Archive for the ‘Light Reading’ Category

Biriyani Checkmates Noodles & Rolls

May 15, 2016

চাউমিন, রোলকে টেক্কা বিরিয়ানির

তাপস গঙ্গোপাধ্যায়

 biriyani1

গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশ‌কের মাঝামাঝি, বর্ষার বিকেলে রবীন্দ্র সরোবরের মাঠে ফুটবলের নামে কাদাজল ঘেঁটে সন্ধ্যার মুখে বাড়ি ফেরার সময় যেদিন তারকদা আমাদের নেতাজি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে ঢুকতে বলে ঢাকাই পরোটার অর্ডার দিতেন, সেদিন মনে হত এর চেয়ে বেশি সুখ একটা স্কুলের ক্লাস সেভেনের ছেলে আর কি চাইতে পারে বা পেতে পারে।কলেজ পেরিয়ে যখন ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছি রেগুলার সেই ষাটের দশকের গোড়ায় সুযোগ পেলেই, এবং পকেটে রেস্ত থাকলে চলে যেতাম ‌এসপ্ল্যানেডে একটি দেবভোগ্য খাদ্য আস্বাদের আকাঙ্খায়। দু’‌আনায় এক বাটি ছোলার ডালের সঙ্গে মুচমুচে করে ভাজা অনেকটা দশ–‌বারো পরতের ফুলকো লুচির মতো দেখতে ঢাকাই পরোটা নয়, দেবভোগ্য খাদ্যটির ঠিকানা ছিল সুরেন ব্যানার্জি রোডের অনাদি কেবিন। ছ’‌আনায় প্লেট ওপচানো মোগলাই পরোটায় জিভের আরাম, মনের বিরাম দুই–‌ই মিলত। কিন্তু ডিমের কুসুমে চোবানো পরোটাকে কেন মোগলাই বলা হত তা আজও পরিষ্কার নয়।

সত্তর দশকে অনাদি কেবিনের জায়গা দখল করল নিজাম। মোগলাই পরোটার জায়গায় দুটি পুরুষ্টু ডালডায় সাঁতরে ওঠা পরোটার সঙ্গে এক প্লেট কাবাব, সঙ্গে আর এক প্লেট পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা ও লেবু। হুরি পরিদের সঙ্গে বেহস্তেই শুধু ওই অনবদ্য ভোজ্য সুলভ তা জেনে গেছি ততদিনে। সুলভ বলছি বটে তবে পাঁচ সিকি মানে এক টাকা চার আনা সত্তর দশকের গোড়ায় নেহাত সস্তা নয়।

কিন্তু সত্তর দশকের শেষে পরোটা কাবাবের আলাদা অস্তিত্ব ঘুচে গেল যখন পাড়ায় পাড়ায়, মোড়ে মোড়ে, অলিতে গলিতে চাকা লাগানো কাঠের চলমান ভোজশালায় পরোটার ভেতরেই পাটিসাপটার ক্ষীরের বদলে কাবাবের তিন চার পিস টুকরো পেঁয়াজ লেবুর রস দিয়ে খবরের কাগজের আধফালি দিয়ে মুড়ে হাতে তুলে দিয়ে দোকানি এক গাল হেসে বলতেন, খেয়ে দেখুন— চিকেন রোল। একটাতেই পেট ভরে যাবে। তখন দাম ছিল দেড় টাকা। পরে বাড়তে বাড়তে সেই রোলই আজ বিকোচ্ছে তিরিশে, সঙ্গে এগ থাকলে চল্লিশে।

স্থায়ী দোকানে এগ–‌চিকেন খানদানের সুবাদে যখন পঞ্চাশ ছাড়াল, যখন কলকাতা ছাড়িয়ে মফস্‌সলের সব শহরে, গঞ্জে, সিনেমা হলের পাশে, বাজারে, স্কুল–‌কলেজের দরজায় দরজায় রোলের বাজার তুঙ্গে, ঠিক তখনই গত শতাব্দীর নব্বই দশকের মাঝামাঝি রাইটার্সের পেছনে লায়ন্স রেঞ্জে, ক্যামাক স্ট্রিটের ফুটপাথে লাল শালুতে মোড়া পেল্লায় সব পেতলের হাঁড়ি নিয়ে হাজির হলেন নতুন শতাব্দীর আগমনী বার্তা দিয়ে ইস্তানবুল, খোরাসান, সমরখন্দ, তেহরান, দামাস্কাসের ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাঁধুনিদের বাঙালি ভাই–‌বেরাদাররা। তেমুজিন, যাকে ইতিহাস চেনে চেঙ্গিস খাঁ নামে, তিনি ভালবাসতেন চাল ও একটুকরো ঘোড়ার মাংসের ওই অসামান্য শিল্প, যা আজ আমাদের কাছে পরিচিত বিরিয়ানি নামে।

আর গত বিশ বছরে বিরিয়ানি কালচার গোটা রাজ্যে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে রোলের দোকান আগে বাড়ির বাইরে পা বাড়ালেই হাতের কাছে মিলত, তা এখন কলকাতায় খুঁজতে হয়। রোলের দোকান আছে, সেই সঙ্গে আছে বাঙালি চাউমিনের খানাও, কিন্তু ৮০, ৯০–‌এর দশকে দুটি বস্তু যেন কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছিল সেই সহজ লভ্যতা আর নেই। বাঙালি তুর্কি রোল চীনে নুডলসের ঘ্যাঁট ছেড়ে এখন ঝুঁকেছে চেঙ্গিস, তৈমুর লং–‌এর প্রিয়খাদ্য বিরিয়ানিতে।

বিশ বছর আগে এক বন্ধুর মুখে শুনলাম, রয়্যাল, আমিনিয়া, বিহার, নিজাম, জিশান, আর্সেলানের বিরিয়ানি তো ঢের খেয়েছ, কিন্তু ‘‌দাদা–‌বৌদি’‌র বিরিয়ানি কখনও চেখে দেখেছ?‌ মাদ্রাজি কায়দায় দু’‌দিকে ঘাড় নাড়িয়ে কবুল করলাম — না। তাহলে সোজা চলে যাও। ব্যারাকপুর রেল স্টেশনে। স্টেশন বাড়ির উল্টোদিকেই পাশাপাশি দুটি ঘর। আগে যখন দাদা ও বৌদির সম্পর্ক মধুর ছিল তখন ওই দুটি ঘর জুড়েই ছিল দাদা–‌বৌদির বিরিয়ানির একটাই দোকান। পরে ছাড়াছাড়ির পর একটা শুধু দাদার আর অন্যটা বৌদির হলেও নামে সেই সাবেকি আভিজাত্য— দাদা–‌বৌদির। বলব কি এক দুপুরে ওই বিরিয়ানিতে নাক গুঁজে প্লেট সাবড়ে যখন টালিগঞ্জের বাসায় ফিরে এলাম তখনও মনে হচ্ছে এই অমৃতের স্বাদ তো তাবৎ বাঙালির প্রাপ্য। অথচ প্রচার নেই।

আর গত বিশ বছরে সেই অলৌকিক ঘটনাই লৌকিক হয়ে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে গেছে। পাঞ্জাব–‌হরিয়ানা–‌পশ্চিম ইউ পি–‌তে কৃষি বিপ্লব হয়েছিল ষাটের দশকের শেষাশেষি, পশ্চিমবঙ্গে বিরিয়ানি বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বিশ বছরে। একটা এগ–‌চিকেন রোলের দামেই এক প্লেট বিরিয়ানি এখন সর্বত্র লভ্য। নব্বই দশকের শেষ, নতুন শতকের শুরুতে এক জোড়া মুরগির ডিম পাওয়া যেত দু’‌টাকায়, হাঁসের ডিমের জোড়া ঘোরাফেরা করত আড়াই টাকায়। আজ এক জোড়া মুরগির ডিম ১০–‌এর নিচে কলকাতার বাজারে মিলবে না। হাঁসের ডিম একটার দাম সাত থেকে আট। তাহলে কেন রোলের দোকান, যা এক সময় গোটা রাজ্য ছেয়ে ফেলেছিল, আজ কেন এত কম, তার উত্তর রয়েছে ডিমের দামে।

একই কারণে নুডলসের দামও গত বিশ বছরে এতই বেড়েছে যে বাঙালির চীনে–‌শেফ হওয়ার সাধ বলতে গেলে ঘুচে গিয়েছে। আর যদি হিসেব কষি তাহলে বলব পঞ্চাশের দশকের দু’‌আনার ঢাকাই পরোটা, ষাটের দশকের ছ’‌আনার মোগলাই পরোটা বা সত্তর দশকের পাঁচসিকির সেই পরোটা ও কাবাবের খরচেই আজ থালা ভর্তি রঙিন ভাতের সঙ্গে বড় এক পিস মুরগি বা পাঁঠার মাংস, একটি কুক্কুটান্ড এবং একটি চন্দ্রমুখীর চাঁদপানা আধখানা দামে, মানে ও ভারে একই। ঢাকাই, মোগলাই বা কাবাবের সঙ্গে পরোটা সবই ছিল আটা বা ময়দার বড় সাইজের তক্তি।

বাঙালির (‌এর মধ্যে হিন্দু বা ‘‌মুসলমান’‌ বলে কোনও ভেদ নেই)‌ রসনা, মনন ও উদর যেভাবে অন্নে তৃপ্ত হয় ময়দা বা আটায় তার ভগ্নাংশও হয় না। এ আমার কোনও মনগড়া দাবি নয়। পঞ্চাশ–‌ষাটের দশকে প্রফুল্ল সেন তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্ব জামিন রেখে এই সত্যের সন্ধান পান। একই সত্যের মুখোমুখি হন আর এক খাদ্যমন্ত্রী, পরে মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষ। ১৯৬৭ সালে। আর হাল আমলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রেশন দোকানে ঈষৎ ভাল চালের পাশে পাঞ্জাবের সেরা লাল গমের বস্তা থাকলেও চাল উড়ে যায়, গম থাকে পড়ে।

আর দাম যখন একই, তখন বাঙালি এক থালা ভাতে ঢাকা ডিম, মাংসখণ্ড ও আলু দিয়ে বানানো বীরভোগ্যা বিরিয়ানি ছেড়ে কোন দুঃখে রোল চিবুবে?‌ চিবুচ্ছেও না। বাজার এখন পুরোপুরি বিরিয়ানির দখলে। সে দীঘা হোক বা দার্জিলিং, স্লোগান আজ একটাই:‌ চেঙ্গিজ, তৈমুর, বাবরের প্রার্থনা পূরণে যা সফল বাঙালির ঘরে ঘরে চাই সেই বিরিয়ানি।‌‌‌‌‌ বাঙালির আজ বিরিয়ানি ছাড়া হারানোর আর কিছু নেই।‌‌


    সৌজন্যেঃ আজকাল

Advertisements

Those Nostalgic Pujor Gaan

October 27, 2015

পুজোর গান ও সেইসব জলসার দিন

সে একটা দিন ছিল, আজ নেই। রাতের আকাশ চিরে বেজে উঠত গান। আর মুহূর্তে বদলে যেত পরিবেশ। ভেসে আসছে হয়ত, ‘সেদিনের সোনাঝরা সন্ধ্যা, আর এমনি মায়াবি রাত মিলে/দুজনে শুধাই যদি তোমারে কি দিয়েছি/আমারে তুমি কিবা দিলে।’ তখন মধুক্ষরা শ্যামল মিত্র- দিন। একের পর এক কালজয়ী গানে সুর দিয়ে তাকে উপযুক্ত শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল যেন তাঁর ব্রত। না হলে কী করে সৃষ্টি হয়, ‘মহুল ফুলে জমেছে মউ/হিজল ডালে ডাহুক ডাকে/ওগো কালো বউ কোথায় তুমি যাও।’ অথবা ‘ও শিমুল বন, দাও রাঙিয়ে মন/কৃষ্ণচূড়া, দোপাটি আর পলাশ দিল ডাক/মধুর লোভে ভিড় জমালো মউ পিয়াসী অলির ঝাঁক।’ সবই ভিন্ন ভিন্ন পুজোয় পুজোর গান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আর কে ভুলতে পারে তাঁর গাওয়া ‘এমনও দিন আসতে পারে, যখন তুমি দেখবে আমি নেই—’ কিংবা ‘ঝিরি ঝিরি পিয়ালের কুঞ্জে’ অথবা ‘ছিপখান, তিন দাঁড়’। এরকম অজস্র গান।

প্রত্যেক পুজোতে বের হত নতুন নতুন গান বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে। উৎপলা সেন, সতীনাথ মুখোপাধ্যায় মাত করে দিতে লাগলেন বাংলার শ্রোতৃমণ্ডলীকে। সতীনাথের ‘সোনার হাতে সোনার কাঁকন কে কার অলঙ্কার’, ‘জীবনে যদি দীপ জ্বালাতে নাহি পার, সমাধি ’পরে মোর জ্বেলে দিও’ অথবা ‘বনের পাখি গায় বোলো না, বোলো না/ফাগুন রাতি শুধু ছলনা ছলনা।’…

উৎপলা সেন এক পুজোয় গাইলেন, ‘ঝিকমিক জোনাকীর দীপ জ্বলে শিয়রে’… ‘ময়ূরপঙ্ক্ষী ভেসে যায়/রামধনু জ্বলে তার গায়।’ শুধু গান আর গান প্রতি পুজোয়। আর অনুপম কণ্ঠের অধিকারী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের তো কোনও তুলনাই নেই। এক পুজোয় যদি বাজে ‘ধিতাং ধিতাং বোলে, ওই মাদলে তাল তোলে’, তো অন্য পুজোয় বেজে ওঠে ‘পথ হারাব বলেই এবার পথে নেমেছি’। এইসব শ্রুতিমধুর গানে আবার সুর দিয়েছেন ‘সুরের গুরু’ সলিল চৌধুরি। যার কোনও তুলনা পরবর্তীকালেও দেখা যায়নি। এমনকি এখনও, এই ২০১৫ সালে, সুরের মধুঝরা নতুনত্বের সন্ধান মেলেনি।

সে সময়টাই ছিল যেন বাংলা গানের এক আশ্চর্য যুগ। একই সঙ্গে জলসারও যুগ। পুজোর পরেই শুরু হয়ে যেত জলসার দিন। পুজোয় বিসর্জন হল কী শুরু হল ওই মঞ্চে গানের আসর। প্যান্ডেল কখনও কখনও থাকত। ডায়াসে শুরু হত গানের শিল্পীদের মধুঝরা কণ্ঠের আলোড়ন–তোলা গান। গানের পর গান। শ্রোতারা একটি গান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘আর একটা, আর একটা’ বলে চিৎকার করে উঠতেন। কখনও নির্দেশ যেত, ‘এই গানটা’। কাগজের স্লিপেও অনুরোধ যেত মঞ্চে। রাত্রি ১১টা, ১২টা, ১টা— গান চলছে। আসর জমজমাট। রাস্তাঘাট নির্জন হলেও কোনও ভয় ছিল না। সুবিধেমতো কেউ কেউ বা কয়েকজন মিলে একসঙ্গে রাস্তায় হেঁটে যেতেন। স্ত্রী–পুরুষ নির্বিশেষে সবাই। এইসব দিনকাল ছিল প্রধানত পঞ্চাশের দশকের শেষদিক থেকে ষাটের দশকের সবটা জুড়ে। পরে নানা কারণে কমে যায়।

আরও কে কে গাইত বা গাইতেন? শুনুন তবে। অখিলবন্ধু ঘোষ, আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়, গীতা দত্ত, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়— কে নয়? ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য ও দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় ছিলেন এই সময়ের গানের রাজা। আমরা অপেক্ষা করে থাকতাম, এবার কী গান বেরবে পুজোয়! কারণ পুজোর সময় যত নতুন নতুন গান বের হত, অন্যসময় তা হত না। অল্প অল্প শীতের রেশ, ঝকঝকে রাত্রি, মাইকে ভেসে আসছে জলসার গান। ভেসে আসছে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের আশ্চর্য গান: ‘মাটিতে জন্ম নিলাম, মাটি তাই রক্তে মিশেছে/ এ মাটির গান গেয়ে ভাই, জীবন কেটেছে।… মাটিতে জন্ম নিলাম…’ কখনও ভেসে আসত ‘ত্রিনয়নী দুর্গা, মা তোর রূপের সীমা পাই না খুঁজে।…’ হ্যাঁ, সিনেমার গান। যেমন সুর, তেমনই কণ্ঠ ও তার গায়কি! শুধু গান আর গান। ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য এক আশ্চর্য শিল্পী। মাঝরাত্রি পার হয়ে গেছে, তিনি গান গাইছেন। শ্রোতায় শ্রোতায় ছয়লাপ। শুধু মানুষ আর মানুষের সমাবেশ। নিস্তব্ধ পরিবেশ। গানের সুর ও কণ্ঠের জাদুকরী আমেজ ছাড়া আর কিছু নেই।

রাস্তা দিয়ে শ্রোতারা দল বেঁধে হেঁটে যেতে যেতে অন্য একটি জলসার গান শুনতে পেতেন মাইকে ভেসে–আসা হাওয়ায়। দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় ধরেছেন, ‘মন ছুটেছে তেপান্তরে দূর গাঁয়ে ধানক্ষেতের আলেরই ধারে ধারে/রাঙা মাটির ভুবনখানি যেথা পাখির কলতানে উছলে পড়ে’।… কিংবা ‘শ্যামলবরণী ওগো কন্যা/এই ঝিরঝির বাতাসে ওড়াও ওড়না/মেঘের অলক দোলায় কোথা যাও/কত হাসির ফোয়ারা তোমারই ঝরনা।’ অথবা ‘এই ছায়া ঘেরা কালো রাতে/স্তব্ধ ঝরা বেদনাতে/মিটিমিটি জ্বলে তারা আকাশের গায়, যেন কথা বলে কার সাথে।’ ভোলা যায় না অখিলবন্ধু ঘোষ গাইছেন, ‘পিয়ালশাখার ফাঁকে ওঠে একফালি চাঁদ বাঁকা ওই…।

সুরের মূর্ছনায় রাত্রি কেঁপে ওঠে। হেঁটে যেতে যেতে আবার শোনা যায় কোনও জলসার গান। ভেসে আসছে মাইকের গমগম আওয়াজে। সুপ্রীতি ঘোষ গান গাইছেন, ‘পদ্মকলি সকলে খোঁজে রাতের আকাশে তারা/তোমার খোঁজে আমার দুটি নয়ন দিশাহারা’ অথবা ‘আকাশ যদি না অত সুদূর হত/কত তারা যদি হত ফুলের মতো/তাহলে সে ফুলগুলি গেঁথে মালিকায়/উপহার দিতাম তোমায়।’ আর মৃণাল চক্রবর্তীর ‘যমুনা কিনারে শাজাহানের স্বপ্ন শতদল/শ্বেত মর্মরে মরমের ব্যথা বিরহীর অশ্রুজল/তাজমহল… তাজমহল।’ তুলনা নেই।

কত গান, কত পুজো পার হয়ে যেত। গান ফুরত না, পুজো ফুরত না। ঘুরে ঘুরে পুজো আসত, নতুন নতুন গানের সৃষ্টি হত। বস্তুত পুজো আসছে মানেই গান আসছে। এমনই দিন ছিল সেকালে। আনন্দে বয়ে যেত সুন্দর সময়। ঠিক কথা, সে ছিল গানের দিন। ওই সময়েই বাংলা সিনেমার গানের জগৎও ছিল আলাদা। না হলে এক আশ্চর্য সুর কথার সৌন্দর্যকে আশ্রয় করে কী করে বেজে উঠতে পারে, ‘গানে মোর কোন ইন্দ্রধনু আজ স্বপ্ন ছড়াতে চায়।’… হ্যাঁ, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় তাঁর অনুপম কণ্ঠলাবণ্যে রাত্রিকে ভাসিয়ে দিয়েছেন এক আশ্চর্য সুরের স্রোতে। সুর দিয়েছিলেন কে? অনুপম ঘটক।… সবচেয়ে বড় কথা, পুজোর গানগুলি প্রথমে প্রচার করত আকাশবাণী শনিবার ও রবিবার দুপুর দুটোর অনুরোধের আসরে

এক পুজোয় বের হল তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেকর্ড। দু’পিঠে দুটি গান। ‘মোর মালঞ্চে বসন্ত নাইরে নাই/ফাগুন ফিরিয়া গেল তাই।’ সম্ভবত অন্যটা হল, ‘পৃথিবী আমারে চায়, রেখো না বেঁধে আমায়/ খুলে দাও প্রিয়া খুলে দাও বাহুডোর।’ তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক গান গেয়েছেন, কালজয়ী গান। ‘এক এক দিন মেঘ করে মন বলে হারিয়ে যাই, রূপকাহিনীর গল্প বলো শুনতে চাই।’ কিংবা ‘রূপকাঠি গাঁয়ে শ্যামলী মেয়েটি পথ চলে/হাওয়া ঝিরঝির, নদী ছলছল কথা বলে।’ অথবা যে অসাধারণ গানটি একদিন রাত্রি প্রায় দশটা– এগারোটায় দূরের রেডিও থেকে ভেসে এল, তা হল, ‘কাজল নদীর জলে ভরা ঢেউ ছলছলে, প্রদীপ ভাসাও কারে স্মরিয়া— সোনার বরণী মেয়ে বলো কার পথ চেয়ে আঁখি দুটি ওঠে জলে ভরিয়া।’… এই তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কত গান যে জনপ্রিয় হয়েছিল এবং এখনও তা সমান দাবি করে, তার হিসেব নেই। তারপর ‘চম্পা আমার ওগো শোনো, পারুলকুমার ডাকে তোমায়/ঘুমায়োনা, জাগো।’

এক পুজোয় প্রথম দিকে বেজে উঠল, শচীন দেববর্মণের ‘মন দিল না বঁধু, মন নিল যে শুধু/আমি কী নিয়ে থাকি।’… যেমন সুরের নতুনত্ব, তেমনই কণ্ঠসৌন্দর্যের নতুনত্ব। সব মিলে এক আশ্চর্য রাগাশ্রয়ী তানের ও তালের মনভোলানো উপহার। সারা বাংলা যেন নতুনত্বের স্বাদ পেল। সম্ভবত পঞ্চাশের দশকের শেষদিকে এই সংযোজন। শচীনকত্তার একের পর এক মোহ সঞ্চারকারী গান ও সুর। যেমন, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে ঢেউ খেলিয়া যায় রে/ঝিরঝিরঝির হাওয়ায় রে, ঢেউ খেলিয়া যায়।’ মনে পড়ে, তাঁর সর্বকালের এক সেরা গানের কথা। তা হল, সেই যে বাঁশি বাজানোর দিনগুলির মধ্যে ‘তাক দুম, তাক দুম বাজে, বাজে ভাঙা ঢোল,/ ও মন যা ভুলে যা কী হারালি ভোল রে ব্যথা ভোল।’ সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়ে, মা দুর্গার বিসর্জনের পর শূন্য হৃদয়ের আকুতিতে। ভাঙা মন যেন সান্ত্বনা পায়। আরও কত গান এই প্রবীণ শিল্পী তৈরি করেছেন ও গেয়েছেন, তার হিসেব নেই।

এক পুজোয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গাইলেন, ‘মাগো, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে,/তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি।’ গাইলেন, ‘শোনো কোনও একদিন, আকাশ বাতাস জুড়ে রিমঝিম বরষায়/দেখি, তোমার চুলের মতো মেঘ সব ছড়ানো/চাঁদের মুখের পাশে জড়ানো/মন হারালো হারালো মন হারালো/সেইদিন।…’ হ্যাঁ, সুর? অবশ্যই সলিল চৌধুরি। যাঁর হাত ছিল ঈশ্বরদত্ত। হারমোনিয়াম বা পিয়ানো অ্যাকর্ডিয়ান যেন তাঁর কথা শুনে চলত।… আরও অনেক কথা বলা যায়, কিন্তু থাক।…

শেষে বলি, এখন পুজোর গান বলতে গেলে সেরকম বেরয় না বললেই চলে। বেরলেও কোনও উন্মাদনা নেই, আকর্ষণ নেই। অতীতের মতো সুরকার, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পীর বড় অভাব। আর, গানের জলসাই বা কোথায়? হাতে গুনে একটি–দুটি জায়গায়। স্থানীয় শিল্পীরাও তো নেই। উদ্যোক্তাও নেই। গানের সমঝদারের সংখ্যাও কমে আসছে। এখন টিভির নাচ–গানের অনুষ্ঠানে সবাই মগ্ন।


সৌজন্যেঃ আজকাল

ফ্যাশন, নাকি প্রয়োজন?

March 13, 2013

iphone-4

হলিউডের নায়কের মতো চুল, শার্ট-প্যান্ট-জুতোতে হলিউড বা বলিউডের ছাপ — এই ছিল একটা সময় পর্যন্ত পুরুষের ফ্যাশনের সীমা। মেয়েদের ক্ষেত্রটা একটু প্রসারিত। পোশাকের ছাঁটে নিত্যই নতুনত্বের দেখা না মিললেও বছর ঘুরে নতুন ডিজাইন আসতই। চুল থেকে নখ অবধি মেকাপের ক্ষেত্রেও নানা বৈচিত্র্য ছিল। মেয়েদের পার্স বা ভ্যানিটি ব্যাগ, অলঙ্কারকেও ফ্যাশনসামগ্রী হিসেবেই দেখা হতো, পুরুষের বেলায় যা ঘড়ি, আংটি বা অন্য কিছু অলঙ্কারে সীমাবদ্ধ। পুরনো এসব ফ্যাশনসামগ্রীর প্রভাব এখনও অটুট, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু বস্তু।

সাম্প্রতিক পরিভাষায় এগুলোর নাম গ্যাজেট। বলতে গেলে, মোটামুটি অবস্থাপন্ন সকলেরই একটি করে গ্যাজেট থাকে। আর নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের কাছ থাকে একাধিক গ্যাজেট। সবার কাছে আছে মোবাইল ফোন। তরুণ-তরুণীদের কাছে মোবাইলের সঙ্গে আইপ্যাড, ট্যাবলেট কি নিদেনপক্ষে একটা এমপিথ্রি থাকবেই। আগে দেখা যেত, তরুণরা পথ চলছেন কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে, গান হচ্ছে। পকেটে এমপিথ্রি বা এমপিফোর।

এখন মোবাইলের ভেতরই ঢুকে গেছে গান শোনা, ছবি তোলা, ভিডিও করা, ছবি দেখা মায় ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের খুঁটিনাটি সবকিছু। মোবাইলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এসেছে। ফলে কম্পিউটারে যা কিছু সম্ভব সবই এখন মোবাইলেই করা যাচ্ছে। থ্রিজি কানেকশন থাকলে তো কথাই নেই। আগের ফোন ছিল অতি প্রয়োজনের জিনিস, কথা বলা, রেডিও শোনা আর মেসেজ বিনিময় ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ তার কার্যক্রম। এখনকার ফোন সব কাজ করে। এই ফোনের নাম স্মার্টফোন।

আজকাল পত্রপত্রিকায় যেসব মোবাইলের বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলোতে স্মার্টফোনেরই দৌরাত্ম্য। দোকানে গেলে দেখা যায়, অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন স্মার্টফোনের দোকানে। বাজারে এসেছে বাহারি সব মোবাইল। বহুমূল্য ফোনের পাশে আছে সাশ্রয়ী ও চাইনিজ স্মার্টফোনও। স্মার্টফোনের নামই বলে দেয় এ বস্তু কেমন ফ্যাশনদার। স্মার্টফোনের আগে কোনো বস্তু নিজেকে স্মার্ট দাবি করেনি। আগে বলা হতো, এটি ব্যবহার করুন, এ বস্তু আপনাকে স্মার্ট করবে। এখন ফোন নিজেই বলছে, আমি স্মার্ট। ফোন এখন প্রয়োজনের সীমা পেরিয়ে ফ্যাশনসামগ্রী। নিয়মিত ফোন না বদলালে ফ্যাশন ধরে রাখা কঠিন। শুধু যে রঙ আর আকারের পরিবর্তনের কারণেই ফোন পরিবর্তন করা অপরিহার্য হয়ে উঠছে, তা নয়। কোম্পানিগুলো নিত্যনতুন সেবা দিয়ে নতুন অপশন চালু করে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করছে।

সমানে বিক্রি হচ্ছে, নতুন মডেলের গ্যাজেট। স্মার্টফোন নিজেই একটা কম্পিউটার। কম্পিউটারের সব কাজ এতে হয়। তারপরও সঙ্গে অনেকেই ট্যাবলেট রাখেন, নয়তো ল্যাপটপ। ল্যাপটপ দুই প্রস্থ বস্তু। কিন্তু ট্যাবলেট একেবারে এক প্রস্থ। দেখতে মোবাইলের বড় ভাই। কাজ একেবারে পিসির মতো। তাই ল্যাপটপের চেয়ে এর কদর বেশি। মোবাইলের ছোট পর্দার কাছে ট্যাবলেটের পর্দাই অনেক বড়। ল্যাপটপ তো আরও বড়। যারা মোবাইলে ছবি দেখতে অভ্যস্ত তাদের কাছে হয়তো পিসিতে দেখা ছবিই লাইফ সাইজ মনে হয়। সিনেপ্লেক্সের বড় পর্দা বিগার দ্যান লাইফ। দেখতে দেখতে পিসি বা পার্সোনাল কম্পিউটারের কদরও কমে এলো। অফিসে পর্যন্ত ডেক্সটপের জায়গা দখল করে নিয়েছে ল্যাপটপ। কিছুদিন পর হয়তো ল্যাপটপের জায়গা নেবে ট্যাবলেট। তারপর? সবই মোবাইলের ভেতর ঢুকবে।

সত্যিই কি তাই? সবকিছু ওই ছোট যন্ত্রে ধরবে? অনেক কিছুই ধরে যাবে নিশ্চিত। বিশেষ করে কেউ যদি শুধু সাবস্ক্রাইব করে যেতে চান গ্রহীতা হিসেবে তবে কোনো সমস্যাই নেই। কিন্তু কেউ যদি কিছু তৈরি করতে চান তবে বড় পর্দার দ্বারস্থ হতেই হবে। ডেস্কটপে লেখালেখি ভালো চলে, ল্যাপটপেও। কিন্তু ট্যাবলেটে কি সম্ভব? মোবাইলে তো আরও সম্ভব নয়। মোবাইলে পড়াটা খুব সম্ভব। কিন্তু পড়াটাই তো শেষ কথা নয়, কাউকে না কাউকে তো লিখতে হবে। গান শোনাটাই তো শেষ কথা নয়, কাউকে না কাউকে তো গাইতে হবে। সিনেমা বানাতে হবে, দুনিয়ায় আরও বহু কাজ হতে হবে। সেসব মনে রাখাও কিন্তু জরুরি।

Mamata’s Misgivings & Prevarication

June 30, 2012

 

292041[1]

A tete-a-tete with Bidya Balan

March 26, 2012

 

বিদ্যা বালনের সঙ্গে একটি সন্ধ্যা…

পত্রিকা: বিদ্যা…সরি ভিদ্যা। আপনি তো এই সম্বোধনটাই চান?
বিদ্যা: (হাসি) আরে না না। ওটা ফিল্মে ছিল। বিদ্যা সম্বোধনটা খুব সুইট। আমি সেই ‘ভাল থেকো’র সময় থেকে কলকাতার মানুষের কাছে বিদ্যা শুনে আসছি। ভেরি হ্যাপি উইথ ইট।
পত্রিকা: বাংলা বর্ণমালায় আসলে ‘ভি’ অক্ষরটা নেই। বাঙালিরা তাই ‘ব’ উচ্চারণ করে।
বিদ্যা: আমি খুব ভাল করে জানি। z-এরও বোধহয় অবিকল উচ্চারণ নেই।
পত্রিকা: আরে এত কিছু জানেন?
বিদ্যা: জানি মানে? আমি তো বহু লোককে এসএমএস অবধি করেছি বিদ্যা বালন বলে। (হাসি)


‘কহানী’ ছায়াছবিতে একটি দৃশ্যে লাস্যময়ী অভিনেত্রী বিদ্যা বালন

পত্রিকা: একটা কথা বলব? এই মুহূর্তে আপনি বিদ্যা বা ভিদ্যা কোনওটাই নন।
বিদ্যা: আমি তা হলে কী?
পত্রিকা: আপনি হলেন খান। বলিউডে সাড়া ফেলে দেওয়া নতুন খান।
বিদ্যা: হা হা হা। না না আমি বালন হয়েই ভাল আছি। ‘বি’ ইজ অ্যা গ্রেট অ্যালফাবেট। ‘বি’ একটা দুর্দাম্ত অক্ষর।

পত্রিকা: আমি যদি বলি ‘বি’ নিপাত যাক। ‘কে’ আসুক।
বিদ্যা: না না। ‘কে’ বলিউডে অনেকগুলো আছে। (হাসি) ‘বি’ একটাই। আর সেই মানুষটা হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অমর।
পত্রিকা: একটা সময়ে আপনি বলতেন শাহরুখের সঙ্গে কাজ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে রয়েছেন। পরপর দু’টো ছবিতে যা করলেন তাতে কি মনে হয় না এসআরকে যথেষ্ট উৎপীড়িত, আতঙ্কিত এবং ভয়ার্ত! যে দু’জনে কাজ করাটা এখন নিছকই সময়ের অপেক্ষা?
বিদ্যা: ধ্যাৎ। উৎপীড়িত? আপনি যে কী বলেন (হাসি)! আশা করব কোনও না কোনও সময় আমাদের কাজ করাটা হয়েই যাবে। যখন হওয়ার তখন হবে। এখনকার মতো আমি নিজের একটা স্পেস তৈরি করার চেষ্টা করছি। আর ছোট একটা পাদানিও পেয়েছি। শাহরুখ আর আমার কাজ করার যখন সময় আসবে কাজ ঠিকই হবে।

পত্রিকা: আপনি কি অদৃষ্টের ওপর এ ভাবে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে বসে থাকেন?
বিদ্যা: অদৃষ্টে বিশ্বাস করি। কিন্তু অদৃষ্টের ওপর মোটেও ছেড়ে দিই না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনি ভেতর থেকে যদি কিছু চান ব্রহ্মাণ্ডে কোথাও না কোথাও সেটা আপনার জন্য ভেসে উঠবেই। কেউ বলে দেয় না সেই ভেসে ওঠা জিনিসটার কাছে আপনি কী ভাবে পৌঁছবেন। কোনও রোড ম্যাপ দিয়ে দেয় না। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে ভেতর থেকে সত্যি চাইলে, ব্রহ্মাণ্ড ষড়যন্ত্র করেও আপনাকে সেই জিনিসটার পাশে নিয়ে যায়।

পত্রিকা: তার জন্য কী চাই?
বিদ্যা: চাই ইচ্ছে। আর সেই ইচ্ছের পেছনে নিরন্তর ঘোড়া ছোটানো। যেমন আমার জীবনের লক্ষ্য হল ভাল ফিল্ম করা। আর তার জন্য এমন সব মানুষ খুঁজে বার করা যাঁরা সেই ইচ্ছের গোড়ায় ধুনো দিতে পারবেন।
পত্রিকা: একটা ট্যুইট দেখছিলাম সে দিন। ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার নিতে আপনি যখন দিল্লি যাবেন তখনই যেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক ‘কহানি’র জন্য পরের বছরের সেরা নায়িকার পুরস্কারটাও আপনাকে দিয়ে দেয়। তা হলে দিল্লি-মুম্বই পরের বারের প্লেন ফেয়ারটাও বাঁচানো যায়।
বিদ্যা: তাই বুঝি। বাহ্। দারুণ প্রশংসা। এটা কোথায়? ট্যুইটারে?
পত্রিকা: ট্যুইটার খুলে দেখে নিন না।
বিদ্যা: কী করে খুলব? আমি ট্যুইটার, কিন্ডল, ফেসবুক -এ সব থেকে শত হস্ত দূরে।

পত্রিকা: আক্ষেপ হয় না যে আপনি ১৯৪৭ সালে আজও বাস করছেন?
বিদ্যা: একটুও না। আমি খবরের কাগজ মন দিয়ে পড়ি। নিউজ টেলিভিশন দেখি। আমার মনে হয় এমনিতেই আমাদের চার পাশে অপর্যাপ্ত ইনফরমেশন ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর পর আবার ট্যুইটার খুলে যদি রোজ সবার মতামত পড়তে শুরু করি তা হলে দিনের শেষে আমার নিজের ব্যক্তিগত মতামত বলে কিছু বেঁচে থাকবে না। ট্যুইটার বা ফেসবুক নিয়ে অবশেসন আমার পছন্দ নয়। হ্যাঁ পুরনো স্কুলের বন্ধু, কলেজের বন্ধু এদের খুঁজে বার করার জন্য ফেসবুক আদর্শ হতে পারে। কিন্তু তার বেশি নয়।
পত্রিকা: অথচ বাড়িতে আপনার বোনই ফেসবুক ভাইরাসে আক্রান্ত।
বিদ্যা: ছিল। এখন ছেড়ে দিয়েছে।
পত্রিকা: ‘কহানি’ আর কলকাতা এই দু’টো ‘কে’ কিন্তু এখন আলোচনার মধ্যগগনে।
বিদ্যা: হ্যাঁ, আমি দারুণ খুশি যে আমার প্রিয় শহর নিয়ে তৈরি একটা কাজ এত মানুষের ভাল লাগছে। কলকাতার আকর্ষণ আমার কাছে অপ্রতিরোধ্য। শহরটার নাড়িনক্ষত্র আমার প্রিয়।

পত্রিকা: মনে করা যাক হবু বরকে আপনি কলকাতা দেখাতে নিয়ে আসছেন। গাইড হিসেবে কোন পাঁচটা জায়গা দেখাবেন?
বিদ্যা: খুব ইজি।
১) কালীঘাটে মায়ের মন্দির। আমি এই মন্দিরে অসম্ভব আকর্ষিত। যখনই আসি একবার ঘুরে যাই। ‘ডার্টি পিকচার’এর পরেও এসেছিলাম।
২) গড়িয়াহাট। এখানকার শাড়ির দোকানগুলোয় সবচেয়ে ভাল সুতির শাড়ি পাওয়া যায়। কম টাকায়।
৩) শ্রীহরি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। দোকানটা বেলতলার কাছে। ওখানে গিয়ে শুধু লুচি আর ঘুগনিটা খেতে হবে অসামান্য।
৪) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। কারণ নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।
৫) চৌধুরী গেস্ট হাউস। জীবনে প্রথম শুটিং করতে এসে ওখানেই উঠেছিলাম।
পত্রিকা: গাইড হয়ে এগুলো ঘোরাবেন?
বিদ্যা: আমায় শেষ করতে দিন।
৬) মোনালিসা গেস্ট হাউস। ‘কহানি’ যেখানে শু্যটিং করেছি।
৭) বিবেকানন্দ পার্ক। ওই পার্কের কোনায় বিজলি গ্রিলের সোডা।
৮) কুমোরটুলি। ঠাকুর তৈরি হচ্ছে এমন সময়ে।
৯) দেশপ্রিয় পার্কের কাছে ‘মহারানি’। ওখানকার চা।
১০) গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশন। অদ্ভুত শান্তির জায়গা।

পত্রিকা: অবাক লাগছে আপনি যে ভাবে কলকাতার গলিঘুঁজি নিয়ে বলছেন।
বিদ্যা: আরে গলিঘুঁজি কী! আমি তো বাংলা গান আর ছড়াও বলতে পারি।
পত্রিকা: তাহলে তো বাংলায় পুরোটা ইন্টারভিউ করলেই হত।
বিদ্যা: কোনও সমস্যা ছিল না। আমার শুধু সামান্য প্রবলেম হয় টিভিতে অনর্গল বাংলা বলতে গেলে। তখন আমি কনশাস হয়ে পড়ি।
পত্রিকা: এমন বাঙালি হয়ে কী লাভ যদি একটা বাংলা ছবিই না করেন!
বিদ্যা: বাংলা ছবি করতে পারলে আমার মতো খুশি কেউ হবে না। আপনি ফোন করার দু’ মিনিট আগে বুম্বাদা বেরিয়ে গেলেন। উনি খুব উৎসাহী এক সঙ্গে বাংলা ছবি করতে। আমিও উৎসাহী। শুধু জুতসই একটা স্ক্রিপ্ট দরকার। আর একটা কথা বুম্বাদাকে আমি বলে দিয়েছি আমাকে ছবিতে বাংলা বলতে দিতে হবে। অন্য কেউ ডাবিং করলে আমি সিনেমাটা করব না।

পত্রিকা:কহানি’র পরে তো আপনাকে নিয়ে জয়জয়কার। এক এক সময় মনে হচ্ছে নিজের শর্ত আর নিজের ভ্যালুতে অবিচল থেকে আপনার সাফল্যটা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
বিদ্যা: আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান বলব এমন একটা পরিবারে জন্মেছি যেখানে আমাকে নিঃশর্ত ভালবাসা দেওয়া হয়েছিল আর বলা হয়েছিল নিজের স্বপ্নকে তাড়া করার জন্য সাহস দেখাও। নিজের বিশ্বাসের ওপর দাঁড়াও। আমি তখন থেকেই শিখেছি জীবনের নিয়ম বলে নির্দিষ্ট কিছু হয় না। তুমি নিজের জন্য যে নিয়ম বাছবে সেটাই নিয়ম। জীবনের আদর্শ রাস্তা বলে কিছু হয় না। তুমি নিজের জন্য যা বাছবে সেটাই আদর্শ রাস্তা। আমরা আসলে জীবনে সামাজিক অনুষঙ্গ আর বিধিনিষেধ মেনে চলতে এত অভ্যস্ত হয়ে যাই যে নিজে কী চাইছি সেটা বুক ফুলিয়ে বলার সাহসটাই চলে যায়। আমাদের আওয়াজ সব সময়ই মাথা নত করে ফেলে সামাজিক বিধির কাছে। আমি এখন খুব খুশি। ভীষণ তৃপ্ত। যে আমার সাফল্য এসেছে নিজের টার্মসে চলে। আমার চরিত্রগুলো যদি পরপর দেখেন ‘ইশকিয়া’, ‘পা’, ‘…জেসিকা’ প্রত্যেকটাই খুব শক্তিশালী নারী চরিত্র। কোথাও আমি নিজের দর্শনের সঙ্গে আপস করিনি।

পত্রিকা: এই যে স্রোতের কাছে মাথা না ঝুঁকিয়ে নিজের মতো থেকেও সাফল্য কুড়নো এটাই কি বিদ্যা কি কহানি?
বিদ্যা: আমার বরাবরই মনে হয় আমরা নিজেরা নিজেদের পাশে দাঁড়াই না। সব সময় ভাবি পাশের লোকটা আমাদের সম্পর্কে কী ভাবছে। আমি যেটা করছি সেটা সামাজিক অনুমোদন পাচ্ছে কি না? আমি এই দর্শনে বিশ্বাস করি না। আমি খুঁড়ে বার করি আমি কী চাইছি? সেই চাহিদার পেছনে নিজেকে সমর্পণ করি মনপ্রাণ দিয়ে। নিজেকে আমি গ্রহণ করতে শিখেছি নিজের মতো করে। আর সব কিছুসহ নিজেকে গ্রহণ করে নেওয়ার মতো স্যাটিসফাইয়িং অভিজ্ঞতা আর নেই।
পত্রিকা: অর্থাৎ একটা ট্রেন্ড বলিউডে তৈরি হয়ে গেল যে আমার করিনা কপূর হওয়ার দরকার নেই। ঐশ্বর্যা রাই হওয়ার পেছনে দৌড়নোর দরকার নেই। আমি নিজের মতো থেকে, নিজের লেনে দৌড়েও বাজি জিততে পারি।
বিদ্যা: আমি অন্য কোনও নাম করে তুলনা টানতে চাই না। আমি জাস্ট নিজের মতো।

পত্রিকা: বলতে চাইছি আপনি তো দেখিয়ে দিলেন যে ওঁদের মতো ‘ডিভা’ না হলেও চলবে। তা হলেও যুদ্ধে জেতা যাবে।
বিদ্যা: আমি তো বলছি আর কাউকে ভাবার দরকার নেই। শুধু নিজেকে ভেবে সৎভাবে দৌড়ে চলাই ভাল।
পত্রিকা:কহানি’ দেখে আমাদের হ্যাংওভার আর কাটছে না। যে মানুষটা সকলকে হ্যাংওভার দিল তার কাটতে কত দিন লেগেছে?
বিদ্যা: আরে বাবা আমি তো যেন গত ৯ মার্চ বাচ্চার ডেলিভারি করলাম। আমার শিশুকে পৃথিবী যে এমন দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছে তাতে দারুণ খুশি। ছবিটা ভীষণ ডিফিকাল্ট ছিল। সুজয় একটা লাইন নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা তার নিরুদ্দেশ স্বামীর খোঁজে ব্যাকুল হয়ে কলকাতা এসেছে। এর আগে সুজয় অনেক স্ক্রিপ্ট শুনিয়েছে। আমার মনে ধরেনি। কিন্তু একটা লাইন শুনেই আমি হ্যাঁ করে দিই। সমস্যা হল ছবির কোনও প্রোডিউসার পাওয়া যাচ্ছিল না। বড় বড় প্রোডাকশন হাউস না বলে দেয়। যারা কথা বলতে রাজি হচ্ছিল তারাও শর্ত দিচ্ছিল যেহেতু ছবিতে তেমন বড় নাম নেই কোনও পুরুষ সুপারস্টারকে ক্যামিও রোলে আনতে হবে। সুজয় রাজি হয়নি। প্রোডিউসাররাও না বলে দেয়। তখন একদিন এসে ও আমায় বলে, ভাবছি বাড়িটা বন্ধক দিয়ে দেব। কিন্তু ছবিটা করব। আমি তখন ওকে বলি, ‘বাড়ি বন্ধক দিও না। অপেক্ষা করো। কিছু না কিছু নিশ্চয়ই হবে। কাউকে না কাউকে নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।’ শেষ পর্যন্ত জয়ন্তিলাল গাড়া নামক প্রোডিউসার টাকা ঢালতে রাজি হন।

পত্রিকা: বাকিটা ইতিহাস!
বিদ্যা: বাকিটা এই যে, দৃঢ় বিশ্বাস আর সততা প্রচুর পরিমাণে জড়ো হলে সামনের পাথরগুলো সরিয়ে দেওয়া যায়। এই ছবির সময় বিশ্বাস ছাড়া আর তো কিছুই ছিল না আমাদের।
পত্রিকা: এটাই তো বিদ্যা মডেল।
বিদ্যা: বললাম তো দৃঢ় বিশ্বাস আর সংকল্পের জয় কোনও না কোনও দিন হবেই। আপনাকে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে অনেক। কিন্তু ফল আসবেই।
পত্রিকা: ফল এমন এসেছে যে লোকে বলতে শুরু করেছে এক যে ছিল রানি মুখোপাধ্যায়। এখন এক যে আছে বিদ্যা বালন।
বিদ্যা: এই আবার নাম চলে এল। আমি কোনও নামটাম নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। ব্রহ্মাণ্ডে প্রত্যেকের জন্য নিজস্ব জায়গা আছে। আমি আছে আমার স্পেসে। অন্য কেউ আছে অন্যের স্পেসে। কেউ কারওর সঙ্গে লড়ছে না।
পত্রিকা: প্রচণ্ড পলিটিক্যালি কারেক্ট উত্তর।
বিদ্যা: একেবারেই না। আমি সত্যি ভেতর থেকে বিশ্বাস করি।

পত্রিকা: কিন্তু পরপর দু’টো হিট ছবিতে আপনার জীবনটাই নিশ্চয়ই বদলে গেছে?
বিদ্যা: অনেক হেকটিক হয়ে গেছে। বলতে পারেন চারদিক থেকে ভেসে আসা প্রশংসায় আমি এখন ভাসছি। বেশ নিরাপদও মনে হচ্ছে যে ছোট একটা পাদানি অন্তত হয়েছে। কিন্তু আপাতত আমার তিন মাসের ব্রেক চাই। শারীরিক মানসিক দিক থেকে একদম নিঃশেষিত অবস্থায় রয়েছি।
পত্রিকা: বলিউডের বর্ণমালার দু’টো গুরুত্বপূর্ণ অক্ষর আপনাকে কী বললেন টললেন? ‘বি’ আর ‘কে’।
বিদ্যা: (হাসি) ‘বি’র সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। তবে ‘কে’ ডার্টি পিকচার’এর পরেই আমাকে দারুণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তখনও উনি নিজে দেখেননি। কিন্তু এর ওর মুখে শুনে বলেছিলেন দারুণ কাজ করেছ।
পত্রিকা: ‘বি’র হোম প্রোডাকাশন ‘পা’তে কাজ করে জাতীয় পুরস্কার না পাওয়ায় আপনি প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন। সেই আঘাতটা তো মুছে গেল।
বিদ্যা: চোটটা বেশি দিন ছিলও না। লাইফ গোজ অন। প্রত্যেকটা দিন নতুন দিন। আমি নিজেকে বলেছিলাম রোজ তো সূর্য ওঠে। হয়তো আমারও সূর্য উঠবে।

পত্রিকা: সবই তো এসে গেল। এ বার প্রিন্স চার্মিং কবে আসবে?
বিদ্যা: তার জন্য সময় আছে। আমি এখনই বিয়ের জন্য প্রস্তুত নই।
পত্রিকা: বিয়ের আবেদনে প্রার্থীর নামের সঙ্গে কলকাতা যুক্ত থাকলে সে কি বাড়তি সুবিধে পাবে?
বিদ্যা: পাবে। আমি যাকেই বিয়ে করি না কেন তার কলকাতার সঙ্গে কোথাও একটা কানেক্ট থাকাটা জরুরি। কলকাতা আমায় প্রথম ফিল্ম দিয়েছে, প্রথম হিন্দি ফিল্ম দিয়েছে। ‘ভুলভুলাইয়া’র শুটিংও অনেকটা এখানে। এই শহরটার সঙ্গে আমার ভীষণ একটা কানেক্ট আছে। আমি মৃণাল সেনের ছবি ভালবাসি। উত্তমকুমারের ফিল্ম ভালবাসি। ‘সন্ন্যাসী রাজা’ দেখে আমি পাগল হয়ে গেছি। ওই যে মান্না দে’র গানটা ‘কাহারবা নয় দাদরা বাজাও’ কী অসাধারণ!
পত্রিকা: উত্তমকুমারকে ভাল লেগেছে?
বিদ্যা: ভাল মানে? কী অসম্ভব ন্যাচারাল অভিনয়। শুধু একটা দৃশ্য বলি, সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়ার পর প্রথম ওই লুকটা। কোনও ডায়লগ নেই। জাস্ট তাকানোটা। উফ্। লোম খাড়া হয়ে যাবে।

পত্রিকা: এত কলকাতা কলকাতা করছেন। শুদ্ধভাবে একটা বাংলা সেনটেন্স বলুন তো।
বিদ্যা: দু’টো বলছি। ‘কী হচ্ছে দাদা এ সব?’   ‘এই তো জীবন কালীদা’।

পত্রিকা:  অ্যাঁ!
বিদ্যা: হা হা হা।

129 Lenin Sarani – Story of Vernon Thomas

March 19, 2012

 

A House for Mr Thomas Now Under

Threat from Promoters

    KOLKATA: Vernon Thomas has penned as many as 105 books and over 250 short stories in a career spanning four decades. But this Anglo-indian writer (78), who was born and brought up in Kolkata, is spending sleepless nights since last couple of months after some unknown persons started inquiring about his health from his neighbours.

Vernon Thomas with his two adopted sons and grandson at his house

    Reason: the sprawling bungalow-patterned house at 129, Lenin Sarani, where his ancestors entered as tenants in 1926, his parents married in 1932 and he was born in 1934. Though Thomas does not want to leave the house his family has been living in for long, someone claiming to be legal owner of the property wants to raise a high-rise on the land.

    “I’m feeling a threat to my life from the time locals told me that some unknown persons have been enquiring about my health. I’ve been fighting eviction attempts since 1963 and this time I’m really worried. They are just waiting for me to die,” said Thomas, who lodged a police complaint in the first week of March.

    Thomas hardly has any vision, something which forced him to stop writing two years ago. Before his eyes failed him, he had kept up his authorship for a couple of years, albeit with a help of secretary taking his dictations.

    Thomas quit his job in 1977 to devote all his time to writing. The sprawling mansion at 129 Lenin Sarani is flanked by two three-storied buildings, but all six families residing in these tenements left over the past one-year after receiving hefty payouts. Thomas is only tenant, who has continued to stay put. As matters currently stand, there would be no claimants to his property if he were to die.

    “They first tried to evict us as soon as my father died in 1963 and stopped receiving rent. My mother, who had been with me since birth, was completely immobile. Hence, I started paying rent to the rent control department,” Thomas told HT.

    No one enquired about them since, as he continued paying his rent of Rs.168 per month in the name of Ajit Kumar Sabuin, the lawyer of former owner Ashalata Dasi and claimed to have become the owner after her death. However, trouble began a couple of years back when Partha Sabuin, who claimed to be the fourth son of Ajit Kumar Sabuin, visited his place, wanted to know when Thomas intended to leave the place and allegedly threatened him with dire consequences if he didn’t.

    “He told me that he was the only person on Earth, who could throw me out of this place. Even then I had lodged a police complaint,” Thomas said.

    Though the elderly author did not marry, he adopted two kids — Bablu Das and Lakkhi Maity, both born into humble households. Apart from them and the kin of Bablu Das, family members of their servants, who died a long time back, are also fellow lodgers with Thomas. The veteran author had them educated and they are currently sorted with jobs of their own.

    “They had nowhere to go. Hence I let them stay with me though they no longer serve me,” Thomas said.

Courtesy: Hindustantimes

Dinesh Trivedi vs Mamata Banerjee

March 15, 2012

 

THE ART OF RILING

WHAT DINESH SAID, WHAT DIDI MAY HAVE HEARD

dinesh

    In his maiden budget speech that stretched up to two hours, Dinesh Trivedi tried to break from the past in an attempt to chart a new course for Indian Railways. In doing so, he made several statements, some of which might have irked Mamata. The Telegraph compiles the statements that would not have been music to Mamata’s ears.

Dinesh: I took a vow to eliminate recurrence of such painful happenings (accidents) and decided that my entire emphasis is going to be on strengthening Safety, Safety and Safety. The death on rail tracks just can never be tolerated and it is not acceptable.

Didi may decipher: Is he saying that earlier ministers, including me, did not pay enough attention to safety?didi

Dinesh: There has been considerable criticism of Indian Railways in regard to only partial implementation of recommendations of several committees set up in the past. In this context, the Safety Committee has also observed that Indian Railways suffers from an ‘implementation bug’.

Didi may decipher: It looks like he is saying I failed to ensure implementation of safety measures when I held charge.

Dinesh: The railways have a large basket of pending projects. A total of 487 projects of new lines, gauge conversion, doubling and railway electrification with a throw-forward liability of over one lakh crore have already been approved by this august House in the past and are at various stages of execution.

Didi may decipher: Once is happenstance, twice coincidence but third time is enemy action. This is the third putdown for me and my predecessors.

Dinesh: The choice before me was either just to keep the system dragging or build a new, safe and modern, passenger and freight transportation system which would contribute at least 2 to 2.5 per cent to the GDP of the nation as against less than 1 per cent at present, and provide much needed employment opportunity to our people.

Didi may decipher: He is suggesting I did not contribute significantly to national income. He is also putting a clever job spin.

Dinesh: To bring down the operating ratio from 95 per cent to 84.9 per cent in 2012-13 and to 74 per cent in the terminal year of 12th Plan which would be an improvement over the best ever achieved by Indian Railways.

Didi may decipher: By claiming he will pull off such a big turnaround, he is only bringing more attention to the railway mess he inherited.

Dinesh: Within the constraints of funds, the Annual Plan outlay for the year 2012-13 has been targeted at Rs 60,100 crore, which is highest ever plan investment.

Didi may decipher: Definitely, he is saying Dinesh will do better than Mamata.

Dinesh: With almost 80 per cent of the traffic carried on 40 per cent of the rail network, the high density network (HDN) routes are over-saturated and there is a crying need to upgrade and expand capacity to reduce congestion, provide time for maintenance and improve productivity and safety.

Didi may decipher: He might as well have bluntly said that we went on adding trains without thinking about adding to capacity.

Dinesh: Stations and freight terminals are our business centres. Indian Railways have often drawn flak for not providing an enabling ambience to these business centres, which are used by customers.

Didi may decipher: How dare he? Can anyone say the riot of colours I personally chose for Duronto does not make up for the lack of ambience anywhere else?

Dinesh: State governments have also been requested to come forward for sharing the cost of the respective projects and to provide land free of cost to facilitate early construction of projects.

Didi may decipher: Heresy, Dinesh, heresy. In one fell blow, you have desecrated federalism as well as our presiding deity called land. Hey Maa, Maati, Manush!

Dinesh: Funding constraints are likely to cause slippage in the target of 1017km for Gauge Conversion for 2011-12. It is expected that 825km of gauge conversion projects will be completed.

Didi may decipher: My minister is saying I left behind such a mess that the target cannot be met.

Dinesh: State governments have come forward to share cost of some more projects in their states. Those include governments of Karnataka, Andhra Pradesh, Madhya Pradesh, Rajasthan, Jharkhand and Maharashtra.

Didi may decipher: Dinesh has the nerve to say my beloved Bengal will get projects only if my government agrees to share the cost. He has rubbed it in by mentioning those Congress and BJP governments.

Dinesh: The results of the PPP efforts of the railways have not been encouraging.

Didi may decipher: Dinesh is trampling another of my pet themes: PPP (which helped me steer clear of the tricky standalone concept called “private”). Most of my proposals were yoked to PPP and he is suggesting the idea bombed.

Dinesh: Over the years, railways had come to have large number of vacancies in various categories of staff, including in technical and safety-related areas. These have an adverse impact on operational and safety performance of the organization.

Didi may decipher: Eeesh! He is actually saying I did not let people have jobs even though vacancies were there.

AND FINALLY

Dinesh: I propose to rationalize the fare to cause minimal impact on the common man and to keep the burden within tolerance limits in general.

Didi may decipher: The last nail. I have made a career out of my no-hike policy and he is striking at the very root of my Sonar Bangla.

After presenting his maiden railway budget, Trivedi gave an interview to CNN-IBN, where he tried to explain the logic behind the hike. Needless to say, Mamata will not be happy with what the Trinamul railway minister said in the interview.

Dinesh: I have done what I could for the betterment of railways and India. Everybody is on board, politicians from all parties complimented me for the hike. The hike is in paisa, people can afford this hike.

Didi may decipher: Oh! He is pitting the others against me? Let me see how many will compliment him in public. He is saying hike in paisa but monthly expenses of poor families will go up by around Rs 200.

Dinesh: I have done a conscious duty as a citizen of India…. Mamata has never ever interfered with my work. I did not consult anybody but the common man. I have confidence in myself, rest I don’t bother. Bhagat Singh lost his life, losing a chair is no big deal, Mamata is not so unreasonable.

Didi may decipher: He is playing the hero. And he has no qualms in borrowing the aam aadmi slogan of none other than the Congress, our principal opposition in government. Dinesh is also saying that if I sack him, I will appear unreasonable.

Dinesh: I have taken a conscious decision. I am in politics for the people. I cannot ensure safety if I do not hike the fares.

Didi may decipher: He is saying I didn’t care for safety and that is why I did not raise fares.

Dinesh: I didn’t want railways to go the Air India way. It’s not a political budget, it’s an economic budget.

Didi may decipher: He is the big economist now? And all of us know only to present political budgets. Must tell Amit-da to teach all of them a lesson on March 23 when he presents our budget.

Bank Balance of a Teacher is 490 Billion Rupees

January 19, 2012

 

শিক্ষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৪৯ হাজার কোটি টাকা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট এলাকার বাসিন্দা পারিজাত সাহা। পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। তাঁর মাসিক বেতন ৩৫ হাজার টাকা।

   কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো একদিন ইন্টারনেটে ব্যাংক হিসাব দেখতে গিয়ে পারিজাত দেখতে পেলেন, তাঁর ব্যাংক (অ্যাকাউন্টে) হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ ৪৯ হাজার কোটি টাকা।

    ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই শিক্ষক বলেন, ‘গত রোববার সন্ধ্যায় আমি ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমার সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব যাচাই করছিলাম। আমি ধারণা করেছিলাম, আমার ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার টাকার মতো অর্থ থাকবে। কিন্তু ব্যাংক হিসাব দেখার পর যেন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পরে এটিএম মেশিনের মাধ্যমে ব্যালেন্স যাচাই করে দেখি, ঘটনা সত্যি।’

    তবে, সৎ থাকতে চেয়েছেন পারিজাত সাহা। ভুলটি ধরিয়ে দিতে তাঁর ব্যাংক সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় ফোন করেন তিনি। তাঁর এ ঘটনা বিস্ময়কর ঠেকেছিল ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছেও। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ওই হিসাবে ওই অর্থ আসার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয়। তাই পারিজাত চাইলেও সে অর্থ তুলতে পারবেন না।

    তবে নিজের জমা থাকা ১০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে পেরেছেন পারিজাত। তিনি বলেন, ‘আমি আমার অর্থ ফেরত পেয়েছি। তবে এখনো আমার হিসাবে ওই অর্থ প্রদর্শিত হচ্ছে। আমি জানি না, আমার ব্যাংক হিসেবে আর কতদিন এভাবে ওই অর্থ প্রদর্শিত হবে।’

    পারিজাতের ব্যাংক হিসাবের ওই অর্থ ভারতের বার্ষিক শিক্ষা বাজেটের কাছাকাছি। ভারতের বার্ষিক শিক্ষা বাজেট হচ্ছে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা।

সূত্রঃ বিবিসি।

পুত্রসন্তান… Boy Child…

December 27, 2011

 

    আজ বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে এলাম। মনটা একটু খারাপ লাগছে বটে! কিন্তু ভালোও লাগছে এই ভেবে যে একটা কাজ ভালোভাবে শেষ করতে পারলাম। বাবার প্রতি দায়িত্বও শেষ হলো। সংসারটা এবার নতুন করে গুছিয়ে নেব। বাবার ঘরটা গেস্টরুম বানাতে হবে। বাসায় একটা গেস্টরুম ছিল না বলে লুনার কত অভিযোগ—বাসায় গেস্ট এলে ওর নাকি মানসম্মান চলে যায়। ঠিকই তো বলেছে, গেস্টরুম একটা প্রয়োজন বৈকি! বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর বুদ্ধিটাও তার। আমারও যে মত ছিল না, তা নয়। বাবারও বোধ হয় এটাই ইচ্ছা ছিল। কারণ, তিনি আমাদের মতামতের কোনো বিরোধিতা করেননি। তা ছাড়া মায়ের মৃত্যুর পর বাবা খুবই নিঃসঙ্গ ছিলেন। আমি ও লুনা—দুজনই চাকরিজীবী, অফিসে যাই। বাবাকে কে সময় দেবে? ওখানে গিয়ে বাবা নিশ্চয়ই ভালো থাকবেন। সমবয়সী অনেককে পাবেন সঙ্গী হিসেবে। নাহ্, কাজটা ভালোই করেছি। আমার সব স্বপ্ন আমার পরিবারকে ঘিরে। লুনাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। আমাদের দুজনের সংসারে অনাবিল আনন্দ বয়ে এনেছে আমাদের সোনার টুকরো ছেলে। তাকে পেয়ে আমার জীবনটা সত্যিই অন্য রকম হয়ে গেল। আমার সব মনোযোগ এখন স্ত্রী-পুত্রের দিকে। বাবা-মাকে দেখার সময় কই?

    যেদিন মা মারা গেলেন, সেদিন একটু অপরাধবোধ মনে জেগেছিল। মনে হয়েছিল, আমার অবহেলার জন্যই কি মা চলে গেলেন? মা স্ট্রোক করেছিলেন। হয়তো ভেতরে ভেতরে আরও অসুখ দানা বেঁধেছিল, কিন্তু মুখ ফুটে কখনো কাউকে কিছু বলেননি তিনি। মাকে দেখতে তো সুস্থই দেখাত, তাই কখনো তাঁকে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি।

    বাবার বিষয়-সম্পত্তি তেমন ছিল না। তবে আমাদের একটা ছিমছাম একতলা বাড়ি ছিল। ছোটবেলা থেকে সেখানে বড় হয়েছি বলেই হয়তো বাড়িটা ভালোই মনে হতো। কিন্তু লুনা আধুনিক মেয়ে, ওর বাড়িটা পছন্দ হতো না মোটেই। বলত, পুরোনো, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। পরে ভেবে দেখলাম, কথাটা তো ও ভুল বলেনি! আমি তখন সবেমাত্র চাকরিতে ঢুকেছি। অন্যখানে বাসা নিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য আমার হয়ে ওঠেনি। তাই লুনার পরামর্শে বাবাকে বোঝালাম, এই বাড়িটা জমিসহ বিক্রি করে দিলেই মোটামুটি হালফ্যাশনের একটা ফ্ল্যাট কিনেও কিছু টাকা ব্যাংকে রাখা যাবে। আমার বাবা এই প্রস্তাবে রাজি হননি। শেষে আমি রাগ করে লুনাকে নিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার হুমকি দিলাম, যদিও জানি, এ আমার সামর্থ্যের বাইরে। লুনা তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ সময় ওর বাড়তি কিছু যত্নআত্তি প্রয়োজন। এ অবস্থায় আমার সাহায্যে এগিয়ে এলেন মা। তিনি বাবাকে বুঝিয়ে রাজি করালেন। অবশেষে বাবা রাজিও হলেন, কিন্তু আমার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতেন না আর। সেই থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে গেল আমার।

    নতুন ফ্ল্যাটটা বাবা-মা আমার নামে দিতে চাইলেন, কিন্তু আমার অনুরোধে বাবা ফ্ল্যাটটা তাঁর নাতির নামে উইল করে দেন। আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে এই কাজটি করেছিলাম। যেদিন নতুন ফ্ল্যাটে আমরা শিফট করলাম, সেদিন লুনার আনন্দ যেন বাঁধ মানছিল না। আমারও ভালো লাগছিল ওর হাসিমুখ দেখে। আমাদের ছেলের বয়স তখন চার বছর, ওকেও একটা আলাদা ঘর দেওয়া হলো। ছেলের ঘরটি ছবির মতো করে সাজাল লুনা। শুধু ছেলের ঘরই নয়, পুরো বাসাটাই সুন্দর করে সাজাল সে। ফ্ল্যাট কেনার পর যে টাকা বেঁচে ছিল, এর অনেকটাই ব্যয় করা হলো ঘর সাজানোর কাজে। শুধু বদলাল না বাবা-মায়ের ঘরটি—সেই আগেকার খাট, ঘুণে ধরা চেয়ার-টেবিল, আলমারি—ঠিক আগের বাড়ির ঘরটির মতো। এই ঘরটি সাজাতে দেননি মা। তিনি বলেছিলেন, থাকুক কিছু স্মৃতি। আমি কিছু মনে করিনি, কিন্তু লুনার মনে খেদ ছিল খুব। মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন সেই কবে, বাবাকেও আজ বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এলাম, সেই সঙ্গে বাধামুক্ত হলো লুনার ঘর সাজানোর পথটা।

পরিশিষ্ট

    এতক্ষণ নিজের লেখা ডায়েরির কয়েকটি পাতা পড়ছিলেন আবীর চৌধুরী। তাঁর চোখের কোণে পানি। এখন তাঁর বয়স পঁচাত্তর। পাঁচ বছর আগে লুনা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। আর তাঁর আদরের ছেলে আনন্দ চৌধুরী আজ সকালে তাঁকে রেখে গেল বৃদ্ধাশ্রমে।

Courtesy: Prothom-Alo.com