Archive for the ‘Editorial’ Category

US Missile Attack On Syrian Airbase

April 10, 2017

Advertisements

‘Chilcot Report’ Vindicates US-British Lies In Iraq War

July 8, 2016

415155

A Fraud Party Full Of Fraud Leaders

April 28, 2016

409350

Bank Defaulter Vijay Mallya Set Free

March 14, 2016

405870

Corporate Bonanza

February 19, 2016

403697

Modi Kneels Down Before Obama

February 7, 2016

402697

Anandabazar Discovers…

October 28, 2015

সরকার বাড়ির আবিষ্কার

ঠুলি সহযোগে উন্মীলিত চোখে বিশ্ব দর্শন করে সরকার বাড়ির কলমচিরা এই স্বতঃসিদ্ধ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বলে এতকাল যা কথিত ও চর্চিত হয়েছে তা এখন অতীত। বর্তমানে তার কোন অস্তিত্ব নেই। এমনকি সাম্রাজ্যবাদের ধারণাটিও নাকি এখন মুছে গেছে। সরকার বাড়ির বাজারি পাঠ্যসূচিতে সাম্রাজ্যবাদ বলে যে বিষয়কে পরিবেশনের চেষ্টা হচ্ছে তার সঙ্গে অর্থনৈতিক আধিপত্যেরও সংযোগ নেই। বস্তুত উদারীকরণ-বিশ্বায়নের যুগে পুঁজির যখন কোন দেশ নেই, সীমানা নেই, সারা বিশ্বটাই যখন তার কাছে অবারিত তখন আধিপত্য, সাম্রাজ্যবাদ বিষয়টাই অপ্রাসঙ্গিক।

এতদ্‌সত্ত্বেও সরকার বাড়ি অতীতের ‘সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের’ মতো এখন নতুন এক সাম্রাজ্যবাদ আবিষ্কার করেছে। সেটা চীনের ভূ-রাজনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ। গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়লের মতো সরকার বাড়ির স্বঘোষিত জ্যাঠামশাইদের এই পাঠ্যসূচিই তাদের বাজারি পাঠশালায় নিত্যদিন আপ্তবাক্যের মতো গেলানো হচ্ছে। জ্যাঠামশাইরা এই ভেবে আত্মশ্লাঘা অনুভব করেন বাংলার মানুষের যাবতীয় চিন্তা-চেতনার ঠিকাদারি নিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা যে পাঠ দান করবেন সেটাই এগিয়ে থাকার বীজমন্ত্র। সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কিত নতুন তত্ত্ব তারই নবতম সংযোজন।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বামপন্থীদের নিয়ে। বামপন্থীরা সরকার বাড়ির উদ্ভট পাঠ্যসূচিকে পাত্তা দেয় না। বামপন্থীরা চলে তাদের নিজস্ব পথে, নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে ও নিজস্ব বিশ্লেষণে। তাই সরকার বাড়ির ঠুলিপরা চোখে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ উধাও হয়ে গেলেও বামপন্থীদের খোলা চোখে ধরা পড়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভয়ংেকর উপস্থিতি এবং অতি সক্রিয়তা। এই ভাবনা-বিশ্লেষণই বামপন্থীদের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের ময়দানে অবিচল রেখেছে। তারজন্যই কলকাতায় সম্প্রতি সংগঠিত হয়েছে বিশাল সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী মিছিল। উপলক্ষ বঙ্গোপসাগরে মার্কিন নেতৃত্বে ত্রিদেশীয় নৌ-মহড়া। আমেরিকার নেতৃত্বে এশিয়া-প্রশান্তসাগরীয় তথা ভারত-প্রশান্তসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সামরিক জোট গঠনের প্রক্রিয়ারই অঙ্গ এটা। তাই বামপন্থীরা রাস্তায়।

এ কারণেই বামপন্থীদের নিয়ে মহা সমস্যায় সরকার বাড়ি। বামপন্থীরা এতটাই বেয়াড়া যে সরকার বাড়ির তত্ত্বকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছে, মিছিল করছে। গাত্রদাহ হওয়াই স্বাভাবিক। তাই বামপন্থীদের যুক্তি-বিশ্লেষণের ধারে কাছে না গিয়ে মোটা দাগের কিছু শব্দ ব্যবহার করে বামপন্থীদের নিন্দা-মন্দ করা হচ্ছে। গায়ের ঝাল ঝাড়ার জন্য আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের। ক্ষুরধার যুক্তি আর বাস্তবতার তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণে বাম-মতাদর্শ তথা মার্কসবাদ-সাম্যবাদকে ধরাশায়ী করা অসম্ভব বলেই তাদের এই বালখিল্য আচরণ। বামপন্থীরা নাকি বিদেশি তত্ত্ব নিয়ে দুনিয়া কাঁপায়, দেশের খবর রাখে না। মস্কোয় বৃষ্টি হলে ভারতের বামপন্থীরা মাথায় ছাতা ধরে। বাজারি কাগজের এমন বিনোদনী বালখিল্যপনা পথেঘাটে চা-দোকানে নিম্নমানের আড্ডার মশলা হতে পারে। উচ্চমানের বিতর্ক-বিশ্লেষণে ঠাঁই মেলে না।

ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় বাজারি চোখে সাম্রাজ্যবাদ ধরা পড়েছিল। তবে সেটা ‘সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদ’। সোভিয়েত বিপর্যয়ের পর সরকার বাড়ি আর সাম্রাজ্যবাদ দেখতে পায়নি। এই সময়কালে বিশ্বের সর্বত্র অন্তত একশটি যুদ্ধ সংঘাতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ হলেও, ইরাকে, আফগানিস্তানে, লিবিয়ায় সামরিক অভিযান চললেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি সরকার বাড়ি। সারা বিশ্বে মার্কিন ভূখণ্ডের বাইরে প্রায় এক হাজার মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কি কারণে সরকার বাড়ি জানতে চায় না। ভারত মহাসাগরে আমেরিকার এত উৎসাহের উৎস কোথায় প্রশ্ন করে না তারা। অথচ দেশের বাইরে চীনের একটাও সামরিক ঘাঁটি নেই। অন্য দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের কোন নজির নেই। তথাপি বাজারি চো‍‌খে আবিষ্কৃত হয়েছে ‘চীন সাম্রাজ্যবাদ’। অতএব জ্যাঠামশাইদের মতে আমেরিকা নয়, যদি মিছিল করতে হয় তবে চীনের বিরুদ্ধেই করা উচিত।

Modi Insults India

May 23, 2015

দেশের অমর্যাদা

রাজনৈতিক স্বার্থে নিজের প্রচার করতে গিয়ে গোটা দেশের অমর্যাদা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাংহাই এবং সিওলে অনাবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, আগে আপনারা ভারতে জন্মগ্রহণের জন্য লজ্জাবোধ করতেন। এখন আপনারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে গর্ববোধ করেন। সিওলে প্রধানমন্ত্রী একথাও বলেন, একটা সময় ছিল যখন মানুষ বলতো, অতীতে কত পাপের জন্য হিন্দুস্তানে জন্মেছি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই এক বছরে দে‍শের যা পরিবর্তন হয়েছে তার জন্য সকল ভারতীয় গর্ববোধ করছেন। এপর্যন্ত দেশের কোনও প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের মন্তব্য করেননি। নরেন্দ্র মোদীর একথা মনে নেই যে, ভারতবাসী আজ লজ্জিত কারণ গত একবছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন গুজরাট গণহত্যার নায়ক

এই মন্তব্যের অর্থ ভারতের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাসকে অস্বীকার করা। সারা বিশ্বে বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত ভারত। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের নিদর্শন ভারত। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশের সঙ্গে লড়াই করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে প্রাণ দিয়েছে দেশের মানুষ। এজন্য গর্ববোধ করে প্রত্যেকটি ভারতবাসী। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা গান্ধীজীকে হত্যা করেছে মোদীর দলীয় সংগঠন আর এস এস। ফলে তিনি এদেশের জন্য লজ্জিত হতেই পারেন। কিন্তু ভারতবাসী এদেশে জন্মগ্রহণের জন্য কখনই লজ্জিত হননি। নরেন্দ্র মোদী তার চরম অহমিকার মধ্য দিয়ে মনে করছেন, গত এক বছরে তিনি দেশকে বদলে দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে তিনি দেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। দেশের বৃহৎ কর্পোরেটের মদতে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে নির্বাচনের মুখে অনেক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছিলেন মোদী। নিজের শরীর থেকে গণহত্যার ছাপ মুছতে উন্নয়নের মডেল ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এজন্য কর্পোরেট মিডিয়া মোদীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে টিভি ও কাগজে। সোস্যাল মিডিয়াতেও অত্যন্ত সংগঠিতভাবে প্রচার চলেছে মোদীর জন্য। প্রচারে এখনও ঘাটতি নেই। আকাশবাণী ও দূরদর্শনকে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করছে মোদী ও তার দল। কিন্তু মোদীর ‘মন কি বাত’ দেশের মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি এই এক বছরে। বরং মোদী সরকারের ভাঁওতাবাজি প্রতিদিনই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে মানুষের সামনে।

মোদী সরকারের গৃহিত নীতি অনুসারে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ক্রমাগত ছাঁটাই করা হচ্ছে। মহিলা ও শিশুকল্যাণ খাতে গতবছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। সরকারের এই নীতির ফলে শিশু ও মায়েদের জন্য জরুরি কর্মসূচিগুলি বাদ যাবে। স্বাস্থ্যখাতে ১৬ শতাংশের বেশি বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থা বেসরকারিকরণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ওষুধের দাম বাড়ছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পরেই নরেন্দ্র মোদী স্বচ্ছ ভারত গড়ার স্লোগান দিয়েছিলেন। সেই স্লোগান যে শুধুই মুখের কথা তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পানীয় জল ও নিকাশির বরাদ্দে ৫৯ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর নীতির প্রশ্নে ডিগবাজি খাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১২ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা করে বন্‌ধ ডেকেছিল বি জে পি। কিন্তু বর্তমানে মোদী মন্ত্রিসভা দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের মাল্টি ব্র্যান্ড খুচরো ব্যবসায় ৫১ শতাংশ বিনিয়োগের নীতিকে সমর্থন জানিয়েছেএখন আর গরিব মানুষের কথা মনে নেই মোদীর। গত এক বছরে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমিক-কৃষকের স্বার্থ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই মোদী সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ বেড়েছে। ভারতবাসী সবসময়ই গর্বিত এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবসম্পদের জন্য। কখনই নরেন্দ্র মোদীর জন্য ভারতবাসী গর্ববোধ করতে পারে না। বরং দেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য লজ্জিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

Mamata’s Retrograde Policy

May 23, 2015

382519

Derailment of Jindal’s Salboni Steel Plant

December 4, 2014

368970