CIA Infects South American Leaders with Cancer?

বামপন্থী লাতিন আমেরিকায়

ক্যান্সারের বিষ ছড়াচ্ছে CIA?

নীলাদ্রি সেন

স্বাভাবিক মৃত্যু, না হত্যা? ‘ফিদেলিস্তা’ সাভেজের। সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

‘মার্কিন মুলুকে তৈরি রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে ৫৮ বছর বয়স্ক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে’। সরাসরি এই অভি‍‌যোগ তুলছে অভিজাত ব্রিটিশ দৈনিক ‘দি গার্ডিয়ান’।

কাঠগড়ায় ‘মানবতাবাদী’ ওবামা!

গার্ডিয়ানে’ প্রকাশিত নিবন্ধে রবি ক্যারল এই অভিযোগ তুলে সপক্ষে দিয়েছেন বেশ কিছু যুক্তি।

নেস্টর কিরচনার। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, আর্জেন্টিনা। আক্রান্ত হন ‘কোলন ক্যান্সারে’।

ইগনাশিও লুলা ডে সিলভা। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, ব্রাজিল। আক্রান্ত হন ‘থ্রোট ক্যান্সারে’।

এঁরা সকলেই লাতিন আমেরিকার বামপন্থী নেতৃত্ব। কুখ্যাত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘সি আই এ’ তাঁদের হত্যার ‘প্লট’ তৈরি করে বলে দাবি ক্যারলের। ক্যান্সারের বিষ প্রয়োগ করে ‘সি আই এ’ এই প্রাক্তন বামপন্থী নেতৃত্বকে হত্যা করেছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছেন ক্যারল।

তবে ক্যারলকে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই আরও কয়েকটি ঘটনার কথা। যা ক্যারলের দাবিকে সোচ্চার করে তুলবে।

ফার্নান্দো লুগো। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, প্যারাগুয়া। গত বছর চক্রান্তকারী ‘সি আই এ’-র অভ্যুত্থানে উচ্ছেদ হতে হয়। তার পরেই শরীরে বাসা বাঁধে ‘লিম্‌ফোমিয়া’। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী ক্যান্সার।

ক্রি‍‌শ্চিনা ফার্নান্ডেজ ডে কিরচনার। প্রেসিডেন্ট, আর্জেন্টিনা। ‘থাইরয়েড ক্যান্সারে’ আক্রান্ত।

দিলমা রোসেফ। প্রেসিডেন্ট, ব্রাজিল। আক্রান্ত ‘লিম্‌ফোমা-য়’।

অথবা ধরুন, কলম্বিয়ার রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসের কথা। কলম্বিয়ার বামপন্থী বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী ‘ফার্কে’র সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করবার পরই সান্তোষ আক্রান্ত হলেন ‘প্রস্টেড ক্যান্সারে’।

সকলেই লাতিন আমেরিকার নেতৃত্ব। সকলেই আক্রান্ত মারণ রোগ ক্যান্সারে!

ভেনেজুয়েলার ঐতিহাসিক শত্রুরা ‘বৈজ্ঞানিক আঘাতে’ হত্যা করেছে আমাদের প্রিয় সাভেজকে।

সাভেজের মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

আরও এক ধাপ এগিয়ে ইরানের প্রধানমন্ত্রী আহমদিনজাদ বলছেন, ‘শহীদ’ হলেন সাভেজ।

পরপর ৬জন বামপন্থী নেতার ক্যান্সারে মৃত্যুর ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা যাচ্ছে না। মত রাশিয়ার কমিউনিস্ট নেতা গেন্নাদি জুগানভের।

সকলেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত স্বাভাবিক মৃত্যু নয় সাভেজের। ঘটনা পরম্পরা এই সন্দেহকেই বাড়িয়ে তুলছে।

‘সাভেজ সতর্ক হও। ওরা প্রযুক্তির উন্নতি ঘটাচ্ছে। তুমি খুবই অসতর্ক। খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। কী খাচ্ছো, কী ধরনের খাবার তা জানবার চেষ্টা করো। একটা ছোট্ট নিড্‌ল দিয়ে কোনো কিছু মিশিয়ে দেবে, তুমি বুঝতেও পারবে না।’

পুত্রসম সাভেজকে বারবার সতর্ক করতেন ফিদেল

২০০৬-এ ‘করডোবা সামিটে’ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বিষয়ে একটি চুক্তি হয়। এই সামিটে উপস্থিত ছিলেন ফিদেল ও সাভেজ। এখানে আকস্মিকভাবে ফিদেল পেটের অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃতপ্রায় হন

একে দুর্ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ২৬শে জুলাই, ২০০৬ বুয়েনস আয়ারসের মার্কিন দূতাবাসের কেব্‌লে ‘করডোবা সামিটে’ ফিদেল ও সাভেজের উপস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন তীব্র অসন্তোষ দেখায়!

সাভেজ নিজেও একই সময়ে লাতিন আমেরিকার একাধিক নেতৃবৃন্দের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। ‘গার্ডিয়ানে’ প্রকা‍‌শিত নিবন্ধে দাবি করছেন ক্যারল।

রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ হয় ১৯৭২-এ। ‘বায়োলজিকাল এন্ড টক্সিক ওয়েপেনস কনভেনশনে’। একমত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও গ্রেট ব্রিটেনের মতো শক্তিধর দেশগুলো। অথচ তার পরেও মার্কিন প্রশাসনের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি থেকে সরে আসেনি।

মেরিল্যান্ডের ফোর্ট ডেট্রিকে মার্কিনী ‘আর্মি সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সি’র ‘স্পেশাল অপারেশন ডিভিসন’ এবং সি আই এ’র ‘টেকনিক্যাল সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট’ ক্যান্সারের জীবাণু দিয়ে ক্যান্সারের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি ও তার ক্রমাগত উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যায়।

ফোর্ট ডেট্রিকে গোপনে চলা এই মার্কিনী প্রকল্পের নাম ‘এম কে নাওমি’। তত্ত্বাবধানে অবশ্যই ‘সি আই এ’ এবং মার্কিন ‘আর্মি মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর ইনফেকসসি ডিসিসেস’।

তবে শীতল যুদ্ধের অনেক আগে থেকেই ক্যান্সারের রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে চলছে ওয়াশিংটন। যার প্রথম বলি হন লাতিন আমেরিকানরাই।

১৯৩১। সান জুয়ানে ‘রকফেলার ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইনভেস্টিগেশনসে’র বর্ণবিদ্বেষী ও লাতিন আমেরিকা বিরোধী বৈজ্ঞানিক ডক্টর করনিলিয়াস পি রড্‌স পুয়েরতো রিকার ১৩জন নাগরিকের দেহে ক্যান্সারের বিষ প্রয়োগ করেন।

ফোর্ট ডেট্রিকের প্রকল্প গোপন করবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় মার্কিন প্রশাসন। তথ্য ফাঁস হলে জানা যায় ১৯৭৭ সালে সাফল্যের সঙ্গে ‘এম কে নাওমি’ প্রকল্পে ৬০,০০০ লিটার ক্যান্সারের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি করে ওয়াশিংটন।

এই মার্কিন ক্যান্সারের রাসায়নিক অস্ত্র কাজ করে মূলত দু’ভাবে। একটি খাদ্যের মধ্য দিয়ে ভয়ঙ্কর বিষক্রিয়া ঘটিয়ে দেহে ক্যান্সারের বিষ প্রবেশ করায়। অপরটি পশুর দেহের মধ্য দিয়ে মানব দেহে প্রবেশ করে। এ‍‌ই দুই পদ্ধতি ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে কৌশলগতভাবে

‘সি আই এ’র এই ক্যান্সারের রাসায়নিক অস্ত্রে সম্ভবত প্রথম হত্যা করা হয় অ্যা‍‌ঙ্গোলার প্রথম প্রেসিডেন্ট অগুমতিনো নিটোকে। মার্কিন কংগ্রেসের কিছু নির্দেশ মানতে তিনি নারাজ হন। পড়েন ‘সি আই এ’-র নেকনজরে। পরিণতিতে ১৯৭৯-তে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং মস্কোর একটি হাসপাতালে ৫৭ বছর বয়সে নিটোর মৃত্যু হয়।

চিলির স্বৈরশাসক জেনারেল অগুস্তো পিনোচেত। ‘সি আই এ’-র হাতের পুতুল। চিলির স্বৈরশাসন বিরোধী নেতা ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এদুয়ার্দো ফ্রেই ছিলের চরম পিনোচেত বিরোধী। নজরে আসেন ‘সি আই এ’-র। রহস্যজনক সংক্রমণে ১৯৮২-তে সান্‌ দিয়োগেতে মৃত্যু হয় ফ্রেই’র।

ক্যান্সারের রাসায়নিক বিষ প্রয়োগের কৃৎকৌশলে দীর্ঘকাল ধরে বিশেষ পারদর্শী ওয়াশিংটন। এরজন্য মূলত ব্যবহার করা হয় ‘ইঞ্জেকশান’ এবং ‘ইনহেলার’। এছাড়া শরীরের ত্বকের সঙ্গে সেঁটে থাকা জামাকাপড়েও মেশানো হয় ক্যান্সারের বিষাক্ত রাসায়নিক। বিশেষ করে ‘আন্ডারওয়্যারে’র মতো পোশাকে।

শরীরের ‘পেলভিক’ অংশে ক্যান্সার বাসা বাঁধে সাভেজের। এক্ষেত্রে ত্বকে সেঁটে থাকা ‘আন্ডারওয়্যার’ থেকে এ‍ই সংক্রমণ মোটেও অসম্ভব নয়। এছাড়া খাদ্য, পানীয় এমনকি টুথপেস্টের মাধ্যমেও সাভেজের দে‍‌হে ক্যান্সার প্রবেশ করানো হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। কাজ পাগল সাভেজ নিজের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে মোটেও সতর্ক ছিলেন না।

শত্রুর শরীরে সুনিপুণভাবে ক্যান্সারের বিষ প্রয়োগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘সি আই এ’-র দক্ষতা আজ এক প্রমাণিত সত্য। ‘সি আই এ’র এই কদর্য ভূমিকার প্রমাণসহ অসংখ্য নথি বা‍‌রে বারে প্রকাশ্যে আসছে। তবু ভ্রুক্ষেপ নেই হোয়াইট হাইসের। ইতোমধ্যে তৎপরতার সাথে নষ্ট করা হয়েছে বহু নথিপত্র।

তাই রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্যান্সারের বিষ প্রয়োগের মার্কিনী তথ্য, নথিপত্র — আজ আর তেমন ‘ইস্যু’ নয়।

‘ইস্যু’ ভেনেজুয়েলাসহ লাতিন আমেরিকার দেশে দেশে কোন্‌ ঘৃণ্য কায়দায় ওয়াশিংটন ছড়িয়ে দিচ্ছে ক্যান্সারের এই রাসায়নিক বিষ?

খুনী কে অথবা কারা?

কারাই বা ‘সি আই এ’র ভবিষ্যৎ ‘টার্গেট’?


This essay was originally published in the Ganashakti Patrika on May 18, 2013.

Advertisements

Tags: , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: