Shut Up! Don’t Open Your Mouth!

 

মুখ খুললেই বিপদ

    সমালোচনা বা বিরোধিতা তো অনেক দূরের কথা। স্তাবকতা বা প্রশংসার বাইরে কোনো প্রশ্নও সহ্য করতে পারেন না পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি একতরফাই কথা বলেন। কোনো সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাঁকে চুপ করিয়ে দেন। সংবাদমাধ্যমের একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী একাই কথা বলেন। পছন্দ বা অপছন্দের কোনো প্রশ্নই তিনি করতে দেন না সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিককে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, কোনো সংবাদমাধ্যমেরই তার বিরোধিতা বা সমালোচনা করার অধিকার নেই। নেই কোনো বিষয়ে জানতে চাওয়ার অধিকার। একইভাবে রাজ্যের নাগরিকদেরও মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার অধিকার নেই। কেউ কোনো অস্বস্তিকর প্রশ্ন করলেই তাকে সি পি আই (এম) বলতে দ্বিধা করেন না মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের পক্ষে অস্বস্তিকর যে কোনো ঘটনাকেও ‘সাজানো’ বলে আখ্যা দেন মুখমন্ত্রী। তিনি চান সমস্ত সংবাদমাধ্যমই হোক তাঁর পেটোয়া বা বশংবদ। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পর থেকে বিভিন্ন ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সময় এই স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে বারেবারে।

    তৃণমূল সরকারের বর্ষপূর্তিতে একটি বেসরকারী চ্যানেলের (CNN-IBN) অনুষ্ঠানে অসহনশীল ঔদ্ধত্যই দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী। ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ সমাজের অনেক বিশিষ্টজন। গত এক বছরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর প্রসঙ্গ তুলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড এবং ব্যঙ্গ কার্টুনের জন্য গ্রেপ্তার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। এই প্রশ্ন শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রবল উত্তেজিত অবস্থায় প্রশ্নকারীকে ‘সি পি এম, মাওবাদী, এস এফ আই’ আখ্যা দিয়ে বেরিয়ে যান। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের প্রতি সামান্য সৌজন্য দেখানোরও প্রয়োজন বোধ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশ্নকারীদের পরিচয় খুঁজতে তদন্ত শুরু করে পুলিস। তাদের অপরাধ হলো, মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ নয় এমন প্রশ্ন করেছেন।

    কিছুদিন আগে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকরা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সেই প্রসঙ্গ তুলতে তিনি বলেছেন ‘সাজানো ঘটনা’। পার্ক স্ট্রিট, কাটোয়ায় ধর্ষণের ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমের চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ব্যঙ্গ চিত্র ই-মেলে পাঠানোর অপরাধে তৃণমূলীদের হাতে মার খেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ঐ অপরাধে হাজতবাস করতে হয়েছে অধ্যাপককে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কার্টুন নয়, এটা নাকি আসলে তাঁকে হত্যার চক্রান্ত। আজগুবি তত্ত্ব সাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্রয় দিয়েছেন অকারণে অধ্যাপক নিগ্রহের মতো অন্যায় কাজকে।

    সরকারী পাঠাগারে কোন্‌ সংবাদপত্র কেনা হবে তা বাছাই করা হয়েছে স্তাবকতার নিরিখে। সমা‍‌লোচনা বা বিরোধিতার ন্যূনতম সুযোগ রয়েছে এমন সংবাদপত্রগুলিকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে পাঠ্যতালিকা থেকে। নাগরিকদের স্বাধীনতা হরণের এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে। বিজ্ঞাপন বন্ধ করেও সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    সামগ্রিকভাবে মমতা ব্যানার্জি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন সবাইকে মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে, চুপ থাকতে হবে। মুখ খুললেই বিপদ। মানুষও তার অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করছেন তৃণমূল সরকারের এই বিপজ্জনক ঝোঁক।

Advertisements

Tags: , , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: