Posts Tagged ‘left & democratic forces’

Religious Fundamentalism & Fight Of The Left

October 30, 2015

ধর্মীয় মৌলবাদ ও বামপন্থীদের লড়াই

কৃষ্ণেন্দু রায়চৌধুরি

মরশুম উৎসবের, কিন্তু বেনজির ন্যক্কারজনক আক্রমণ তাল কেটেছে উৎসবমুখী মানুষের মেজাজে। সাম্প্রদায়িক শক্তির মাত্রাতিরিক্ত তৎপরতা এবং একই সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন দেশের সরকার। রাষ্ট্রের প্ররোচনা, উদাসীনতায় যে ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলেছে অবিরত, তাতে ধ্বংস হচ্ছে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো। গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভোলকর, এম এম কালুবর্গীকে হত্যা, দাদরিতে প্ররোচনা ছড়িয়ে নৃশংসভাবে খুন, এমনকি শিল্প সংস্কৃতি জগৎও এই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণধর্মী আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশ সচিবের বই প্রকাশ অনুষ্ঠান, জম্মু-কাশ্মীরের বিধায়কের প্রেস কনফারেন্স কিংবা ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজ উপলক্ষে দু’দেশের বোর্ডের সভা আক্রান্ত ধর্মীয় মৌলবাদীদের দ্বারা।

দেশের গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সব ধরনের মৌলবাদী কার্যকলাপ বন্ধ করতে ও দে‍‌শের মানুষের ঐক্য, সংহতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনকে দৃঢ় করার জন্য সমাজের সব অংশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস নেওয়া বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের অগণিত মানুষ, যারা শান্তি চান, ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্যকে অটুট রাখতে চান — মানুষের সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতিবাদে প্রতিরোধে গর্জে ওঠার সময় এখন। রাজ্যের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীরা রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠিয়ে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশে হত্যা ও অসহিষ্ণুতার যে আবহ তৈরি হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা সন্ত্রস্ত এবং অসহায় বোধ করছি। ক্রমাগত অবাধে আঘাত হানা হচ্ছে আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, নিরপরাধ সাধারণ নাগরিকের হত্যায় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক সমাজ স্তব্ধবাক। সরকারি নিষ্ক্রিয়তা ক্ষমার অযোগ্য

প্রশাসনিক অকর্মণ্যতা নাগরিকের মানবিক অধিকার খণ্ডিত করছে। স্বাধীন চিন্তার শ্বাসরোধের এই সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে ভারতীয় গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়ছে। দেশের ‘লৌহপুরুষ’ প্রধানমন্ত্রীর মুখে কোন কথা নেই। দাদরি হত্যাকাণ্ড, যুক্তিবাদী লেখকদের উপর আক্রমণ, দেশের নানা প্রান্তে খোলাখুলি সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ জোরালো হচ্ছে। দেশের বিশিষ্ট লেখক, বুদ্ধিজীবীরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পুরস্কার ঘৃণাভরে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন বিরোধীদের উপর– এটা আমাদের সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক প্রহেলিকাদগ্ধ দিক ছাড়া আর কিছু নয়। আর এটাই এখনকার ভারতবর্ষের সবচেয়ে প্রকটিত সমাজনৈতিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দৈত্যদর্পী সমস্যা : ধর্মনিরপেক্ষতার সংকট– মানবিক ধর্মসত্তার বিপর্যয়। Ralph Fox যাকে বলেছেন: ‘Anarchy of capitalism in the human spirit’ — তৃণমূলে বুর্জোয়া সংস্কৃতির অরাজকতা কিংবা ‘Cultural terrorism of the ruling class’।

আমরা অধিকাংশই কম-বেশি Sick Society-র Sick product হয়ে পড়েছি। এর ফলে ভারতবর্ষের সমাজ-সভ্যতার অনুপম মুখশ্রী সাম্প্রদায়িক সমস্যার বিষগর্তে পাক খেতে খেতে রক্তাক্ত-ক্লিন্ন-ক্লেদাক্ত হয়ে যাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদের তীব্র কশাঘাতে রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণি Humanity বা মানবিকতা ভুলে সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছেপ্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদতে ধর্মীয় মৌলবাদ ও গৈরিক ফ্যাসিবাদ উৎসাহিত হচ্ছে। Marx-Engels এর মতে, ‘…In reality and for the practical materialist, i.e, the communist, it is a question of revolutionizing the existing world, of practically attacking and changing existing things’.

(২)

সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশের বর্তমান সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে উদ্ভূত অনেকগুলি চরম প্রতিক্রিয়াশীল বৈশিষ্ট্য বিশেষ জোরদার হয়ে উঠেছে। যেমন সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সযত্ন লালিত ঘৃণা, উচ্চবর্ণভিত্তিক পুরুষ আধিপত্যের মানসিকতা, সমাজের সাধারণভাবে দুর্বলতর অংশগুলির উপর এবং বিশেষভাবে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ, যুদ্ধোন্মাদনা ও রাজনীতির সামরিকীকরণ, দুর্নীতি ও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন, মুখে স্বাদেশিকতার বুলি আউড়ে কার্যত সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন, ইত্যাদি।

এই প্রায় সবগুলি প্রতিক্রিয়াশীল বৈশিষ্ট্যের সমাহার হিসেবে যে পতাকাটি আজ আমাদের দেশে আন্দোলিত হচ্ছে তার রঙ ‘গৈরিক’। হিন্দুত্বের জয়ধ্বনি তুলে এই পতাকাটির দণ্ড ধারণ করে আছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (RSS) ও তার শাখা সংগঠনগুলি। হিন্দুত্বের এই যন্ত্রটি ‘৪৭-পরবর্তী’ ভারতে আগে কোনদিন আজকের মতো প্রাসঙ্গিক ও ভয়াবহ তাৎপর্যসম্পন্ন হয়ে উঠতে পারেনি।

১৯৯২-এর ৬ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা হিন্দুত্বের এই আগ্রাসী অভিযানের প্রথম পর্বের বিজয় সূচিত করেছিল। কেননা, ওই ধ্বংসকাণ্ডটি কতিপয় দুবৃর্ত্তের দুষ্কর্মমাত্র ছিল না, বরং তার পেছনে ছিল সেই হিন্দুত্বের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস, যার প্রতিটি অধ্যায়ে খোদিত ছিল আগ্রাসী সংকীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতা, বহুত্ববাদী ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির অস্বীকৃতি, অন্য সম্প্রদায়ের, এমনকি ব্যাপক হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘দলিত’ অংশের প্রতি ঘৃণা ও হিংসা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ঐতিহ্য ও আচার আচরণের প্রতি তীব্র অনীহা।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ ও তার প্রবক্তাদের প্রকৃতপক্ষে দুটি রূপ — একটি প্রকৃত মুখ, আরেকটি মুখোশ। তারা কথা বলে সম্পূর্ণ দুই পৃথক ভাষায়, কাজ করে দুই বিপরীত পদ্ধতিতে। সেই ভাষা গণতন্ত্রের, কর্মপদ্ধতি স্বৈরতন্ত্রের। একদিকে ঐকমত্যের, অন্যদিকে বলপ্রয়োগের। হিন্দুত্বের রাজনীতির ধারক ও বাহক এই সংঘ পরিবারের মূল কেন্দ্রে রয়েছে RSS ও তার রাজনৈতিক সংগঠন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। অন্যদিকে RSS নিজে এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল প্রভৃতি জানা-অজানা অসংখ্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এই কাঠামোটিকেই যেনতেন প্রকারেণ ধ্বংস করতে চায়।

সংঘ পরিবারের এই একইসঙ্গে পরিপূরক ও পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন অঙ্গের জটিল টানাপোড়েনের স্বাভাবিক পরিণতি ছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা। একইসঙ্গে তা উদ্‌ঘাটিত করে দিয়েছিল বি জে পি-র সযত্ন-সৃষ্ট তথাকথিত গণতান্ত্রিক বাতাবরণের অন্তঃসারশূন্যতার এবং তার অন্তরালবর্তী চরম হিংস্রতার প্রকৃত স্বরূপ। হিন্দুত্বের এই হিংস্র অভিযানের অন্তর্নিহিত দর্শনের প্রণেতা ও ভাষ্যকার স্বাভাবিকভাবেই তার মস্তিষ্ক অর্থাৎ RSS। অবশ্যই তাদের দাবি- আর এস এস রাজনৈতিক নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। হিন্দুদের সংস্কৃতির সংস্কারের মাধ্যমে নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হিন্দু-আত্মপরিচয়ের জন্ম দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

এই তথাকথিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আসলে গভীরভাবে রাজনৈতিক। এই কর্মসূচির অন্তর্নিহিত আগ্রাসী ও প্রাতিষ্ঠানিকতামুখী হিন্দুত্বের রাজনীতির করাল ছায়া সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ প্রসারিত। সাঁড়াশির মতো তা আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে আমাদের সমাজ ও রাজনীতিকে। আমাদের বাস্তব জীবনকে, আমাদের অস্তিত্বকে, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম, আমলাতন্ত্র, পুলিশ, সামরিক বাহিনী প্রভৃতি রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্র-বহির্ভূত সমাজের প্রতিটি স্তরে ঘটছে তার অনুপ্রবেশ। চলছে তার সার্বিক আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা।

প্রথমে তেরোদিন, তারপর তেরো মাস, পাঁচ বছর হয়ে এবার একক ক্ষমতায় পরবর্তী পাঁচ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের সুযোগ তার এই করাল বন্ধনকে আরো বেশি আগ্রাসী ও ভয়াবহ করে তুলেছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ও মূল্যবোধে এবং সরকারি, বেসরকারি সংগঠনে তার প্রভাব ধরা পড়েছে। হিন্দুত্বের মন্ত্র আওড়ানো এই ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের আগ্রাসী অভিযান অবাধে চলতে থাকলে তার সম্ভাব্য পরিণতি কী বীভৎস ও ভয়ঙ্কর হতে পারে সেকথা চিন্তা করে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন যে-কোনো মানুষই শিউরে উঠছেন। শহীদ বিরসার হাত ধরে যে শতাব্দীর সূচনা, যে শতক দেখেছে অগ্নিযুগের আত্মদান, ভারত-ছাড়ো আন্দোলন আর নৌ-বিদ্রোহ, সাক্ষী থেকেছে শোলাপুর-তেভাগা-তেলেঙ্গানা-সাঁওতাল এবং আরও কত মহান গণজাগরণের। তার অন্তিমে আজ ভারতভাগ্যবিধাতার আসনে অধিষ্ঠিত গেরুয়াধারী বকধার্মিকরা।

ভারতীয় রাষ্ট্রক্ষমতায় ফ্যাসিবাদ এখনো জাঁকিয়ে বসতে পারেনি — বি জে পি-কে এখন গৈরিক রঙ-এর পেছনে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি চালাতে হচ্ছে। যে দেশে পুঁজিবাদ দূরের কথা, সামন্ততন্ত্রও ইউরোপীয় ধরনে ও মাত্রায় বিকশিত হয়নি, সেখানে ফ্যাসিবাদের শ্রেণী-ভিত অতী‍‌তের ইতালি বা জার্মানির মতো হতে পারে। বি জে পি কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সুবাদে হাতে নিয়েছে মৌলিক কিছু কাজ। যেমন, ফ্যাসিস্ত দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের ইতিহাস পালটে লেখা, সংবিধান সংশোধন, শিক্ষা-সংস্কৃতির গৈরিকীকরণ ও হিন্দু মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষকতা। দেশে এখন একটা কথা প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায়, কথাটা হলো ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ। দেশের জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চার যে সরকার, সেই সরকারের প্রধান শরিক হলো ভারতীয় জনতা পার্টি। বর্তমান যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি এই দলের প্রধান নেতা। প্রসঙ্গটা হলো বি জে পি ধর্মের নামে, গেরুয়া রঙের আড়ালে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার চেষ্টা করছে। বি জে পি-র অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা ‘হিন্দুত্ববাদ’কে বাস্তবায়িত করা।

(৩)

নরেন্দ্র মোদীর শাসনের এক বছর পর এটা বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয় যে ধর্মীয় মৌলবাদ, গৈরিক ফ্যাসিবাদ দি‍য়ে বলীয়ান হয়ে তাঁরা চান দেশের মানুষের উপর সীমাহীন শোষণ নামিয়ে এনে ধনীদের আরও ধনী করতে, পুঁ‍‌জির মালিকদের বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতে, সর্বোপরি আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ নির্দেশিত নয়া উদারনীতির রথযাত্রার পথ মসৃণ করতে। সহজ করে বলা যায়– আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের মৌলবাদের মূল ধারা হলো ধর্ম নিয়ে ধুয়ো তুলে নিজেদের শাসন ক্ষমতার পথ সুগম করা ও তার মাধ্যমে এদেশকে আন্তর্জাতিক পুঁজির লুটের ক্ষেত্র করে তোলার পথ আরও প্রশস্ত করা। এর জন্য সংখ্যালঘু-জুজু তৈরি করে ক্ষমতা দখল এবং এদেশকে আন্তর্জাতিক পুঁজির মৃগয়াক্ষেত্র বানানো। এর জন্য প্রয়োজন ইতিহাস-বিকৃতি, প্রগতিশীল লেখক, দরিদ্র মানুষ, নিরপরাধ শিশু এমনকি মুসলিম বুদ্ধিজীবী বিধায়কদের আক্রমণ, হত্যা। এদের আসল শত্রু হলো- শ্রেণী রাজনীতি, বামপন্থা, মার্কসবাদ

নয়া উদারবাদের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের নেতৃত্বে মেহনতি মানুষ বিক্ষোভরত। ধর্মের নামে তাদের ভাগ করে এই আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। বামপন্থীরা মেহনতি মানুষকে জোটবদ্ধ করে। বামপন্থা হলো ইতিহাসকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার একটা জোরালো মতাদর্শ। সেই মতাদর্শ সমাজে প্রোথিত করতে পারলে সমাজে মৌলবাদীরা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই মেহনতি মানুষের সংগ্রাম বন্ধ করতে, বামপন্থী গণ-আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চারদিক থেকে আক্রমণ চলছে। ভারতের রাজনীতিতে ধর্মীয় মৌলবাদ হলো একটি রাজনৈতিক তাস। বি জে পি-র পক্ষে হিন্দু মৌলবাদী তাস ছাড়া অন্য কোন তাস খেলা সম্ভব নয়।

নীতিগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারে একমাত্র শ্রমজীবী শ্রেণী, কেননা শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করার উপায়ই হলো ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া। শ্রমজীবী শ্রেণীর দল সেই অর্থে ধর্মনিরপেক্ষ। মৌলবাদ, গৈরিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংহত করতে হলে বুর্জোয়া শ্রেণী ও তার দলের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামতে হবে এবং সেটা কেবলমাত্র শ্রমজীবী শ্রেণীর দলগুলির পক্ষেই সম্ভব। শ্রমজীবী মানুষের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সামনে উঠে আসবে যেসব গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তি, তারা হাত মেলাবে বামপন্থীদের সঙ্গে। তাদের নিয়ে একেবারে নিম্নস্তর থেকে গড়ে উঠবে মৌলবাদ-ফ্যাসিবিরোধী মঞ্চ।

সাম্প্রদায়িকতা, উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ-সহ বি জে পি সরকারের জনবিরোধী নীতিগুলির বিরুদ্ধে দ্বিধাহীন নিরবচ্ছিন্ন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বামপন্থীরা। জনগণের জীবন-জীবিকার সংগ্রাম, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রাম, দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার সংগ্রাম অব্যাহত গতিতে আরও প্রসারিত, আরও শক্তিশালী করে তোলাই বর্তমান সময়ে বামপন্থীদের মূল কর্তব্য। নরেন্দ্র মোদী সরকারের জনবিরোধী-দেশবিরোধী কাজের বিরোধিতাই শুধু নয়, সমগ্রভাবে শাসকশ্রেণির ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতিস্পর্ধী হোক বামপন্থা।

Advertisements