Exchange of Enclaves Between India & Bangladesh

ছিটমহল বিনিময় চুক্তি আসন্ন, সংসদে রিপোর্ট পেশ কমিটির

বিশেষ প্রতিবেদন: দিল্লি, ১ ডিসেম্বর– শুরু হয়ে গেল ভারত-বাংলাদেশ ভূমিসীমা নির্ধারণ (ছিটমহল বিনিময়) চুক্তির জন্য পদক্ষেপ৷‌ গতকালই গুয়াহাটিতে আসামে অনুপ্রবেশ সমস্যার কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, শিগগিরই দু’দেশের মধ্যে ভূমিসীমা নির্ধারণ চুক্তি করবে তাঁর সরকার৷‌ এতে অনুপ্রবেশ সমস্যা রোধ করা যাবে৷‌

আজই সংসদের উভয়সভায় রিপোর্ট পেশ করে বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটি সরকারকে বলল, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত ভূমিসীমা নির্ধারণ চুক্তি করতে৷‌ সংসদীয় এই কমিটি বলল, আর দেরি না করে এই চুক্তির বিল আনতে, দেশের স্বার্থে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এই চুক্তি প্রয়োজন৷‌ বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় এই কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেস নেতা শশী থারুরও বলেছেন, সংবিধানের ১১৯তম সংশোধনী হিসেবে এই বিল অনুযায়ী বাংলাদেশের সঙ্গে ভূমিসীমা নির্ধারণ চুক্তি (ছিটমহল বিনিময়) করার বিষয়টি এখন কেন্দ্রের নতুন সরকারের দায়িত্ব৷‌ থারুর জানিয়েছেন, সংসদীয় কমিটি সর্বসম্মতভাবে ভারত-বাংলাদেশ ভূমিসীমা নির্ধারণের এই ১১৯তম সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছে৷‌ থারুর জানিয়েছেন, সংসদীয় এই কমিটিতে কংগ্রেস, বি জে পি, তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যরা (সাংসদ) ছিলেন৷‌ বিদেশ মন্ত্রকের সচিবরা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক প্রতিনিধিও এই কমিটিতে রাজ্যের মতামত জানিয়েছেন৷‌ ৫টি বৈঠকের পর সর্বসম্মতভাবে এই চুক্তির পক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷‌

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৩ বছরের মধ্যে ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিতে দু’দেশের ছিটমহল বিনিময় ও ভূমিসীমা নির্ধারণের যে চুক্তি হয়েছিল এই ১১৯তম সংবিধান সংশোধনীটিতে সেই চুক্তিরই সংশোধনের বিষয়টি রয়েছে৷‌ ১১৯তম সংবিধান সংশোধনী ২০১৩-য় বলা হয়েছে ভারতের ১১১টি ছিটমহল ও বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল পরস্পরের মধ্যে বিনিময় হবে৷‌ ভারতের এই ১১১টি ছিটমহলের জমির পরিমাণ ১৭,১৬০ একর৷‌ বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের জমির পরিমাণ ৭ হাজার ১১০ একর৷‌

শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি রিপোর্টে এ বিষয়ে বলেছে, ছিটমহলের বাসিন্দাদের এত বছর ধরে যে নাগরিকতা সংক্রাম্ত সমস্যাসহ যোগাযোগের নানা অসুবিধা ছিল, ছিটমহল বিনিময়ে এতদিনের সে সব সমস্যা দূর হবে৷‌ ছিটমহলগুলির অবস্হান আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও এ রাজ্যগুলির সংলগ্ন বাংলাদেশ৷‌ সংসদীয় কমিটি রিপোর্টে আরও বলেছে, বাংলাদেশ যে ছিটমহলগুলি ভারতের হাতে তুলে দেবে, সেগুলির দ্রুত উন্নয়ন, পরিকাঠামো গড়ায় সরকারকে ব্যবস্হা নিতে হবে৷‌

পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যখন বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা সফরে গিয়েছিলেন তখন তিস্তা চুক্তি ও ভূমিসীমা নির্ধারণ চুক্তির কথা ছিল৷‌ কিন্তু তিস্তা চুক্তিতে আপত্তি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শেষ মুহূর্তে ঢাকা সফরে যাননি৷‌ ভূমিসীমা নির্ধারণ চুক্তিতেও তৃণমূল কংগ্রেস, আসামের অ গ প, এমনকী বি জে পি-র একাংশেরও আপত্তি ছিল৷‌ একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিসীমা নির্ধারণ চুক্তির (ছিটমহল বিনিময়) ব্যাপারে তৃণমূল নরম মনোভাব দেখায়৷‌ কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর বি জে পি-ও প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিসীমা নির্ধারণ চুক্তির ব্যাপারে এগোয়৷‌

ঢাকায় খবর, ভারতের সংসদে ভূমিসীমা নির্ধারণ চুক্তির সংশোধনী নিয়ে রিপোর্ট পেশ হওয়ায় বাংলাদেশ আগ্রহে উদগ্রীব৷‌

Advertisements

Tags: , , ,

One Response to “Exchange of Enclaves Between India & Bangladesh”

  1. P.Ch.Roy Says:

    ছিটমহল বিনিময় হলে কত সংখ্যক নাগরিক ঠিকানা বদলে আগ্রহী তা জানতে গত ২৭-২৮ নভেম্বর ‘ছিটমহল বিনিময় সন্বয় কমিটি’ সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের ছিটমহলের কেউই সেদেশে ফিরতে না চাইলেও, ভারতীয় ছিটমহলের ৭৩৪ জন বাসিন্দা স্বদেশের মূল ভূখণ্ডে ফিরতে আগ্রহী।

    উল্লেখ্য, দু’দেশে অবস্থিত মোট ১৬২টি ছিটমহলে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী জনসংখ্যা হ’ল ৫১,৪৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৭,৩৬৯ জন ভারতীয় এবং ১৪,২১৫ জন বাংলাদেশী। ছিটমহল বিনিময় হলে উপরিউক্ত ৭৩৪ জন বাদে বাকী সকলের নাগরিকত্ব বদল হবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: