Job Status in Trinamool Rule

 

কাজ নেই

বিরোধী দলের কথা শোনার তো প্রশ্নই ওঠে না। পছন্দ না হলে বিচারপতি বা বণিকসভা কারোর কথাই মানতে রাজি নয় রাজ্যের প্রধান শাসকদল। দেশের বড় বণিক সংগঠন অ্যাসোচেম তাদের সমীক্ষা রিপোর্টে জানিয়েছে, বড় শহরগুলির তুলনায় কর্মসংস্থানে পিছিয়ে রয়েছে কলকাতা মহানগরী। রাজ্য সরকার অবশ্য সেই সমীক্ষা রিপোর্টকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, এই বক্তব্য ভিত্তিহীন। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী এই রিপোর্টকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিলেই কি বাস্তবকে অস্বীকার করা সম্ভব? অ্যাসোচেম সম্প্রতি ‘রিপোর্ট অন জব স্ট্রেংথ অ্যাক্রস সিটিস অ্যান্ড সেক্টরস’ নামে একটি সমীক্ষা পেশ করেছে। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম তিনমাসে কলকাতায় বেসরকারী ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান কমেছে ৩৩ শতাংশ। এই তিনমাসে কলকাতায় কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৪০০ জনের। মোট ৩৫০০টি সংস্থার ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছিল অ্যাসোচেম। কর্মসংস্থানে মেট্রোপলিটন শহরগুলির মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে দিল্লি, দ্বিতীয় মুম্বাই, তৃতীয় বেঙ্গালুরু, চতুর্থ পুণে, পঞ্চম চেন্নাই এবং একেবারে শেষস্থানে রয়েছে কলকাতা। অ্যাসোচেমের সমীক্ষা অনুসারে দিল্লিতে এই তিনমাসে ২৯ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। সারা দেশে এই তিনমাসে কর্মসংস্থানের সংখ্যা দেড় লক্ষ। অথচ রাজ্য সরকারের দাবি হলো, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই নাকি ১ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে একটি মাত্র বড় শহর হলো কলকাতা। ফলে পরিষেবা-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সব থেকে বেশি কলকাতায়। কেননা উৎপাদন ক্ষেত্রে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বললেই চলে। গত ১৫ মাসে বিনিয়োগ আসেনি। পশ্চিমবঙ্গের কোথাও কোনো বড় বা মাঝারি শিল্প উৎপাদন সংস্থা চালু হয়নি। কলকাতায় যেখানে কর্মসংস্থানের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, সেখানে গোটা রাজ্যে কীভাবে লক্ষাধিক চাকরি হতে পারে? রাজ্য সরকারের নিজস্ব নিয়োগও এই সময়ের মধ্যে হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় ‍‌গিয়ে সরকারী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তা বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াতেও সরকার দেরি করেছে এবং বেনিয়মের ঘটনা ঘটিয়েছে। শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকারের মনোভাব অত্যন্ত নেতিবাচক। গত ১৫ মাসে পরিকাঠামো উন্নয়ন ঘটছে না। রাজ্যের মধ্যে সংযোগকারী জাতীয় সড়ক তৈরির কাজ পিছিয়ে গেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারী সংস্থা এন টি পি সি এবং বেসরকারী সংস্থা লারসেন অ্যান্ড ট্যুবরো দু’জনেই অসুবিধার মধ্যে। সড়ক এবং বিদ্যুতের মতো পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ না হলে শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কমতে বাধ্য। পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আসা বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলিই আটকে গেছে। নতুন বিনিয়োগের সুযোগই আসেনি।

সিঙ্গুর সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আরও জটিল হয়েছে। এইসঙ্গে তৃণমূল শাসনে পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির ফলে বিনিয়োগে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক মন্দার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। সেই প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গের ওপর পড়ছে। তার ওপর বর্তমান রাজ্য সরকারের মনোভাব এবং কাজ তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানে বাধা সৃষ্টি করছে। সেই বাস্তব সত্যই উঠে এসেছে অ্যাসোচেমের রিপোর্টে।

প্রতিশ্রুতির বন্যা এবং অসত্য দাবির সাহায্যে এই বাস্তবকে আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার।

Advertisements

Tags: , , , , , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: