Archive for the ‘Current Issues’ Category

Sangh-Inspired Film Censor Board

July 13, 2017

অমর্ত্য সেনকে নিয়ে তথ্যচিত্রে কোপ
তীব্র ক্ষোভের মুখে সেন্সর বোর্ড

নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ১২ই জুলাই– তাঁকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রে কয়েকটি অতি সাধারণ শব্দেও সেন্সর বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় বিস্মিত অমর্ত্য সেন বলেছেন, এ থেকে প্রমাণ হচ্ছে দেশ এক স্বৈরাচারী রাজত্বের হাতে চলে গেছে। দেশের পক্ষে কী ভালো তা তারাই একমাত্র স্থির করবেন এবং চাপিয়ে দেবেন দেশের মানুষের ওপরে।অমর্ত্য সেনের জীবন ও কাজ নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘দি আর্গুমেনটেটিভ ইন্ডিয়ান’—এর পরিচালক সুমন ঘোষকে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন জানিয়েছে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদের উচ্চারিত কয়েকটি শব্দ বাদ দিতে হবে। পরিচালক জানিয়েছেন, অন্তত চারটি শব্দ বাদ দিতে বলা হয়েছে: গোরু, গুজরাট, ভারত সম্পর্কে হিন্দুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি, হিন্দু ভারত। কলকাতায় সেন্সর বোর্ডের দপ্তরে তিন ঘণ্টা ধরে তথ্যচিত্রটি খুঁটিয়ে দেখার পরে বোর্ডের তরফে ওই রায় দেওয়া হয়েছে। পরিচালক বুধবার বলেছেন, তাঁকে মৌখিক ভাবেই ওই শব্দগুলি বাদ দিতে বলা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে আমার অপারগতার কথা জানিয়েছি।

পরিচলাক সুমন ঘোষ বলেছেন, তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাঁর ছাত্র ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর কথোপকথনের ধাঁচে। এই আলোচনার মধ্যে থেকে কয়েকটি শব্দ বাদ দিলে তথ্যচিত্রের মর্মবস্তুই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি সেন্সর বোর্ডের লিখিত বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছি। মুম্বাইয়ে রিভিউ কমিটিকে পাঠাবে কিনা, তা-ও দেখতে হবে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতেই আমার উত্তর হবে একই। হয়তো বিষয়টি মিটে যাবে, কিন্তু আমি কোনও শব্দ সরিয়ে নেব না। সুমন ঘোষ নিজেও অর্থনীতির শিক্ষক। ২০০২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ১৫ বছরে ছবিটি নির্মিত।

অমর্ত্য সেন নিজে এই ঘটনা জেনে ‘বিস্মিত’। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় তিনি বলেছেন, এমনিতে ‘গোরু’ আমার খুব পছন্দের শব্দ এমন নয়। আসলে গোরু নয়, আপত্তি গুজরাট নিয়ে। এই নয় যে গুজরাট শুনলেই ওঁরা আপত্তি করবেন। ২০০২-এ গুজরাটে কী ঘটেছিল সেটা বলেছি বলে এই আপত্তি।

জানা গেছে, তথ্যচিত্রে গুজরাটের ২০০২-র ঘটনাবলীর উল্লেখ এসেছে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অমর্ত্য সেনের একটি বক্তৃতায়। সেই ভাষণে গণতন্ত্রের গুরুত্বের কথা বোঝাতে গিয়ে গুজরাটে সরকারি মদতে অপরাধের কথা এসেছিল। এই তথ্যচিত্র ইতিমধ্যেই লন্ডন ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে।

কৌশিক বসু মন্তব্য করেছেন, ভারতের মতো দেশের মর্যাদার সঙ্গে, অমর্ত্য সেনকে সেন্সর করা, মেলে না। ভারত যেসব দেশের প্রতিনিয়ত সমালোচনা করে থাকে, এই ব্যবহার তাদের সঙ্গেই তুলনীয়।

সেন্সর বোর্ডের নির্দেশ নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিশিষ্ট শিল্পী, বুদ্ধিবৃত্তির জগতের মানুষজন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, কোন্‌ ফতোয়ায় সেন্সর বোর্ড চলছে। বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত এদিন বলেন, সেন্সর বোর্ড একটি রাজনৈতিক দলের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তাঁবেদার সংগঠনের কাজ করছে। অমর্ত্য সেন কী বলবেন, তা-ও কি ওঁরা ঠিক করে দেবেন নাকি? এ হলো মূর্খামি। এ শুধু সিনেমা জগতের ব্যাপার নয়, সমস্ত গণতান্ত্রিক মানুষেরই উচিত এর জোরালো প্রতিবাদ করা।

অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, এ তো এক ধরনের ফ্যাসিবাদ। যাঁর মুখের শব্দ নিয়ে আপত্তি করা হচ্ছে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত এক ব্যক্তি। সুতরাং এ চরম বোকামিও। তবে এই সরকারের কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ ক্রমশই আসতে থাকবে।

সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ গোরু বা হিন্দুত্ব উচ্চারণ করেছেন বলে তথ্যচিত্র বন্ধ হয়ে যাবে? এ কী করে সম্ভব? ওরা ঠিক করছে আমরা কী খাব, কী পরবো, কী বলব, কার সঙ্গে প্রেম করবো, কাকে বিয়ে করব; এখন ওরা ঠিক করতে চাইছে তথ্যচিত্রে কোন কথা আমরা শুনবো

অমর্ত্য সেনকে নিয়ে তথ্যচিত্রে এই বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে অনীক দত্তের ছবি ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ নিয়ে আরো এক বিতর্ক। এই ছবির রিলিজ এক সপ্তাহ পিছিয়ে গিয়ে হচ্ছে ২১শে জুলাই। ছবির এক প্রযোজক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, সেন্সর বোর্ড ‘রামরাজ্য’ শব্দ ব্যবহার আপত্তি জানিয়েছে। ‘রামরাজ্য’ শব্দটি বাংলায় নানা দ্যোতনায় ব্যবহার হয়। কিন্তু বি জে পি-রাজত্বে এখন এই শব্দের ব্যবহারও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবির প্রযোজক-পরিচালকরা এ নিয়ে তেমন কোনও মন্তব্য না করলেও জানা গেছে, ‘রাম’ শব্দটি বাদ দেবার জন্যই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিচালকের আপত্তি থাকলে তাঁকে রিভিউ কমিটির কাছে আবেদন করতে হবে। সেই আবেদন করা হচ্ছে না বলেই এদিন জানা গেছে।

সেন্সর বোর্ডের মাথায় এখন পহলাজ নিহালনি। তিনি খোলাখুলি বি জে পি-র সমর্থক। একের পর এক ছবির ক্ষেত্রে দক্ষিণপন্থী, হিন্দুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোর্ড আপত্তি জানিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবারই চিত্র পরিচালক প্রকাশ ঝা বলেছেন, নিহালনি ব্যক্তি হিসেবে কী করছেন, তা বড় কথা নয়। একটি মতাদর্শ পিছনে কাজ করছে।

অমর্ত্য সেন সম্পর্কে বি জে পি ও সঙ্ঘ পরিবারের মৌলিক আপত্তিই রয়েছে। তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানকে দেশদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করে বি জে পি-র তরফ থেকে বিশেষ করে সোশ‌্যাল মিডিয়ায় লাগাতার প্রচার করা হয়ে থাকে।

Advertisements

Cashless Economy of Chikalthana

November 25, 2016

চিকলথানার ক্যাশলেস ইকনমি

পি সাইনাথ

1111

নোট বাতিলে মহারাষ্ট্র জুড়ে বিপর্যস্ত কৃষক, ভূমিহীন খেতমজুর, পেনশনভোগী, ছোট ব্যবসাদার ও আরো আরো অনেকে। মোদীর ‘মাস্টার স্ট্রোকে’ তাঁদের সেই জীবনযন্ত্রণাই তুলে ধরলেন স্বনামধন্য সাংবাদিক পি সাইনাথ

এখানে এলে মনে হতেই পারে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ক্যাশলেস ইকনমির খোয়াব বাস্তবায়িত হয়েছে। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ শহরের একেবারে গা ঘেঁষে থাকা এই চিকলথানা গ্রামে সেই স্বপ্ন ঘোর বাস্তব। এখানে কারও হাতে কোনো নগদ টাকা নেই। ব্যাঙ্ক ও, এটিএম-এও নেই। তাই সেগুলির আশপাশে একবুক হতাশা নিয়ে মানুষের আনাগোনা, লাইন কোনোটাই নেই। এমনকি ব্যাঙ্কের শাখার বাইরে ভ্যানে বসা কোনো পুলিশকর্মীকে ওই চৌহদ্দিতেই নজরে পড়বে না।তবে চিন্তার কিছু নেই। খুবই শীঘ্রই ওই গ্রামের মানুষও তাঁদের আঙ্গুলে কালির দাগ দেখতে পাবেন।

চলুন ঘুরে আসা যাক দুর্গ শহর ঔরঙ্গাবাদের ভেতর থেকে। স্টেট ব্যাঙ্ক অব হায়দরাবাদের শাহগঞ্জ শাখায় ঢুকলেই নজরে পড়বে মরিয়া ব্যাঙ্ককর্মীরা তাঁদের গরিব ক্লায়েন্টদের সাহায্য করার জন্য ‘সংগ্রামরত’। সেখানে কেন, শহরের অন্য শাখা, প্রত্যেকটি শাখায় এখন ছেঁড়া-ফাটা ৫০, ১০০টাকার নোট ঝাড়াই-বাছাই চলছে। চূড়ান্তভাবে নষ্ট করে ফেলার জন্য এগুলির সবকটিই রিজার্ভ ব্যাঙ্কে পাঠানোর কথা। উপায় না দেখে এখন সেই বাতিল নোটই আবার নতুন করে বিলি করার ব্যবস্থা হচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও বিষয়টা ভালোই জানে, কিন্তু নীরবতা দিয়েই ব্যাপারটা উপেক্ষা করে চলেছে।

‘‘আমাদের আর কীই বা উপায় আছে?’’ জানতে চাইছেন এই সমস্ত ব্যাঙ্কের কর্মীরা। ‘‘লোকের তো এখন ছোট নোট দরকার। ওদের সমস্ত কাজকর্ম, লেনদেন বন্ধ হয়ে রয়েছে।’’ ব্যাঙ্ককর্মীদের সঙ্গে কথার মাঝেই সেখানে এসে হাজির জাভেদ হায়াত খান। ঠেলাওয়ালা, বাড়ি বাড়ি জিনিস ফেরি করে পেট চলে। রবিবার ব্যাঙ্কের বাইরে প্রায় এক কিলোমিটার লাইন পেরিয়ে যখন ব্যাঙ্কের দোড়গোড়ায় পৌঁছালেন, তাঁর হাতে ধরা মেয়ে রশিদা খাতুনের বিয়ের কার্ড।

‘‘সবমিলিয়ে আমার অ্যাকাউন্টে ২৭হাজার টাকা রয়েছে।’’ বলছিলেন, ‘‘তিন সপ্তাহ পরে মেয়ের বিয়ে, আর আমাকে বলা হচ্ছে মেয়ের বিয়ের জন্য মাত্র দশ হাজার টাকা তোলা যাবে। আমিই আমার টাকা তুলতে পারবো না।’’ আগের দিন দশহাজার টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ায় ব্যাঙ্ক তাঁকে ফেরত পাঠাচ্ছে। যদিও আজও তাঁর ওই একই টাকা তোলার এক্তিয়ার রয়েছে। কারণ ব্যাঙ্ককর্মীদের আন্দাজ, যেভাবে ব্যাঙ্কের চারপাশে সর্পিল লাইন বেড়ে চলেছে তার জন্য তাদের হাতে থাকা টাকা যথেষ্ট নয়। আর তাঁরা চাইছেন এই লাইনগুলির প্রত্যেকে যেন কিছু না কিছু টাকা পান। এঁদেরই দুজন এখন জাভেদকে সাহায্য করতে চান। তাঁরাই জানালেন, মেয়ের বিয়ের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙিয়ে ওই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে এসেছে।

বহু নিবন্ধকার, বিশ্লেষক আর সরকারি রিপোর্ট এরই মধ্যে তুলে ধরেছে, ভারতের ‘কালো’ অর্থনীতির বড় অংশটাই রয়েছে সোনা-রুপোর বাজার, বেনামী জমির কারবার ও বৈদেশিক মূদ্রার কবলে। পুরানো কাঠের সিন্দুকে ঠাকুমার জমিয়ে রাখা নোটের গাদায় নয়। ভারত ও বিদেশের কালো টাকা মোকাবিলায় পদক্ষেপ সম্পর্কে ২০১২সালের একটি রিপোর্টে এই কথাটাই বলেছিলেন সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডাইরেক্ট ট্যাক্সের চেয়ারম্যান। ১৯৪৬ ও ১৯৭৮-এ অতীতের দু-দুবার টাকা বাতিলের ‘শোচনীয়ভাবে ব্যর্থতার’ কথাও ওই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছিল (পৃষ্ঠা ১৪, পার্ট টু, ৯.১)। তা সত্ত্বেও সেই একই কাজের পুনরাবৃত্তি করলো বিজেপি সরকার। এমন একটা অবিশ্বাস্য নির্বুদ্ধিতার কাজকে বাহবা দিতে হরেক কিসিমের অ্যাঙ্কর আর টেলিভিশন ভাঁড়রা ‘মোদীর মাস্টারস্ট্রোক’ বলে গলা ফাটাচ্ছে, তা আসলে গ্রাম ভারত জুড়ে মর্ম বেদনা আর দুর্গতিই ছড়াচ্ছে। এতে যদি কারও ‘স্ট্রোক’ হয়ে থাকে তা হলো ওই গ্রামীণ অর্থনীতির হৃদয়েই।

আর সেই স্ট্রোকের ধাক্কা থেকে সেরে উঠতে কতটা সময় লাগতে পারে তা প্রথমেই গুলিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও তাঁর দলীয় সহকর্মীরা, ২-৩দিনের অস্বস্তি বলে। ড. জেটলি আবার পরে তা শুধরে নিয়ে বললেন ২-৩সপ্তাহ। ঠিক তারপরই তাঁর সিনিয়র সার্জেন, নরেন্দ্র মোদী, বললেন যে রোগীর স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধারে তাঁর ৫০দিন সময় চাই। তাহলে ২০১৭-তেও চলবে আমাদের এই চিকিৎসা পর্ব। আমরা জানি না এর মধ্যে দেশজুড়ে আরো কত মানুষ লাইন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে মরে যাবেন, তবে প্রতিদিন তাঁদের সংখ্যা বাড়বে।

‘‘নাসিকের লাসালগাঁওতে, কিষানরা নগদ সংকটে পেঁয়াজ বাজারই বন্ধ করে দিয়েছে’’, খবর দিলেন আধুনিক কিষান সাপ্তাহিকীর সম্পাদক নিশিকান্ত ভালেরাও। ‘‘বিদর্ভ আর মারাঠাওয়াড়ায় তুলোর দাম প্রতি কুইন্টালে ৪০শতাংশ পড়ে গেছে।’’ সামান্য কিছু লেনদেন ছাড়া বিক্রিবাটা বন্ধ হয়ে রয়েছে। ‘‘কারও হাতে কোনো ক্যাশ নেই। কমিশন এজেন্ট, পণ্য উৎপাদন, ক্রেতা সকলেই সমানভাবে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন,’’ জানালেন দ্য টেলিগ্রাফের নাগপুরের সাংবাদিক জয়দীপ হারদিকার। ‘‘গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলিতে চেক জমা দেওয়া সবসময়েই একটা ক্লান্তিকর ব্যাপার ছিল আর এখন টাকা তোলা হলো একটা দুঃস্বপ্ন।’’

তাই, খুব কম কৃষকই চেক নেবে। কিন্তু কবে যে এগুলি দিয়ে টাকা তোলা যাবে তার অপেক্ষায় থাকলে ওদের সংসার চলবে কী করে? অনেকেরই আবার চালু কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই নেই।

এই রাজ্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সারা দেশে ৯৭৫টা এ টি এম রয়েছে। তার মধ্যে ৫৪৯টা হতাশা ছাড়া আর কিছুই পরিবেশন করছে না। ওই অচল এ টি এম-গুলির বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকায়। এর প্রভাবের একটা ছেঁদো যুক্তি খাড়া করা হয়, ‘‘গ্রামীণ এলাকা ধারের উপরেই চলে। নগদের এখানে কোনো মানেই নেই।’’ সত্যিই? এটাই এখানে সবকিছু।

একেবারে নিচের স্তরে লেনদেনের সিংহভাগটাই চলে নগদে। এক সপ্তাহের মধ্যে ছোট নোট না পৌঁছালে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যার ভয় পাচ্ছেন ছোট গ্রামীণ শাখার ব্যাঙ্ককর্মীরা। অন্যরা বলছেন, সংকট তো এর মধ্যেই রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কিছু নগদ এলেও তা কিছুই কমবে না।

ঔরঙ্গাবাদে আরেকটা লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে ভয়ে সিঁটিয়ে পারভেজ পাঠান। এক কনস্ট্রাকশন সাইটের সুপারভাইজার। ভয় পাচ্ছেন কখন তাঁর সাইটের শ্রমিকরা খেপে গিয়ে তাঁকে মারতে আসেন। ‘‘ওরা তো ওদের কাজ করেছে, ওদের তো পয়সা দিতে হবে।’’ বলছিলেন, ‘‘কিন্তু আমার হাতে কোনো নগদ টাকা নেই।’’ চিকলথানা গ্রামে, রাইস আখতার খান বলছিলেন, তিনি আর তাঁর মতোই কমবয়সি অন্য মায়েদের এখন ছেলেমেয়ের জন্য খাবার জোগাড়ই দায় হয়েছে। কখনই বা তাঁরা করবেন এসব। ‘‘কারণ দিনের বেশিরভাগটাই তো চলে যাচ্ছে লাইন দিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যাচ্ছে, ছেলেমেয়েগুলো অভুক্ত থেকে যাচ্ছে।’’

লাইনে দাঁড়ানো বেশিরভাগ মহিলাই বলছেন, তাঁদের হাতে ২-৪দিনের সুযোগ আছে। খুব কষ্ট করেও তাঁরা এমনটা ভাবতে পারছেন না, তার মধ্যে ক্যাশ ফ্লো’র সমস্যা মিটে যাবে। হায়! সমস্যা মেটার নয়।

কৃষক, ভূমিহীন খেতমজুর, গৃহপরিচারক, পেনশনভোগী, ছোটখাটো ব্যবসাদার, আরও অনেকে- সকলেই ভয়ানক আঘাতের মুখে। এমন অনেকেই রয়েছেন যাঁরা শ্রমিকদের কাজে লাগাতে গিয়ে ধারের খাতায় চলে যাবেন, মজুরি মেটাতে টাকা ধার করতে হচ্ছে। আবার অন্যদের মতো তাঁদের খাবার কিনতে পয়সা জোগাড় করতে হচ্ছে। ঔরঙ্গাবাদ স্টেশন রোডে স্টেট ব্যাঙ্ক অব হায়দরাবাদের শাখার এক কর্মী জানালেন, ‘‘যত দিন যাচ্ছে, আমাদের লাইন বেড়েই চলেছে, কমার নাম নেই।’’ হাতে গোনা এই সামান্য কর্মী নিয়ে এই বিপুল পরিমাণ লোক সামাল দেওয়া মুখের কথা। আরেক কর্মী আবার তুলে ধরলেন সফটওয়ারের ত্রুটির কথা, যা পরিচিতিপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

লোককে দুটো ২০০০টাকা নোটের জন্য সর্বোচ্চ আটটা ৫০০ কিংবা চারটি ১০০০টাকা নোট বদলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা এককালীন লেনদেন। ‘‘হ্যাঁ, পরদিনই যদি আপনি আবার চেষ্টা করেন তাহলে আপনার ধরা পড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আপনি এই ফাঁদ এড়িয়ে যেতে পারেন। কিছুই না, কেবল একটা অন্য আইডি ব্যবহার করুন। আজ যদি আপনি আধার কার্ড ব্যবহার করেন, কাল তাহলে আপনার পাসপোর্ট নিয়ে আসুন, তার পরদিন আনুন প্যান কার্ড, ধরা না পড়েই আপনি বারে বারে টাকা বদলে যেতে পারবেন।’’

এখন, বাস্তবে যদিও কম লোকই এমনটা করছেন। বেশিরভাগই সিস্টেমের এই ত্রুটির কথাটা জানেই না। কিন্তু সরকারের প্রতিক্রিয়া উন্মাদের মতো। ওরা এখন লোকের হাতে ভোটের কালি লাগানোর কথা ঠিক করেছে। কালি লাগানো হবে ডানহাতে যাতে যেখানে যেখানে উপনির্বাচন রয়েছে সেখানে কোনো সমস্যা না হয়।

স্টেশন রোডের লাইনে দাঁড়ানো ছোট ঠিকাদার আর পাতিল বললেন, ‘‘সরকারের অর্ডার নিয়ে কখনো ভাববেন না।’’ ‘‘বাস্তবে কোথাও কোনো হসপিটাল বা ওষুধের দোকানে ৫০০ বা ১০০০-এর নোট নিচ্ছেই না।’’ পাতিলের পাশে দাঁড়ানো সঈদ মোদক বলে উঠলেন। পেশায় কাঠের মিস্ত্রি সঈদকে গুরুতর অসুস্থ এক নিকটাত্মীয়কে নিয়ে ক্লিনিকে ক্লিনিকে ঘুরতে হয়েছে। ‘‘প্রত্যেক জায়গা থেকে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ বলছিলেন, ‘‘হয় তারা ২০০০টাকার নোট নেবে না, নয়তো বলেছে, খুচরো নেই।’’

এরই মধ্যে গোটা ভারতের চোখ এখন নাসিকের উপর, সেখান থেকে নতুন ছাপা নোট বেরিয়ে আসবে। গ্রামাঞ্চলের কেউই এখনও তা হাতে পাননি। তবে সকলেরই আশা  তা ঘটবে।


   Courtesy: Ganashakti

Well-planned Communal Battle Cry

December 24, 2015

গোরু থেকে পাথর, যা হচ্ছে সবই পরিকল্পিত

সাম্প্রদায়িক হিংসা লাফিয়ে বাড়ছে

বিশেষ প্রতিবেদক

লরি বোঝাই পাথর আসছে অযোধ্যায়। শিলাপূজা চলছে। রাম জনমভূমি ন্যাসের সভাপতি ঘোষণা করছেন, মোদী সরকারের ‘সিগন্যাল’ মিলেছে। মন্দির তৈরি করতে হবে এখনই।সাম্প্রদায়িক জিগির, হিংসা ছড়ানোর আরো এক তাস খেলা শুরু হলো। গত দেড় বছরে এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোজ নতুন নতুন সাম্প্রদায়িক অ্যাজেন্ডা সামনে আনছে আর এস এস-বি জে পি। নতুন ঠিক নয়, পুরনো, আর এস এসের চিরকালীন বিষয়গুলিই। বলা ভালো নতুন করে তুলে আনছে। গোটা দেশকে সেই অ্যাজেন্ডায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে

‘আচ্ছে দিন’-এর স্লোগানকে পিছনে ঠেলে জিনিসের দাম লাফিয়ে বাড়ছে, কৃষির সংকট, ফসল না-পাওয়া কৃষকের আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান ঘটনা, শ্রম আইন সংশোধন করে মেহনতির ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়ে কর্পোরেট পুঁজির লুটের রাস্তা অবাধ করার কাজ চলছে। রেগা, আই সি ডি এস, মহিলা সুরক্ষা সহ বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে ছাঁটাই চলছে নির্বিচারে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ঘুরছেন, কোটি কোটি কর্মপ্রার্থীর কাজের সুযোগ তৈরির কোনো প্রচেষ্টা নেই।

এমন অবস্থায় আরো বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে বিভাজনের রাজনীতি। ধর্মীয় উন্মাদনার গোলকধাঁধায় ঢুকিয়ে দিতে হবে মানুষকে, বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে। রোজ সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবারই লোকসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন তাতে বছরের প্রথম দশ মাসেই ৬৫০টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় ৮৪জনের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যাতত্ত্বেও কারিকুরির অভিযোগ উঠছে।

মোদী-রাজে দেশে সাম্প্রদায়িকতা, অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির ঘটনায় দেশজোড়া প্রতিবাদের মধ্যেই গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে সরকার এই ধরনের ঘটনা কম করে দেখাচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী ২০১৪সালে দেশে ৬৪৪টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অথচ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর হিসেব অনুযায়ী ২০১৪সালে দেশে ১২২৭টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় ২০০০জন জখম হয়েছেন। তাহলে কোনটি সঠিক? বিপদে পড়ে এখন একই মন্ত্রকের দুইরকম তথ্যের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

সংখ্যার হিসেবের কচকচানি ছেড়ে দিলেও খালি চোখেই যা দেখা যাচ্ছে তাতে স্পষ্ট শুধু সাম্প্রদায়িক হানাহানি নয়, প্রতিদিনের জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে সংঘ। খাদ্যাভ্যাস থেকে ধর্মাচরণ, প্রেম-বিবাহ, সঙ্গী নির্বাচনের মত একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়েও নিয়ন্তা হতে চাইছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। বিপদ সবথেকে বেশি সেখানেই।

উচ্চশিক্ষা, গবেষণার প্রতিষ্ঠানগুলির দখলদারি সম্পূর্ণ হয়েছে। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও একই অবস্থা। ইতিহাস বিকৃতির কাজ চলছে। শিশুমনেই সংঘের ইতিহাস গেঁথে দেওয়ার সরকারী উদ্যোগ শুরু হয়েছে। অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারের আবাদ হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কর্পোরেট মিডিয়াকে পকেটে পুরে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। যে কোনো পোস্ট মন মতো না হলেই শারীরিক আক্রমণ। শুরুতেই মুম্বাইয়ে খুন হয়ে গেছেন পেশাদার সফটওয়ার বিশেষজ্ঞ সাদিক শেখ।

একের পর এক যুক্তিবাদীরা খুন হচ্ছেন। অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। এতই অপদার্থ আমাদের পুলিশ, প্রশাসন? এতই নিষ্কর্মা গোয়েন্দা বিভাগ? নাকি এক্ষেত্রেও হিন্দু সন্ত্রাসবাদীদের মত ছাড় দেওয়ার খেলা চলছে, প্রশ্ন সেটাই। এই সরকার তো সন্ত্রাসবাদীও স্থির করছে ধর্ম দেখে।

গোরুর মাংসের গুজব ছড়িয়ে মহম্মদ আখলাককে খুন করা হচ্ছে। আবার উগ্র হিন্দুত্ববাদী সাংসদরাই জোর করে মুখে খাবার গুঁজে দিচ্ছে রোজা রাখা সরকারি কর্মীকে। বই প্রকাশ আটকাতে কালি লেপা হচ্ছে তো আমির খানকে দেশ ছাড়তে বলা হচ্ছে। ক্রিকেট মাঠ থেকে দিলওয়ালে– আক্রমণ সর্বব্যাপী।

সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াতে সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা বেপরোয়া, বেলাগাম। প্রধানমন্ত্রী নীরব, নিশ্চুপ। তবে চুপ থাকতে পারলেন না বেশি দিন। বিহার ভোটে ‘ময়ূর পুচ্ছ’ খুলে উলঙ্গ হয়েই ময়দানে নেমে পড়লেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী যে এভাবে সরাসরি সাম্প্রদায়িক জিগির ছড়াতে পারেন, সে ঘটনারও সাক্ষী হলো দেশ।

ধর্মান্তরকরণ, লাভ জিহাদ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, কাশ্মীর, ৩৭০ ধারা, গোরু, রাম মন্দির– উগ্র ধর্মীয় জিগির ছড়ানোর কাজ চলছে। যখন যেটা সামনে আনলে সুবিধে সেই মত কাজ চলছে। রাজ্যে রাজ্যে বিশেষ করে গরিব মানুষকে ভয় বা লোভ দেখিয়ে একদফা ধর্মান্তরকরণ চললো। ‘লাভ জিহাদের’ নামে তরুণ-তরুণীদের মেলামেশা, সঙ্গী নির্বাচনেও বাধা দিতে নেমে পড়লো সংঘ। দিল্লি সহ একাধিক রাজ্যে আক্রান্ত হলো খ্রিস্টানদের উপাসনা ঘর। আক্রান্ত হলেন যাজকরা

ছত্তিশগড়, মধ্য প্রদেশের মত বি জে পি শাসিত রাজ্যের রেগার কাজ, রেশন দেওয়া বন্ধ করে আদিবাসী খ্রিস্টানদের জোর করে ধর্মান্তরকরণ করানো হলো। এরপর শুরু হলো গোরু। যাকে যেখানে খুশি ‘গো-মাতার’ নামে আক্রমণ করা যায়। খুন করা যায়। বিহার ভোটের মুখেও গোরু নিয়ে মরিয়া প্রচার চললো। এবার টার্গেট উত্তর প্রদেশ। ভোট ২০১৭সালে। শুরু হয়েছে রাম মন্দির নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর খেলা।

কোনোকিছুই বিচ্ছিন্ন বা বিক্ষিপ্ত নয়। হঠাৎ করে কিছু ঘটে যাচ্ছে না। সারা দেশে সাম্প্রদায়িক জিগির ছড়ানোর যে কাজ চলছে তাকে শুধুই অসহিষ্ণুতা বলা চলে না। আর এস এস তার নিজস্ব অ্যাজেন্ডা অনুযায়ী চলছে এবং তা চাপিয়ে দিচ্ছে জনগণের ওপর। মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে সেই অ্যাজেন্ডায়। সবটাই সুপরিকল্পিত, পূর্বনির্ধারিত

Govt’s Exploitation In Petroleum Pricing

November 21, 2015

উৎপাদন খরচের চেয়ে কর বেশি!

44858654

দিল্লীঃ কথায় বলে বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচি। পেট্রলের দামের ক্ষেত্রে কথাটা বাস্তব হয়ে গেল। এই বছরেই করের হার ৫ বার বাড়ানোর পর জ্বালানিটির বাজার মূল্যে উৎপাদন খরচের চেয়ে করের হার বেশি হয়ে গেছে।

রাজধানীতে এখন পেট্রলের দাম লিটারে ৬০.৭০ টাকা। এর মধ্যে ৩১.২০ টাকা দিতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় কর এবং উৎপাদন শুল্ক বাবদ। অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসোলিনের দাম এবং চলতি মুদ্রা বিনিময় হার ধরলে সংশোধনাগারে এক লিটার পেট্রল উৎপাদন করতে পড়ছে ২৪.৭৫ টাকা। এর সঙ্গে কোম্পানির লাভ এবং অন্যান্য খরচ  ধরে পেট্রল পাম্প ডিলারকে জ্বালানিটি দেওয়া হয় লিটারে ২৭.২৪ টাকায়।

এরপর  যুক্ত হচ্ছে ১৯.০৬ টাকার উৎপাদন শুল্ক বা এক্সাইজ ট্যাক্স, ১২.১৪ টাকার ভ্যাট বা সেলস ট্যাক্স এবং ডিলারের কমিশন লিটারে ২.২৬ টাকা। সব মিলিয়ে দিল্লিতে পেট্রলের দাম হচ্ছে লিটারে ৬০.৭০ টাকা।

একইভাবে ডিজেলের উৎপাদন খরচ  পড়ে ২৪.৮৬ টাকা। কিন্তু কর  ধরলে পেট্রল পাম্পে সেই দামই গিয়ে দাঁড়ায় লিটারে ৪৫.৯৩ টাকা।

কেন্দ্রীয় সরকার ৭ নভেম্বর সর্বশেষ পেট্রলে উৎপাদন শুল্ক বাড়ায় ১.৬০ টাকা এবং ডিজেলে ৪০ পয়সা। তবে তেল কোম্পানিগুলি এই খরচ গ্রাহকের দিকে ঠেলে না দিয়ে নিজেদের লাভ থেকে পুষিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ এই কর বৃদ্ধি থেকে সরকারের ৩,২০০ কোটি টাকা আয়  হবে বলে অনুমান।

২০১৪–১৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্র জ্বালানির ওপর  কর  বসিয়ে ৯৯,১৮৪ কোটি টাকা আয়  করেছে।


   সৌজন্যেঃ আজকাল।

Untying the Civil Nuclear Liability Knot in the Indo-US Nuclear Deal

January 6, 2015

371581

Salboni Epitaph

December 22, 2014

শালবনির সমাধিফলক

salboni-jsw

শালবনির ২৯৪ একর জমিতে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-ভবিষ্যতের সমাধি রচনার কাজটি অনেকখানি অগ্রসর হইল। ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত না চাহিয়াই জিন্দল গোষ্ঠী স্থানীয় মানুষের নিকট হইতে কেনা জমি ফিরাইয়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত করিয়াছে। মুখ্যমন্ত্রী উচ্ছ্বসিত। সারদা হইতে খাগড়াগড়, সর্বব্যাপী অপশাসনের অভিযোগে তাঁহার টালমাটাল রাজনীতি ফের পায়ের নীচে জমি পাইয়াছে বলিয়াই জ্ঞান করিতেছেন হয়তো। শিল্প সংস্থার হাত হইতে ছিনাইয়া লওয়া জমি। সিঙ্গুরে পারেন নাই, শালবনিতে পারিয়াছেন। রাজনৈতিক সংকীর্ণতাই তাঁহার অভিজ্ঞান। অতএব, তিনি স্বভাবতই বুঝিতে পারেন নাই, ইহা তাঁহার জয় নহে, পশ্চিমবঙ্গের পরাজয়। অবশ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ লইয়া তাঁহার উদ্বেগের কোনও প্রমাণ গত সাড়ে তিন বত্সরে মিলে নাই। পশ্চিমবঙ্গের এই পরাজয়ের গ্লানি তাঁহার মরমে প্রবেশ করিবে, ইহা দুরাশা। তাঁহার উচ্ছ্বাস, অতএব, স্বাভাবিক।

শালবনির ইস্পাত কারখানা হইতেই পশ্চিমবঙ্গ ঘুরিয়া দাঁড়াইতে পারিত। শিল্পসংস্থাটি সাতশত কোটি টাকা অকারণে ব্যয় করে নাই— পশ্চিমবঙ্গে তাহাদের আগ্রহ ছিল। প্রয়োজন ছিল শুধু সরকারি সহযোগিতার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যত দূর সম্ভব, অসহযোগিতা করিয়াছে। জমির ঊর্ধ্বসীমা লইয়া টালবাহানা হইতে বিদ্যুৎ উত্পাদনের পথে বাধা সৃষ্টি করা, অথবা জমি ফেরত দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন, যতগুলি অকর্তব্য ছিল, মমতা করিয়াছেন। বিরোধী অবতারে তিনি টাটা মোটরসকে তাড়াইয়াছিলেন। শাসক হইয়া জেএসডব্লিউ-কে বিদায় করিলেন। এই রাজ্যে স্থানীয় শিল্পপতিদের লইয়া নদীবক্ষে রাত্রিব্যাপী বিচিত্রানুষ্ঠানই হইবে।

শিল্পের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমাতৃসুলভ মনোভাবের কথাটি শিল্পমহল বিলক্ষণ জানে। কিছু দিন পূর্বে আদি গোদরেজ রাখঢাক না করিয়াই বলিয়া দিয়াছিলেন, গোটা দেশ যখন বিনিয়োগ টানিবার প্রতিযোগিতায় নামিয়াছে, তখন এমন শিল্পবিরোধী জমিনীতি লইয়া পশ্চিমবঙ্গ কী করিবে? যাঁহারা মুখ ফুটিয়া কথাগুলি বলেন নাই, তাঁহারাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলিয়া চলিয়া গিয়াছেন। এই রাজ্যে বিনিয়োগের প্রশ্নে তাঁহাদের নিকট হইতে স্মিত নীরবতা ভিন্ন কিছুই মিলে নাই। মুখ্যমন্ত্রী তবুও অনড়। কিছু দিন পূর্বে জমি আইন সংস্কারের নামে একটি প্রহসন করিয়াছেন মাত্র। সিঙ্গুরের জমি লইয়া কুনাট্য চলিতেছে। তাহার সহিত যোগ হইল শালবনি। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কর্তব্য ছিল প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, সেখানে তিনি ২৯৪ একর জমি ফিরিয়া পাইয়া উল্লসিত

প্রশ্ন শুধু জমিনীতির নহে। প্রশ্ন এই রাজ্যের শাসকদের মানসিকতার, জমিনীতি যাহার একটি প্রকাশমাত্র। এই রাজ্যের শাসকদের নিকট শিল্প গুরুত্বহীন। তাঁহাদের ক্ষুদ্র রাজনীতির সর্বগ্রাস বাঁচাইয়া যদি শিল্প টিকিতে পারে তো টিকিবে, নচেৎ তাহা লইয়া শাসকদের মাথাব্যথা নাই। শিল্পের অনুকূল পরিবেশ গড়িতে যাহা প্রয়োজন, তাহার কিছুই এই রাজ্যে নাই। শাসকরা রাখিতে পারেন নাই। বিনিয়োগকারীরা এই মানসিকতাটিকেই ডরান। যে রাজ্যে তাঁহারা পুঁজি লগ্নি করিবেন, সেই রাজ্যের অধীশ্বররা যদি কোনও সহযোগিতারই পথ না মাড়ান, তাঁহারা বিনিয়োগ করিবেন কীসের ভরসায়?

মুখ্যমন্ত্রী জমির জট ছাড়াইতে পারেন নাই, তাঁহার দলের খুচরা নেতাদের তোলা আদায়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টামাত্র করেন নাই, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাকে স্বহস্তে গঙ্গায় বিসর্জন দিয়াছেন। শালবনিকাণ্ডে তিনি বুঝাইয়া দিলেন, বিনিয়োগকারীর প্রকৃত আগ্রহও তাঁহাকে শিল্পমুখী করিতে পারিবে না।

Saradha Chief Wanted to Escape to POK

December 17, 2014

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে পালাতেন সারদাকর্তা: রিপোর্ট

sudipa-sen-kunal-ghosh-655x360

saradha-1
saradha-2

Minorities At Crossroads

September 18, 2014

হিন্দুত্ব তার সহনশীল মুখটা হারিয়ে ফেলছে

দেবেশ রায়

শ্রী ফলি এস নরিম্যান বর্তমানে ভারতের শ্রেষ্ঠ আইনজীবীদের একজন৷‌ সাংবিধানিক বিধি ও রীতি সম্পর্কে তাঁর মতামত সারা দেশে গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সঙ্গে শোনা হয়৷‌

১২ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার তিনি দিল্লিতে এক পূর্বনির্ধারিত বক্তৃতা দিয়েছেন৷‌ ‘সংখ্যালঘু জাতীয় কমিশন’-এর বার্ষিক বক্তৃতা৷‌ বিষয় ছিল– ‘সংখ্যালঘুদের পথসঙ্কট: বিচারবিভাগীয় ঘোষণা সম্পর্কে মম্তব্য’৷‌ এই সভার সভামুখ্য ছিলেন শ্রীমতী নাজমা হেপতুল্লা– বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী৷‌

nariman-main

শ্রীমতী হেপতুল্লা কংগ্রেসের নেত্রী ছিলেন ও রাজ্যসভার উপসভামুখ্যও ছিলেন৷‌ গত সাধারণ নির্বাচনে তিনি বি জে পি-তে যোগ দেন৷‌ শ্রীমতী হেপতুল্লা হলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদের নাতনি৷‌ তাঁকে দলে পেয়ে নিশ্চয়ই তাদের সাম্প্রদায়িক পরিচয় একটু হালকা করার সুযোগ পেয়েছিল বি জে পি৷‌ বি জে পি-কে এমন সুযোগ করে দিয়েছেন আরও কয়েকজন মুসলিম নেতা ও বুদ্ধিজীবী৷‌ বি জে পি-তে যোগ দেওয়ার সময়, গত লোকসভা ভোটের আগে, বি জে পি-র অসাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে তাঁদের নতুন বোধোদয়কে তাঁরা প্রচার করেছিলেন৷‌ বি জে পি-ও কাজে লাগিয়েছিল৷‌

শ্রী নরিম্যানের বক্তৃতায় সাম্প্রতিকতম রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার ধারণার এমন তরলতা সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বকে যেমন অনিশ্চিত করে তুলছে সেই কথাটাই প্রধান হয়ে উঠেছে৷‌ সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে তো অনেক কথাই হয় ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী যে-কোনও যুক্তিই মান্য৷‌

কথাটা আবারও বলছি– সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে কোনও যুক্তিই মান্য৷‌

এই কথাটির আড়ালে আর একটি কথা আছে যা সমান সত্য৷‌ সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে কোনও যুক্তির আভাসও গ্রাহ্য নয়৷‌

শ্রী নরিম্যান ঠিক এই জায়গাটিতেই পৌঁছেছেন তাঁর এই বক্তৃতায়৷‌

পৌঁছেছেন তাঁর দীর্ঘ জীবনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জোরে, যাকে আমরা প্রাজ্ঞতা বলি৷‌ পৌঁছেছেন ভারতের সংবিধানের ভিত্তি তৈরি করেছে যে রাজনৈতিক দর্শন সে সম্পর্কে তাঁর বৃত্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে৷‌ পৌঁছেছেন– সংখ্যালঘুদের সসম্মান নিরাপত্তার আইনি বাধ্যতা সম্পর্কে তাঁর সচেতনতা থেকে৷‌

এই প্রাজ্ঞতা, অভিজ্ঞতা ও সচেতনতা তাঁর এই বক্তৃতাটিকে এমন দৃঢ়তা দিয়েছে৷‌ পি টি আই এই বক্তৃতাটি প্রচার করেছে৷‌ পুরো বক্তৃতাটিই প্রায় প্রত্যেকের অবশ্যপাঠ্য৷‌ আমি এখানে তাঁর কথা দিয়েই প্রধানত তাঁর বক্তব্যের যুক্তিটা সাজানোর চেষ্টা করছি৷‌ যাঁরা চাইবেন তাঁরা  পুরো বক্তৃতাটিই কম্পিউটারে পড়ে নিতে পারবেন এইখানে ক্লিক করে।

শ্রী নরিম্যান তাঁর বক্তৃতা শুরু করেন এই বলে– কেন্দ্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন ‘কিন্তু ভয়ে-ভয়ে, অতীতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারদের সংখ্যাগুরুবাদের (‘মেজরিটেরিয়ানইজম’) প্রতি পক্ষপাত আমি লক্ষ্য করেছি৷‌’

ভারতের সব ধর্মবিশ্বাসের মধ্যে ‘হিন্দুধর্মের ঐতিহ্যে সহনশীলতা সবচেয়ে লক্ষণীয়৷‌ কিন্তু সাম্প্রতিক কালে উন্মার্গতা ও ঘৃণাগর্ভ বক্তৃতাবাজি দিয়ে উসকোনো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অবিরল ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে হিন্দুদের সহনশীলতার ঐতিহ্যের ওপর ক্রমেই চাপ তৈরি করা হচ্ছে৷‌ এবং আমাকে খোলাখুলি বলতে দিন যে হিন্দুত্ব (শ্রী নরিম্যান নিজেই এই শব্দটির নিচে দাগ দিয়েছেন) ক্রমেই তার সহনশীল মুখটা হারিয়ে ফেলছে৷‌ তার কারণ ও একমাত্র কারণ, এমন কথা বিশ্বাস করা হচ্ছে ও গর্ব করে বলাও হচ্ছে (মাথার ওপরে যাঁরা আছেন, তাঁরা কেউ এই সব কথার কোনও প্রতিবাদও করছেন না) যে হিন্দুত্বের জোরেই (শ্রী নরিম্যান নিজেই ‘হিন্দুত্ব’ শব্দটি বড় হরফে লিখেছেন) তাঁরা শাসনক্ষমতা দখল করতে পেয়েছেন৷‌ আমরা রোজ-রোজ টেলিভিশনে দেখছি ও খবরের কাগজে পড়ছি, কোনও-কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের কোনও-কোনও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জিগির তুলছেন৷‌ এই সব জিগির নিয়ে অনেকেই বলছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার এ-সব বন্ধ করার কোনও চেষ্টাই করছে না৷‌ আমি তাঁদের সঙ্গে একমত৷‌’

বি জে পি এম পি যোগী আদিত্যনাথ নির্বাচনী সভাগুলিতে পরপর যা সব বলেছেন তার জন্য নির্বাচন কমিশন তাঁকে তিরস্কার করেছে, তাঁকে হুঁসিয়ারি দিয়েছে ও তাঁর বিরুদ্ধে এফ আই আর করার নির্দেশ দিয়েছে৷‌ আর এস এস-এর প্রধান মোহন ভাগবত ভারতকে ‘হিন্দুজাতির বাসস্হান’ বলে বর্ণনা করেছেন৷‌ নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতালাভের পর সঙঘ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অনেক রাজনৈতিক নেতা অনেক উত্তেজক কথা বলছেন৷‌

‘সংখ্যালঘু জাতীয় কমিশনের প্রধান কাজ সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা করা৷‌ সে কাজ তারা করছে না৷‌ সরকার মাত্রই তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী কিছু কাজ করে ও কিছু কাজ করে না৷‌ সেই কারণেই পার্লামেন্ট স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংখ্যালঘু কমিশন তৈরি করেছে৷‌ কমিশনের প্রধান কাজ সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা৷‌ যদি কোনও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে প্রতিদিন আক্রমণ করা হয়, নিন্দে করা হয়, ঠাট্টা করা হয়, মানহানিকর ভাষায়, তা হলে তাদের স্বার্থরক্ষা হবে কীভাবে? এর উত্তর হল– এদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ও ফৌজদারি আইনবিধির ব্যবস্হা প্রয়োগ করে৷‌ অন্যথায় এই কমিশন সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার প্রধান কর্তব্যটিই পালন করতে পারবে না৷‌

‘যাঁরাই ঘৃণা ছড়িয়ে বক্তৃতা করবেন, তাঁদেরকে কোর্ট-এর বিধিব্যবস্হা দিয়ে প্রতিহত করতে হবে৷‌ সেই উদ্যোগ নিতে হবে সংখ্যালঘু কমিশনকে৷‌ কারণ, এই সংগঠনই সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার আইনি সংগঠন৷‌ যাঁরাই এমন ঘৃণা ছড়াবেন, তিনি যে সম্প্রদায়েরই হোন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্হা নিয়ে তাঁকে আটকাতে হবে ও সেই আইনি ব্যবস্হার কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে৷‌’

সুপ্রিম কোর্ট বহুবার সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা করেছে ও তারা ‘সুপার সংখ্যালঘু কমিশন’-এর মতো কাজ করেছে৷‌ কিন্তু ১৯৯০-এ বি জে পি যখন জাতীয় রাজনীতিতে ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ এই শব্দ ব্যবহার শুরু করে তখন থেকেই বিচার ও আইনের ব্যাখ্যায় কিছু বদল লক্ষ্য করা গেছে৷‌’

‘ওই লেবেলটা সেঁটে গেছে৷‌ সংখ্যালঘু শব্দটি ক্রমে একটা অপ্রিয় শব্দ হয়ে ওঠে৷‌ ও উঠেছে৷‌ সেই একই রাজনৈতিক দল তাদের মে-জুন ১৯৯১-এর নির্বাচনী ইস্তাহারে এ-কথা বলে যে তারা যখন ও যদি ক্ষমতায় আসে, তা হলে তারা সংবিধানের ৩০ সংখ্যক বিধি সংশোধন করবে৷‌ তার ফলে, সংখ্যালঘুদের অধিকার আইন কর্তৃক রক্ষিত হওয়ার সুবিধে অনেক কমে যাবে ও সুপ্রিম কোর্টও সংখ্যালঘুদের অধিকার আর তেমন রক্ষা করতে পারবে না৷‌

এমন বক্তৃতার পর শ্রী নরিম্যানকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন– ‘ঘৃণা প্রচার সম্পর্কে আপনার বক্তব্য নিয়ে মন্ত্রী কি কিছু বললেন?’ শ্রী নরিম্যান উত্তর দেন, ‘সেটা ওঁকে জিজ্ঞাসা করুন৷‌’

সভার শেষে সভামুখ্যের ভাষণে সংখ্যালঘু মন্ত্রী নাজমা হেপতুল্লা বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতি হল– ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’৷‌ পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, মুসলিমদের ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গত অধিকার রক্ষার জন্য বি জে পি-র নির্বাচনী ইস্তাহারে যা বলা হয়েছে তা পূরণ করতে হবে৷‌’

শ্রী নরিম্যান সেই ইস্তাহার নিয়েই তো প্রশ্ন তুলে দিলেন৷‌ স্হানীয় ভাবে মুসলিম মহল্লাগুলিতে ও যেখানে সম্ভব সেখানেই শ্রী নরিম্যানের বক্তৃতাটি ছেপে বিলি করা যায় না? পত্র-পত্রিকাতেও ছাপা যায় না?

Arabul Model — How Arabul Wins Uncontested

June 13, 2013

বন্দুকের নলেই আরাবুলের ‘জয়’

 নিজস্ব প্রতিনিধি

 কলকাতা, ১২ই জুন – কলকাতার অদূরে ভাঙড়েই মমতা ব্যানার্জির আসল ‘জমি নীতির’ মডেলের সন্ধান মিলেছিল। এবার রাজ্য পুলিস রেখেই কীভাবে পঞ্চায়েতে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়া ঠেকাতে হয়, কীভাবে বিরোধী প্রার্থীদের জোর করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে হয়, সেই মডেলও ‘উপহার’ দিয়েছে ভাঙড়। ‘দাতা’ আরাবুল ইসলাম। শাসক তৃণমূলের ‘গর্ব’, ‘তাজা’ নেতা।

কলকাতা অদূরের ভাঙড়-২ নম্বর ব্লকই এখন শহর লাগোয়া এলাকায় তৃণমূলী সন্ত্রাসের ‘মডেল’ হয়ে উঠেছে। শ্যামবাজারের জনসভায় দাঁড়িয়ে সেদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আরাবুল তো মারধর করেনি, তবুও তো ও জেল খাটলো’। মঞ্চে তখন আরাবুল নিজেই দাঁড়িয়ে। ইঙ্গিত মিলেছিল তখনই।

বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়া সেই আরাবুল ইসলামকেই এরপর ভাঙড়-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী করলো তৃণমূল। এবং পোলেরহাট থেকে পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলী প্রার্থী হিসাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে শংসাপত্রও নিয়ে ফেললো আরাবুল ইসলাম!

আরাবুলের সেই ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ হওয়ার কাহিনীর মধ্যেই রয়েছে রাজ্য পুলিসের তত্ত্বাবধানে তৃণমূল সরকারের আমলে যে কোন স্তরে নির্বাচনের আসল চেহারা। ২৯শে মে এরাজ্যে অষ্টম পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন পর্ব শুরু। ভাঙড়-২ নম্বর ব্লকে ২৯মে সকাল থেকে ১০ই জুন দুপুর পর্যন্ত যা ঘটেছে তাই-ই আসলে এরাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের নির্মম বিজ্ঞাপন।

২৯শে মে’র আগের দিন থেকেই ভাঙড় বাজার লাগোয়া বিডিও অফিসে রীতিমতো ক্যাম্প করে পাহারা দেওয়া শুরু করে তৃণমূলের সশস্ত্র বাহিনী। পরিস্থিতির আঁচ পেয়ে তাই প্রথম দিনে নমিনেশন ফি দিতে অল্প কয়েকজন বামফ্রন্ট কর্মীরা যান। কিন্তু সেখানেই তাঁদের ওপর হামলা, বেধড়ক মারধর হয়। পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী পলাশ গাঙ্গুলিসহ বেশ কয়েক জন গুরুতর জখম হন। আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা প্রথম দিনেই। এরপরেও দ্বিতীয় দিনে বামফ্রন্ট কর্মীরা লাইনে দাঁড়িয়ে মনোনয়নপত্র তুলতে গেলে হামলা চালানো হলো। বিডিও অফিসের ভিতরেই প্রায় ৫০-৬০জনের সশস্ত্র তৃণমূলী বাহিনী। যাদেরকে ভাঙড়বাসী চেনেন ‘আরাবুলের টিম’ হিসাবে।

ততক্ষণে সমস্ত অভিযোগ পুলিস সুপার, জেলাশাসক, নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে সি পি আই (এম)-র তরফে। এরপরেই ভাঙড়ের পোলেরহাট, হাতিশালা, ভগবানপুর, পোগালি এলাকায় প্রকাশ্যে চলে তৃণমূলী বাইক বাহিনীর ‘তলোয়ার মিছিল’। বিডিও অফিসে তৃণমূল বাদে যাঁরা মনোনয়ন তোলার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাঙচুর, বৃদ্ধ বাবা-মাকে ধরে পেটানো সবই চলেছে। বিডিও অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যেই চললো তৃণমূলী মারধর, হুমকি সবই। আরাবুল বাহিনীর তাণ্ডবে শেষমেশ মহকুমা শাসকের দপ্তরে যেতে হলো বামফ্রন্ট প্রার্থীদের।

সেদিন ছিল ১লা জুন। সকাল ১১টার আগে অফিস খুলবে না জেনেও ভোর পাঁচটার মধ্যে অফিস চত্বরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ভাঙড়-২ ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫৯জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪২জন। খাস আরাবুলের পাড়া থেকেও লোকজন ভোররাতে বেরিয়ে চলে এসেছে । অদম্য জেদ নিয়েই। ২রা জুনের মধ্যেই ভাঙড়- ২ পঞ্চায়েত সমিতির ৩০টি আসনে, জেলা পরিষদের দুটি আসনে এবং পঞ্চায়েতের ১৫৯টি আসনেই প্রার্থী দেয় বামফ্রন্ট। প্রার্থী দেওয়া হয় আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও।

১লা জুন রাত থেকেই এরপর শুরু হলো দ্বিতীয় দফার আক্রমণ। পঞ্চায়েত সমিতির বামফ্রন্ট প্রার্থী হাসান নস্কর-সহ বামফ্রন্টের প্রায় সাতজন প্রার্থী সেদিন রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় বাড়ি আক্রমণ হতে পারে এই আশঙ্কা থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে গভীর রাতেই তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। বাসন্তী মেইন রোড সে সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় তাঁরা গাড়ি ঘুরিয়ে গাজীপুকুর অর্থাৎ আরাবুলের পাড়ার ওপর দিয়েই যাচ্ছিলেন। সেই সময়েই আরাবুল ইসলামের বাড়ির সামনেই জড়ো থাকা প্রায় ১৫জনের সশস্ত্র বাহিনী গাড়িতে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের দেখেই ‘ডাকাত ডাকাত’ চিৎকার করে তাড়া করতে শুরু করে। গাড়ি ছেড়ে জীবন বাঁচাতে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা অন্ধকারের মধ্যে কোনক্রমে পালান। কেউ পুকুরের মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে নাক বাইরে রেখে ডুব দিয়ে রয়েছেন, কেউ কাদার মধ্যে শুয়ে, কেউবা ঝোপের পোকামাকড়ের মধ্যেই কোনমতে গা ঢাকা দেন। রাতভর সেই অবস্থায় থাকতে হয়েছে।

এদিকে ততক্ষণে ঐ পঞ্চায়েতে সমিতির প্রার্থীর বাড়িতে বোমা ছোঁড়া, গুলি চালিয়ে ভয় দেখানো সবই চলছে। আরাবুলের ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথমে যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল বামফ্রন্টের তরফে, তাঁর বাড়িতে গিয়ে মহিলা সদস্যের সঙ্গে অভ্যবতা করা, বাড়ির লোকজনকে মারধর করাও শুরু হয়ে যায়। প্রাণভয়ে তিনি পালিয়ে যান। সেই রাতেই কাশীপুর থানার ৫০মিটারের মধ্যে সাতটি বাড়ি ভাঙচুর, ভগবানপুরে বামফ্রন্ট প্রার্থীর বাবা-মাকে মারধর করা হয়।

এরপরেও খোদ আরাবুলের পাড়ারই এক বাসিন্দা এবার নিজেই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মনোনয়ন জমা দেন। একেবারে দিনমজুর পরিবারের যুবক। বিডিও অফিস থেকে সেই খবর পেয়ে যায় আরাবুলের টিম। জানতে পারে প্রস্তাবক কে। ৪তারিখ রাতে শুরু হয়ে আবার আক্রমণ। ভাঙড়ের মাছিভাঙা গ্রামের কুড়ি জন সি পি আই( এম) কর্মীকে সে রাতে তুলে নিয়ে আসা হয় আরাবুলের বাড়িতে। চলে বিচারসভা। সেখান থেকে তিনজনকে নিয়ে ওই রাতেই যাওয়া হয় উত্তর ২৪পরগনার আটঘরা এলাকায়, ওখানেই কাজ করতেন আরাবুলের বিরুদ্ধে বামফ্রন্ট প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ানো সেই যুবক। চলে তল্লাশি। খোঁজ মেলেনি।

পরের দিন সেই যুবকের দুই ভাইকে তুলে এনে চলে মারধর, যেন তেন ভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতেই হবে। স্ত্রীও বাড়ি ছাড়া হয়ে যান। বাবা-মা-স্ত্রী-দাদার ওপর এই অত্যাচার, পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দেওয়ার পর আর পারেননি সহ্য করতে। এরপর অজানা আশ্রয় থেকে বেরিয়ে এসে ১০ই জুন বেলা বারোটায় নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন সেই যুবক।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবশেষে ‘জয়ী’ হলেন আরাবুল ইসলাম। মঙ্গলবার বিডিও অফিস থেকে শংসাপত্রও গ্রহণ করলেন। তৃণমূলীরা মেতে উঠলো উল্লাসে। বন্দুকের নল, স্ত্রী-ছেলে মেয়ের প্রাণনাশের হুমকির মুখে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেন আরও অনেকে। গোটা ঘটনায় পুলিসের ভূমিকার কোন নজির মেলেনি। তাই পুলিসের ভূমিকার কথা উল্লেখও করা গেলো না।

Lawlessness Continues from Sundarbans to Farakka

June 9, 2013

 পঞ্চায়েতের নমিনেশন ঘিরে চলছে মারধর, অপহরণ, সন্ত্রাস

ð¿{Ëí üÅjõþõò ÎïËß ë×MËõþ ôõþ±!±, ó¿}÷õË/õþ 9¿é Îæù±õþ ¿õ¿öi§ Õ=Ëù ó=±Ëûþî ¿òõDZäËò ÷Ëò±òûþò Îóú ßõþ±õþ ‘Õóõþ±Ëñ’ Îß±ï±Ý ›¶±ïÇÏ, Îß±ï±Ý õ± üÑ¿ú¡©† ðËùõþ Îòî± Ý ß÷ÇÏ ýûþ Õóý+î ýËûþËåò, ò±-ýûþ ÷±õþ ÎàËûþËåò¼ Îõþý±ý× Î÷Ëù¿ò ÷¿ýù± ›¶±ïÇÏËðõþݼ Îß±ï±Ý ÷Ëò±òûþò ›¶îɱý±ËõþÝ õ±ñÉ ýËûþËåò ›¶±ïÇÏõþ±¼ üõÇS Õ¿öËû±Ëáõþ îÏõþ îÔí÷ÓËùõþ ¿ðËß¼ üÅjõþõò •ð¿{í Ý ë×Mõþ 24 óõþáò±—। õ±ü™LÏõþ 3¿é ¢¶±÷ ó=±Ëûþî ÎïËß ›¶±ïÇÏ ›¶îɱý±õþ ßËõþ ¿òù Õ±õþ Ûü ¿ó¼ Ûßð± Õ±õþ Ûü ¿ó-õþ â±Ò¿é õËù ó¿õþ¿äî õ±ü™LÏËî Ûý× ›¶ï÷ ðù ó=±Ëûþî ¿òõDZäËò ›¶±ïÇÏ ¿ðËûþÝ ›¶îɱý±õþ ßËõþ ¿òËäå¼ äõþ±¿õðɱ ¢¶±÷ ó=±ËûþËîõþ Õ±õþ Ûü ¿ó-õþ 14 æò ›¶±ïÇÏý× ÷Ëò±òûþò ›¶îɱý±õþ ßõþþËåò¼ Ûà±Ëò ¿ü ¿ó ÛË÷õþ 3 ›¶±ïÇÏÝ ÷Ëò±òûþò ›¶îɱý±õþ ßËõþËåò õËù àõõþ¼

Û å±ëÿ± Õ±÷ç±ëÿ± Ý äÅËò±à±¿ù ¢¶±÷ ó=±ËûþËîõþÝ ßËûþß¿é Õ±üËò Õ±õþ Ûü ¿ó-õþ ›¶±ïÇÏõþ± ÷Ëò±òûþò ›¶îɱý±Ëõþ ßËõþËåò¼ õ±ü™LÏõþ ¿õñ±ûþß Õ±õþ Ûü ¿ó-õþ üÅö±ø ò¦¨Ëõþõþ Õ¿öËû±á, ›¶±ïÇÏËðõþ Ý ß÷ÇÏ-ü÷ïÇßËðõþ ›¶±í õ±Òä±Ëò±õþ áËðý× Ûý× ¿üX±™L ¿òËûþËå ðù¼ îÔí÷ÓËùõþ Îòî± Ý Îá±ü±õ±õþ ¿õñ±ûþß æûþ™L ò¦¨Ëõþõþ õMnõÉ, ¿òõDZäò õ±òä±ù ßõþËîý× Õ±õþ Ûü ¿ó-õþ Ûý× ä±ù¼ ÕòÉ¿ðËß ý±Ëëÿ±ûþ±õþ Îá±ó±ùóÅõþ-2 ó=±ËûþËîõþ ¿ü¿VßÅ{¡± ÎäÌñÅ¿õþõþ ðù ý×ë× ¿ë ÛËôõþ ›¶±ïÇÏ òÅõþõ±òÅ à±îÅòËß áî 2 ¿ðò ñËõþ àÅÒËæ ó±Ýûþ± û±Ëäå ò±¼ òÅõþõ±òÅõþ õ±õ± Õ±õðÅù Î÷±î±Ëõù Î÷±{¡± ý±Ëëÿ±ûþ± ï±ò±ûþ Õ¿öËû±á ßËõþËåò¼ ý×ë× ¿ë ÛËôõþ îõþËô ð±¿õ, ÷Ëò±òûþò ›¶îɱý±õþ ßõþËî îÔí÷Óù òÅõþõ±òÅõþ ó¿õþõ±õþËß ä±ó ¿ðËäå¼ ÕòÉ¿ðËß, îÔí÷Óù Îòî±Ëðõþ ð±¿õ, òÅõþõ±òÅ Õ±ðËî îÔí÷Óù ß÷Çϼ î±ÒËß Îæ±õþ ßËõþ ý×ë× ¿ë Ûô ›¶±ïÇÏ ßËõþ Îß±ï±Ý ùÅ¿ßËûþ ÎõþËàËå¼ üËjú౿ù-2 õvËßõþ Îõëÿ÷æ³õþ-2 ó=±ËûþËîõþ 153 ò¥¤õþ ÕÑËú ý±ùð±õþó±ëÿ±õþ õÅËï ¿ü ¿ó Û÷ ›¶±ïÇÏ óÅîÅù ÷ÅG± ¿òËà±Òæ¼ óÅîÅËùõþ ¦¤±÷Ï ü¿?î ÷ÅG± üËjú౿ù ï±ò±ûþ Õ¿öËû±á ßËõþËåò¼ Õ¿öËû±Ëáõþ îÏõþ îÔí÷ÓËùõþ ¿ðËß¼

õñÇ÷±ò। î±Ëðõþ 2 ›¶™¦±õßüý 41 æò ›¶±ïÇÏËß Õóýõþí ßõþ± ýËûþËå õËù Õ¿öËû±á ßõþù õ±÷ôªKé¼ ¿ü ¿ó Û÷ Îòî± Õ÷ù ý±ùð±õþ Ûý× ÕóýõþËíõþ ÎóåËò îÔí÷ÓËùõþ üË/ óÅ¿ùËüõþ üýËû±¿áî± õþËûþËå õËù Õ¿öËû±á ßËõþËåò¼ î±Òõþ ð±¿õ, üLa±Ëüõþ ó¿õþËõËúõþ ÷ËñÉÝ õñÇ÷±ò Îæù±ûþ ¢¶±÷ ó=±ËûþËî 90 úî±Ñú, ó=±Ëûþî ü¿÷¿îËî 92 úî±Ñú ÛõÑ Îæù± ó¿õþøËðõþ üõ Õ±üËò õ±÷ôªKé ›¶±ïÇÏ ¿ðËûþËå¼ î±Òõþ Õ¿öËû±á, 7 æ³ò ¦Å¿é¿òõþ óõþ 8 æ³ò üß±ù 9é± óûÇ™L ›¶±¿ïÇó𠛶îɱý±õþ ßËõþ ÎòÝûþ±õþ æòÉ õñÇ÷±ò Îæù± æ³Ëëÿ õ±÷ ›¶±ïÇÏËðõþ Ýóõþ öûþ‚õþ Õ±Sn÷í qõÿn ßËõþËå îÔí÷Óù¼ ÎßîÅ¢¶±÷ 1 òÑ õvËßõþ 5 æò ÛõÑ ÷/ùËß±Ëéõþ 9 æò õ±÷ôªKé ›¶±ïÇÏ ú¿òõ±õþ õvß Õ¿ôËü ÷Ëò±òûþò ›¶îɱý±õþ ßËõþ ¿òËî õ±ñÉ ýËûþËåò¼ æ±ò±Ëùò ¿ü ¿ó ÛË÷õþ Îòî± Õ¿ä™LÉ ÷¿{¡ß¼

ÎßîÅ¢¶±÷ 1 òÑ õvËßõþ ¿õ ¿ë Ý ¿õòûþßÔøã ¿õú«±ü õËùò, Îß±òÝ Õ¿öËû±á ó±ý׿ò¼ îÔí÷Óù ßÑË¢¶ü Îòî± õþP±ßõþ Îð Û ›¶üË/ õËùò, ý±õþ ¿ò¿}î ÎæËò ÕËòËß Î¦¤äå±ûþ ÷Ëò±òûþò ›¶îɱý±õþ ßËõþ ¿òËäå¼ îÔí÷ÓËùõþ üLa±Ëüõþ Õ¿öËû±á îÅËù õñÇ÷±ò úýËõþ ß±æÇò ÎáËéõþ ü±÷Ëò ¿æ ¿é Îõþ±ë Ûß â°I×± ÕõËõþ±ñ ßËõþËå Îæù± ßÑË¢¶ü¼ ›¶Ëðú ßÑË¢¶Ëüõþ ü±ñ±õþí ü¥ó±ðß ß±Ëé±ûþ±õþ ¿õñ±ûþß õþõÏfò±ï äɱ鱿æÇõþ ßï±ûþ, Õ±Ëá üLa±ü ßËõþ ó=±Ëûþî&Ëù±Ëî ¿õò± ›¶¿îZ¿eî±ûþ ¿æîî ¿ü ¿ó Û÷¼ Ûàò Ûßý× ß±ûþð±ûþ üLa±üËßý× ý±¿îûþ±õþ ßËõþËå îÔí÷Óù¼ Û¿ðò Õ±ü±òËü±Ëùõþ ü±Ñüð õÑúËá±ó±ù ÎäÌñÅ¿õþ Õ¿öËû±á ßËõþò, îÔí÷ÓËùõþ üLa±Ëüõþ ‘ÎüËß` Îôæ’-Û äùËå ¿ü ¿ó Û÷ ›¶±ïÇÏËðõþ Õóýõþí ÛõÑ U÷¿ß ¿ðËûþ ÷Ëò±òûþòóS ›¶îɱý±õþ ßõþ±Ëò±õþ ›¶¿Snûþ±¼ óÅ¿ùü êÅÒËé± æái§±ï ýËûþ üõ ÎðàËå¼ õɱó±õþé± ¿òõDZäò ß¿÷úò±õþ ÷Ïõþ± ó±Ë`õþ ß±Ëå ¿ù¿àîö±Ëõ æ±ò±Ëò± ýËûþËå¼ ¿î¿ò Õ±ü±òËü±ù-ðÅáDZóÅõþ óÅ¿ùü ß¿÷úò±ËõþËéõþ óÅ¿ùü ß¿÷úò±õþ Õæûþ òjËßÝ Õ¿öËû±á æ±ò±ò¼

õÏõþöÓ÷। ÷Ëò±òûþò æ÷± ÎðÝûþ±õþ æòÉ ßËûþßæò ›¶±ïÇÏËß ¿òËûþ Îõ±ùóÅõþ Ûü ¿ë Ý Õ¿ôËü û±Ýûþ±õþ óËï Îõñëÿß ÷±õþ ÎàËùò Ûü ý×ë× ¿ü-õþ ù±öóÅõþ õvß ü¥ó±ðß ù±ùò ð±ü¼ Îæù± Ûü ý×ë× ¿ü ü¥ó±ðß ÷ðò âéËßõþ Õ¿öËû±á, ý±÷ù±ß±õþÏõþ± îÔí÷Óù ßÑË¢¶Ëüõþ ù±öóÅõþ Ûù±ß±õþ ß÷Çϼ &õÿnîõþ æà÷ ù±ùòËß Îõ±ùóÅõþ ÷ýßÅ÷± ý±üó±î±Ëù ¿ä¿ßÈü± ßõþ±Ëò± ýûþ¼ ðÅ©¨ÔîÏËðõþ Õ¿õùË¥¤ ΢¶l±Ëõþõþ ð±¿õËî Îæù± ›¶ú±üò Ý õþ±æÉ ¿òõDZäò ß¿÷úòËß ¿ä¿ê ¿ðËäå Ûü ý×ë× ¿ü¼

ôõþ±!±। Îð±ß±Ëò ä± ÎàËî ¿áËûþ ú¿òõ±õþ ðÅ©¨ÔîÏËðõþ Îõ±÷± Ý &¿ùËî Õ±ýî ýËûþ ß±¿j ÷ýßÅ÷± ý±üó±î±Ëù ö¿îÇ ý±ü±ò ÷Gù Ý Ý÷õþ ÷Gù¼ ßÑË¢¶ü ß÷ÇÏ Ý÷Ëõþõþ ¦aÏ Õ±Ëõþ±æ± ¿õ¿õ ÛõÑ ý±ü±Ëòõþ ¦aÏ ü±õþë×Ëi§ü± ¿õ¿õ 6 æ³ò ßÑË¢¶Ëüõþ ýËûþ ÷Ëò±òûþò ð±¿àù ßËõþò¼ ¦š±òÏûþ ßÑË¢¶ü Îòî± Õ±õÅù ß±ËúË÷õþ Õ¿öËû±á, ¿ü ¿ó Û÷ Õ±¿|î ðÅ©¨ÔîÏõþ± Ý÷õþ Ý ý±ü±òËß Õ±Sn÷í ßËõþËå¼ ¿ü ¿ó ÛË÷õþ ¿õú«ò±ï ÷Gù æ±ò±ò, Ýé± ßÑË¢¶Ëüõþ Î᱇ÏZËeõþ ôËùý× ýËûþËå¼ Û¿ðËß, Îë±÷ßËù ßÑË¢¶ü Ý îÔí÷ÓËùõþ üãâËøÇ ¿õ ¿ë Ý Õ¿ôü äQõþ õþíË{ËSõþ ձ߱õþ ñ±õþí ßõþù ú¿òõ±õþ ¿õËßËù¼ ðÅ-ðËùý× Õ¿öËû±á, Õóõþ ðù î±Ëðõþ ¿ú¿õõþ ÎöËã ¿ðËûþËå¼ Ûý× ¿òËûþ qõÿn ýûþ á`Ëá±ù¼ ÷±õþñõþ¼ äËù ý×éõÔ¿©†¼ ¿õú±ù óÅ¿ùü õ±¿ýòÏ ó¿õþ¿¦š¿î ¿òûþLaËí Õ±Ëò¼