‘Have We Ushered in Fascism in the name of Change (Parivartan)?’

 

রাজ্যে কি ফ্যাসিবাদ এলো, প্রশ্ন তুললেন মহাশ্বেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি

    কলকাতা, ২১শে নভেম্বর- মেট্রো চ্যানেলে এ পি ডি আর-সহ একুশটি সংগঠনের সভার অনুমতি দিয়েও তা বাতিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল জোট সরকার। প্রকাশ্যে সভা করতে না দেওয়ার এই ঘটনাকে ‘অগণতান্ত্রিক ’ অ্যাখ্যা দিয়ে মমতা ব্যানার্জির সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রতিবাদে শামিল হলেন বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনদের একাংশ। গত বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের প্রতি সমর্থন জানানো বিশিষ্ট লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী এদিন mahasweta-deviমমতা ব্যানার্জির সরকারের এই ‘সরকারী হুকুমতের’ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তবে কি আমরা পরিবর্তনের নামে ফ্যাসিজমকে নিয়ে এসেছি? জেনেশুনে তো আমরা ফ্যাসিবাদকে আহ্বান করতে পারি না’। শুধু মহাশ্বেতা দেবীই নন, বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘ফ্যাসিস্তসুলভ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের এই ক্ষোভকে এদিন পালটা হুঙ্কারে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আগামী ২৩ ও ২৪শে এ পি ডি আর-সহ ২১টি সংগঠনের যৌথভাবে মেট্রো চ্যানেলে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচী রয়েছে। এ পি ডি আর–এর দাবি, ঐ কর্মসূচীর জন্য কলকাতা পুলিস তাদের অনুমতিও দিয়েছিল। কিন্তু এরপরে হঠাৎই ‘প্রশাসনিক’ কারণে তাঁদের সভার অনুমতি বাতিল করে দেয় কলকাতা পুলিস। এ পি ডি আর-এর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের নির্দেশেই তা হয়েছে। এরপরেই এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে ঐ সংগঠনটি। তাদের প্রতিবাদের পক্ষে মুখ খোলেন একাংশের বুদ্ধিজীবীরাও। এই রকম ঘটনা যে গণতন্ত্রের পক্ষে অশনিসংকেত তা উল্লেখ করেই এদিনই প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকও ডাকে এ পি ডি আর।

    এভাবে প্রকাশ্যে একটি সংগঠনের সভা করতে না দেওয়ার সরকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মহাশ্বেতা দেবী বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘যে কথা আমরা বিগত ৬৪ বছরে ভাবতে পারিনি, জনগণের সরকার এসে সেই কাজটিই করলেন…আমি এই সরকারী হুকুমতের প্রতিবাদ করছি’। প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘…এই তথ্য জেনে বিমূঢ় বোধ করছি। কোন দাবি বা কোন প্রতিবাদের এরকম কণ্ঠরোধ গণতন্ত্রের পক্ষে এক বিপদচিহ্ন বয়ে আনে।… নতুন সরকারের শুভার্থী হিসাবে আশা করব এই নিষেধাজ্ঞা তাঁরা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবেন।’ চলচ্চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন বলেছেন, ‘ ওঁদের সব দাবির সঙ্গে একমত না হলেও শান্তিপূর্ণ সভা সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়ার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি’। একইভাবে নাট্য অভিনেতা কৌশিক সেন বলেছেন, ‘এ পি ডি আর যে দাবি তুলছে তা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে, কিন্তু তাঁরা কী বলছে সেটা তো শুনতে হবে, এভাবে সভা বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়’।

    মমতা ব্যানার্জির সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েই বিবৃতি দিয়েছেন তৃণমূলী সাংসদ কবীর সুমন। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা ব্যানার্জি ঐ মেট্রো চ্যানেলে তিন সপ্তাহের ওপর অনশন করেছিলেন। বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে আমরা ঐ মেট্রো চ্যানেলেই নিয়মিত প্রতিবাদ সভা করেছি…একজন আয়করদাতা নাগরিক হিসাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাচ্ছি’। এছাড়া লিখিত বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়, বিভাস চক্রবর্তী, সুমন মুখোপাধ্যায়, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, সুনন্দ স্যান্যাল, নবারুণ ভট্টাচার্য, নব দত্ত প্রমুখ।

    প্রতিবাদ জানানো হয়েছে সি পি আই (এম এল) লিবারেশন, সি পি আই (এম এল) পি সি সি-র তরফেও। ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রবীণ নেতা অশোক ঘোষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘সংসদীয় ব্যবস্থায় সভা সমিতি করার অধিকারকে কোনমতেই খর্ব করা যায় না। সভা করার অনুমতি না দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ফ্যাসিবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে’। এ পি ডি আর-র তরফ জানানো হয়েছে এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ২৫শে নভেম্বর তারা বৌবাজারে ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে মহাকরণ পর্যন্ত মিছিল করবে। যেখান আটকানো হবে সেখানেই প্রতিবাদ সভা হবে। ২৩ ও ২৪শে নভেম্বর বৌবাজারেই অনশন কর্মসূচী হবে।

    সাধারণভাবে তৃণমূলের এতদিনের সঙ্গীদের ডাকা সাংবাদিক বৈঠক এদিন রীতিমতো উত্তেজনার ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। প্রত্যেক বক্তাই তৃণমূল জোট সরকারের এই ‘চরম অগণতান্ত্রিক’ মনোভাবের তীব্র নিন্দা করেন। বলা হয়, যে কোন বিরুদ্ধ মতেরই কন্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে রাজ্যে। মহাশ্বেতা দেবী বলেন, এভাবে সাংবাদিক বৈঠক করতে হবে ভাবতেও পারিনি। সরকার কী চায়? এটা তো ফ্যাসিবাদ ছাড়া কিছু নয়। মহাশ্বেতা দেবী বলা শেষ করার আগেই সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এ পি ডি আর-র সদস্যদের চাপান উতোর শুরু হয়ে যায়। যে মমতা ব্যানার্জি আপনাকে (পড়ুন মহাশ্বেতা দেবী) এত শ্রদ্ধা করেন, আপনার সঙ্গে আলোচনা করেন তার বিরুদ্ধে কি বলতে চাইছেন? এধরনের প্রশ্ন শুরু করে দেয় তৃণমূলপন্থী কিছু সংবাদমাধ্যম।

    মহাশ্বেতা দেবী তখন বলছিলেন মাওবাদী প্রসঙ্গ নিয়ে। মমতার সঙ্গে আলাপ আলোচনার প্রসঙ্গে বলেন, সে তো হয়, ওঁর সাথে তো কোন ঝগড়া নেই, কথা তো হবেই কিন্তু ওসব তো বাড়ির গল্প। তা শুনে কী হবে? যে কারণে আজকে আমরা বলছি তা তো গোটা রাজ্যের ব্যাপার, গণতন্ত্রের ব্যাপার। কেন যৌথ বাহিনীর প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে এ পি ডি আর, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তৃণমূলের নির্বাচনী ইশ্‌তেহারেও তো একথা বলা হয়েছে, সেটা জিজ্ঞাসা করুন ওদের’। এরপরেই সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন উত্তর ঘিরে কিছু সাংবাদিক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে রীতিমতো উত্তেজনা তৈরি হয়। সাংবাদিক বৈঠক বন্ধ করে দিতে হবে— পরিস্থিতি একসময় এমনই দাঁড়ায়। ক্ষুব্ধ এ পি ডি আর-এর প্রতিক্রিয়া: ‘সংবাদমাধ্যমের নামে গুন্ডামি’।

    গত বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের হয়ে কথা বলা এই সংগঠনের তরফে এদিন প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে কেউই কোন কথা বলতে পারবে না?

Advertisements

Tags: , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: