Union Budget, 2012 – An Analysis

 

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় ইয়েচুরি –

গরিবের ভরতুকি কমছে ধনীদের ভরতুকি বাড়ছে

    নিজস্ব প্রতিনিধি : নয়াদিল্লি, ১৬ই মার্চ — আম আদমির নামে খাস আদমির বাজেট পেশ করেছে কেন্দ্র। করের বোঝা, সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা দু’ভাবে বোঝা চাপিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলবে এই বাজেট। শুক্রবার বাজেট নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সি পি আই (এম) নেতা সীতারাম ইয়েচুরি। ‍তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী ভরতুকির ক্ষেত্রে বলছেন তা আর বাড়ানো যাবে না। এই কথাটা মস্করা ছাড়া কিছু নয়। কারণ বাড়ানোর বদলে প্রতিবছর তো কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভরতুকি। আসলে গরিবের জন্য ভরতুকি কমানো হচ্ছে আবার ধনীদের নানা কর ছাড়ের মাধ্যমে ভরতুকি দেওয়া হচ্ছে। তাই এই বাজেট আম আদমির নয়, ধনী খাস আদমিদের জন্য। শরিক তৃণমূলের এই বাজেট সহনীয় বলে মন্তব্যের প্রত্যুত্তরে ইয়েচুরি বলেন, এই বাজেট যদি সহনীয় হয় তবে রেল বাজেট নিয়ে ঐ দল যা বলেছে তা যে নিছক নাটক ছিল সেটা প্রমাণ হয়।

    বাজেটে কিভাবে কর্পোরেট ও ধনীদের নানা সুবিধা দিয়ে ভরতুকি কমানো হচ্ছে তা তথ্যসহ বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেন ইয়েচুরি। তিনি বলেন, দু’দিক থেকে সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপানো হয়েছে এই বাজেটে। যেমন কর ছাড় দিয়ে প্রত্যক্ষ কর আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরোক্ষ কর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় বাড়ানো হচ্ছে ৪৫ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। নানা পণ্যে বাড়তি কর চাপিয়ে আদায় হয় পরোক্ষ কর। এতে পণ্যের দাম বাড়বে। যা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অর্থাৎ বেশি কর দিতে হবে এবং মূল্যবৃদ্ধির জন্যও ভুগতে হবে। অন্যদিকে প্রত্যক্ষ কর আদায়ে ধনীদের দেওয়া হয়েছে ব্যাপক ছাড়। যারা কর দিতে পারে তাদের দেওয়া হচ্ছে কর ছাড়। আর যাদের কর দেওয়ার অবস্থা নেই তাদের উপর চাপানো হয়েছে করের বোঝা।

    এদিকে করের বোঝার সঙ্গে ভরতুকি কিভাবে কমিয়ে আবার মূল্যবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে আর্থিক পরিস্থিতি তা জানান ইয়েচুরি। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী আর্থিক সংহতির নামে ভরতুকি কমানোর কথা বলছেন। তিনি বাজেট ঘাটতির কথা বলছেন। এই ঘাটতির কারণ হিসাবে ভরতুকির হিসাব দিচ্ছেন। কিন্তু দেখা যাবে ঘাটতি ভরতুকির জন্য হচ্ছে না। তা হচ্ছে কর্পোরেট ও ধনীদের কর ছাড়ের জন্য। যেমন বর্তমানে বাজেটে ঘাটতির হার হলো ৫.৯ শতাংশ। অর্থাৎ ৫ লক্ষ ২২ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী প্রত্যক্ষ কর মকুব করেছেন বলে যে তথ্য দিয়েছেন, তা‍‌তে দেখা যাচ্ছে ঐ অর্থের পরিমাণ ৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। ৫ লক্ষ ২২ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি আর তার থেকে বেশি ৫ লক্ষ ২৯ হাজার কোটি টাকা কর্পোরেট ও ধনীর কর মকুব। ঐ কর সরকারের পাওনা। তা আদায় হলে ঐ ঘাটতি হতো না। উলটে বাড়তি অর্থ আয় হতো। এতে ভরতুকিতে বরাদ্দ কমানোর প্রয়োজন হতো না। ফলে ভরতুকি হ্রাসের অর্থ হলো, ধনীদের কর ছাড়ের নামে ভরতুকি দিয়েই গরিবের বরাদ্দ ভরতুকি কমানো।

    ভরতুকি নিয়ন্ত্রণের নামে তা ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছে। খাদ্য, সার, কৃষি প্রভৃতি ক্ষেত্রে মোট ভরতুকির পরিমাণ ছিল গত বাজেটে ২ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা। তা কমিয়ে সংশোধিত বাজেটে হয়েছে ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বেশি ভরতুকি কমানো হ‍‌চ্ছে সার ও খাদ্যে। অর্থমন্ত্রী ভরতুকি আর বাড়ানো যাচ্ছেনা বলে মন্তব্য করেছেন তা মস্করা ছাড়া কিছু নয় বলে প্রতিক্রিয়া ইয়েচুরির। তিনি বলেন, নয়া উদারবাদী অর্থনীতির এটাই দর্শন। তাতে বলা হচ্ছে গরিবের জন্য খাদ্য, কৃষিতে ভরতুকির মানে নেতিবাচক বৃদ্ধি। আবার ঐ পরিমাণ ভরতুকি ছাড়ের নামে ধনী ও কর্পোরেটকে বরাদ্দ করলে তা হবে উন্নয়ন বৃদ্ধির সহায়ক।

    ইয়েচুরি বলেন, ভরতুকি কমিয়ে পেট্রোপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাছাড়া, পেট্রোপণ্যের উৎপাদন খরচের হিসাব নিয়ে চলেছে নানা কারচুপি। খাদ্য, কৃষি, সারে ভরতুকি কমিয়েছে, কিন্তু বিদেশী বাণিজ্যিক ঋণ কম সুদে আনতে ভরতুকি দেওয়ার নীতি নিয়েছে কেন্দ্র। ইয়েচুরি বলেন, কেন্দ্র ভরতুকি দিয়ে বিদেশী ঋণ এনে শিল্প চাঙ্গা করার কথা ভাবছে। কিন্তু এতে কোন লাভ নেই। দেশের মানুষের আয় না বাড়িয়ে শুধু মূলধন এনে কী হবে? শিল্পের উৎপাদিত পণ্য যদি কেনার ক্ষমতা না থাকে মানুষের তবে শিল্প বাঁচবে কিভাবে?

Advertisements

Tags: , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: