেন। তাঁদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে আমলাদের হাতে দিলে কি উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ? এই প্রশ্নের কোন জবাব দিতে চাননি পূর্ব মেদিনীপুরের সভাধিপতি, তৃণমূল নেতা গান্ধী হাজরা।

    তবে গ্রামোন্নয়নের কাজ থেকে গ্রামবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার এই চক্রান্তের ইঙ্গিত মমতা ব্যানার্জির সরকার দিয়েছিল গত মে’তেই। রাজ্যপালের নির্দেশ সত্ত্বেও তখন প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাম সংসদ সভা করেনি রাজ্য সরকার। গত ২৭শে মে রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে সচিব ত্রিলোচন সিং প্রতিটি জেলা পরিষদকে গ্রাম সংসদ সভা করার রাজ্যপালের নির্দেশ পাঠিয়ে দেন। নির্দেশে( ২২১৫-পি. এন/ও/ এক/ ৩সি-৪/৯৬,অংশ-১) বলা ছিল যে, গত এপ্রিল এবং মে মাসের অধিকাংশ সময় বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আধিকারিক ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ব্যস্ত ছিলেন। তাই যথারীতি মে মাসে রাজ্যের গ্রাম সংসদ সভাগুলি করা যায়নি। রাজ্যপালের নির্দেশ ছিল, তাই জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি গ্রামের সংসদ সভাগুলি করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ নেহাতই কথার কথা থেকে গেল রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের বদান্যতায়।

    কেন পঞ্চায়েতের কাজকে আমলাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মা-মাটি-মানুষের সরকার ? রাজনৈতিক কৌশল সংক্রান্ত এই প্রশ্নের জবাবে বলা যায় যে, রাজ্যের ৩৪১টি পঞ্চায়েত সমিতির অধিকাংশই, প্রায় ৫৭শতাংশ পরিচালনা করে বামফ্রন্ট। তাই, মূলত গ্রামোন্নয়নের কাজে পুরোপুরি নিজেদের একাধিপত্য রাখতেই নির্বাচিত জন প্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে বাদ দিয়ে কাজ করতে চাইছেন মমতা ব্যানার্জি।

Advertisements

Tags: , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: