Disruption in Communications in the Barak Valley

বরাক উপত্যকায় শোচনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা

 দীপক ভট্টাচার্য

    বরাক উপত্যকার লক্ষ কণ্ঠের আওয়াজ হচ্ছে, দক্ষিণ আসামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিসাধনে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। আসলে আসাম রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অনমনীয় চিন্তাধারার ফলে এই উপত্যকার লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা উপেক্ষিত হয়ে আছে। কি রেল—কি মোটর সড়ক ভগ্নদশায় আছে।

    লামডিং থেকে বরাক উপত্যকার রেল যোগা‍যোগ প্রথম অবস্থা থেকেই নিম্নমানের। বর্ষাকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে রেল যোগাযোগ বারবার বন্ধ হয়। যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। অবিভক্ত কাছাড় জেলা থেকে সরাসরি গুয়াহাটি যাবার কোনো মোটর সড়ক ছিল না। সেই সময় কাছাড় জেলা সুরমা উপত্যকার অন্তর্ভুক্ত থাকার সুবাদে সিলেটের ভিতর দিয়ে ভারতের অন্যত্র যাওয়ার সুবিধা ছিল।

    দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গুয়াহাটির সঙ্গে অবিভক্ত কাছাড় জেলার মোটর যোগাযোগের স্বার্থে শিলঙ হয়ে যাবার জন্য বদরপুর-‍‌জোয়াই নতুন মোটর সড়ক নির্মাণ করা হয়। এই সড়ক নির্মাণের সময় আসামের রাজধানী ছিল শিলঙ এবং পি ডব্লিউ ডি মন্ত্রী ছিলেন আলতাফ হোসেন মজুমদার। এই সড়ক নির্মাণের পূর্বে মাটি পরীক্ষা হয়তো ভালো করে হয়নি। নতুবা তখন বোঝা যেত বর্ষাকালে ধস নেমে মানুষের মৃত্যু, মোটরযান ধ্বংস হওয়া, সড়ক বন্ধ হয়ে পাহাড়ে জঙ্গলে যাত্রী সাধারণের প্রচণ্ড কষ্ট হবে। সুতরাং বিকল্প কোনো দিক দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হলে সারা বছর যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না। সেইভাবে সঠিক এলাইনমেন্ট করে যদি সড়ক নির্মাণ করা হতো তাহলে আজকের দিনে যতটা বিপদের ঝুঁকি নিয়ে বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা, মিজোরামের মানুষকে চলতে হয়—এই দুশ্চিন্তার পরিবর্তে হয়তো নিশ্চিন্তমনে যাত্রীগণ যাতায়াত করতে পারতেন।

    লামডিং-বদরপুর রেলপথে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ষারম্ভেই গত ২৫শে জুন থেকে ক’দিন অবিরাম বৃষ্টির ফলে এই রেলপথে প্রায় শ’খানেক স্থানে ধস নামে। ৪০২নং সেতুর গার্ডার স্থানচ্যুত হয়েছে। ১৭নং টানেল-এ ফাটল দেখা দিয়েছে। লঙরাঙাজাও স্টেশন-এর মধ্যে রেললাইনে পাহাড় নেমে আসছে। মাহুর-ফাইডিঙের ২০০ মিটার রেললাইনের নিচের পাথর মাটি প্রচণ্ড জলের ধাক্কায় সব নিয়ে গেছে, এখন এই স্থানে রেললাইন ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। আসলে এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

    লামডিং-শিলচর রেলপথে বর্ষার শুরুতেই যদি এই ধরনের বীভৎস কাণ্ড শুরু হয়, সেই সঙ্গে রেলযাত্রীদের চূড়ান্ত ভোগান্তি—অর্থাৎ গত ২৬শে জুন সকাল থেকেই শিলচর-লামডিং রেলপথ বন্ধ হয়ে আজও বন্ধ আছে। কবে নাগাদ রেল যাতায়াত শুরু হবে বলা মুশকিল। পাহাড়ে জঙ্গলে ট্রেন বন্ধ হয়ে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ যাত্রীগণ নরক যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন।

    ট্রেনযাত্রীদের মতো মোটরযাত্রীদেরও বরাক উপত্যকা-ত্রিপুরা-গুয়াহাটি যাত্রীগণ মেঘালয় পাহাড়ে ধস নেমে পথ বন্ধ হয়ে দু’দিকে মোটরের বিশাল লাইন। টয়লেট না থাকায় মহিলাদের কি কষ্ট চিন্তা করা যায় না।

    এই পরিস্থিতির মধ্যে বরাক উপত্যকা থেকে বেরুবার পথ নেই। রেলপথ বন্ধ, মোটর-সড়ক বন্ধ। এই অবস্থায় বরাক উপত্যকার লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে কোনো কোনো পরিবারকে বিশেষ জরুরী প্রয়োজনে বরাক উপত্যকা থেকে বেরুতেই হবে। শুধু আকাশপথ খোলা। বিমান ছাড়া বেরিয়ে যাবার পথ নেই। এই অবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় যাত্রীদের বিপদের সুযোগ নিয়ে শিলচর-গুয়াহাটির বিমান সংস্থাগুলি বিমান ভাড়া তিন হাজার টাকার স্থলে বারো হাজার টাকা অধিক ভাড়া আদায় করে মুক্ত বাজার অর্থনীতির দৌলতে বরাক উপত্যকার যাত্রী সাধারণকে লুণ্ঠন করছে। এই অবস্থা দেখে কংগ্রেস সরকার নিশ্চুপ থেকে মালিকশ্রেণীর সেবা করেছেন। অবশ্য ইচ্ছে করলে সরকার ভরতুকি দিয়ে মানুষকে কিছু রিলিফ দিতে পারত। আসলে এখন জনসেবা বলতে কিছু নেই শুধু আছে বর্ণাঢ্য সেবা। এখন মালিকশ্রেণীর পৌষমাস আর অসহায় যাত্রীদের সর্বনাশ। ছিঃ ছিঃ।

    আসামের প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিদর্শন করতে সোনিয়া-মনমোহন সিং হেলিকপ্টারে করে আসলেন কিন্তু দক্ষিণ উপত্যকার মানুষের এত যে কষ্ট, তা দেখার তাঁদের সময় কই? মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ সরকার যদি শিলচর-গুয়াহাটি নতুন বিকল্প মোটর-সড়ক শিলচর-হায়েঙ্গাজাও-তুরুক-গুয়াহাটি এই পথে একটি ছোট অংশে মাত্র ৪০ কিমি পথ সকল মরসুমে চলার উপযোগী মোটর-সড়ক নির্মাণ করে দেন তাহলে অতি কম সময়ে কম ভাড়ায় ‍‌শিলচর-গুয়াহাটি যাতায়াত করা যাবে—সাধারণ মানুষ বিপদ থেকে মুক্তি পাবেন। কিন্তু গগৈ মহাশয় বরাক উপত্যকার বৃহত্তর স্বার্থে একটি ছোট কাজ করে দিতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। যদিও বরাক উপত্যকা থেকে শাসকদলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রায়ই জোর দিয়ে বলেন মুখ্যমন্ত্রী বরাকের উন্নয়নে ভীষণ আগ্রহান্বিত। তাই যদি হয় তাহলে জনগণের প্রশ্ন মাত্র ৪০ কিমি পথ নির্মাণ করে দিতে মুখ্যমন্ত্রীর আগ্রহ নেই কেন? বাধা কোথায়? না মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছার অভাব?

    বরাকবাসী নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও বর্তমানে মুখ্যসমস্যা হিসেবে শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ নির্মাণ প্রকল্প ও শিলচর-সৌরাষ্ট্র মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প রূপায়ণ শেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে আছেন।

    ব্রিটিশ আমল থেকেই লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনে প্রায় বর্ষাকালে ধস নেমে রেল চলাচল বন্ধ হয়। তবে কেন কেন্দ্রীয় সরকার বর্ষায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পথেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ভারতের অন্য অংশের সঙ্গে যাতায়াতের জন্য বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মণিপুর রাজ্যের একাংশের জীবনরেখা স্বরূপ শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ নির্মাণ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে সর্বনাশের পথে হাঁটছে—কেন?

    একসময় কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার বদরপুর-লামডিং পাহাড় লাইনে রেলযাত্রীদের চরম দুর্দশা থেকে মুক্তি দেবার উদ্দেশ্যে যাত্রীদের কম দূরত্বে, কম সময়ে, কম ভাড়ায়, কম ঝামেলামুক্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের লক্ষ্যে অর্থাৎ বরাক উপত্যকা থেকে রেলযাত্রী যাতে অতি কম সময়ে গুয়াহাটি পৌঁছাতে পারে তার জন্য লঙ্কা-শিলচর রেল লাইনের সার্ভে সম্পূর্ণ করেছিল। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো চক্রের পাল্লায় পড়ে লঙ্কা-শিলচর রেলপথকে অবজ্ঞা করে বিপদসঙ্কুল লামডিং-শিলচর ব্রডগেজ নির্মাণ প্রকল্প মঞ্জুর করে বরাক-ত্রিপুরার রেলযাত্রীদের সর্বনাশ করার ঝুঁকি নিল। আসলে বাস্তব অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রের কিছু কর্তা দিল্লিতে শীতাতপ নি‌য়ন্ত্রিত কক্ষে আরামে বসে শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ প্রকল্পের শিশুসুলভ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেললেন এতে ভবিষ্যতে বরাক উপত্যকা-মিজোরাম-ত্রিপুরার রেলযাত্রীগণের এবার পাহাড় লাইনের যাত্রীকষ্টের মতো ব্রডগেজ রেলযাত্রীদের নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে; এমনকি প্রাণও হারাতে হতে পারে সেজন্য কিন্তু সম্পূর্ণ আসামীর কাঠগড়ায় থাকতে হবে কেন্দ্রীয় সরকার ও ভারতীয় রেলকে।

    উল্লেখ্য দিল্লি পার্লামেন্টে যখন শিলচর-লামডিং বিজি প্রকল্প ঘোষণা হয় তখন পার্লামেন্টে শিলচর শহরের দুই ব্যক্তি এক সন্তোষমোহন দেব ত্রিপুরার নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে পার্লামেন্টে ছিলেন। অপর ব্যক্তি বি জে পি-র কবীন্দ্র পুরকায়স্থ শিলচর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সময় বরাক উপত্যকা ও ত্রিপুরার স্বার্থে পার্লামেন্টে জোরালো ভাষায় বলা উচিত ছিল ১ নম্বর—গুয়াহাটি থেকে শিলচর মিটারগেজ লাইন বহাল রেখে বি-জি গেজ পরিবর্তনের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তাহলে এখনও শিলচর থেকে এবং আগরতলা থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত মিটারগেজ থ্রু ট্রেনে যাত্রীগণ চলতে পারতেন। ২ নম্বর হলো বরাক উপত্যকার বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এম পি সন্তোষবাবু এবং এম পি কবীন্দ্রবাবু দ্বৈতকণ্ঠে যদি প্রতিবাদ করতে পারতেন নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ বিপদসঙ্কুল লামডিং-শিলচর পথে নয়, বিপদমুক্ত লঙ্কা-শিলচর ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করতে হবে তাহলে হয়তো কেন্দ্রীয় সরকার নতুন করে ভাবতো।

    বরাক উপত্যকার জনগণের দুঃখ শিলচরের দুই ব্যক্তি পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে নিশ্চুপ ছিলেন। ত্রিপুরা-বরাক উপত্যকার স্বার্থে এই দুটি পয়েন্ট নিয়ে পার্লামেন্টে যদি মুখ খুলতেন তাহলে ব্রডগেজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত থ্রু ট্রেনে যেমন গুয়াহাটি যাতায়াত করা যেত এবং তার চেয়েও বড় কথা লামডিং-শিলচর ব্রডগেজ নির্মাণ করতে যত জটিলতা সৃষ্টি হয়ে কাজ বিলম্ব হচ্ছে তা না করে যদি লঙ্কা-শিলচর বি-জি প্রকল্প মঞ্জুর করা হলো অনেক আগেই আগরতলা-শিলচর ব্রডগেজ রেলসেবা চালু হয়ে যেতে পারতো। আসলে সময়মতো এম পি-রা পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মুখ না খোলার জন্যই আমাদের যতসব দুর্ভোগ ভুগতে হচ্ছে। অথচ আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো পার্লামেন্টে কথা না বলা এম পি-গণই পালা বদল করে বার বার নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ধন্য! বরাক উপত্যকা ধন্য!

    ১৯৯৬ সাল থেকে ৩৮৪৬ কোটি টাকার গেজ পরিবর্তন শুরু হলেও এমনকি শিলচর-লামডিং বিজি লাইন নির্মাণে গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রকল্প হিসাবে ঘোষণা করার পরও কি অদৃশ্য কারণে ২০১২ সাল অবধি দীর্ঘ ১৬ বছরেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশের বেশি হলো না কেন? অথচ গভীরভাবে ভাববার বিষয় হলো দেশের প্রধানমন্ত্রীর এক সময়েই শিলচর-লামডিং বিজি প্রকল্প এবং ত্রিপুরার কুমারঘাট-আগরতলা রেল প্রকল্প ঘোষণা করে একই সময়কালে প্রকল্প সম্পূর্ণ করে রেলসেবা চালু করার কথা ছিল। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে নির্দিষ্ট সময়কালে রেল প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করে আগরতলা পর্যন্ত ট্রেন চালু হলো। আর আসামের কংগ্রেস সরকারের রাজত্বে শিলচর-লামডিং বিজি প্রকল্প রূপায়ণ এখনও বিশবাঁও জলে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো একই উত্তরপূর্ব রেলওয়ে সময়মতো কুমারঘাট-আগরতলা রেল প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারে অথচ লামডিং-শিলচর বিজি রেল নির্মাণ সময়মতো শেষ করতে না পারার গভীরে কি আছে দেখা প্রয়োজন।

    শিলচর বি-জি প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণ করতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রকল্প হিসাবে ঘোষণা করার পর বলা হলো ২০০৯ সালে শিলচর-লামডিং বি-জি প্রকল্প উদ্বোধন হবে। এই ঘোষণায় বরাকবাসী আনন্দ পেলেন। কিন্তু পরিহাস এমনই হলো ২০০৯-এ তো উদ্বোধন হলোই না উলটো বছরের পর বছর ধরে উদ্বোধনের সময়সীমা বৃদ্ধি হয়েই যাচ্ছে। মধ্যে এন এফ রেলের জেনারেল ম্যানেজার দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলেন ২০১৪ সালে শুভ নববর্ষে বরাকবাসীকে ব্রডগেজ রেল উদ্বোধনের মাধ্যমে উপহার দেবেন। বিলম্ব হলেও বরাকবাসী এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন। হায়! জেনারেল ম্যানেজারের এই গালভরা ঘোষণাকে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবন সিং ঘাটোয়ার গুড়ে বালি করে দিলেন। কিছুদিন হলো মন্ত্রী ঘাটোয়ার মহাশয় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ২০১৪ সনে শিলচরে বি-জি উদ্বোধন বাস্তবে সম্ভব হবে না। এখন বিষয়টি নলতল হয়ে গেল।

    নলতল কেনইবা হবে না? প্রথমত, আসামের কংগ্রেস সরকার এন সি হিলে ব্রডগেজ কাজে কর্মরত কর্মীগণকে সন্ত্রাসবাদী হামলা থে‍কে নিরাপত্তা দিতে প্রথম অবস্থায় আগ্রহ দেখায়নি।

    দ্বিতীয়ত, বি-জি কাজকে ত্বরান্বিত করতে এই লাইনের যে অংশ জমি ফরেস্ট বিভাগের সেই জমির এন ও সি ফরেস্ট বিভাগ থেকে বের করে রেল দপ্তরকে সমঝে দিতে বছরের পর বছর আসাম সরকার ব্যর্থ। লজ্জার সীমা নেই!

    তৃতীয়ত, বি-জি লাইন তৈরি করার অনুপযুক্ত এই পথে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    আসলে বি-জি নির্মাণে যত বিলম্ব, মোটর লবির তত লাভ।

    যা হোক নানা ব্যর্থতা সত্ত্বেও শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ প্রকল্প রূপায়ণ করতে যদিও দীর্ঘ বহু বছর চলে গেছে। এ সত্ত্বেও প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে এখনও যে ৪০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। জনগণ আশা করেন প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ তৎপর হবে। যার ভিতর দিয়ে দক্ষিণ আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মণিপুর রাজ্যের জিরিবাম অঞ্চলের জনগণ ব্রডগেজ রেলের সুফল ভোগ করতে বিশেষ আগ্রহ নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকবেন। ভারতীয় রেলের মানচিত্রে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে রেলের যুগান্তকারী পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকবেন।

    আর সর্বশেষ বিষয় হলো ভারতের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভিজ্ঞ মহলের সুচিন্তিত অভিমত হচ্ছে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রেলযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার লক্ষ্যে ভারতীয় রেলকে অতি অবশ্যই লঙ্কা-শিলচর বিপদমুক্ত সহজ বি-জি রেলপথ প্রকল্প মঞ্জুর করার বিষয়টি আজ হোক কাল হোক গুরুত্ব দিয়ে ভাবতেই হবে। এবং তখন লামডিং-শিলচর প্রকল্পকে এন সি হিলের জনগণ লিঙ্ক লাইন হিসাবে কাজে লাগাবেন।

Advertisements

Tags: , , , , , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: