28th February Strike Reveals the Class Character of the Ruling Parties

 

বিভাজনের ধর্মঘটে উন্মোচিত শাসকের শ্রেণীচরিত্রও

নিজস্ব প্রতিনিধি

    এক অংশের সক্রিয় ক্ষোভ আরও আরও অনেক বড় অংশে ছড়িয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। দ্রুত, বড়ই দ্রুত। জেদ যে বড়ই অদম্য। কি শাসকের, কি শোষিতের। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। কার কাছে ? কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষের কবজির জোর যে একটু বেশিই। আগামী ২৮শে প্রমাণ হবে গোটা দেশে তো বটেই, এরাজ্যেও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ ছাড়া দেশ অচল।

    এখন ধর্মঘটে আপত্তি তাঁর। কিন্তু বরাবরই কি তাই? বাংলার মানুষের স্মৃতি এতটা ফিকে নয়। তাই সাবলীলভাবেই স্মরণ করা যেতে পারে ১১বছর আগে গত ২০০১সালের ৫ই জানুয়ারি দিনটি। রাজ্যে ৩৫৬ধারা জারির দাবিতে ১২ঘণ্টার বাংলা বন্‌ধ ডেকেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। ৩৬টি সরকারী বাস, ট্রাম ভাঙচুর পোড়ানো হয়েছিল। ২০জন চালক, কন্ডাক্টর গুরুতর আহত হয়েছিলেন ধর্মঘটী তৃণমূলীদের আক্রমণে। বোমা মেরে এক ছাত্রীকে গুরুতর আহত করা হয়েছিল। ঝাড়গ্রামে এক সি আই টি ইউ কর্মীর হাত কেটে নেওয়া হয়েছিল। বন্‌ধ সমর্থকদের আক্রমণে ২৬জন সরকারী কর্মচারী সেদিন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই রক্তাক্ত ধর্মঘটের মাস ছয়েক আগেই ২০০০সালের ৩১শে আগস্ট আনন্দবাজারের লেখনীতে ‘রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী’ শিল্পপতিদের সঙ্গেই বৈঠকে ঘোষণা করেছিলেন ‘আর কখনও বন্‌ধ ডাকবো না।’ কিন্তু সেই মেরুতে অবস্থানের মেয়াদ কতদিনের ছিল? সাকুল্যে ৬মাস।

    শুধু সেই বছরেই নয়, তার আগে পরেও রয়েছে সেই তৃণমূল নেত্রীর বাংলা বন্‌ধ অবরোধ তাণ্ডবের কর্মসূচীর একাধিক নজির। অতীতের পাতা ওলটালে দেখা যাবে ঠিক তার পরের বছর ২০০২-এর ১০ই জানুয়ারি মমতা ব্যানার্জি এবং এস ইউ সি ১২ঘণ্টার বাংলা বন্‌ধ ডেকেছিলেন। ফের ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবলীলা চলেছিল। এর ঠিক পাঁচ মাস পরেই একা মমতার ফের ১২ঘণ্টার বাংলা বন্‌ধ। ফের হামলা, ভাঙচুর। এমন কোন বছর যায়নি যে বছর তৃণমূল বন্‌ধ ডাকেনি। ২০০৪ সালে তিন তিনবার বন্‌ধ ডেকেছিল মমতা ব্যানার্জির দল। শুধু তাই নয়, তৃণমূল নেত্রীর অতীতের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বাস পোড়ানো, পথ অবরোধ করা, বন্‌ধের নামে হিংসা ছড়ানোর কর্মসূচী। জড়িয়ে রয়েছে রাষ্ট্রের সম্পত্তি ধ্বংস, বিধানসভা ভাঙচুর করার বেনজির তাণ্ডবের ইতিহাস। তাঁর দলীয় অনুগামীদের বর্বর হামলায় ঐতিহ্য খুইয়েছিল রাজ্য বিধানসভা।

    যদিও এই দেশজোড়া ধর্মঘট তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেনি এই ধর্মঘট। কেন্দ্রে যে সরকারের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন, সেই সরকার ফেলাও এই ধর্মঘটের লক্ষ্য নয়। অর্থাৎ তাঁর এক কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রী, ৭আধামন্ত্রীর চাকরি যাওয়ারও উদ্বেগ থাকার কথা নয়। বরং ধর্মঘটের সঙ্গে থাকা দাবি তো এরাজ্যের আম জনতার, খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে। শুধুমাত্র কেন্দ্রের সরকারের নীতি বদলের লক্ষ্যেই এই দেশজোড়া সাধারণ ধর্মঘট। তবু কেন এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমন দেশজোড়া শ্রমিকশ্রেণীর বেনজির ঐক্যের ভিত্তিতে ডাক দেওয়া ধর্মঘটের কর্মসূচী ভাঙতে সরকারী ও দলীয় সর্বশক্তি প্রয়োগে নেমেছেন? এরাজ্যের মতো দেশের আর কোনো রাজ্য সরকার খুল্লাম খুল্লা ধর্মঘট বানচাল করতে পথে নামেনি। এমনকি কেন্দ্রের সরকারও এই দেশজোড়া ধর্মঘট বানচাল করতে রাষ্ট্রশক্তি নিয়ে সর্বাত্মক প্রয়োগে নামেনি। কিন্তু মায়ের চেয়ে মাসির দরদ একটু বেশিই।

    ধর্মঘট বানচাল করতে ধর্মঘটের দুই সক্রিয় নেতাকে খুন করতে হল দলীয়বাহিনী দিয়ে? ধর্মঘটের পথ আটকাতে সার্ভিস ব্রেক-এর হুমকি ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে সরকারী কর্মচারীদের উদ্দেশে। রাজ্যের পরিবহন কর্মীদের বেতন বন্ধের ফতোয়া জারি হয়েছে। বেআইনী অটোকে ‘আইনী’ অটো বানানোর প্রলোভন আর আইনী অটোর গায়ে ‘বেআইনী’ ছাপ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও এসেছে এই ধর্মঘটকে বানচাল করতেই। এখানেই শেষ নয়। তারপরও শুরু হয়েছে পাড়ায় পাড়ায় আক্রমণ, হুমকি, জুলুমের নলের নিচে ২৮শে ঘর ছেড়ে বেরনোর। রাজ্যে এর আগের ১৩টি দেশজোড়া ধর্মঘটের সঙ্গে এবারকার ধর্মঘটের ফারাক এখানেই। এর আগের ১৩টি ধর্মঘটের সময় রাজ্যে ছিল বামফ্রন্টের সরকার। আর সেই সরকারের মেয়াদে কোন ধর্মঘটীকে খুন হতে হয়নি। তফাত এটাই যে আজ হিংস্র আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়েই রাজ্যের মানুষ এই ঐতিহাসিক ধর্মঘটের সাথী হচ্ছেন। এই আন্দোলন সংগ্রামের পথেই হারানো দুই সাথীকে স্মরণ করেই তাই রাজ্যের সাধারণ মানুষ নিজেদের সংগ্রামী পরিচিতি সত্তাকে জাগিয়েই ২৮শে’র ডাকে সাড়া দেবেন। দেবেনই।

    বড় ঐক্যের জমিতে দাঁড়িয়েই এবারের ২৮শে’র লড়াই। দেশের শাসকদলের পক্ষের শ্রমিক সংগঠনও (INTUC) এই লড়াইতে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ধর্মঘট সংগঠিত করছে। শুধু এদেশে নয়, গোটা দুনিয়া জুড়েই শ্রমজীবীর ঐক্যের প্রক্রিয়া আজ জারি। এক হয়ে যাচ্ছে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন। দুই মেরুর এই বিভাজনেই স্পষ্ট অবস্থান ফুটে উঠছে এরাজ্যের শাসকদলের চরিত্র। স্পষ্ট হচ্ছে অসংগঠিত শ্রমিকের স্বার্থের পক্ষে নেই কেন্দ্রের ও রাজ্যের সরকার। দেশজোড়া শ্রমিক কর্মচারীদের পেনশনের নিরাপত্তা চায়না এই দুই সরকার। শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিও চায় না এই শাসক দল। এই স্পষ্ট বিভাজনের রাজনীতিতেই দেশের খেটে খাওয়া মানুষও আজ স্পষ্ট অবস্থান নিতে চলেছে। তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে চলেছে। বেপরোয়া স্বৈরাচারীর চাবুক দিয়ে সেই ক্ষোভকে সামলানো যাবে তো?

Advertisements

Tags: , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: