Tyrants do not have the Last Word; The People they oppress always outlast them

 

বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘণঘটা

    এক অস্থির, দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে আমরা চলেছি। এমনিতেই সমা‍‌জে অল্প কয়েকজন বাদ দিলে বেশিরভাগ মানুষ ভাল নেই। ‘কংগ্রেস কা হাত, আম আদমি কা সাথ’ — এই বিজ্ঞাপনে ভর করে দিল্লির কুর্সিতে ক্ষমতাসীন হবার পর ‘ইউ পি এ-২’ জোট সরকারের প্রায় তিন বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে। আর এ রাজ্যে পরিবর্তনের জমানার ১০ মাস পার হলো। বামপন্থীরা জনাদেশ মাথা পেতে নিয়েছে এবং বিরোধী বেঞ্চে দায়িত্বশীল। সঙ্গে ৪১% বা প্রায় ২ কোটি মানুষের সমর্থন ও আস্থা। পরাজয়ের কারণগুলি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংশোধন করে, নিজেদের পরিবর্তন করে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত এবং শ্রমজীবী মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ পার্টি গড়ে তোলার কাজে আমরা শপথ নিয়েছি। আরও বেশি মানুষকে জয় করতে প্রস্তুত হচ্ছি। ১৯শে ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘট তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

    এই ১০ মাসে রাজ্যবাসী খুব সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি অনুভব করছেন — এ দাবি কেউ করবেন না। বরং জনজীবনে দুর্দশা, অশান্তি, নিরাপত্তাহীনতার অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে। সুখে-শান্তিতে থাকার জন্য চাই জনস্বার্থবাহী কর্মসূচী — যা কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারেরই নেই। বাংলায় এখন দুষ্কৃতীরাজ — সুশাসন বে-আব্রু। মহাকরণকে নির্লজ্জ দলতন্ত্র গ্রাস করেছে। প্রতিহিংসাপরায়ণতা এদের এখন রাজধর্ম। ক্ষমতায় উন্মত্ত শাসকদলের কর্মীরা এই মন্ত্রে দীক্ষিত — জরিমানা নাও, দখল কর, মিথ্যা মামলা সাজাও। সন্ত্রাসের চেনা চেহারা হত্যা — এই ১০ মাসে ৬০ জন বামপন্থী কর্মী-নেতা শহীদ হলেন। নিজের বাড়ি থাকলেও বাড়ি ছাড়া প্রায় ১৮ হাজার জন। নৈরাজ্যবাদ পেতে শুরু করেছে প্রশাসনিক রক্ষাকবচ।

    কেন বামপন্থীরা টার্গেট? কেন এত রক্তপাত? নেতৃত্ব সম্পর্কে কেন কুৎসা? আসলে শাসকশ্রেণী জানে এ রাজ্যে শ্রমজীবী – কৃষক-মধ্যবিত্ত-কর্মচারীদের ঐক্যকে ভাঙতে বামপন্থীদের দুর্বল করতে হবে। দেশের মূল সমস্যাগুলি থেকে মানুষের দৃষ্টিকে ঘুরিয়ে দাও। কেন্দ্রের যে নীতির কারণে আজ জনজীবনে দুর্দশা বাড়ছে তার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে আসছে বামপন্থীরাই। ১৯৯০-২০১২, আমাদের দেশে নয়া উদারনৈতিক বিশ্বায়ন নীতির প্রয়োগের পরিণতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হচ্ছে। ফিনান্স পুঁজি চালিত বিশ্বায়ন যে টিকতে পারে না তা জোরালোভাবে প্রমাণ করছে বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মহাসঙ্কট। যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি — মূল্যবৃদ্ধি, কর্মচ্যুতি, মজুরি হ্রাস, সামাজিক খাতে সরকারী ব্যয় হ্রাস।

    আমাদের দেশের বাস্তবতা হচ্ছে সরকার যখন আর্থিক বিকাশের ঢাকঢোল পেটাচ্ছে তখন কোটি কোটি মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে, তারা ক্ষুধার্ত। নয়া উদার অর্থনৈতিক নীতির পরিণতিতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির বিরাম নেই। পেট্রোলজাত দ্রব্যসামগ্রীর দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে এবং রেলে পণ্যমাসুল বৃদ্ধির প্রভাব বিভিন্ন পণ্যের মূল্যস্তরে পড়ছে। দেশের খাদ্যসুরক্ষা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গণবণ্টন ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান — খাদ্য নিরাপত্তার এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই আজ আক্রান্ত। কৃষি উপকরণের বেসরকারী- করণের ফলে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জলের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে — কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের মূল্য পাচ্ছে না। দেশজুড়ে কৃষক আত্মহত্যা বেড়েই চলেছে।

    এমনকি আমাদের রাজ্যে গত ১০ মাসে ৪২ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করছেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠ গরিব, শ্রমজীবী, কৃষকদের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি নয় — ভরতুকি হ্রাস কর। আর মুষ্টিমেয় ধনী, শিল্পপতিদের স্বার্থে করছাড় ও ভরতুকি প্রদান দাঁড়ায় স্টিমুলাস প্যাকেজ, ইনসেনটিভ। গত ৩ বছরে ধনীদের করছাড়ের পরিমাণ ১৫ লক্ষ হাজার কোটি টাকা। দেশে আজ ৬৯ জন বিলিওনিয়ার। আবার দেশের ৭৭ শতাংশ মানুষের দিনে ২০ টাকা খরচ করার সামর্থ্য নেই। ২০১১ জনগণনার রিপোর্ট বলছে, ৪৭ শতাংশ পরিবারে শৌচাগার নেই, ৪৭ শতাংশ পরিবারে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, ৩৩ শতাংশ পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। অসাম্য বাড়ছে।

    এই আর্থিক নীতির পথ ধরে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে আর্থিক দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি এক ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। একের পর এক কলঙ্কজনক দুর্নীতির ঘটনায় কংগ্রেস দলের ভাবমূর্তি নিদারুণভাবে কালিমালিপ্ত। তৃণমূল কংগ্রেস এই সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক। কেন্দ্রের নীতির কারণে যে সঙ্কট জনগণকে গ্রাস করছে তার দায় তৃণমূল কংগ্রেস ও তার সুপ্রিমোর। গত ৩ বছরে কংগ্রেস নির্বাচনে একের পর এক রাজ্যে হারছে — সদ্য ৫ রাজ্যের ভোটের ফলাফলে এটা প্রমাণিত মানুষ ঘৃণাভরে কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস এর জোট সরকারের নীতি ও কাজকর্মকে প্রত্যাখ্যান করছে। এমনকি বি জে পি-র বিপর্যয়ও ইতিবাচক। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের সাথে দক্ষিণপন্থী আর্থিকনীতি অনুসরণ করা এবং উচ্চস্তরের দুর্নীতির আঁতাতে বি জে পি আলাদা নয়। দিল্লিতে‍‌ ‘ইউ পি এ-২’ সরকার এখন দেশের সামনে বোঝাস্বরূপ। সরকার যেন আই সি ইউ-তে।

    বামপন্থীরাই শুরু থেকে এই জনবিরোধী উদারনীতির বিরোধিতা করেছেন। এই নীতির বিরুদ্ধেই প্রথম সর্বভারতীয় ধর্মঘট হয়েছিল ২৯‍‌শে নভেম্বর, ১৯৯১। আর ১৪তম সাধারণ ধর্মঘট হয়েগেল গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২। খোদ আমেরিকা ও ইউরোপে এই বিশ্বায়ন নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠছে। আওয়াজ উঠেছে: ওরা ১% — আমরা ৯৯%। আমাদের দেশে বামপন্থীদের বাধার কারণেই দেশের আর্থিক ক্ষেত্রকে ফাটকা পুঁজির কাছে শাসক শ্রেণী উন্মুক্ত করতে পারেনি। ব্যাঙ্ক, বীমা, পেনশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে বৈদেশিক পুঁজির আধিপত্য সুনিশ্চিত করার প্রতিটি প্রয়াসই ব্যর্থ করেছেন বামপন্থীরা। দক্ষিণপন্থীদের তাই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু সি পি আই (এম) এবং বামপন্থীরা। উগ্র বামপন্থার আক্রমণের লক্ষ্যও বামপন্থীরা। এরাজ্যে মাওবাদী-তৃণমূলী আঁতাত মানুষ দেখেছেন।

    নয়া আর্থিকনীতির প্রয়োগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শ্রমজীবী জনগণ, গরিব-প্রান্তিক কৃষক, খেতমজুর এমনকি মধ্যবিত্ত। এই নীতি প্রয়োগের পর দেশে অসংগঠিত শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। আমাদের রাজ্যেও অসংগঠিত শিল্পে যুক্ত শ্রমিক ১ কোটি ৮০ লক্ষ, খেতমজুর ১ কোটি, সংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক ৪০ লক্ষ। অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরতরা হলেন — ঠিকা, ক্যাজুয়াল, চুক্তিবদ্ধ। এদের না আছে কাজের নিরাপত্তা, না আছে সামাজিক সুরক্ষা। তাই এদের সংগঠিত করা এবং এদের বেঁচে থাকার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম পরিচালনায় বামফ্রন্ট, আমাদের পার্টি, ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষকসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যখন নয়া উদারনীতিগুলি ক্রমশ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে পড়ছে এবং সারা দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বামপন্থীদের অগ্রসর হবার সুযোগ এসেছে, তখন বামপন্থীদের শক্তি খর্ব করতে ও আক্রমণ শানাতে শাসক শ্রেণী ও প্রতিক্রিয়াশীলশক্তি মরিয়া। তাই বামপন্থীদের শক্তিশালী ঘাঁটি টার্গেট কর। পার্টি নেতৃত্ব, সংগঠকদের উপর আক্রমণ বাড়াও, রক্ত ঝরাও – কুৎসা কর। কমরেড প্রদীপ তা ও কমরেড কমল গায়েনের হত্যা এই পরিকল্পনারই অংশ। নতুন করে আজকের প্রজন্মের সামনে চার দশক পর সাঁইবাড়ি ঘটনার প্রচারে আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা বিনয় কোঙার ও নিরুপম সেনকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত।

    লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই আমাদের পার্টি ও বামপন্থা বহুমুখী আক্রমণের মুখে। আক্রমণ শুধু দৈহিক নয়, মাত্রাহীন মিথ্যাচার নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমাদের উপর আক্রমণ ও হিংসাকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এমনভাবে প্রচার সংগঠিত করা হচ্ছে যেন এরা সমাজের শত্রু। এদের হত্যা, মিথ্যা মামলায় বা চরিত্র হননে কোনো অপরাধ নেই। আমাদের পার্টির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণার মনোভাব তৈরি করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার হীন প্রয়াস মারাত্মকভাবে লক্ষণীয়।

    যদিও কমিউনিস্ট বা বামপন্থী কর্মীদের এটা অজানা নয়, বামপন্থার প্রাসঙ্গিকতাকে লঘু করতে কিংবা কমিউনিস্ট নেতৃত্বের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাবকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য বারে বারে ষড়যন্ত্র কিংবা কটূক্তি বা ঘৃণ্য প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। ইতিহাস সে কথাই প্রমাণ করেছে। কমিউনিস্ট ইশ্‌তেহারের প্রকাশ থেকেই আক্রমণ শুরু। সোভিয়েত বিপ্লবের মহানায়ক লেনিনকেও কুৎসা-আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। রাশিয়ায় অক্টোবর বিপ্লবের আগে অ্যালেক্সিনস্কি  এবং প্যানক্রাতোভ  সুকৌশলে গুজব রটান, কুৎসা করেন — লেনিন ‘জার্মানির চর’। পেত্রোগাদের দায়রা আদালতে লেনিনসহ অনেক বলশেভিককে ‘চরম দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়া হয়। লেনিনের সহযোদ্ধা ক্রুপস্কায়া ‘রেমিনিসেন্সেস অব লেনিন’ গ্রন্থে লিখেছেন। ক্রুশ্চেভ এবং আধুনিক সংশোধনবাদীরাও যোশেফ স্তালিনকে কালিমালিপ্ত করতে বৃথা চেষ্টায় ব্রতী হয়েছিল।

    আমাদের দেশেও ব্রিটিশ জমানায় কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে ওঠার মুহূর্তে তিনটি ষড়যন্ত্র মামলা (পেশোয়ার, কানপুর, মিরাট) স্মরণ করা যেতে পারে। আবার চীন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষের সময় (১৯৬২) কমিউনিস্ট-বিরোধী কুৎসা ছিল বেপরোয়া। সেসময় ২২শে অক্টোবর আনন্দবাজার লি‍‌খেছিল — ‘জ্যোতি বসু চীনের দালাল’। ১৯৬৫, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় কমিউনিস্টদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে প্রচার চলেছিল। সেই আনন্দবাজারই পরবর্তীতে বলতে বাধ্য হলো — জ্যোতি বসু রাষ্ট্রনায়ক — অবিসংবাদী জননেতা।

    আসলে রাইখস্ট্যাগে আগুন ধরিয়ে দেওয়া থেকে এরাজ্যে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে নাশকতা কিংবা মিরাট ষড়যন্ত্র থেকে সাঁইবাড়ি — কেউই সেই দায় কমিউনিস্টদের ঘাড়ে চাপাতে এতটুকু সময় নষ্ট করেনি। ঘড়ির কাঁটাও ছুটছে — চক্রান্তও থেমে থাকেনি। সেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে। তাই সুশান্ত ঘোষ থেকে রাজারহাট — গোপালপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান তাপস চট্টোপাধ্যায় কিংবা সি ‍‌পি আই (এম) নেতা নিরুপম সেন থেকে বর্ধমান পৌরসভার পৌরপ্রতিনিধি আইনুল হক — নিশানা করো, জনমানসে হেয় প্রতিপন্ন করো।

    আমরা বলেছিলাম এই আক্রমণ শুধুমাত্র সি পি আই (এম) কিংবা বামপন্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। থাকতে পারে না। বিস্তার ঘটবে। টিভি চ্যানেলের তরুণ সাংবাদিক বন্ধুকে মাটিতে ফেলে পেটাচ্ছে শাসকদলের মদতপুষ্ট মস্তানরা। বলা হলো সাজানো ঘটনা। বর্ধমান হাসপাতালে অনেক সাংবাদিক বন্ধুরা আক্রান্ত হলেন, অনেকগুলি ক্যামেরা ভাঙা হলো। চলছে জোট শরিকদের নিজেদের মধ্যে ঠোকাঠুকি — মারপিট। তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে কোন্দল — হাতাহাতি, নিজেদের মন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এমনকি ইতোমধ্যে ৩জন তৃণমূল কংগ্রেসকর্মী খুন হয়েছেন নিজের দলের কর্মীদের হাতে।

    আসলে বিধানসভা ভবনের ভাঙচুর — রাজ্যজুড়ে তাণ্ডব, অরাজকতার রাজনীতির ভিত্তি মোটেই অস্পষ্ট ছিল না। ধর্মঘটের হুমকি থেকে সংবাদপত্রের নিষেধাজ্ঞার ফরমান — সরকারের প্রবণতাগুলি ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। যে রাজনীতি মুখ্যমন্ত্রীর ইমেজ নি‌র্মাণ করেছে, সেই রাজনীতিই আজ বাংলার গ্রাম-শহরে তাঁর বন্দনার মঞ্চ তৈরি করছে। খুন, সন্ত্রাস, মিথ্যাচার সেই আ‍‌য়োজনের অনিবার্য উপাচার। সরকার পরিচালনার উল্লাসে সাংবিধানিক দায়িত্বকে মুহূর্তে ঝেড়ে ফেলে দিতে কুণ্ঠা নেই। রাজ্যের মুখ্য প্রশাসক যদি সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখার কাজে অতিসক্রিয় থাকেন, তাহলে সুশাসনের চেহারাটা কি হতে পারে? উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট, উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল, উদ্বিগ্ন রাজ্যবাসীও। জনমানসে ধীরে ধীরে এই সরকার সম্পর্কে মোহভঙ্গ হবেই — হয়তো বা কিছুটা দ্রুতই। ভবিষ্যতে এর উত্তর মিলবে।

    আমরা বিশ্বাস করি আমাদের মতাদর্শই শ্রেষ্ঠ। এরাজ্যে ষড়যন্ত্র, কুৎসা, মিথ্যাচার অতিক্রম করেই সংগ্রামের রাস্তায় এগিয়ে যাব। রক্তে ভেজা পথেই সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা অবিচল। ইউরোপ কমিউনিজমের ভূত দেখেছে; তৃণমূল কংগ্রেস ‘৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের ভূত’ দেখছে। রাস্তার ক্রসিং-এ রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজে — ‘‘…এরা তোমায় কিছু দেবে না, দেবে না — মিথ্যা কহে শুধু, কত কী ভাণে…’’

Advertisements

Tags: , , , , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: