Modi Insults India

দেশের অমর্যাদা

রাজনৈতিক স্বার্থে নিজের প্রচার করতে গিয়ে গোটা দেশের অমর্যাদা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাংহাই এবং সিওলে অনাবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, আগে আপনারা ভারতে জন্মগ্রহণের জন্য লজ্জাবোধ করতেন। এখন আপনারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে গর্ববোধ করেন। সিওলে প্রধানমন্ত্রী একথাও বলেন, একটা সময় ছিল যখন মানুষ বলতো, অতীতে কত পাপের জন্য হিন্দুস্তানে জন্মেছি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই এক বছরে দে‍শের যা পরিবর্তন হয়েছে তার জন্য সকল ভারতীয় গর্ববোধ করছেন। এপর্যন্ত দেশের কোনও প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের মন্তব্য করেননি। নরেন্দ্র মোদীর একথা মনে নেই যে, ভারতবাসী আজ লজ্জিত কারণ গত একবছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন গুজরাট গণহত্যার নায়ক

এই মন্তব্যের অর্থ ভারতের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাসকে অস্বীকার করা। সারা বিশ্বে বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত ভারত। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের নিদর্শন ভারত। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশের সঙ্গে লড়াই করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে প্রাণ দিয়েছে দেশের মানুষ। এজন্য গর্ববোধ করে প্রত্যেকটি ভারতবাসী। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা গান্ধীজীকে হত্যা করেছে মোদীর দলীয় সংগঠন আর এস এস। ফলে তিনি এদেশের জন্য লজ্জিত হতেই পারেন। কিন্তু ভারতবাসী এদেশে জন্মগ্রহণের জন্য কখনই লজ্জিত হননি। নরেন্দ্র মোদী তার চরম অহমিকার মধ্য দিয়ে মনে করছেন, গত এক বছরে তিনি দেশকে বদলে দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে তিনি দেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। দেশের বৃহৎ কর্পোরেটের মদতে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে নির্বাচনের মুখে অনেক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছিলেন মোদী। নিজের শরীর থেকে গণহত্যার ছাপ মুছতে উন্নয়নের মডেল ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এজন্য কর্পোরেট মিডিয়া মোদীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে টিভি ও কাগজে। সোস্যাল মিডিয়াতেও অত্যন্ত সংগঠিতভাবে প্রচার চলেছে মোদীর জন্য। প্রচারে এখনও ঘাটতি নেই। আকাশবাণী ও দূরদর্শনকে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করছে মোদী ও তার দল। কিন্তু মোদীর ‘মন কি বাত’ দেশের মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি এই এক বছরে। বরং মোদী সরকারের ভাঁওতাবাজি প্রতিদিনই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে মানুষের সামনে।

মোদী সরকারের গৃহিত নীতি অনুসারে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ক্রমাগত ছাঁটাই করা হচ্ছে। মহিলা ও শিশুকল্যাণ খাতে গতবছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। সরকারের এই নীতির ফলে শিশু ও মায়েদের জন্য জরুরি কর্মসূচিগুলি বাদ যাবে। স্বাস্থ্যখাতে ১৬ শতাংশের বেশি বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থা বেসরকারিকরণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ওষুধের দাম বাড়ছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পরেই নরেন্দ্র মোদী স্বচ্ছ ভারত গড়ার স্লোগান দিয়েছিলেন। সেই স্লোগান যে শুধুই মুখের কথা তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পানীয় জল ও নিকাশির বরাদ্দে ৫৯ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর নীতির প্রশ্নে ডিগবাজি খাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১২ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা করে বন্‌ধ ডেকেছিল বি জে পি। কিন্তু বর্তমানে মোদী মন্ত্রিসভা দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের মাল্টি ব্র্যান্ড খুচরো ব্যবসায় ৫১ শতাংশ বিনিয়োগের নীতিকে সমর্থন জানিয়েছেএখন আর গরিব মানুষের কথা মনে নেই মোদীর। গত এক বছরে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমিক-কৃষকের স্বার্থ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই মোদী সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ বেড়েছে। ভারতবাসী সবসময়ই গর্বিত এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবসম্পদের জন্য। কখনই নরেন্দ্র মোদীর জন্য ভারতবাসী গর্ববোধ করতে পারে না। বরং দেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য লজ্জিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

Advertisements

Tags: , , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s


%d bloggers like this: