ও আলোর পথযাত্রী… Dhaka’s Protesters Demand Capital Punishment for 1971 War Criminals

shabag

‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রি এখানে থেমো না/এ বালুচরে আশার তরণী তোমার যেন বেঁধো না/আমি শ্রান্ত যে, তবু হাল ধর/আমি রিক্ত যে, সেই সান্ত্বনা, তব ছিন্ন পালে জয় পতাকা তুলে,/সূর্য তোরণ দাও হানা।’ এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য! প্রজ্বলিত শিখার আলোয় আলোকিত শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের বিস্তৃত পরিধি। রূপসী বাংলার (শেরাটন) মোড় পেরিয়ে বাংলামটর, কাঁটাবনের পরও দেখা যায় জনস্রোত। অন্যদিকে অমর একুশে মেলার সামনের সড়ক একাকার হয়ে যায় জনতার মহাসমাগমে। যে দিকে চোখ যায় শুধু আলো আর আলো। মোমবাতির নরম আলোয় প্রতিবাদের অগ্নিশিখা। মুহূর্তেই সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। শহর থেকে বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র জনতার হাতে হাতে জ্বলে ওঠে নবচেতনার প্রদীপ। প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণে আলোর মিছিল হয়ে একাত্ম হয় জাতি। বৃহস্পতিবারের দিনটিও ছিল ভালোবাসার দিন। দেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের হত্যাকারী রাজাকার, আলবদরদের ফাঁসির দাবিতে এ বহ্নিশিখার প্রজ্বালন করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের হাতে শহীদ হওয়া বাংলা মায়ের দামাল ছেলেদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতেই ছিল এ উদ্যোগ। নীরবতার শক্তির পর এবার বিশ্ব দেখেছে নতুন আলোর শক্তি। এ আলো নিভবে না।

সলিল চৌধুরীর বিখ্যাত সেই গান, যা মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডোদের হামলার চূড়ান্ত সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, নতুন প্রজন্মের সেই ‘আলোর পথযাত্রী’রা সত্যিই রাত্রিতে কোনো বালুচরে আশার তরণী বাঁধেনি। ১০ দিনের টানা আন্দোলনে শ্রান্ত হয়েও তারা হাল ধরেছে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে এক পতাকা তলে। প্রজন্ম চত্বরের লাখো নবপ্রাণে জেগেছে আন্দোলনের নতুন স্পন্দন। দাবি একটাই, ‘রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ চাই, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই।’

আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় গণজাগরণ মঞ্চে ‘জাগরণ সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেওয়ার জন্য দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

যে আলো ছড়িয়ে গেল সবখানে :

ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যা ৭টা। প্রজন্ম চত্বরের চারপাশে লাখ লাখ মানুষ। সবার হাতে মোমবাতি। আলোয় উদ্ভাসিত শাহবাগের বিস্তৃত চত্বর। সন্ধ্যা ৭টায় আলোর পথের যাত্রীরা মোমবাতির শিখা হাতে রাজাকারমুক্ত নতুন বাংলাদেশের চেতনা ছড়িয়ে দিল। অন্ধকার ঠেলে মোম শিখায় জ্বলে উঠল দেশ। সেই সঙ্গে এক মিনিটের নীরবতায় থমকে গেল সব কোলাহল। শিবিরের তাণ্ডবের শিকার শহীদ জাফরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।

পরে নীরবতা ভেঙে ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ গানটি গেয়ে শোনান বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব শিমূল ইউসুফ। উপস্থিত লাখো কণ্ঠ সুর মেলায় সেই গানে। এ সময় মঞ্চে ছিলেন মুনতাসীর মামুন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, মান্নান হীরা, মোমেনা চৌধুরী, অঞ্জন রায়, জ্যোতিকা জ্যোতিসহ আরও অনেকে।

মোমবাতি প্রজ্বালন শেষে গতকাল জাগরণ মঞ্চ থেকে আবারও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় জাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পাড়া-মহল্লায় এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যারা আন্দোলন করছেন তাদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বলা হয়, ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনী বিলটি আগামী রোববার সংসদে পাস হতে পারে। এছাড়া আরও পাঁচটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে — জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা, জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয়করণ, দালাল আইনে অভিযুক্তদের ফের বিচার করা, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং সংবিধান সংশোধন করে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা।

আলোকের ঝর্ণাধারা :

শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আলোকচ্ছটা একই সময়ে রাজধানী ঢাকার অন্যান্য স্থানসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে মোমবাতি হাতে এ কর্মসূচিতে শামিল হন। মহাজোটের এমপিরা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। এজন্য অধিবেশনের মাগরিবের নামাজের বিরতি দীর্ঘায়িত করে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত করা হয়। এমপি, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্মরত সাংবাদিকরাও মোমবাতি জ্বালিয়ে সংহতি জানান। ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সবাই এ সময় স্লোগান তোলেন — জয় বাংলা; তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা মেঘনা যমুনা। মহাখালী, মিরপুর, মতিঝিল, মালিবাগ, এলিফ্যান্ট রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা ৭টায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এসে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যান মোমবাতি জ্বালিয়ে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের খেলা থামিয়ে স্টেডিয়ামে মোমের আলো জ্বালান ক্রিকেট তারকা, দর্শক সবাই। ওই সময় মোমের আলোয় জেগে ওঠে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। খেলা শুরুর আগে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ও চিটাগাং কিংসের ক্রিকেটাররা মাঠে মোমবাতি জ্বালিয়ে শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক, বিসিবি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আম্পায়াররাও এ কর্মসূচিতে একাত্ম হন। একইভাবে প্রজ্বলিত শিখায় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানানো হয় জেলায় জেলায়। সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে প্রদীপ প্রজ্বালন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।

দিনভর প্রজন্ম চত্বর :

এর আগে প্রজন্ম চত্বরে টানা আন্দোলনের দশম দিনে বৃহস্পতিবার সকালে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ — জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। ভালোবাসা দিবসে প্রজন্ম চত্বরে এসে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে শাহবাগে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামীম আহমেদ সমকালকে বলেন, ভালোবাসা দিবসে তিনি ছুটি নিয়ে সংহতি জানাতে এসেছেন। দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসা তাকে মুগ্ধ করেছে। তাই তিনি এসেছেন নবপ্রজন্মকে তার ভালোবাসা জানাতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী তাবাসসুম হাসান মৌ বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসে একটাই চাওয়া, সেটা হলো – রাজাকারদের ফাঁসি।’

গতকাল অন্যদিনগুলোর মতো দিনভর শাহবাগে ছিল স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি। ইস্পাহানি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকালে একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগে আসেন। কলেজের অধ্যাপিকা শাহেদা বেগম বলেন, ‘ভালোবাসার দিনে এখানে আসার একটিই কারণ, আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি।’

নরসিংদী জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাদেকুর রহমান সাদেক গণজাগরণ মঞ্চে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, ‘৭১-এ তরুণ বয়সে পাকহানাদারদের হত্যা করেছি। আর গতকাল বৃদ্ধ বয়সে এসেও দুই শিবির ক্যাডারকে ধরে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছি। চেতনা এখনও আগের মতোই আছে।’

দুপুরে মুন্সীগঞ্জ থেকে এসে হাজির হন একাত্তরের বীরাঙ্গনা রওশন আরা। তিনি যুদ্ধে আহতও হয়েছিলেন। গণজাগরণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বললেন, ‘একাত্তরে রাজাকাররা আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। আমাকে ধরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। আমি তার কোনো বিচার পাইনি। আমি অনেক জায়গায় এর বিচার চেয়েছিলাম। কেউ আমার কথা শোনেনি। তাই আজ এই গণজাগরণের প্রতিবাদী জনতার কাছে বিচার দিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে আজ এতিম। আমার বোনের স্বামী ছিল রাজাকার। সে আমাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। রাজাকারের বিচার এই বাংলার মাটিতে হতে হবে। যে সব রাজাকার এখনও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে, তাদের গ্রেফতার করতে হবে। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না, ওরা বাংলার শত্রু।’

দুপুর ২টার দিকে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে উপস্থিত হন ‘স্লোগান মাস্টার’ ‘অগি্নকন্যা’ খ্যাত লাকী আক্তার। মাইকে লাকীর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জনতা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানায়। লাকী কিছুক্ষণ স্লোগান দেন। তার স্লোগানে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে উপস্থিত ছাত্র-জনতা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সকালে শাহবাগে গিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানান। দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে শেষ হয়ে যাইনি, তা তরুণেরা আবার দেখাল।’ দুপুরের দিকে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা শাহবাগে যান সংহতি জানাতে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরে সুর মেলাতে এসেছি।’ মঞ্চে সুবর্ণা আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগানগুলো দিলে তার সঙ্গে হাজারো ছাত্র-জনতা কণ্ঠ মেলায়। তার স্বামী নাট্যকার ও নাট্যপরিচালক বদরুল আনাম সৌদ ও কণ্ঠশিল্পী হায়দার হোসেন দাঁড়ান আন্দোলনকারীদের পাশে। হায়দার হোসেন ‘বিচারপতি বিচার করো, সত্য ন্যায়ের বিচার চাই’ প্রতিবাদী গান গেয়ে শোনান। তার সঙ্গে হাজারো কণ্ঠ একসঙ্গে গেয়ে ওঠে।

তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন সাবেক ছাত্র নেতারা। বিকেল সাড়ে ৪টায় তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে প্রজন্ম চত্বরে আসেন। এ সময় শহীদ নূর হোসেনের ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্লোগান দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আনোয়ারুল হক, ডা. মোশতাক, রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না ও রুহিন হোসেন প্রিন্স।

বৃহস্পতিবার দিনভর আরও সংহতি প্রকাশ করতে এসেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন আহমদ, খ্যাতনামা মহাকাশ বিজ্ঞানী এফ আর সরকার, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন, সাবেক ফুটবলারদের সংগঠন সোনালী অতীত ক্লাব, বাংলাদেশ ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন, প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট দলের সংগঠন খেলাঘর সমাজকল্যাণ সংঘ, শিল্পী আরিফ রহমান, সমাজসেবক আমীরুল হক আমীর, এনামুল হক আবীরসহ আরও অনেকে। গ্রিস, জার্মানি ও বোস্টন প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি দলও এসে সংহতি প্রকাশ করেন।

লাকীর জন্য কবিতা :

আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসে ‘অগ্নিকন্যা’ লাকী আক্তারের জন্য কবিতা আবৃত্তি করেছেন সাদিয়া জামান ফাতিমা শিখা নামের এক নারী মুক্তিযোদ্ধা। দুপুর ২টায় গণজাগরণ মঞ্চে তিনি ‘বসন্ত দিনের স্বপ্নকুমারী’ নামের কবিতাটি আবৃত্তি করেন। কবিতাটি তিনি নিজেই লিখেছেন। কবিতা আবৃত্তির আগে তিনি বলেন, ‘লাকী আক্তার এই সময়ের অগ্নিকন্যা। তার স্লোগানে জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। লাকী আমাদের অহঙ্কার।’

রাজাকার ঝাঁটাপেটা করতে ৪০ ফুট ঝাড়ূ :

রাজাকারদের ঝাঁটাপেটা করতে ৪০ ফুট লম্বা ঝাড়ূ স্থান পেয়েছে গণজাগরণ চত্বরে। চারুকলার সামনে বিশাল আকারের এ ঝাড়ুটি শোভা পাচ্ছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে ঝাড়ূটি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। বিশাল আকারের ঝাড়ূটি ল্যাম্পপোস্ট ছাড়িয়ে আকাশের দিকে উঁকি দিচ্ছে। ঝাড়ূর এক অংশে লেখা রয়েছে, ‘মঙ্গল আনো দেশের-দশের, রাজাকারের গুষ্টি ধরে জোরে জোরে ঝাঁটা মারো।’ রাজাকার পেটানোর জন্য বিশাল আকারের ঝাড়ূটিতে রয়েছে নানা নান্দনিকতাও। এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে ঝাড়ূটি। সবাই বলছেন, প্রতিবাদের এ ভিন্নতা গণজাগরণকে আরও প্রাণসঞ্চার করবে।

স্লোগানের বিরাম নেই:

প্রজন্ম চত্বরে হরেক সুরে ধ্বনিত হচ্ছে রাজাকারদের বিরুদ্ধে ঘৃণা। সম্মিলিত কণ্ঠের জোরালো স্লোগানের প্রতিটি যেন বিদ্রোহের এক এক হুঙ্কার। ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘সাম্প্রদায়িকতার আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা, পাকিস্তানেই ফিরে যা’, ‘বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের ঠাঁই নাই’, ‘আর কোনো দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’, ‘জামায়াতে ইসলাম, মেড ইন পাকিস্তান’, ‘জয় বাংলা’_ এসব স্লোগানে মুখরিত শাহবাগ চত্বর। সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’সহ প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন স্লোগান।

আন্দোলনের সময়সীমা :

এই আন্দোলন আর কত দিন এবং কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ব্লগাররা বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে ব্যস্ততম শাহবাগ মোড় বন্ধ থাকায় নগরের যানজটের বিষয়টি মাথায় রেখেই এ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তারা। একাধিক আয়োজক বলেন, বিষয়টি এখন আর আয়োজকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা জনগণের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় আন্দোলন কত দিন চলবে, এমন সীমা বেঁধে দিলে মানুষের মধ্যে কী কী প্রতিক্রিয়া হয়, তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।

আন্দোলনের আয়োজক ব্লগার অ্যান্ড ফেসবুক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনে কিছু কিছু বিজয় এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে। আমরা চাই, সাধারণ মানুষ যে লক্ষ্য নিয়ে এ আন্দোলনে নেমেছেন, সেই দাবি পূরণ হোক। তাহলে বলা যাবে চূড়ান্ত বিজয় হয়েছে।’ আর কত দিন এ আন্দোলন চলবে — এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনে আছেন। তারা স্বেচ্ছায় শাহবাগে আসছেন। তারা মনে করছেন, এ আন্দোলন বন্ধ হলে লক্ষ্য পূরণ না-ও হতে পারে। এই আন্দোলন কত দিন চলবে, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।’

সমকাল পরিবারের মোমবাতি প্রজ্বলন :

সন্ধ্যা ৭টায় সমকাল পরিবারও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তেজগাঁও কার্যালয়ের সামনে মোমবাতি হাতে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে শাহবাগের গণজাগরণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন সমকালের ঢাকার কর্মীরা

সৌজন্যেঃ সমকাল

Advertisements

Tags: , , , , , , , ,

One Response to “ও আলোর পথযাত্রী… Dhaka’s Protesters Demand Capital Punishment for 1971 War Criminals”

  1. ashok chaudhury Says:

    After 1971,the youths of Bangladesh are once united to realize their legitimte demands including hanging of war criminals of 1971.We salute to their endeavour.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: