A Close Shave with Death… মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি…

        মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি: নিশাত

চূড়া থেকে বেসক্যাম্পে নেমে এসেছেন বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট জয়ী নারী নিশাত মজুমদার ও এম এ মুহিত। সব ঠিক থাকলে ১ জুন দেশে ফেরার আশা করছেন তারা।

মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা হয় নিশাত ও মুহিতের। তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়াজনিত কারণে সামান্য ঠাণ্ডা-কাশি লাগলেও সুস্থ আছেন।

গত ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেন নিশাত। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি এভারেস্ট চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান।

নিশাতের সঙ্গে ছিলেন আরেক এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত, যিনি এর আগেও একবার এভারেস্ট জয় করেছিলেন। তারা দুই জনই বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের সদস্য।

প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়ের প্রতিক্রিয়ায় নিশাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল স্বপ্ন দেখছি।”

এভারেস্ট আরোহনের অভিজ্ঞতা বর্ণনায় তিনি বলেন, “এটা অনেক কঠিন একটা কাজ ছিল। আমরা যখন যাত্রা শুরু করি, তখন ধারণা ছিল না, এটা এতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে।”

যাত্রাপথে কী কী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে- জানতে চাইলে নিশাত বলেন, “২৭ এপ্রিল সকাল ১০টায় আমরা যখন বেসক্যাম্প থেকে ক্যাম্প-২ তে যাচ্ছি, তখন এভারেস্টের পাশের পর্বতশৃঙ্গ তুকুৎসে থেকে তুষার ধস হয়। এমনিতে এখানে এটা নিয়মিত ব্যাপার, কিন্তু এই ধসটা অনেক বড় ছিল।”

তুষার ধসে মাথায় সামান্য আঘাত পেলেও তা গুরুতর ছিল না বলে জানান লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নিশাত।

তিনি বলেন, “আর কিছুক্ষণ যদি বেসক্যাম্পে থাকতাম তাহলে আমাদের সবারই মৃত্যু হতো। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। মোটামুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যাই আমরা।”

“এছাড়া আবহাওয়া খুব খারাপ ছিল, ঝড়ো বাতাস ছিল। মনে হচ্ছিল আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যাবে। যে পথে আমরা উঠেছি, সেটাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। পরে শুনেছি, আমরা যে পথে উঠেছি সেখানে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে এখন পর্যন্ত ২২ জন পর্বতারোহী মারা গেছেন।”

প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে উঠবেন, এমনটা কখনো ভেবেছিলেন কি না- জানতে চাইলে নিশাত বলেন, “যে কোনো পর্বতারোহীর মতো আমারও স্বপ্ন ছিল এভারেস্ট জয় করব। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”

“অন্যান্য পর্বতারোহীরা এভারেস্ট জয় করে পর্বতারোহণ শেষ করে, আর আমি শুরু করলাম এভারেস্ট দিয়ে,” হাসতে হাসতে বলেন ত্রিশোর্ধ্ব এই নারী।

ব্যবসায়ী বাবা আবদুল মান্নান মজুমদার ও গৃহিণী মা আশুরা মজুমদারের চার সন্তানের মধ্যে নিশাত দ্বিতীয়। তার জন্ম ১৯৮১ সালে লক্ষ্মীপুর জেলায়, থাকেন ঢাকার পান্থপথে ভাড়া বাসায়।

নিজের এই সাফল্যের জন্য পরিবার এবং নিজ ক্লাব বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি ঢাকা ওয়াসায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিশাত।

তিনি বলেন, “আমার পরিবার বিশেষত আমার মা-বাবার সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব হত না। এছাড়া ক্লাবের সব সদস্য আমাকে সাহস দিয়েছেন, প্রেরণা জুগিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বের দাবিদার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক। পাহাড় এবং পাহাড়ে ওঠা কি- তা তিনি হাতে ধরে শিখিয়েছেন। ওনার জন্যই সবকিছু।”

এই মুহূর্তে নিশাতরা রয়েছেন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৩০৫ মিটার উঁচুতে।

গোটা যাত্রা পথে কোনো অসুখ না হলেও আবহাওয়া ও তুষারঝড়জনিত কারণে ঠাণ্ডা লেগেছে বলে জানান নিশাত। ফোনে কথা বলার সময় মাঝে মাঝেই কাশির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল।

এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, “যার যেদিকে আগ্রহ আছে, সেখান যদি মনোযোগ দিয়ে লেগে থাকা যায়, তাহলে স্বপ্ন পূরণ হবেই।”

নিশাতের সঙ্গী মুহিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এভারেস্টে আরোহণের দুটি পথ রয়েছে। একটি হল তিব্বত সীমান্তবর্তী নর্থইস্ট রিজ, অপরটি এর বিপরীতে সাউথইস্ট রিজ।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১০ সালের ২৩ মে প্রথম এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছিলেন মুসা ইব্রাহিম। এরপর ২০১১ সালের ২১ মে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন মুহিত। মুসা ইব্রাহিম নর্থইস্ট রিজ দিয়ে এভারেস্টে উঠেছিলেন।

মুহিত বলেন, “নর্থইস্ট রিজ অনেক নিরাপদ। এ পথে এভারেস্টে আরোহণও সহজ। অন্যান্য পর্বতারোহীরা সাধারণত এ পথটিই বেছে নেন।”

“তুলনামূলক ভাবে সাউথইস্ট রিজ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে বেসক্যাম্প থেকে ক্যাম্প ৪ পর্যন্ত ২০টি ডেঞ্জার জোন রয়েছে। এগুলোতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২০ থেকে ২২ জন পর্বতারোহী।”

সহজ পথ ছেড়ে কঠিন পথে গেলেন কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, “সিম্পলি বিকজ অব মোর অ্যাডভেঞ্চার। এর আগে আমি নর্থইস্ট রিজ দিয়ে এভারেস্টে উঠেছি, এবার সাউথ ইস্ট রিজ দিয়ে উঠে দেখলাম।”

প্রথমবারের এভারেস্ট জয়ের সঙ্গে এবারের জয়ের তফাৎ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রথম বার যখন এভারেস্টে উঠেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল আমি পৃথিবীর রাজা। এবারও এমনই মনে হয়েছে।”

“আমরা শুধু এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছি যে আমরা বাংলাদেশিরা পারি। পদে পদে বিপদ থাকলেও তা অতিক্রম করে আমরা ঠিকই শীর্ষে পৌঁছাব।”

Advertisements

Tags: , , , , , , ,

One Response to “A Close Shave with Death… মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি…”

  1. Ashok Chaudhury Says:

    MY HEARTY CONGRATULATIONS TO NISHAT AND MUHIT.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: