Chief Minister Mamata Storm Police Station to Release Two Partymen

 

মমতার ‘অতি সক্রিয়তা’য় ধৃতদের ছেড়ে দিলো
পুলিস, উলটে শাস্তির মুখে থানার অফিসাররাই
অভিযোগ, ভবানীপুরে সেই গন্ডগোলে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই

নিজস্ব প্রতিনিধি

    কলকাতা, ৮ই নভেম্বর— চোখের সামনে আইন ভাঙতে দেখে পুলিস সক্রিয় হলে সেই আচরণকে ‘অতি সক্রিয়’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হবে। ভবিষ্যতের জন্য এমনই অলিখিত নিয়ম চালু হতে চলেছে এরাজ্যে। তবে ছোটো একটি ফুটনোট থাকতে পারে সেই নিয়মে। আইন ভাঙার কারিগরদের অবশ্যই শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে হবে। রবিবার রাতে ভবানীপুরে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন ঘিরে একের পর এক আইন চোখের সামনে ভাঙতে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ায় ভবানীপুর থানার জন্য এমনই বিধান দিয়ে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

    ভবানীপুর থানায় তৃণমূলীদের হামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিসের ‘অতি সক্রিয়তা’কেই চিহ্নিত করলেন তদন্তকারী পুলিসকর্তা। শোভাযাত্রায় সেদিন তারস্বরে বেজেছিল মাইক, কলকাতা পুলিস এলাকার বিসর্জন বিধির সঙ্গে যা একেবারেই মানানসই নয়। বিসর্জনের শোভাযাত্রা থেকে ফাটানো হয়েছিল কানে তালা ধরিয়ে দেওয়া শব্দবাজি। কর্তব্যরত ভবানীপুর থানার পুলিসকর্মীরা এই আইন ভাঙার কাজেই সেদিন বাধা দিয়েছিলেন। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল ভবানীপুর থানায়। ভাঙা হয়েছিল সরকারী বাসের কাচ। রানী শঙ্করী লেনের এই পুজো কমিটির লোকজন পুলিসের বাধা পেয়ে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে রণক্ষেত্র বানিয়ে দিয়েছিলো গোটা এলাকা। পুলিস সেদিন উত্তেজিত জনতাকে বাগে আনতে চালিয়েছিল লাঠি। এখন সেই পুলিসকর্মীদের আচরণকেই ‘অতি সক্রিয়’ ঘোষণা করে আসলে ভাঙচুর হামলায় জড়িতদের আড়াল করতে চাইলো পুলিসই।

    আর এখানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ‘অতি সক্রিয়’ আচরণ দায়ী। বিসর্জনের সময় এই ঘটনার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে থানায় উপস্থিত হতে হবে, এমন অবস্থা ছিল না। সেদিন আকস্মিকভাবে থানায় যেতে মুখ্যমন্ত্রীর ‘অতি সক্রিয়তা’ কেন ছিল, তা পুলিসকর্তারা টের পেয়ে যান ঘটনা ঘটার অব্যবহিত পর থেকেই।

    গন্ডগোল পাকানো দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে থানায় কেস লিখেও রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ভবানীপুর থানার পুলিস। থানায় উপস্থিত থেকে চার দুষ্কৃতীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। সর্বভারতীয় প্রচার মাধ্যমেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের আইন-শৃঙ্খলা ভাঙার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গেছে। ভাবনীপুর থানার ঘটনা নিয়ে এদিন সাংবাদিকরা সি পি আই (এম)’র রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিমান বসুর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরা গণতন্ত্রের কথা বলে দলতন্ত্রের পথে চলে। মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে থানায় বললেন, ছেড়ে দিতে। সঙ্গে সঙ্গে দোষীদের ছেড়ে দেওয়া হলো। এটাই তো দলতন্ত্র।

    কলকাতার আইন-শৃঙ্খলার ভার যাঁর হাতে, সেই পুলিস কমিশনারের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী থানায় গিয়েছেন জেনে বাধ্য হয়েই সেখানে যেতে হয়েছে কলকাতা পুলিস কমিশনার রণজিৎকুমার পচনন্দাকে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে কমিশনার। এসবের জন্যই বিভাগীয় তদন্ত একটা বাধ্যবাধ্যকতার মধ্যে পড়ে গেছে। কলকাতা পুলিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তাপস বসুকে সেই রাতের ঘটনার তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবারেই সেই রিপোর্ট এসে গেছে। কিন্তু কী আছে ঐ রিপোর্টে, তা নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন পুলিসের কোনো কর্তা। তবে ঐ রিপোর্টে ভবানীপুর থানার পুলিসের ‘অতি সক্রিয়তা’র কথা বলা হয়েছে। আর যদি এটি সত্যি হয়, তাহলে ভবানীপুর থানার পুলিস আধিকারিকদের বদলির শাস্তি প্রায় পাকা।

    অন্যদিকে, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে দ্রুত ঐ রিপোর্ট তৈরি করতে বলার সময় অবশ্য গোয়েন্দা রিপোর্ট একবার চাওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা বিভাগের সেই গোপনীয় রিপোর্টে অবশ্য পরিষ্কার বলা হয়েছে, রবিবার জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে যে গন্ডগোল আর থানা ঘেরাও হয়েছে, তাতে জড়িয়ে ছিল তৃণমূলের একটি বড় গোষ্ঠী। কিন্তু যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং থানায় গিয়েছেন ঘটনা সামাল দিতে, তাই ভবানীপুর থানার কিছু পুলিস আধিকারিকের বিরুদ্ধে বাধ্য হয়েই ‘অতি সক্রিয়তা’র অভিযোগ আনতে হয়েছে তদন্তকারী অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে। ফলত ভবানীপুর থানার কিছু আধিকারিকের বিভাগীয় শাস্তি একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্তু থানার পুলিস আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা জানাতে চাননি কলকাতা পুলিসের ডি সি (সাউথ) দেবেন্দ্র প্রতাপ সিং। তিনি বিষয়টিকে কলকাতা পুলিসের যুগ্ম কমিশনার (সদর) জাভেদ শামিমের দিকে ঠেলেছেন। জাভেদ শামিম আবার বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তিনি সাংবাদিকদের ডি সি (সাউথ) দেবেন্দ্র প্রতাপ সিংকে দেখিয়ে দিয়েছেন। ফলে সাপের লেজ গেলার মতো বিষয়টি সারাদিন ঘুরেই চলেছে।

    চারু মার্কেটের পর দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থানা আক্রমণের ঘটনায় রীতিমতো চিন্তিত গোয়েন্দারা। তাঁরা জানতে পেরেছেন, রবিবার থানা ঘেরাওয়ের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই। তাছাড়া যে ক্লাবটির পুজো নিয়ে সেদিনের ঘটনা, তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক মুখ্যমন্ত্রীর ভাই। তৃণমূলের দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন ঐ পুজো কমিটির লোকজন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে বিসর্জনের দিন হামলাকারীদের নাম না লিখে ‘অজ্ঞাত’দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হয়েছে ভবানীপুর থানাকে। অভিযোগে এমনকী পুজো কমিটির নামও লেখা হয়নি।

    ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ ক্লাব আর ধৃতরা তৃণমূলের কট্টর সমর্থক বলেই সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর ছিল এমন তৎপরতা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনিক সর্বেসর্বা ভাবনীপুর থানায় উপস্থিত হয়ে নিজেই অতি সক্রিয়তা দেখিয়েছেন কি না, তা নিয়ে কেউ কোনোভাবে মুখ খুলতে পারছেন না। দাঁতে দাঁত চেপে নিজেদের ক্ষোভ নিজেদের সইতে হচ্ছে কলকাতা পুলিসকে। কোনো কথা প্রকাশ্যে বলতে পারছেন না কলকাতা পুলিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। তবে মঙ্গলবার হাবেভাবে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কানে তোলার চেষ্টা চালিয়ে গেছে কলকাতা পুলিসের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। তারা মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে জানিয়েছে, যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী রবিবার গভীর রাতে উত্তেজিত জনতার সামনে গিয়েছিলেন, তাতে অন্যরকম কিছু হলেও হতে পারতো।

    অন্যদিকে, বড়তলাতেও প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে গন্ডগোল হয়েছিল। তাতে পুলিসের সদর্থক প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে নয়নচাঁদ দত্ত স্ট্রিটে। সেখানেও বিসর্জনের শোভাযাত্রার মধ্যে তৃণমূলের কিছু কর্মী ঢুকে তা বানচালের চেষ্টা করে। বারংবার পুলিসের সাহায্য চাওয়া হলেও ফল হয়নি। এরপরে নীলমণি মিত্র স্ট্রিট থেকে রীতিমতো লেঠেল এনে ঐ তৃণমূলীরা মহিলা-শিশু নির্বিশেষে বিসর্জনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিস নীরব দর্শক সেজেই থাকে। ভবানীপুরে দুষ্কৃতীদের ধরে ফেলাটা যদি ‘অতি সক্রিয়তা’ হয়, তাহলে এধরনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিশ্চিতভাবেই কলকাতা পুলিসের ‘সাফল্য’ বলে চিহ্নিত হবে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে।

Advertisements

Tags: , , , ,

One Response to “Chief Minister Mamata Storm Police Station to Release Two Partymen”

  1. ashok1234 Says:

    Since her two brothers belonging two clubs were involved in the incident, DIDI went to police stations to get them released It is a bad instance

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: