A New Chapter in the History of the Working Class will be written Tomorrow

 

ধর্মঘটের নয়া ইতিহাস লেখা হবে কাল

বন্দর থেকে খনি স্তব্ধ হচ্ছে কাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি

    নয়াদিল্লি, ২৬শে ফেব্রুয়ারি — এই প্রথম নয়। ঐক্য আগেও ছিল। তবে আগে এই ঐক্য ছিল শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির শীর্ষনেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এবারে, আঠাশের সাধারণ ধর্মঘটকে ঘিরে ঐক্য এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচারাভিযান চলছে একেবারে নিচের স্তর পর্যন্ত। যা সত্যিই অভূতপূর্ব, যা অতীতে কখনও দেখা যায়নি।

    বলছেন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির নেতৃবৃন্দ। আই এন টি ইউ সি-র সঞ্জীব রেড্ডি থেকে সি আই টি ইউ-র তপন সেন। রেড্ডির কথায়, ‘এক নতুন ধারার শ্রমিক আন্দোলন’।

    এগারোটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ ডাক। সাধারণ ইস্যুগুলি নিয়ে দেশের সবক’টি ট্রেড ইউনিয়ন একমঞ্চে — সাধারণ ধর্মঘটে।

    আঠাশে স্তব্ধ হবে দেশ, টলে যাবে ভারত। আসমুদ্র হিমাচল দেখবে মেহনতীর ঐক্য।

    উদারনীতির পক্ষে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল বিরোধিতা করলেও, তামিলনাডুতে ডি এম কে-র শ্রমিক ফ্রন্ট এল পি এফ এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে। ধর্মঘটে শামিল হবেন তাঁরাও। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ট্রেড ইউনিয়ন ভারতীয় কামগর সেনাও এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে।

    উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ, বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে দেশজোড়া সাধারণ ধর্মঘট অবশ্য এই প্রথম নয়। ১৯৯১, ২৯শে নভেম্বর। মনমোহন সিং তখন অর্থমন্ত্রী। সেই শুরু। তারপর তুমুল নীতি বদলের লড়াই। স্পনসরিং কমিটি অব ট্রেড ইউনিয়নসের ডাকে দেশ দেখেছে বারোটি সাধারণ ধর্মঘট। শ্রেণী আন্দোলনের এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতে শ্রেণী সংগ্রামের পরিধি হয়েছে প্রসারিত। উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ, বিশ্বায়নে আক্রান্ত সাধারণ শ্রমিকের ব্যাপক অসন্তোষ থেকেই প্রতি চব্বিশ ঘণ্টায় বেড়েছে যৌথ আন্দোলনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ আর আকুতি। হয়েছে যৌথ আন্দোলন। তবে শিল্পভিত্তিক। সি আই টি ইউ থেকে আই এন টি ইউ সি, এইচ এম এস থেকে এ আই টি ইউ সি — বহু ক্ষেত্রেই হয়েছে একসঙ্গে আন্দোলন। ব্যাঙ্ক, বীমা, প্রতিরক্ষা, টেলিকম, কয়লা, রুগ্‌ণ শিল্পের মতো বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে সর্বাত্মক ঐক্য। আর সেই মহার্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তৃণমূল স্তরে শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে বেড়েছে যৌথ, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের চাহিদা। তৃণমূল স্তরে শ্রমিক শ্রেণীর এই সম্মিলিত দাবি, এই মিলিত চাহিদা, আকাঙ্ক্ষাই আজ প্রতিফলিত জাতীয় স্তরে। যা জাতীয় স্তরের নেতৃত্বকে বাধ্য করেছে এক মঞ্চে আসতে।

    ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১০। ত্রয়োদশ সাধারণ ধর্মঘট। স্বাধীনতার পর সেই প্রথম, দেশ‍‌জোড়া সাধারণ ধর্মঘটে আই এন টি ইউ সি।

    আর এবারে আঠাশ তৈরি করতে চলেছে এক নতুন ইতিহাস। এবারে ধর্মঘটে বি এম এস, এল পি এফ-ও।

    দেশ হাঁটছে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের এক নতুন পর্যায়ে।

    গত বছরের ২৩শে ফ্রেব্রুয়ারি। রাজধানীর দখল নেয় মেহনতীরা। আই এন টি ইউ সি-সহ সবক’টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নই তাতে শামিল। শুধু ছিল না বি এম এস। তবে তারা বিরোধিতাও করেনি। এরপর নভেম্বরে জেল ভরো। এবারে বি এম এস-ও।

    আরও বিস্তৃত শ্রেণী সংগ্রামের ক্যানভাস।

    এবারে শুধু দিল্লিতে একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক নয়। আই এন টি ইউ সি-র সঞ্জীব রেড্ডি, বি এম এস-র বি এন রায়, এ আই টি ইউ সি-র গুরুদাস দাশগুপ্ত, এইচ এম এস-র আর এ মিত্তাল, সি আই টি ইউ-র তপন সেন, এ আই সি সি টি ইউ-র সন্তোষ রায়রা এবারে একসঙ্গে সভা করেছেন কলকাতা, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরুসহ বহু শহরে। প্রয় সবকটি রাজ্যেই হয়েছে যৌথ কনভেনশন। শুধু রাজ্যস্তরে নয়, জেলাস্তরেও। রবিবার সি আই টি ইউ-র সাধারণ সম্পাদক তপন সেন বলেছেন, কেন্দ্রের শাসক দলের সংগঠন হয়েও আই এন টি ইউ সি এই লড়াইয়ে জোরালো ভূমিকা নিয়েছে। সরকারের প্রবল চাপ সত্ত্বেও যৌথ আন্দোলনে তারা ভূমিকা পালন করছে।

    ধর্মঘট সফল করতে কয়লা, পেট্রোলিয়াম, ইস্পাত, প্রতিরক্ষার মতো বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রেই ফেডারেশনগুলি আবেদন করেছে যৌথভাবে। ধর্মঘটের সমর্থনে পেট্রোলিয়াম, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আলাদা করে হয়েছে কনভেনশন। পাশাপাশি, একসঙ্গে ধর্মঘট সফল করার ডাক দিয়েছেন বন্দর শ্রমিকরা। কয়লা ক্ষেত্রে ধর্মঘট হতে চলেছে সর্বাত্মক। বহু রাজ্যেই পরিবহন ক্ষেত্রে হবে নজরকাড়া ধর্মঘট। হরিয়ানা, পাঞ্জাবে চলবে না সরকারী বাস। ব্যাঙ্ক, বীমাসহ আর্থিক ক্ষেত্রে ধর্মঘট হতে চলেছে সর্বাত্মক। একই ছবি স্পষ্ট বি এস এন এল-র ক্ষেত্রে।

    নির্বাচন বলে উত্তর প্রদেশ বাদে সব রাজ্যেই সরকারী কর্মীরা ধর্মঘটে। মনোবল তুঙ্গে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের মেজাজও এককাট্টা। জানুয়ারির ১২তারিখেই বেঙ্গালুরুতে তারা করেছে যৌথ কনভেনশন। ওই কনভেনশনে শুধু সবকটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নই নয়, ছিল একাধিক ইন্ডিপেনডেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন। ব্যাপক ধর্মঘট হতে চলেছে হরিয়ানায়। ফরিদাবাদ, হিসারে। এবং গুরগাঁওয়ে।

    আঠাশ মানে লাল, সবুজ, নীল, তেরঙ্গা — নানা রঙের ঝাণ্ডার ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধে সেতু তৈরি করে বর্ণময় মিছিল। নীতি বদলের স্লোগান।

    ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ধর্মঘটের প্রাকমুহূর্তে বলেছেন, আঠাশ মানে ‘রুখে দাঁড়াও, প্রতিহত করো আক্রমণ’। আঠাশ মানে শ্রেণীর লড়াইয়ে নতুন অধ্যায়। আঠাশ মানে ধর্মঘটের নয়া ইতিহাস।

Advertisements

Tags: , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: