Munificent Mamata

প্রকৃত উন্নয়ন কোথায়?

     আইন বা সংবিধানে কি লেখা আছে জানার বা বোঝার দরকার নেই, কেউ সৎ পরামর্শ দিলেও শোনার প্রয়োজন নেই। হাতে যখন ক্ষমতা তখন যা ইচ্ছে হবে, তাই করা যাবে। এমন একটা দৃষ্টিভঙ্গির অনুগামী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। এদের কারও কার‍‌ও মনোভাব এমন, তারা যা করবেন বা বলবেন যেন সেটাই আইন। তাই দলনেত্রী মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সিঙ্গুরের জমি ফেরত দেবার জন্য আইন করে ফেললেন। অনেকে তখন তাকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর দলের মধ্যে থেকেই অনেকে তড়িঘড়ি করতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এখন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে ঐ আইন সংবিধান-বিরোধী। তাতেও বোধোদয় হয়নি। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হবে। মদে বিষক্রিয়ায় মারা যান অনেক লোক। নেত্রী তৎক্ষণাৎ ঘোষণা করে দিলেন মৃতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করা হলো না। এখন হাইকোর্ট এর বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

    রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরকার যেন দাতাকর্ণ সাজতে চাইছে। সারা বছর দানধ্যানেই মেতে আছে সরকার। লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন। নিজেদের পকেট থেকে তো যাচ্ছে না। সরকারের টাকা মানে জনগণের টাকা হরিলুটের মতো বিলি করতে ক্ষতি কি? সরকারের টাকা মানে মানুষের দেয় কর। প্রশ্ন উঠছে মানুষ সরকারকে কর দেয় কি হরিলুটের জন্য? মন্ত্রীরা যেন ওঁত পেতে আছেন। কোথায় কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর এলেই ক্ষতিপূরণের ঘোষণা হয়ে যায়। এছাড়া দান-খয়রাতি ও পুরস্কারের নামে বিলি হচ্ছে অঢেল অর্থ। কয়েক শত ক্লাবকে দান করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। তার বেশিরভাগের অস্তিত্বই প্রায় নেই।

    সমাজের প্রায় সব অংশ থেকে বাছাই করা লোকদের পুরস্কার বা সম্মানের নামে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। মসজিদের ধর্মীয় লোকদের মাসোহারার ব্যবস্থা হয়েছে। আর এসবের জন্য ঘটা করে অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে। তারজন্যও খরচ হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার যেন টাকা বিলিয়ে মানুষের মন পেতে চাইছে বা সমর্থন কিনতে চাইছে। অতীতে অনেক রাজা মহারাজা, জমিদার ও বড়লোকরা যেমন দানধ্যান করে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা করতো, এখন তৃণমূল সরকারও নতুন কায়দায় প্রকৃত উন্নয়নের ব্যর্থতা ঢাকতে দানধ্যানের পথ বেছে নিয়েছে। অসহায় মানুষকে সাহায্য করা, সম্মানীয় মানুষকে সম্মান জানানোয় অন্যায় কিছু নেই। কিন্তু এটাই যদি সরকারে প্রধান কাজ হয়ে যায় তাহলেই বিপদ। সরকারের পরিকল্পনা খাতে বাজেট বরাদ্দই আসলে উন্নয়নের উৎস। কিন্তু এই সরকার বাজেটে লুকোচুরি করে বরাদ্দের প্রকৃত চেহারাটা আড়ালে রাখছে। তাই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন না যে পরিকল্পনা নয়, পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতে ব্যয়ের দিকেই সরকারের নজর বেশি। মনে রাখা দরকার যে সরকারের নজর দেওয়া উচিত মৌলিক উন্নয়নের দিকে, যাতে পরিকল্পনা খাতে সর্বাধিক অর্থ ব্যয় হয়। এই সরকার চলছে ঠিক উলটো পথে। মুখেই শুধু প্যাকেজ প্রতিশ্রুতির প্লাবন হচ্ছে। বাস্তবে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।

    গত এক বছরে নতুন করে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টির কাজ একটুও এগোয়নি। যেটুকু হয়েছে সেটা আগের সরকারের কাজের অনুসরণ। রাজ্যবাসীকে এর মূল্য দিতে হবে কিছুকাল পর থেকে।

Advertisements

Tags: , , , , , , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: