Government Gags Voice of Protest

সরকারের বিরুদ্ধে সরব হবেন ? হেনস্থা মেনে নিতে প্রস্ত্তত থাকুন।

সম্প্রতি দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিবাদের নেটওয়ার্ক ইনসাফের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়েই বন্ধ করা হয়েছে৷ কিন্ত্ত আন্দোলন জারি আছে৷ জানালেন ইনসাফের অন্যতম মুখ্য সংগঠক উইলফ্রেড ডি কোস্টা ৷ আলাপে সৌমিত্র দস্তিদার

সৌমিত্র দস্তিদার : উইলি, তোমাদের ইনসাফের অ্যাকাউন্ট নাকি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে! তোমাদের অপরাধ?wilfred    উইলফ্রেড ডি কোস্টা : ঠিক, এপ্রিলের ৩০ তারিখ হঠাৎই সরকারের আদেশে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে৷ অপরাধ কী, তা জানি না৷ সরকার কোনও নির্দিষ্ট কারণও দেখায়নি৷ জনগণের পক্ষে ক্ষতিকর বলে আমাদের সংগঠনের যাবতীয় লেনদেন আটকে দেওয়া হয়েছে৷ আসলে, তুমি তো জান, যত দিন যাচ্ছে সারা দেশে ততই গণবিক্ষোভ বাড়ছে, জল জঙ্গল জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া জনগণ রাজ্যে রাজ্যে প্রতিবাদের পথে হাঁটছে৷ প্রতিরোধেও নামছে কোথাও কোথাও৷ সরকার ভয় পাচ্ছে৷ তাই তাদের বিরুদ্ধে যারাই সরব হচ্ছে তাদেরই নানা ভাবে হেনস্থা করছে৷ মিথ্যে মামলায় জেলে দিচ্ছে৷ আন্দোলনের নেতাদের হুমকি দেওয়া চলছে৷ আমাদের মতো সংগঠন, যাদের কাজ গণআন্দোলনের পাশে থাকা, জনবিরোধী সরকারি নীতির বিরুদ্ধে প্রচার করা তাদের যে সরকার ভালো চোখে দেখবে না, বলাই বাহুল্য৷তোমাদের সংগঠন ঠিক কী ভাবে গণআন্দোলনের পাশে থাকে ? সংগঠনের উদ্দেশ্য কী ? সদস্য সংখ্যাই বা কত ?

আমরা কয়েকজন মিলে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পরেই ঠিক করি দেশজুড়ে একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা দরকার৷ সাম্প্রদায়িকতা ও বিশ্বায়ন পরবর্তী মুক্ত অর্থনীতির দৌলতে যে ‘ভারত ’ ও ‘ইন্ডিয়া ’ ভাগাভাগি বা বৃহত্তর ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটছে, তার বিরুদ্ধে মুখর সব মতের লোকেদেরই সেখানে যুক্ত করা হবে৷ তবে ঘোষিত ভাবে বিজেপি ও কংগ্রেসের বিরোধিতা করবে আমাদের সংগঠন৷ কারণ, ওই দু’টি দলই ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে ক্রমেই নব্যহিন্দুত্বের পথে হাঁটছে৷ দুই দলই দেশের জোটনিরপেক্ষ নীতির পরিবর্তে মার্কিন পথের অনুসারী, মুক্ত অর্থনীতির কট্টর সমর্থকও বটে৷ তাই আমরা তাদের সমর্থন করতে পারি না৷ এই ভাবে ১৯৯৪ সালে আমরা ‘ইনসাফ ’ অর্থাৎ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সোসাল অ্যাকশন ফোরাম (INSAF) গড়ে তুললাম৷ আজ দেশের অন্তত ১৫টি রাজ্যে আমাদের ইউনিট , কম করেও ৭০০ সদস্য সংগঠন ইনসাফ এ যুক্ত ৷

কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব যাঁরা তোমাদের সঙ্গে যুক্ত?

বলা ভালো ভারতের অ্যাক্টিভিস্ট ইন্টেলেকচুয়ালদের কে নেই আমাদের সঙ্গে ! অনেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ইনসাফের সঙ্গে আছেন৷ অচিন বানায়িক , কমল মিত্র চিনয় , প্রফুল বিদোয়াই , রাজেন্দ্র সাচার , নন্দিতা হাকসারের মতো নামীরা যেমন আছেন , তেমনই গণআন্দোলনের নেত্রী দয়ামনি বার্লা , সুনীলন বা জেলেদের নেতা পিটার সবাই আমাদের সংগঠনের কাজে সক্রিয়৷

ফিল্মমেকারদের অনেকের সঙ্গেও তো যোগ আছে তোমাদের ?

তোমার সঙ্গেও তো আমাদের পরিচয় গুজরাত গণহত্যা নিয়ে ছবি করার সময়৷ তা ছাড়া রাকেশ শর্মা, কে পি শশী, সঞ্জয় কাক, শুভ্রদীপ চক্রবর্তী, গোপাল মেনন, এমনকী আনন্দ পট্টবর্ধন, গহর রাজা, সবার ছবি আমরা কোনও না কোনও ভাবে দেখিয়েছি৷ নানা ভাবে প্রচার করেছি৷ তার কারণ ও সব ছবি তো বদলে যাওয়া ভারতের জীবন্ত দলিল৷

তোমরা তো পস্কো বিরোধী সংগ্রামেও ভূমিকা নিয়েছিলে ?

শুধু পস্কো কেন ? শর্মিলা চানুর অনশন, বিনায়ক সেনের গ্রেপ্তার, আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট কাশ্মীর, ছত্তিশগড়, উত্তরপূর্ব ভারত — যেখানেই অন্যায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, আমরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি এবং ভবিষ্যতেও হব৷ কোনও সরকারই লাল চোখ দেখিয়ে আমাদের উদ্দেশ্য থেকে সরাতে পারবে না৷

সরকার কি তা হলে প্রতিহিংসা নিতেই তোমাদের উপর আঘাত হানছে ?

তা ছাড়া আবার কী ? আশির দশকে দেশে কী বিনিয়োগ হবে, না হবে তা’ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল৷ ’৯০ এর পর থেকে উদার অর্থনীতির নামে পুরোপুরি তা পাল্টে গেল৷ বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে দেশে দুটো আইন আছে৷ ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট বা ফেরা ও ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট সংক্ষেপে এফ সি আর এ৷ মজা হচ্ছে ওই আইন প্রায় শিকেয় উঠল নব্বই থেকে৷ তবে তা মূলত মুনাফা যারা করে তাদের ক্ষেত্রে৷ ’৯২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এ দেশের কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশের বিভিন্ন সংস্থাকে ঢালাও অনুমতি দিল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থলগ্নি সংস্থাগুলোর বিনিয়োগের জন্যে৷ মিডিয়া এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলোতেও বিদেশি পুঁজিকে স্বাগত জানালো সরকার৷ ভারতের বাজার পুরো খুলে দেওয়া হল বহুজাতিক পুঁজির কাছে৷

ভালো করে লক্ষ্য কর, ওই ’৯০ দশক এ দেশের সমাজ ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন৷ এক দিকে উদারীকরণ দেশের জলজঙ্গলজমিকে বিদেশি পুঁজির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার সূচনাপর্ব, অন্য দিকে অতি হিন্দুত্ববাদের রমরমা৷ ’৯২বাবরি ভাঙা৷ ২০০২ সালে গুজরাত গণহত্যা৷ সারা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার যে মুসলিমবিরোধী জেহাদ, তারই যেন প্রতিফলন ঘটতে লাগল এ দেশেও৷ নানা অজুহাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা শুরু হয়ে গেল৷ প্রাণে মারা, ধর্ষণ, আঘাত, লুঠ, এ সব তো আছেই, পাশাপাশি মিথ্যে মামলায় সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে জেলে পোরা৷ সব মিলিয়ে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ছবিটা বিবর্ণ৷ জনমনে বিক্ষোভ অবশ্য বাড়তে লাগল৷ জনগণ প্রতিরোধের রাস্তায় নামল৷ আমরা এ দেশের সব থেকে বড়ো প্রতিবাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ভূমিকা নিতে লাগলাম গণআন্দোলনে৷ বহু বিষয় যেমন , উন্নয়নের নামে অবাধ লুঠ, বড়ো বাঁধ নির্মাণ, পরমাণু বিদ্যুৎ, নদী বেসরকারিকরণ, সরকারের অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার জনগণের পাশে দাঁড়ালাম৷ এই অপরাধেই সম্ভবত কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের শাস্তি দিতে চাইছে৷

তোমাদের সঙ্গে কি মাওবাদী আন্দোলনেরও যোগ আছেশুনেছিলাম ছত্তিশগড়ের শিক্ষিকা সোনি সোরি দিল্লিতে তোমাদের অফিসের সামনে থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন? তার পর তোমাদের অফিস রেড হয়?

আরে, কেউ অফিসের সামনে থেকে অ্যারেস্ট হওয়া মানে কী তার সঙ্গে অফিসের যোগ থাকা? তা ছাড়া সত্যি সত্যি সন্দেহের বশে পুলিশ তো আমাদের অফিস রেড করেছিল৷ কিন্ত্ত কিছুই তো পায়নি৷ আমাদের ধন্যবাদ জানিয়ে, বিরক্ত করার জন্যে দুঃখ প্রকাশও করেছিল৷ মজা হচ্ছে — খোদ সোনি সোরি যে মাওবাদী, তাই তো এখনও প্রমাণ হয়নি৷ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে ওকে অত অমানুষিক অত্যাচার করার পরেও পুলিশ প্রমাণ করতে পারল না যে, ও কোনও মাওবাদী রাজনীতিতে যুক্ত৷

আসলে এও রাষ্ট্রের এক অস্ত্র , গণআন্দোলন দমনের জন্যে মাওবাদী তকমা লাগিয়ে দেওয়া৷ মাওবাদী বললে জনবিচ্ছিন্ন করা সহজ৷ ফলে রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিবাদকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আঘাত হানাও সহজ৷

আনন্দ পট্টবর্ধন সম্প্রতি এক তথ্যচিত্র করেছে — ‘জয় ভীম কমরেড’৷ তাতে মহারাষ্ট্রে যে দলিত সংগঠনের ছেলেমেয়েরা গান করেছে তাদের অধিকাংশকেই পুলিশ অ্যারেস্ট করেছে৷ অথচ সুপ্রিম কোর্ট কিছু দিন আগের এক রায়ে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে, মাওবাদী রাজনীতি সমর্থন করা বা তার দর্শনের প্রতি সহানুভূতি থাকলেই যাকেতাকে হেনস্থা করা যাবে না৷ কে আর কোর্টের কথা শোনে৷ তা ছাড়া আমাদের সংগঠন কোন ভাবেই মাওবাদী রাজনীতি সমর্থন করে না৷ বরং আমরা মনে করি, ওই নৈরাজ্যবাদী পলিটিক্স পরোক্ষে গণআন্দোলন দমনে রাষ্ট্রের হাতই শক্তিশালী করে৷

এখন সরকারের নির্দেশের উপর কী কর্মসূচি নিচ্ছ?

খুব শীঘ্রই আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছি৷ তা ছাড়া ইতিমধ্যে ন্যাশনাল মিডিয়াতেও লেখালিখি শুরু হয়েছে৷ আমাদের পক্ষে ইতিমধ্যে শাসকদলের অনেক বিশিষ্ট নেতাও সোচ্চার হয়েছেন৷ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগ্বিজয় সিং ও এন সি পিডি পি ত্রিপাঠি প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানিয়েছেন ‘ইনসাফকে আমরা জানি৷ তারা গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর৷ স্বভাবতই তাদের উপর আঘাত হানা সরকারের অন্যায়’। আইনি পথের পাশাপাশি আমরা রাজ্যে রাজ্যে জনমত সংগঠিত করতেও উদ্যোগী হচ্ছি৷ মনে রাখবে, এ কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, ২০১০ সাল থেকে সরকার সক্রিয় হয়ে এ ধরনের গণসংগঠন যারা বন্ধ, হরতাল, ইত্যাদি প্রতিবাদের বিভিন্ন পথ নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিচ্ছে৷ উদ্দেশ্য পরিষ্কার প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করা৷ আমরা চুপচাপ এই অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে নেব না৷ আরও আরও বেশি প্রতিবাদী হব৷

তোমরা কি বিদেশ থেকে টাকা পাও?

জার্মানি থেকে পাই৷ অন্যান্য কিছু দেশ থেকেও টাকা নিই৷কিন্ত্ত তা যারা দেন তারা সবাই বিশ্বব্যাপী যে বিশ্বায়নবিরোধী আন্দোলন তার শরিক৷ হিন্দুত্ববাদীরা নেবে, সরকার ব্যাঙ্ক, বীমা, ডিফেন্স, খনি, কৃষি সব ক্ষেত্র বিদেশিদের কাছে হাট করে খুলে দেবে, আর আমরা যদি তার বিকল্প পথের অনুসারীদের কাছ থেকে সহায়তা নিই, তখনই বিরাট দোষ হয়ে যায় বুঝি?

সৌজন্যে: এই সময় 

Advertisements

Tags: , , , , , , , , , , , , , , ,

One Response to “Government Gags Voice of Protest”

  1. ashok kumar chaudhury Says:

    Any organisation,who will protest against the misdeeds of the Govt. would be .
    harassed .

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: