The Last Headhunters of India

ভারতের শেষ নরমুণ্ডু শিকারিরা

শত্রুর হামলা ঠেকাতে আর গুপ্তচরের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে ছোট ছোট গ্রামগুলো পাহাড়ের পিঠে পিঠে। লড়াইয়ের আদিম নিয়মে প্রতিপক্ষ যোদ্ধাদের মুণ্ডু শিকারই যেন তাদের মোক্ষ। ভূমির দখল আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শত শত বছর ধরে নানা গোত্রের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভরা তাদের অতীত। এখনো ভয়ংকর দুর্গম এই বসতির একদিকে মিয়ানমারের গহিন অরণ্য আরেকদিকে ভারতের উর্বর কৃষিভূমি। ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের ১৬টি আদিবাসী জাতির সবচেয়ে ভয়ংকর এই জাতির নাম কোন্যাক নাগা। এককালের নরমুণ্ডু শিকারি কোন্যাক নাগাদের জীবনগাথা নিয়ে বিবিসি অবলম্বনে এই ফটো ফিচার।

01-INDIAN-HEADHUNTERS

নরমুণ্ডু শিকারিদের শেষ প্রজন্ম
কয়েক শ বছর ধরেই নরমুণ্ডু শিকারি কোন্যাক নাগারা। ১৯৪০ এর দশকে ভয়ংকর এই চর্চা আইন করে নিষিদ্ধ করার আগ পর্যন্তও কোন্যাকদের মধ্যে লড়াই মানেই প্রতিপক্ষের মুণ্ডু শিকার। প্রতিপক্ষের কোনো যোদ্ধাকে হত্যা করে তার মুণ্ডু কেটে নিয়ে আসতে পারাই তরুণ কোন্যাকদের জন্য বীরের মর্যাদা লাভের সুযোগ। মুণ্ডু শিকারি তরুণ যোদ্ধাকে গোত্রের লোকেরা অভিষিক্ত করে তাঁর মুখে উলকি এঁকে দিয়ে। মুখে এমন উলকি আঁকা দেখলেই প্রতিপক্ষের যোদ্ধারাও বুঝতে পারে অপর যোদ্ধার সামাজিক মর্যাদা। নিষিদ্ধের পরও নাগাল্যান্ডে এমন নরমুণ্ডু শিকারের শেষ খবর পাওয়া গেছে ১৯৬৯ সালে। ফলে প্রবীণ কোন্যাক ছাড়া কারও মুখেই এখন আর ওই উলকি দেখা যায় না।

02-INDIAN-HEADHUNTERS

খুলি-কঙ্কালে অতীত যুদ্ধের স্মৃতি
মহিষ, হরিণ, বনগাই, বন্য শূকর আর ধনেশের মাথার খুলি আর হাড়ে সাজানো থাকে সব কোন্যাকের বাড়ির দেয়াল। প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিকারের বীরত্বগাথা যেন লিখে রাখা এসব হাঁড়গোড় কঙ্কালে। কোন্যাকদের বার্ষিক শিকারের দিনে এসব স্মারকের পাশাপাশি বধ করা শত্রুর মাথার খুলিও প্রদর্শিত হয় গুরুত্বের সঙ্গে। কিন্তু নরমুণ্ডু শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেক কোন্যাকই তাঁদের সংগ্রহে থাকা শত্রুদের মাথার খুলিগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলেছে।

03-INDIAN-HEADHUNTERS

কোন্যাকদের বাঁশের বাড়ি
কোন্যাকদের বাড়ি বানানোর প্রধান উপকরণ বাঁশ। বেশ প্রশস্ত একেকটা কুটিরে থাকে অনেকগুলো ঘর। রান্না, খাওয়া, ঘুমানো এবং জিনিসপত্র রাখার জন্য আলাদা ভাঁড়ার ঘর অবশ্যই থাকবে কোন্যাকদের বাড়িতে। সবজি, শস্য এবং মাংস রাখা হয় ঘরের মাঝখানে আগুন পোহানোর জায়গার ওপর। প্রধান খাদ্যশস্য চাল রাখা হয় বাঁশের তৈরি বড় গোলায় বাড়ির পেছন দিকটায়। কোন্যাকদের একটা প্রিয় খাবার আঠা-ভাত। উৎসবের দিনে তো বটেই সারা বছরই হাতে টানা ঢেঁকি দিয়ে ছাঁটা চালে এই ভাত রান্না হয়।

04-INDIAN-HEADHUNTERS

এক জাতি দুই দেশ
নাগাল্যান্ডের ওই অঞ্চলে ১৯৭০ সালে ভারত আর মিয়ানমারের অমীমাংসিত সীমান্তরেখা চূড়ান্ত করার বহু আগেই লোংগোয়া গ্রামে বসতি গেড়েছিল কোন্যাকরা। কিন্তু আশপাশের সীমান্তের সঙ্গে মিলিয়ে সীমানারেখা টানলে তা যে পাহাড়ের পিঠে এই গ্রামের ওপরই পড়ে। একটা ছোট্ট সম্প্রদায়কে কীভাবে দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যায়! তাই কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিলেন কোন্যাকদের তাদের মতোই থাকতে দিয়ে গ্রামের ওপর দিয়েই সীমানারেখা টানার। লোংগোয়া গ্রাম দাঁড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপর। তাই গ্রামের মাঝে থাকা সীমান্তখুঁটির একপাশে বার্মিজ ভাষায় আরেক পাশে হিন্দি ভাষায় লেখা আছে দুই দেশের সীমানার বার্তা।

05-INDIAN-HEADHUNTERS

এক দেশে খাওয়া আরেক দেশে ঘুম
আন্তর্জাতিক সীমান্ত কেবল কোন্যাকদের লোংগোয়া গ্রামকেই দুই ভাগ করেনি গ্রামপ্রধানের বাড়িটাও পড়েছে সীমান্তরেখার ওপরই! এ জন্যই কৌতুক করে কোন্যাকরা বলতে পারে ‘আমাদের গ্রামপ্রধান এক দেশে খায় আরেক দেশে ঘুমায়।’ ঐতিহ্যগতভাবেই গোত্রপ্রধান শাসিত কোন্যাকদের সমাজ। নিজেদের ভাষায় কোন্যাকরা তাঁকে আঙ বলে ডেকে থাকেন। অনেক সময় একটা গ্রামেই একজন আঙ থাকতে পারেন আবার কয়েকটা গ্রামও থাকতে পারে একজন আঙের অধীনে। কোন্যাক সমাজে বহুগামিতা খুব সাধারণ না হলেও আঙদের বহু স্ত্রী রাখার বিধান আছে। মাঝেমধ্যেই পারিবারিক সম্মিলনীতে আঙের স্ত্রী-সন্তানেরা একত্রিত হন।

06-INDIAN-HEADHUNTERS

ধর্মান্তরিত কোন্যাক সমাজ
ঐতিহ্যগতভাবে কোন্যাকরা নানান প্রকৃতিপূজায় অভ্যস্ত ছিল। কিন্তু ১৯ শতকের শেষদিকে নাগাল্যান্ডে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতায় বহু কোন্যাকই খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করে। ২০ শতকের মধ্যেই রাজ্যের ৯০ ভাগ মানুষই খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষা নেয়। নাগাল্যান্ডের প্রায় সব গ্রামের মতোই কোন্যাক গ্রাম লোংগোয়াতেও একটা গির্জা আছে। গ্রামপ্রধানের বাড়ির একটু নিচেই পাহাড়ের পিঠের ওপর একটা খোলা মাঠে অবস্থিত লোংগোয়ার গির্জা।nagaland-mon-district


সৌজন্যেঃ প্রথম আলো।

Advertisements

Tags: , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: