Is Mamata a Fascist?

ফ্যাসিবাদের অপচ্ছায়া

প্রভাত পট্টনায়েক

ফ্যাসিবাদের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত যে কোন ব্যক্তির পক্ষেই নরেন্দ্র মোদীকে একজন ফ্যাসিবাদীরূপে অভিহিত করা এবং মোদী পরিচালিত বি জে পি ঢক্কানিনাদকে স্বাধীনোত্তর ভারতে প্রথম ফ্যাসিবাদী দখলদারির এক নির্লজ্জ অপচেষ্টারূপে চিহ্নিত করা আদৌ কষ্টকর নয়। গুজরাটে ২০০২ সালের মুসলিম-বিরোধী সুসংগঠিত হত্যালীলা ও লুণ্ঠনের প্রধান কারিগরই ছিলেন মোদী। তিনি এসেছেন সেই আর এস এস-র বাহিনী থেকে, যে আর এস এস-র কেন্দ্রীয় লক্ষ্যই হলো অনস্বীকার্যভাবে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও নিঃসন্দেহে সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী। অধিকন্তু, লগ্নিপুঁজির শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছেন এবং তাদের অ্যাজেন্ডাকেই তিনি খোলাখুলি অগ্রাধিকার দিয়েছেন যা কিনা এক ফ্যাসিবাদী জমানার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

নয়‌া উদারনীতির মানবিক মুখ?

ফ্যাসিবাদ একচেটিয়া পুঁজিবিরোধী বাগাড়ম্বরসহ এক পেটি বুর্জোয়া আন্দোলনরূপে শুরু হলেও ক্রমশ সেই অগ্রগণ্য পুঁজিপতিদের সঙ্গে সংহতি গড়ে তোলে (এবং তাদের অর্থে পুষ্ট হয়), যারা এই আন্দোলনকে অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর প্রতিবন্ধকতাহীন কর্তৃত্ব কায়েম করার এক যন্ত্ররূপে খুঁজে পায়। (জর্জি ডিমিট্রভ তাঁর ‘দ্য ইউনাইটেড ফ্রন্ট’ গ্রন্থে বস্তুতপক্ষে এই ঘটনাকেই ‘‘লগ্নিপুঁজির সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল এবং সবচেয়ে হিংস্র প্রতিহিংসাপরায়ণ অংশের প্রকাশ্য সন্ত্রাসবাদী একনায়কতন্ত্র’’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।) মোদী বর্তমানে সেই পর্যায়ে বিরাজ করছেন, লগ্নিপুঁজির অগ্রগণ্য অংশ এবং কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমের সহায়তায় নিজেকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীরূপে জাহির করছেন এবং তাঁর উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে মার্কিন এবং ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সংহতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির সম্মতি আদায়ের জন্যও সচেষ্ট রয়েছেন।

তিনি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এফ ডি আই-র সমর্থক, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বেসরকারীকরণের প্রবক্তা। তথাকথিত যে ‘‘উন্নয়নের গুজরাট মডেল’’-র তিনি উৎসাহদাতা, তা কিন্তু সাধারণ জনগণের উন্নয়নের জন্য কোনও উৎকণ্ঠা থেকে নিঃসৃত নয় (মানবোন্নয়নের প্রায় সবকটি মাপকঠিতেই গুজরাট অন্যান্য রাজ্যগুলির তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে), বরং তা পরিচালিত হচ্ছে যা-খুশি-তাই করার জন্য কর্পোরেটদের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার দ্বারা। এ হলো কোন প্রকার মানবিক মুখের ভণ্ডামি রহিত নয়া উদারনীতি।

প্রকারান্তরে একথা বলা যায়, ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞাস্বরূপ দু’টি মূলশর্ত তিনি পূরণ করছেন। এক : তার ‘শ্রেণী চরিত্র’, যা কিনা তার পেটি বুর্জোয়া উৎস সত্ত্বেও আগ্রাসীভাবে কর্পোরেটদের অনুসারী। দুই : তার ‘গণ-চরিত্র’, যার উৎস হলো উগ্র ‘জাতীয়তাবাদ’, উৎকট জাত্যভিমান, জাতি-বিদ্বেষ এবং কিছু দুর্ভাগা সংখ্যালঘুকে জনগণের সমস্ত দুর্দশার কারণরূপে জড়িয়ে দেওয়ার জিগির। (তাঁর ক্ষেত্রে এই ‘গণচরিত্র’-র উৎস হলো ক্ষিপ্ত হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা)।

যেক্ষেত্রে মোদীকে ফ্যাসিবাদীদের তালিকায় স্থান দেওয়া নিয়ে তেমন কোন মতপার্থক্যের অবকাশ নেই। (একই কথা শিবসেনার বিভিন্ন বর্তমান অবতারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যদিও সম্মিলিতভাবে তারা সাম্প্রতিককালে দম হারিয়েছে)।

কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চের আর একজন বেমানান অভিনেতা মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস (টি এম সি)-কে শ্রেণীভুক্ত করার ক্ষেত্রে। নিঃসংশয়ে তিনি অন্তর থেকে একজন স্বৈরাচারী। কিন্তু তিনি কি একচেটিয়া পুঁজিপতিদের বিরোধী নন? তিনি কি বহু ব্র্যান্ডের খুচরো ব্যবসায়ে বহুজাতিকদের প্রবেশাধিকারের বিরোধিতা করেননি এবং সেই প্রশ্নে এমনকি ইউ পি এ সরকার থেকেও বেরিয়ে আসেননি? বামপন্থীদের সম্পর্কে অন্তঃস্তল থেকে ঘৃণা পোষণ করলেও তিনি বহু বিষয়ে বামপন্থীদের সুরেই কথা বলছেন এমনটা কি মনে হয় না? তাহলে কীভাবে তাঁকে একচেটিয়া পুঁজিপতিদের প্রিয়পাত্র মোদীর সঙ্গে একই আসনে স্থান দেওয়া যায়?

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্যাসিবাদ একচেটিয়া পুঁজিবিরোধী এক আন্দোলন রূপেই তার যাত্রা শুরু করেছিলো। নিজের মূল বাগাড়ম্বরের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা এবং নিজের বাহিনীকে নির্মমভাবে নিধন করেই একচেটিয়া পুঁজির দিকে তার পক্ষ পরিবর্তন ঘটেছে। জার্মানির ক্ষেত্রে এই নিধনযজ্ঞ ছিলো হিটলারের একদা ঘনিষ্ঠতম বন্ধু ও সহযোগী আর্নস্ট রোহম এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন এস এ বাহিনী (নাৎসি ঝটিকা বাহিনী)-র বিরুদ্ধে ‘নাইট অব লং নাইভ্‌স’ নামে কুখ্যাত সময়কালে। এই বিশ্বাসঘাতকতাটা ঘটেছিলো সেই সময়কালে যখন নাৎসিরা জাতীয় রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করেছিলো, যখন বিরোধী অবস্থানে থাকাকালে যে মূল পুঁজিবাদ-বিরোধী বাগাড়ম্বর তাদের যথেষ্ট সাহায্য করেছে তাকেই ক্ষমতা দখলের অর্থ জোগানদার লগ্নিপুঁজির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার স্বার্থে বিসর্জন দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলো এবং যখন তাদের ক্ষমতায় আসতে সাহায্যকারী জার্মান সেনাবাহিনীর সমর্থন নাৎসি পরিকল্পনাগুলির রূপায়ণের জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়লো, যে কাজে এস এ বাহিনী ছিলো অপ্রতুল।

ফ্যাসিবাদের স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে যেসব লক্ষণ

এ ধরনের কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের কোন কোন নির্দিষ্ট সময়ে পুঁজিবাদ-বিরোধী বাগাড়ম্বর তাই স্বতঃসিদ্ধভাবে তেমন প্রণিধানযোগ্য নয়। মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর টি এম সি-র ক্ষেত্রে অবশ্যই বেশ কিছু ফ্যাসিবাদী লক্ষণযুক্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো : এক অস্বাভাবিক স্বৈরাচারী মনোভাব, এক নির্মম বাসনা—তা কেবলমাত্র রাজনৈতিক বিরোধী বিশেষ করে কমিউনিস্টরাই নয়, গোটা নাগরিকসমাজসহ যে কোন মহল থেকেই ব্যক্ত সমস্ত প্রতিবাদের কণ্ঠরোধের জন্য কঠোর হাতে ব্যবস্থা গ্রহণের বাসনা। প্রতিবাদ এবং সেই অর্থে যেকোন সমালোচনামূলক চিন্তারই কণ্ঠরোধ করার সেই বাসনার লক্ষণ ধরা পড়ছে ছাত্রসংসদের নির্বাচন নিষিদ্ধ করার বাসনার মধ্যে, যার লক্ষ্য হলো যে ছাত্ররা সমাজের সবচেয়ে আদর্শবান, দুর্নীতিমুক্ত এবং চিন্তাশীল অংশরূপে গণ্য হয় তাদেরকে যে কোন সমালোচনামূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো : অর্থনৈতিক প্রশ্নে একদিকে পরিবর্তনপন্থী কথা বলা, একই সঙ্গে শ্রমিকশ্রেণীর সংগ্রাম, ধর্মঘট এবং অধিকারের বিরোধিতা। এ হলো এমন এক পরিবর্তন পন্থা, যাকে কেবলমাত্র দক্ষিণপন্থী পরিবর্তনপন্থা নামেই অভিহিত করা যায়। এই দক্ষিণপন্থী পরিবর্তনপন্থার চরিত্র হলো বিরোধী অবস্থানে থাকাকালীন, নিদেনপক্ষে জাতীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পূর্বেকার ফ্যাসিবাদী চরিত্র। যখন তারা এই কাজে সফল হবে, এই দক্ষিণপন্থী পরিবর্তনপন্থার বদলে দেখা দেবে লগ্নিপুঁজির পুরোধাদের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড় সংহতি। (জার্মানিতে দক্ষিণপন্থী পরিবর্তনপন্থা থেকে অগ্রগণ্য কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে আঁতাতে পরিবর্তন বিশেষভাবে তীক্ষ্ণ ছিলো, কারণ রোহমের এস এ কিছু শ্রমিক-দরদী কথা বলতো, কিছু ধর্মঘটকে সমর্থন করেছিলো এবং ধর্মঘট ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের পথ নিয়েছিলো)।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো : কেবলমাত্র জনজীবনের অধিকার নয়, এমনকি সাংবিধানিক অধিকারের প্রতিও সার্বিক অমর্যাদা। পুলিসী হেফাজতে সুদীপ্ত গুপ্ত’র মৃত্যুর ঘটনায় উচিত ছিলো জনগণের আস্থাভাজন এক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা এবং সেই তদন্তের রিপোর্ট চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের বিরত থাকাটাই উচিত ছিলো। মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক কোন বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের নির্দেশ না দেওয়া (পুলিসী হেফাজতে মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব পুলিসের হাতেই ন্যস্ত করলে তার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না), এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিসের বয়ানকেই সত্য হিসাবে তাড়াহুড়ো করে জাহির করার ঘটনা জনজীবনের অধিকারবোধকে সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করার দিকেই ইঙ্গিত দেয়।

কিন্তু এটাই সব নয়। রাজ্য সরকার স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বর্তমানে এক সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, এমনকি এই অভিযোগও উত্থাপন করেছে যে এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কমিশন সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে এই আইনী লড়াইয়ের খরচ মেটাতে সেই সরকারকেই বাধ্য করছে!

এই ঘটনা সাংবিধানিক অধিকারবোধের প্রতি এক চরম তাচ্ছিল্যেরই নিদর্শন। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে স্থাপিত একটি প্রতিষ্ঠান, স্বাভাবিকভাবেই এর নিজস্ব কোন আয় নেই, থাকা উচিতও নয়। সরকারী কোষাগার থেকেই এর খরচের দায় মেটাতে হয়। কমিশন যদি আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করে, তবে সেই আইনি খরচও সরকারকেই বহন করতে হবে, কোনও প্রশ্ন না তুলেই এবং কে তার আইনি প্রতিপক্ষ সেই প্রশ্ন বিচার না করেই। এইসব খরচ সম্পর্কে অভিযোগ তোলা কেবলমাত্র সংবিধানকে লঙ্ঘন করাই নয়, বস্তুতপক্ষে সরকারী অর্থকে রাজ্য সরকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিরূপে গণ্য করা এবং যেকোন খরচকেই রাজ্য সরকারের দয়ার দাক্ষিণ্য বিতরণ মনে করারই শামিল।

ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব বা ফ্যাসিবাদের আদি রূপ

লুম্পেন প্রলেটারিয়েতের ন্যায় আচরণ করে এরকম রাজ্য সরকারের অস্তিত্ব বলতে গেলে ভারতে এখন এক স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু সংবিধান সম্পর্কে রাজ্য সরকারের উপলব্ধিটা যদি লুম্পেন প্রলেটারিয়েতদের উপলব্ধি থেকে উন্নত না হয় এবং এই উপলব্ধিটাকেই যদি সত্য বলে প্রকাশ্যে জাহির করা হতে থাকে, তবে তা সংবিধানের উপরেই এক স্বৈরাচারী আঘাতরূপে দেখা দেয়। সংবিধানের কোন না কোন ধারা সম্পর্কে অসন্তোষ অথবা সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ উপায়ে এই ধারা পরিবর্তনের প্রচেষ্টার সুস্পষ্ট বিপরীত এই আঘাত ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো : অনেক লেখক, বিশেষ করে মার্কসবাদী ঘরানার বাইরের লেখকগণ যেরকম বলে থাকেন, একনেতা-কেন্দ্রিকতা, যা কিনা ফ্যাসিবাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যে কিনা প্রতিষ্ঠান এবং আইনের গুরুত্বকে খাটো করে এবং এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টিকে অনুমোদন করে যেখানে রাজ্যের ফ্যাসিবাদী পার্টির নিচের তলার অতিউৎসাহী যা-ইচ্ছা-তাই করনেওয়ালা কর্মীরা ভয়ঙ্কর বাড়াবাড়ি ঘটাবার সুযোগ পায়। (অনেকে নাৎসি জমানার গণহত্যার জন্য ফুয়েরার-এর প্রভাব ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানগুলির সার্বিক অবনয়নকেই দায়ী করে থাকেন)। সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গে একজন ব্যক্তির চরম কেন্দ্রিকতা প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলস্বরূপ, সুদীপ্ত গুপ্ত’র মৃত্যুর ন্যায় হৃদয়বিদারক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘নেত্রী’ যে চূড়ান্ত চিন্তাহীন ও রুচিহীন মন্তব্য করেছেন তার সাফাই গাইতে টি এম সি-র বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হতে দেখা গেছে।

এইসব প্রণিধানযোগ্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকট হয়ে ওঠা সত্ত্বেও ঘটনা হলো, এই জমানা এবং একচেটিয়া পুঁ‍‌জির মধ্যে এখনও সেতুবন্ধন স্থাপিত হয়নি। উপরন্তু তার ‘গণ’ চরিত্র গঠনকল্পে কোনও সংখ্যালঘু সামাজিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চরম জাত্যভিমান এখনও জাগিয়ে তোলা হয়নি। এটাকে বলা যায় নির্মীয়মাণ ফ্যাসিবাদ অথবা ফ্যাসিবাদের আদিমরূপ অথবা ‘নাইট অব লং নাইভ্‌স’র পূর্বেকার ফ্যাসিবাদ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাকে একচেটিয়া পুঁজির দ্বারা পৃষ্ঠপোষিত পরিপূর্ণ ফ্যাসিবাদ বলা যায় না।

কিন্তু তাহলে কিছু ব্যক্তি-নেতা এবং দল ফ্যাসিবাদী বা ফ্যাসিবাদী নয় এ ধরনের শ্রেণীভুক্তিকরণের এই সমগ্র আলোচনাটাই অর্থহীন হয়ে ওঠে। ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার যে কাঠামো সেখানে কোন একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দল এবং তার নেতা জাতীয় ক্ষেত্রে মমতার আস্ফালনকারী এক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কাছে উপযোগী হয়ে উঠতে পারে এবং তার ছোট শরিক হিসাবে কাজ করতে পারে, অবিকল চরিত্রের না হয়েও তার অপরাধমূলক কাজকর্মের সঙ্গী হওয়ার মধ্য দিয়ে। কমিউনিস্টদের দমন করার কাজে কৃতিত্ব তাকে কেন্দ্রে আসীন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কাছাকাছি পৌঁছে দিতে পারে। ফ্যাসিবাদীদের বিবেচনা এই ‘ভালো কাজ’-এর সুবাদে লগ্নিপুঁজি তাকে অব্যাহত রাখার জন্য কিছু পরিমাণ অর্থও বরাদ্দ করতে পারে।

অন্যভাবে বলা যায়, একটি সংগঠন ফ্যাসিবাদের ধ্রুপদী চরিত্র না হয়েও রাজ্যস্তরে ক্ষমতাসীন থেকে যদি বামপন্থীদের দমন করার কাজে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, তবে সেইভাবেও ফ্যাসিবাদী-কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যকে ভা‍লোভাবেই চরিতার্থ করতে পারে। দিগন্তে ঘনায়মান এই ফ্যাসিবাদী প্রেতচ্ছায়ার বিরুদ্ধেই বামপন্থীদের লড়াই করতে হবে।

Advertisements

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

One Response to “Is Mamata a Fascist?”

  1. Ashok Chaudhury Says:

    If we go through the above article,we can understand the real face of
    Miss Mamata Banerjee. and, we should read this more and more.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: