Another Change… অবাক পরিবর্তন…

 

অন্য এক পরিবর্তন — রূপে-রসে-গন্ধে

নবীন পাঠক

   অনর্গল বক্তৃতা ও প্রচার — ‘বামফ্রন্ট আমলে কিছুই হয়নি’। মাওবাদী-তৃণমূলীদের হাতে সি পি আই (এম) নেতা-কর্মীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একই বক্তৃতা ও প্রচার ‘সি পি আই (এম) নিজেরাই নিজেদের খুন করছে’। নির্বাচনের আগে লিখিত ও অলিখিত বক্তৃতা — ‘পরিবর্তন চাই, সরকারে এলেই সোনার বাংলা করে দেবো।’

    সরকারে আসার পর একমাসের মধ্যে লিখিত ও টেলিভিশনে দীর্ঘ খানিকটা ‘কমা’, ‘দাঁড়ি’ বা যতিবিহীন বক্তৃতা — ‘যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ৯০ ভাগ করে ফেলেছি।’ এখনকার একই বক্তৃতার ফোয়ারা — ‘বামফ্রন্ট আমলে কিছুই হয়নি, ছ’মাসে সব করে ফেলেছি।’

     ‘পরিবর্তনে’ এর মূল্যায়নে থাকা সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাই সেরা মূল্যায়ন। কথা না বাড়িয়ে তৃণমূল এবং তার নেত্রীর এই প্রচারের অন্যতম মূল এক আয়োজক, সংগঠক ও প্রচারকের সাতমাসে কী ‘পরিবর্তন’ হয়েছে, সেদিকে তাকানো যেতে পারে।

    আটমাসে আনন্দবাজার পত্রিকার মন্তব্য ও সংবাদে কী ‘পরিবর্তন’ ঘটেছে, তার অতি সামান্য কিছু নমুনা নিচে তুলে ধরা হলো। প্রথমে সম্পাদকের কথা বা সম্পাদকীয়।
‍‌

    (১) ‘দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরিয়া পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন কার্যত নাবালক দশায় ছিল। অতঃপর, জমানা বদলাইয়াছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই স্থবিরতা দূর করিতে সচেষ্ট হইয়াছেন। তাঁহার সহসা পরিদর্শন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলোড়ন তুলিয়াছে। হাসপাতালগুলি হতচকিত। রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও ঢেউ জাগিয়াছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজস্ব ভঙ্গিতে কখনও কঠোর ভাষায়, কখনও নিজস্ব মাধুর্যে কর্মসংস্কৃতি ফিরাইতে উদ্যোগী হইয়াছেন। প্রয়াসটি সাধুবাদের যোগ্য। লক্ষণীয়, তিনি কেবলমাত্র পদাধিকারবলে ক্ষমতা প্রয়োগের রাস্তা গ্রহণ করেন নাই। তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখিয়াছেন, অভাব-অভিযোগের কথা শুনিয়াছেন, কী কী আশু প্রয়োজন, তাহার তালিকা চাহিয়াছেন, প্রয়োজনে ভর্ৎসনাও করিয়াছেন। পাশাপাশি, তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে কর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানাইয়াছেন, সর্বোপরি কর্মীদের কর্তব্যের প্রতি এক ধরনের গৌরববোধ জাগ্রত করিতে চাহিয়াছেন। …কর্মসংস্কৃতি ফিরাইবার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক অভিযানের ইহাই উজ্জ্বলতম দিক। সূচনার পক্ষে ইহা যথাযোগ্যও বটে। দীর্ঘদিনের অনভ্যাসবশত যে প্রশাসন অকর্মণ্য হইয়া গিয়াছে, তাহাকে পুনরায় সাবালক দশায় ফিরাইতে চাহিলে কর্মীদের ভিতর এই উদ্দীপনা সৃষ্টি জরুরী।’ (৯ই জুন, ১১)

    (২) ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির লক্ষ্যে চিকিৎসকদের জন্য একটি বিধান দিয়াছেন। নিদানও বলা চলে। কথাটি পরিচিত, কিন্তু রাজ্যের কর্মসংস্কৃতির কথা বিবেচনা করিলে বলা চলে যে, কার্যক্ষেত্রে বস্তুটি প্রায় অদৃশ্য। কাজ করিবার ইচ্ছা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁহাদের কাজ করিতে বলিয়াছেন। উপদেশটি সঙ্গত। …মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-প্রদত্ত শলা কত দূর কার্যকর হয়, সেই প্রতীক্ষায় কালযাপন চলিতে পারে। এখনও পর্যন্ত লক্ষণটি ইতিবাচক, এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী কর্মপ্রক্রিয়া সম্পাদনের যে পদ্ধতি অবলম্বন করিতেছেন, তাহা বাস্তবসম্মতও বটে। সেই সূত্রে স্বীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি তাঁহার বক্তব্যটি উল্লেখ করাও প্রাসঙ্গিক হইবে। জানা গিয়াছে, মুখ্যমন্ত্রী নব্বই দিনের একটি সময়সীমা ধার্য করিয়া দিয়াছেন। তাহার পরে বিভিন্ন মন্ত্রীদের নিজস্ব কর্মকৃতির খতিয়ান দাখিল করিতে হইবে। তিনি কোন্‌ কাজে কতদূর সফল বা ব্যর্থ হইলেন, তাহার একটি হিসাব মিলিবে। সেই অনুযায়ী চলিবে মূল্যায়ন। মন্ত্রীদের কাজকর্মের মূল্যায়ন। শপথ লইবার অব্যবহিত পরের কিছু কাল যে কোনও মন্ত্রিসভার পক্ষেই পরিভাষায় হনিমুন পিরিয়ড, বা মধুচন্দ্রিমার সময়। এই সময় এমন নানাবিধ কর্মসূচী গৃহীত হইয়া থাকে। দীর্ঘমেয়াদে তাহা ক্রিয়াশীল থাকে কিনা, তাহাই লক্ষ্য করিবার বিষয়। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পরেই বিভিন্ন কাজকর্মের যে ধারাটি বেগবান করিয়াছেন, তাহাতে ভরসা জা‍‌গিতেই পারে, কাজটি চলিবে।’ (১৬ই জুন, ১১)

    তারপর সাত কি আট মাসও পার হতে পারেনি। আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলতে হচ্ছে —

    (১) ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্পের রূপায়ণে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। গত বৎসর দরিদ্র পরিবারগুলিকে মাত্র ২৬দিন কাজ দেওয়া হইয়াছিল, এ বৎসর এ পর্যন্ত মাত্র ১৯দিন কাজ দেওয়া সম্ভব হইয়াছে। ইহাতে রাজ্য সরকারের কার্যদক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠিতে বাধ্য। রাজ্য যখন উন্নয়নের অর্থের জন্য কেন্দ্রের নিকট নিয়মিত তদবির-তাগাদা করিতেছে, তখন বরাদ্দ অর্থ খরচ করিবার অক্ষমতা উন্নয়নের অপর সঙ্কটকে নির্দেশ করিতেছে। তাহা এই যে, অর্থের জোগানই যথেষ্ট নহে, তাহা খরচ করিবার ক্ষমতাও থাকা চাই। যে দক্ষতা, তৎপরতা এবং নিয়মানুবর্তিতা থাকিলে গ্রামে নিয়মিত নানা উন্নয়নের প্রকল্প রূপায়ণ করিয়া, হিসাব জমা দিয়া, নতুন প্রকল্পের টাকা দাবি করা সম্ভব, তাহা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাইতেছে না।’ (৩রা জানুয়ারি, ’১২)

    (২) ‘…প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় শুরু হইতে না হইতে শুরু হইয়া গিয়াছে নামলীলা। পাঠ্যক্রম ঠিক হয় নাই, শিক্ষক নিয়োগ ঠিক হয় নাই, ঠিক হইয়া গিয়াছে বিশেষ নামাঙ্কিত আসনসমূহ। কিছু ক্ষেত্রে আবার নামাঙ্কিত আসন প্রস্তুত থাকিলেও, কোন্‌ বিষয়ের জন্য কোথায় তাহাকে ঠাঁই দেওয়া ভদ্রোচিত, সে সিদ্ধান্ত করা যায় নাই। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নামে আসনটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের জন্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর না হয় মানববিদ্যা ও সাহিত্যের জন্য, কিন্তু কাজী নজরুল ইসলামের নামে আসনটি? স্থান এখনও অনির্ধারিত। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, অধ্যাপক পদ, সর্বক্ষেত্রেই অসামান্য উৎসাহ ও উদ্যম লক্ষিত হয় নামকরণের পর্যায়ে। তাহার আগে-পরে, স্বভাবতই, উৎসাহ কিছু অপ্রতুল। বাংলার মেট্রো আর এক অবিস্মরণীয় উদাহরণ। এক-একটি স্টেশন নির্মাণ হওয়া মাত্র অসীম উদ্দীপনায় উত্তমকুমার হইতে কবি সুকান্ত, সকলেই নাম-মাহাত্ম্যে স্থান করিয়া লইলেন। অথচ মেট্রো রেলের সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলির কিন্তু আজ পর্যন্ত সুরাহা হইলো না।’ (৬ই জানুয়ারি, ’১২)

    (৩) ‘যাদবপুর বিদ্যাপীঠের পর রায়গঞ্জ কলেজ। প্রথমটিতে প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়, দ্বিতীয়টিতে অধ্যক্ষকে। এই নিগ্রহ যূথবদ্ধ এবং রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়পুষ্ট দুর্বৃত্তবাহিনীর। উভয়ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির রাজ্যের শাসক দলের দিকে, যাহার কাউন্সিল ও জেলা স্তরের নেতারা অকুস্থলে উপস্থিত থাকিয়া সমগ্র অপকাণ্ড সঞ্চালন করিয়াছেন। এবং, লক্ষণীয় উভয়ক্ষেত্রেই দুই-একজন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করিলেও পুলিস প্রকৃত মাতব্বরদের কেশাগ্রও স্পর্শ করে নাই। সংবাদপত্রে এবং বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমে এই নিগ্রহের পূর্বাপর ঘটনাক্রম সমগ্র রাজ্যবাসী বিস্ফারিত নেত্রে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন, কেবল পুলিসই ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকিয়াও কিছু দেখিতে পায় নাই। এই সংশয় স্বাভাবিক যে, তবে কি রাজ্যের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ, যাহার নির্দেশ ছাড়া পুলিস ‘নিরপেক্ষ’ হইতে পারে না, তাহাদের চোখে হাত-চাপা দিতে নির্দেশ দিয়াছিলেন? তাই রায়‌গঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষকে যখন ছাত্র নামধারী কতগুলি দলীয় দুষ্কৃতী জামার কলার ধরিয়া টানিয়া-‍হিঁচড়াইয়া কলেজ চত্বরে বেধড়ক প্রহার করিতেছিল, পুলিস তখন দৃশ্যত তাঁহাকে রক্ষা করা অপেক্ষা লাঠি উঁচাইয়া প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলকে আটকাইতে ব্যস্ত থাকিয়াছে। বিদ্যায়তনে এই ভৈরব-তাণ্ডব ও তাহার মোকাবিলায় পুলিসী নিষ্ক্রিয়তা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের লজ্জা।

    রাজ্য সরকার বলিয়াছে, তাহারা শিক্ষাক্ষেত্র হইতে দলতন্ত্র উচ্ছেদ করিবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাইতেছে, শিক্ষায়তনে দলতন্ত্রের উপদ্রবের বিরাম নাই। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঘেরাও, জঙ্গিপুর, বহরমপুর, শ্রীচৈতন্য কলেজ, দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ, ফকিরচাঁদ কলেজের অধ্যক্ষের ঘরে ভাঙচুর, অধ্যাপকদের মারধর-ঘেরাও, অশোকনগর ও গুমার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধর — এভাবেই কি শিক্ষা হইতে দলতন্ত্র রদ হইতেছে?

    …শুরুতেই যদি রাজ্যের শাসক কর্তৃপক্ষ এই গুণ্ডামির সংস্কৃতি কঠোর হস্তে দমন না করেন, তবে পরে আর তাহা নিয়ন্ত্রণ করা যাইবে না। পড়াশুনোর কেন্দ্রগুলি যাহাতে রাজনৈতিক (বা অরাজনৈতিক) গুণ্ডাদের স্বেচ্ছাচার ও দখলদারি হইতে মুক্ত থাকে, তাহা নি‍শ্চিত করা দরকার। মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক হউন। তৎপর হউন। তাঁহার দল ও প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতার কিন্তু দ্রুত অধঃপতন ঘটিতেছে। (৭ই জানুয়ারি, ’১২)
‍‌

    (৪) ‘কথায় কত দূর? একটি বাংলা প্রবাদকে ঈষৎ বদলাইলে মহাভারত অশুদ্ধ হইবে না। পরিবর্তনের পরে প্রশ্নটি সংক্ষিপ্ত। অর্থাৎ, কথাই কি যথেষ্ট? উত্তরটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন। পরিস্থিতি বলিতেছে, কথা যথেষ্ট নহে। মুখ্যমন্ত্রী ইহা যত দ্রুত উপলব্ধি করেন, ততোই মঙ্গল। পশ্চিমবঙ্গের মঙ্গল। কারণ, প্রশাসন দাবি করে কাজ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, অন্তত এখনও পর্যন্ত, তেমন কোনও কাজ করিতে পারে নাই। ছয় মাসের অধিককাল কাটিয়া গিয়াছে। কথা হইয়াছে বিস্তর। এখনও হইতেছে। সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্ত, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শিল্পোদ্যোগীদের সম্মেলন ‘বেঙ্গল লিডস’। সেখানে দাঁড়াইয়া শিল্পোদ্যোগী যোগী দেবেশ্বর জরুরী কথাটি সংক্ষেপে বলিয়াছেন। পশ্চিমবঙ্গকে কাজ করিতে হইবে। অনুক্ত কথাটিও তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যথায়, বৃহৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ‘বেঙ্গল লিডস’ সম্মেলনে যাঁহারা আসিয়াছেন, তাঁহারা প্রায় সকলেই স্থানীয় শিল্পোদ্যোগী। এমন কিছু শিল্পোদ্যোগী আসিয়াছেন, যথা প্রসূন মুখোপাধ্যায়, ডি এল এফ গোষ্ঠী, মল্লিকা শ্রীনিবাসন বা জিন্দাল গোষ্ঠী, যাঁহাদের পশ্চিমবঙ্গে আগমন পূর্বতন বাম জমানায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও বৃহৎ উদ্যোগীকে টানিতে পারে নাই। বার্তাটি স্পষ্ট।

    …সুশাসনের অভাবটি বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রকট। বিনিয়োগের জন্য জমির বন্দোবস্ত তাহার একটি দৃষ্টান্ত। যুক্তি বলিতেছে, রাজ্যকেই জমি অধিগ্রহণ করিয়া উদ্যোগীদের হাতে তুলিয়া দিতে হইবে। অথচ, বাস্তব উলটোদিকে চলিতেছে। শুধুই জমি নহে, অন্য নানা বিষয়েও সেই অভাবটি দৃশ্যমান। দৃষ্টান্ত, আমরি-কাণ্ড। দোষীর কঠোরতম শাস্তিই কাম্য, কিন্তু ‘অপরাধ’টি প্রমাণ করিবার কিছু সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠিত হইয়াছে। তদন্ত হইবে। এমন সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীই যদি ‘খুন’ ইত্যাদি মন্তব্য করিয়া বসেন, তাহা আইনী প্রক্রিয়ার সহিত সঙ্গতিশীল হয় না। দায়িত্বে অবহেলা মারাত্মক অপরাধ, কিন্তু হত্যার সমার্থক কিনা? তাহা বিবেচনার বিষয়। একই সঙ্গে, ‘হেবিয়াস কর্পাস’ একটি মৌলিক অধিকার। তাহা মানা হইতেছে কি? একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদেরই বা শুধু গ্রেপ্তার করা হই‍‌তেছে কেন? অনেক প্রশ্ন।

    এবং, প্রশ্ন ক্রমেই বাড়িতেছে। রাজ্য ভয়াবহ শক্তি সঙ্কটের সম্মুখীন। জমির জট বহাল, তাই এই মুহূর্তে নতুন কোনও বৃহৎ বিনিয়োগের দেখা নাই। পাশাপাশি, বর্তমান শক্তি কেন্দ্রগুলির হস্তেও কয়লা কিনিবার ন্যায় অর্থ মজুত নাই। অতঃপর আর যাহাই হউক, নতুন বিনিয়োগের কথা ভাবা চলে না। চলিলে ঢাকাই কুট্টি মুচকি হাস্য করিবেন। তাহার পর কী বলিবেন, তাহা কিংবদন্তি। বদলাইবার প্রয়োজন নাই।’ (১১ই জানুয়ারি, ’১২)

    এবার দৃষ্টি দেওয়া যাক ‘পরিবর্তনকামী’ তৃণমূলী রূপে-রসে-গন্ধে রূপা‌য়িত-রসায়িত-গন্ধা‌য়িত এই পত্রিকায় প্রকা‍‌শিত কিছু সংবাদের দিকে।

    (১) ‘এমনিতেই কলেজে কলেজে গোলমাল, তাণ্ডব। তার মধ্যে ’৭০-এর দশকের স্মৃতি উসকে দিলীপবাবুর ইস্তফা গ্রহণ করে সরকারী তরফে রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে শিক্ষামহলে। কিছু শিক্ষাবিদ ঘরোয়া আলাপচারিতায় ’৭০-এর দশকে কীভাবে প্রশাসক দিয়ে কলেজ চালানো হতো, সে প্রসঙ্গও তুলেছেন।’ (৭ই জানুয়ারি, ’১২)
‍‌

   (২) ‘মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, ‘‘ছোট্ট ছেলেদের ছোট্ট ভুল।’’   রাজ্য মন্ত্রিসভায় তাঁর ‘আস্থাভাজন’ মন্ত্রী বলে চলেছেন, ‘‘ছোট্ট ঘটনা!’’

    সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে ‘দায়’ চাপিয়ে নাটক-সিনেমা-সিরিয়ালের ‘পরিচিত মুখ’ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, ‘‘টিভি চ্যানেলে এমনভাবে দেখানো হচ্ছে, যেন আক্রমণকারী ও আক্রান্তেরা টিভি-সিরিয়ালের তারকা!’’

    রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে একের পর এক অধ্যক্ষ-নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তা কঠোরভাবে ‘নিয়ন্ত্রণে’র কোনও প্রয়াস রাজ্য প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত চোখে পড়ছে না। বরং আক্রান্ত অধ্যক্ষদের ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ অথবা ‘দুর্নীতি’র কথা বলে দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের ঘাড়েই। যে প‍‌রিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল, বিশিষ্টজনেরা (যাঁদের একাংশ আবার ‘পরিবর্তনপন্থী’ বলে পরিচিত) এবং অবশ্যই বিরোধী শিবির।’ (১২ই জানুয়ারি, ’১২)

    (৩) ‘…এর আগে ঝাড়গ্রামে এসে জঙ্গলমহলবাসীকে উন্নয়নের বিবিধ প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ১৫ই অক্টোবর ঝাড়গ্রামে এসে তিনি যেসব প্রকল্পের শিলান্যাস ও ঘোষণা করেন, সেগুলোর বিশেষ অগ্রগতি হয়নি বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। সেই ‘সমালোচকদের’ জবাব দিতে এদিন প্রশাসন ও পুলিস-কর্তাদের জনতার সামনে দাঁড় করিয়াছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং ‘আমদরবারে’ খানিক অপ্রস্তুত কর্তারা বলেছেন, উন্নয়নের কাজ প্রতিশ্রুতিমতোই চলছে।’ (১৩ই জানুয়ারি, ’১২)।

Advertisements

Tags: , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: