High Court Slams Mamata Govt Over Murders

 

বর্ধমানে খুনের তদন্তে পুলিসের নিষ্ক্রিয়তায় ‘স্তম্ভিত’ হাইকোর্ট
সি আই ডি তদন্তের নির্দেশ দিল

নিজস্ব প্রতিনিধি

    কলকাতা, ২রা মার্চ — বর্ধমানে প্রদীপ তা এবং কমল গায়েন খুনের ঘটনার তদন্তের কাজে পুলিসের নিষ্ক্রিয়তায় স্তম্ভিত হাইকোর্ট। তদন্তের কেস ডাইরি দেখে হাইকোর্ট অসন্তোষ চেপে রাখেনি। আদালত মন্তব্য করেছে ‘ইট ইজ শকিং।’ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে বর্ধমানের ওই খুনের তদন্ত সি আই ডি-কে দিয়ে করাতে হবে। এমনকি ‍‌সি আই ডি তদন্তের তদারকি করবে হাইকোর্ট। ২৩শে মার্চ সি আই ডি তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট দেখবে হাইকোর্ট।

    কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এন প্যাটেল এবং বিচারপতি সুম্বুদ্ধ চক্রবর্তীকে নিয়ে গঠিত ডিভিসন বেঞ্চে বর্ধমানে ২২শে ফেব্রুয়ারি প্রদীপ তা এবং কমল গায়েনের খুনের ঘটনায় জনস্বার্থের মামলা দায়ের হয়েছিল। এই খুনের তদন্তে গড়িমসি হচ্ছে। প্রশাসনিক চাপে তদন্তে পুলিসের কাজ পুলিস করতে পারছে না এবং মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং স্বয়ং ডিজি তদন্তকে প্রভাবিত করছেন। এই অভিযোগ জানিয়ে তিনটি জনস্বার্থের মামলা দায়ের হয়। মামলার আবেদনে বলা হয়, আদালত প্রকৃত সত্য প্রকাশ করতে উদ্যোগ নিক। জনমানসে প্রকাশ হোক খুন কীভাবে হয়েছে। এই খুনের ঘটনা সি বি আইকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। এদিন জনস্বার্থের তিনটি আবেদনের শুনানি একসঙ্গে গ্রহণ করেছে ডিভিসন বেঞ্চ।

    এদিন আদালতে আবেদনকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, বর্ধমানে নৃশংসভাবে দু’জন মানুষকে খুন করার পর পুলিস চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারের পর পুলিস ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেয়নি। চারজনকেই জেল হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিভিসন বেঞ্চ তার নির্দেশে বলেছে সি আই ডি তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতদের পুলিস হেফাজতে নিয়ে আসতে পারবে।

    আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, গত ২২শে ফেব্রুয়ারি বর্ধমানের দেওয়ানদিঘিতে খুন হন প্রাক্তন বিধায়ক সি পি আই (এম) নেতা প্রদীপ তা এবং কমল গায়েন। নৃশংসভাবে এই খুনের ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, ‘দলের অর্ন্তদ্বন্দ্বের পরিণতিতে’ এই খুন। রাজ্য সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এই খুনের ব্যাপারে মন্তব্য করেছিলেন ‘গ্রাম দখল করতে গিয়ে’ গ্রামবাসীদের আক্রমণে খুন হয়েছেন ওই দু’জন। একজন মন্ত্রী বলেছেন ‘জনরোষের শিকার’ ওই দু’জন।

    এদিন বিচারপতিরা তদন্তের রি‍পোর্ট দেখে প্রথমে মন্তব্য করেন রাজ্য সরকার কী করছে — ‘হোয়াট দ্য স্টেট ইজ ডুয়িং’? সরকারপক্ষের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, আজ পর্যন্ত কতজনের বয়ান নেওয়া হয়েছে? প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান কোথায়?

    বিচারপতিরা তদন্ত রিপোর্টের কাগজ দেখতে দেখতে বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট কোথায়? ময়না তদন্তের রিপোর্ট পুলিসের পেশ করা তদন্তের রিপোর্টের মধ্যে ছিল না। এই সময়েই বিচারপতি মন্তব্য করেন ‘ইট ইজ শকিং’। তিনি নির্দেশ দেন আজই বেলা দুটোর মধ্যে ময়না তদন্তের রিপোর্ট ফ্যাক্স অথবা হাতে এনে আদালতে জমা দিতে হবে। এরপরই সরকারপক্ষের আইনজীবীরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আদালতে পেশ করার ব্যবস্থা করেন। খুনের ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া পুলিস তদন্ত রিপোর্ট দিচ্ছে, তা সাধারণভাবে খুবই অস্বাভাবিক। বিচারপতিরাও তা নজর করেন। তবে এখানই শেষ নয়। আদালত রায়ে মন্তব্য করেছে খুনের ঘটনার ১০ দিন পরেও পুলিসের তদন্তের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। আদালত জানায় এই খুনের মামলার তদন্ত করবে সি আই ডি। সময়ে সময়ে ‘মনিটরিং’ অর্থাৎ তদারকি করবে হাইকোর্ট। আগামী ২৩শে মার্চ সি আই ডি-কে তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, আদালত এই জনস্বার্থ মামলার অভিযোগগুলিকে যুক্তিগ্রাহ্য বলে বিবেচনা করেছে। বর্ধমানে দু’জনকে দিনের আলোয় খুন করার পর তদন্তের কাজে পুলিস সক্রিয় নয়। বিচারপতিরা তাঁদের মন্তব্যে জনস্বার্থ মামলার অভিযোগগুলি সত্য বলে মেনে নিয়েছেন। বিশেষ করে প্রশাসন তদন্তের কাজে প্রভাব বিস্তার করেছে এটাও আদালত মেনে নিয়েই সি আই ডি তদন্তের নির্দেশ দি‍‌য়েছে। আবেদনকারীদের পক্ষে অন্য আর এক আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চ্যাটার্জি বলেন, জনস্বার্থের মামলায় সি বি আই তদন্তের কথা বলা হয়েছিল। আদালত তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সি আই ডি-‍‌কে দায়িত্বের নির্দেশ দিয়ে নিজে তদন্তের কাজ নজরদারির মধ্যে রাখবে বলেছে। প্রয়োজনে তদন্তের জন্য আদালত অন্য পদক্ষেপ নিতে পারে।

    আইনজীবী বিকশরঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর সওয়ালে আদালতে অভিযোগ করেছেন ময়নাতদন্তের যে রি‍‌পোর্ট দেওয়া হয়েছে এবং যেভাবে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে তার সঙ্গে পুলিস ঘটনাস্থল থেকে খুন করার জন্য ব্যবহৃত যে সমস্ত ‍‌জিনিস উদ্ধার করেছে তার কোন মিল নেই। ভট্টাচার্য আদালতকে বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিসের সিজার লিস্টের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    প্রসঙ্গত, গত ২২শে ফেব্রুয়ারি সকালে বর্ধমানের দেওয়ানদিঘিতে প্রদীপ তাকে পাথরের বোল্ডার দিয়ে মাথার পিছন দিকে সজোরে মারা হয়। এরপর একই রকমভাবে মারা হয় কমল গায়েনকে। লোহার রড, টাঙ্গি এবং পাথরের বোল্ডার দিয়ে থেতলে কুপিয়ে মারা হয়েছিল এই দু’জন মানুষকে। অথচ পুলিস গাছের ডাল দিয়ে আঘাতের কথা বলে ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। গত ১০ দিনে এই খুনের তদন্তের কাজ একটুও এগোয়নি। প্রকৃত তদন্ত চেয়ে আদালতে জনস্বার্থের মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ইমরান তরফদার, অনিন্দ্যসুন্দর দাস এবং আবেদ আলি মল্লিক।

English Version of the Story

    In a virtual snub to the West Bengal government, the Calcutta high court on Friday ordered the Criminal Investigation Department (CID) to probe the February 22 killing of two CPI(M) leaders by suspected activists of the ruling Trinamool Congress.

    The HC said if the state CID failed to provide a satisfactory report, the CBI could be asked to take over the probe.

    A division bench comprising chief justice JN Patel and justice Sambuddha Chakraborty said the court would monitor the CID probe into the case – so far being investigated by the local police – and gave the agency three weeks to file a status report.

    The court also rapped the police for not producing the post-mortem reports with the case diary. Public prosecutor Debasish Roy told the court that the reports were not available because the doctors did not prepare it on time.

    In a thinly-veiled reference to the 34-year Left rule in West Bengal – which Trinamool ended in May last year – Roy blamed the system for the failure in producing the reports.

    "You cannot blame the system and get away with it," the bench responded sharply.

    The court sought the reports within 2pm and got them (by fax) within the deadline. Incidentally, the reports showed doctors having signed them on February 22, the day former CPI(M) MLA Pradip Tah and party member Kamal Gayen were killed.

    The court’s ruling came on a batch of petitions seeking a CBI probe into the killing.

Courtesy: Ganashakti & hindustan times

Advertisements

Tags: , , , , , , ,

2 Responses to “High Court Slams Mamata Govt Over Murders”

  1. Ashok Chaudhury Says:

    The West Police led by DG Mr.Mukherjee has no power to act independently and acting at the behest of TMC led by its spremeo Miss Mamata Banerjee.

  2. Ashok Chaudhury Says:

    The West Police led by DG Mr.Mukherjee has no power to act independently and acting at the behest of TMC led by its spremo
    Miss Mamata Banerjee.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: