Another Spring in Turkey

তুরস্কে অন্য বসন্ত

Recep_Tayyip_Erdogan

দু’বছর আগে তিউ‍‌নিসিয়ার জনৈক হকার পুলিসী হয়রানির বিরুদ্ধে কোনো সুবিচার না পেয়ে প্রকাশ্য রাজপথে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনা স্ফূলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে দেশজুড়ে উত্তাল সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ আন্দোলনের জন্ম দেয়। দু’বছর পর গত ২৮শে মে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরের প্রাণকেন্দ্র তকসিম গেজি পার্ককে ধ্বংস করে শপিং মল বানানোর প্রতিবাদে পরিবেশবাদীদের ‍‌বিক্ষোভে পুলিসী অত্যাচারের ঘটনাও আগুনে ঘৃতাহুতির মতো গোটা দেশে সরকার-বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তিউনিসিয়ার সরকার-বিরোধী আন্দোলন যেমন সরকারের পতনের একমাত্র দাবিতে পর্যবসিত হয় তেমনি তুরস্কেও বর্তমান সরকার-বিরোধী আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাই’ইপ এরদোগান সরকারের অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

আপাতদৃষ্টিতে দু’বছরের ব্যবধানে ভূমধ্যসাগরের দু’পারের দু’টি মুসলিমপ্রধান দেশের সরকার-বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দুস্তর ব্যবধান রয়েছে। তাই তিউনিসিয়ার আন্দোলন ‘আরব বসন্তের’ সূচনাপর্ব হিসেবে কথিত হলেও তুরস্কের আন্দোলনকে কোনো অবস্থাতেই ‘তুরস্ক বসন্ত’ বলা যাবে না। তিউনিসিয়ার আন্দোলন সরকার-বিরোধী হলেও তার পেছনে ছিল মার্কিন মদত ও অর্থ। আমেরিকাই চেয়েছিল অপ্রিয় হয়ে ওঠা তিউনিসিয়ার সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন এক সরকার গঠন করতে যার টিকি বাঁধা থাকবে আমেরিকার হাতে।

তুরস্কের বর্তমান সরকার-বিরোধী আন্দোলনের চরিত্র কিন্তু ভিন্ন। এখানে আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী উপাদান ভরপুর। এই আন্দোলন মার্কিন অনুগত সরকারের বিরুদ্ধে। বর্তমান সরকার দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য ভেঙে তুরস্ককে ঐস্লামিকীকরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বর্তমান আন্দোলন তার বিরুদ্ধে। তেমনি মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী সামরিক ‍‌জোট ন্যাটোর শরিক হিসেবে কাজ করছে তুরস্ক। বর্তমানে সিরিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার নেতৃত্বে ন্যাটো বাহিনী ও ইজরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা-ইজরায়েলের হয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে তুরস্ক। সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধবাজ-সশস্ত্র বিরোধী বাহিনীকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তুরস্ক। এর বিরুদ্ধেও প্রবলভাবে সোচ্চার তুরস্কের বর্তমান গণবিক্ষোভ। এই আন্দোলন দমনে সরকারের স্বৈরাচারী ও হিংস্র ভূমিকার পাশেই আছে আমেরিকা ও তার সহযোগীরা।

হালে বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে গণতন্ত্র প্রসারের নামে উদারনীতি-বিরোধী ও মার্কিন-বিরোধী সরকার পতনের লক্ষ্যে মার্কিন মদতে যে সরকার-বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে, কোথাও কোথাও তা রঙিন বিপ্লব নামে পরিচিত। ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে গরিব, পশ্চাদপদ ও নিপীড়িত মানুষের স্বার্থের কথা বলে আচমকাই ক্ষমতায় এসেছিলেন এরদোগান। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরই নতুন সরকারে আসল চেহারা বেরিয়ে পড়ে। শুরু হয় স্বৈরাচারী কট্টর রক্ষণশীল শাসন। সরকার বিত্তবানদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়। মার্কিন পরামর্শে উদারনীতির বেপরোয়া রূপায়ণ শুরু হয় এবং মার্কিন সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযানের সক্রিয় সমর্থক হয়ে ওঠে।

মার্কিন তল্পিবাহক হতে গিয়ে তুরস্ক পুলিসরাষ্ট্রে পরিণত হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্বিত হয়। চালু হয় সেন্সরশিপ। সরকার বিরোধিতা অসহনীয়। সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, ছাত্র, শ্রমিকনেতা, মানবাধিকার সমর্থক, আইনজীবী ও অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধে চলে দমনপীড়ন। হাজার হাজার বিরোধীকে জেলে পোরা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক জেলে আছে তুরস্কে। এমন এক দেশে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের এই চেহারা নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যাঞ্জক।

Advertisements

Tags: , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: