Mamata Lambasts Bratya for Having Difference of Opinion

 

ব্রাত্যকে মহাকরণে ডেকে ধমকালেন মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি

‘মন্ত্রীর মুখেই পুলিস দিয়ে লিউকোপ্লাস্ট লাগাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী’ : মিশ্র

    কলকাতা, ১০ই মার্চ— ধর্মঘটের অধিকার নিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে মহাকরণে ডেকে ধমকালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকরা যাতে ব্রাত্য বসুর কাছ থেকে এই নিয়ে আর কোনো কথাই জানতে না পারেন, তারজন্য মহাকরণে পুলিস দিয়ে নজিরবিহীনভাবে সাংবাদিকদের আটকানোর ব্যবস্থা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর থেকে ব্রাত্য বসু বের হওয়ার পরে তাঁকে যাতে সাংবাদিকরা কোনো প্রশ্নই না করতে পারেন তারজন্য পুলিসকর্মীরা এসে সাংবাদিকদের পথরোধ করে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধ আছে, মন্ত্রী কিছু বলবেন না।’

    বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র এই ঘটনার কথা জেনে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এতদিন চুপ করে থাকতে বলে বিরোধীদের মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগাতে চেয়েছিলেন। এখন তিনি নিজের মন্ত্রীর মুখেই পুলিসকে দিয়ে লিউকোপ্লাস্ট লাগাচ্ছেন।’

    যাবতীয় হুমকি, সার্ভিস ব্রেকের ভয় দেখানো ইত্যাদি করেও গত ২৮শে ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটকে ঠেকাতে পারেনি রাজ্য সরকার। সফল ধর্মঘটের পরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঐদিন অনুপস্থিত কর্মচারীদের তালিকা তৈরির মাধ্যমে যখন শাস্তির তোড়জোড় শুরু হয়েছে সেই সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ধর্মঘট করা না করার অধিকার শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের রয়েছে। কাজেই ঐদিন কোন শিক্ষক কেন অনুপস্থিত ছিলেন তার খোঁজ আমার দপ্তর থেকে করা হবে না। আমি গোয়েন্দাগিরি করতে পারবো না।

    ব্রাত্য বসুর এই মন্তব্যের পরেই শিক্ষামহলে যেমন এই মনোভাবের সমর্থন শোনা যায়, তেমনই সরকারী মহলে অন্য তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। ব্রাত্য বসু মুখ্যমন্ত্রীর বিপরীত পথে হেঁটে কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বিরুদ্ধাচারণ করেছেন কিনা সেই প্রশ্নও ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সঠিক কথা বলার অবস্থান তিনি ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ তখন থেকেই দেখা যায়। ব্রাত্য বসু অবশ্য সাংবাদিকদের জানান, ‘দরকার হলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসেও একই কথা বলবো।’

    কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকারে যে একটাই পদ, মুখ্যমন্ত্রীর পদ, তা ফের প্রমাণিত হলো। বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আগেই বলেছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী একা ধর্মঘটের অধিকারের কথা বললে হবে না, অন্য মন্ত্রীদেরও তা বলতে হবে, মুখ্যমন্ত্রীকে তা বলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী না বলা পর্যন্ত সরকারের মনোভাব পরিবর্তন হয়েছে কিনা বোঝা যাবে না।

    বাস্তবে ঘটেছেও তাই। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের উলটো পথে হেঁটে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা সচিব বিক্রম সেন বিকাশ ভবনে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, শুধুমাত্র সরকারী স্কুলই নয়, সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত সমস্ত স্কুলেই ধর্মঘটের দিন যে শিক্ষক, শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন না তাঁদের তালিকা স্কুলগুলির কাছে চেয়ে পাঠানো হচ্ছে।

    ধর্মঘটে অনুপস্থিত সরকারী কর্মীদের শো-কজ করা এবং সেই শো-কজের জবাব মনঃপূত না হলে তাঁদের একদিনের বেতন কাটা হবে জানিয়ে গত বুধবার রাজ্যের অর্থসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এক সার্কুলার জারি করেছিলেন। অর্থসচিবের জারি করা সার্কুলার নিয়ে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানিয়েছিলেন, ‘এই নির্দেশ সরকারী কর্মচারীদের জন্য। শিক্ষক, শিক্ষিকা অন্যদের কী হবে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরই বলবে।’ আর শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস ছিল শিক্ষাদপ্তর এব্যপারে কোনো গোয়েন্দাগিরি করবে না।

    কিন্তু শুক্রবারই স্কুল শিক্ষা সচিব বিক্রম সেন এবং উচ্চশিক্ষা সচিব সতীশ তেওয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন, একই প্রক্রিয়া শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও নেওয়া হচ্ছে। এরপরে ঐ বিভাগেরই মন্ত্রী হিসাবে ব্রাত্য বসুর চেয়ারে বসার কোনো অর্থ থাকে না। বিভাগীয় অফিসারদের মাধ্যমে ছড়ি ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে কোন শিক্ষা দিলেন? নাকি নিজের অনড় মনোভাব ত্যাগ করে বশ্যতা স্বীকার করলেন শিক্ষামন্ত্রী?

    এসব প্রশ্ন সাংবাদিকদের কাছে প্রাসঙ্গিক ছিলই। ব্রাত্য বসু শনিবার দুপুরে মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে প্রায় এক ঘন্টার বৈঠকে বসায় সাংবাদিকরা অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের পথরোধ করে মন্ত্রীর কাছে যাওয়া আটকান মহাকরণের পুলিস কর্মীরা। তাঁরা সাংবাদিকদের বলে দেন, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা যাবে না, নিষেধ আছে।’ সাধারণভাবে কোনো মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে না চাইলে তিনি নিজেই সেকথা জানিয়ে দেন অথবা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে যান। কিন্তু পুলিসকে দিয়ে সাংবাদিকদের আটকানো নজিরবিহীন।

    ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিসকর্মীদের বলেন, ‘আপনারা আটকানোর কে? মন্ত্রী কথা বলবেন কিনা সেটা তাঁকেই বলতে দিন।’ তখন পুলিসকর্মীরা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধ আছে, মন্ত্রী কিছু বলবেন না।’ এরপরে ব্রাত্য বসুও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আর কিছু বলেননি। তিনি দ্রুত পায়ে হেঁটে মহাকরণ থেকে নেমে গাড়িতে উঠে চলে যান। উল্লেখ্য এই সপ্তাহে ব্রাত্য বসু দু’দিন মহাকরণে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেও দুদিনই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

    ধর্মঘট নিয়ে তাঁর আগের অবস্থান নিজে বদলালেন, নাকি তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধেই তাঁর দপ্তরের অবস্থান বদলে গেল, তাও জানা যায়নি। শিক্ষা দপ্তরে অবশ্য এরকম বদল আগেও ঘটেছে। স্কুল শিক্ষাদপ্তরের মন্ত্রীর পদ থেকে এরকমভাবেই বদলে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

    এখন ব্রাত্য বসু তাঁর চেয়ার ধরে রাখতে নিয়মবিধিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন নাকি ‘কর্ত্রীর ইচ্ছেয় কর্ম’ করে চলবেন, সেটাই দেখার।

Advertisements

Tags: , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: