Sainath Blames Media Monopoly, Paid News for Crisis in Journalism

প্রকৃত সাংবাদিকতা উঠে যাচ্ছে পুঁজির দাপটে

পালাগুম্মি সাইনাথ

আগরতলা, ২৬ নভেম্বর, ২০১৪: বিশ্বায়নের যুগে প্রকৃত সাংবাদিকতা উঠে যাচ্ছে৷‌ এখন সাংবাদিকরা কার্যত বৃহৎ পুঁজিপতিদের স্টেনোগ্রাফার ছাড়া কিছু নন৷‌ এইভাবেই দেশের সংবাদমাধ্যমের প্রধান বিপদটি P_SAINATHচিহ্নিত করলেন বিখ্যাত সাংবাদিক পি সাইনাথ৷‌ বুধবার সুকাম্ত আকাদেমিতে এক সেমিনারে তিনি আরও বললেন, গত আর্থিক মন্দার পর এতদিনে দেশে পাঁচ থেকে আট হাজার শ্রমজীবী সাংবাদিক ছাঁটাই হয়েছেন৷‌ এ বিষয়ে কারও মাথাব্যথা নেই৷‌ এক সারদা কেলেঙ্কারিতে কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৮০০ শ্রমজীবী সাংবাদিক৷‌ তাঁদের কথা কেউ বলছেন না৷‌

এদিন বিষয় ছিল ‘বিশ্বায়ন ও বাজার অর্থনীতিতে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত রূপ, কর্মরত সাংবাদিকদের সামনে চ্যালেঞ্জ’৷‌ সেমিনারের যৌথ উদ্যোক্তা ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়৷‌ প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক পি সাইনাথ৷‌ বৃহস্পতিবার বিকেলে আগরতলা প্রেস ক্লাবেও সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হবেন তিনি৷‌

বুধবার সুকাম্ত আকাদেমির অডিটোরিয়ামে পি সাইনাথ আরও বলেন, ‘দেশে ৪০ মিলিয়ন মানুষ নথিভুক্ত বেকার৷‌ দেশের বেশিরভাগ মানুষ শ্রমিক৷‌ বড় অংশ কৃষিতে৷‌ কিন্তু তাঁদের স্বার্থে লেখার জন্য বৃহৎ পুঁজি নিয়ন্ত্রিত পত্রিকায় সুযোগ নেই৷‌ অথচ সিনেমার বিনোদনের খবর লেখার জন্য পত্রিকার বড় অংশ থাকছে৷‌ এ জন্য আলাদা প্রতিবেদকও রাখা হয়৷‌ বড় পুঁজিপতিদের পরিচালিত গণমাধ্যম ভাল সাংবাদিক চায় না৷‌ তারা এমন সাংবাদিক চায় যাদের লেখার ফলে বিজ্ঞাপন বাড়বে৷‌ ভারতে গণমাধ্যমগুলো বাজারের সঠিক খবরও দেয় না৷‌ কারণ গণমাধ্যমের মালিকদের শেয়ারও থাকে বাজারে৷‌

পি সাইনাথ উপস্হিত শ্রোতাদের থেকে জানতে চান ত্রিপুরায় কতজন শ্রমজীবী সাংবাদিক আছেন যাঁরা ওয়েজ বোর্ডের ধার্য করা টাকা পান? একজনও কি আছেন? এখন স্হায়ী সাংবাদিক নিয়োগ করা হয় না৷‌ এগারো মাসের চুক্তির মাধ্যমে নিয়োগ হয়৷‌ পছন্দ না হলে ছাঁটাই৷‌ গণমাধ্যম এখন পেইড নিউজের প্রতিষ্ঠান হয়ে যাচ্ছে৷‌ বিজ্ঞাপন কম৷‌ পেইড নিউজ বেশি! তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের একটা সহজ জিনিস বুঝতে হবে– হয় সাংবাদিকরা পেইড নিউজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে, নয়তো পেইড নিউজ একদিন সাংবাদিকদের ধ্বংস করবে’।

গণমাধ্যমের শেয়ার কিনে নিচ্ছেন বড় পুঁজির মালিকেরা৷‌ এর ফলে সাংবাদিকদের লেখার আগে জিজ্ঞাসা করতে হয় লিখতে পারবেন কি না! কর্পোরেট সেক্টরের গণমাধ্যমগুলো ভাল সাংবাদিক নিতে চায় না৷‌ তারা চায় পি আর ও৷‌ গণমাধ্যমের মালিকেরাই সাংবাদিকদের লেখা কাটছাঁট করছেন৷‌ গণমাধ্যম কিনে ফেলেছেন বড় পুঁজির মালিকেরা৷‌ এক মুকেশ আম্বানি দেশের সব চেয়ে বড় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক৷‌

বড় পুঁজির ব্যবসায়ীরা এখন রাজনীতিতে ঢুকছেন৷‌ সংসদে প্রতিনিধিত্বের এক হিসেব তুলে এর ব্যাখ্যা দেন সাংবাদিক পি সাইনাথ৷‌ বলেন, এ বছর মে মাসে সংসদে ৮২ শতাংশ প্রতিনিধি গেছেন যাঁরা কোটিপতি৷‌ এর আগের সংসদে ছিলেন ৫৩ শতাংশ৷‌ এঁরা শ্রমিক, কৃষক, দরিদ্র মানুষের কথা বলবেন?

Advertisements

Tags: , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: