Posts Tagged ‘mamata banerjee’

Fight For Rice, Meat; And Mamata

November 6, 2015

ভাতের লড়াই, মাংসের কাজিয়া এবং মমতা

চন্দন দাস

মিড ডে মিলে মাংস দেওয়া হয় না। ডিম দেওয়া হয়। সাধারণত একদিন।ডিম কার? কে দিয়েছে? এ’ নিয়ে কাজিয়া বাধানোর অবকাশ নেই। কারণ পাখির সঙ্গে দেশপ্রেমের সরাসরি সংযোগ সংক্রান্ত কোনও নিদান নেই।

আগামী দিনে মিড ডে মিলে আদৌ ভাত দেওয়া যাবে কিনা, শিশুরা আর পড়তে আসতে পারবে কিনা নিদারুণ আর্থিক সঙ্কট ডিঙিয়ে — এই প্রশ্ন ক্রমাগত সক্রিয় হয়ে উঠছে দেশে এবং রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গে অনেক শিশু শিক্ষাকেন্দ্র, মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার সামনে। তবু ভাত নিয়ে, চাল নিয়ে, ‘ভাতের কারখানা’ নিয়ে মাথাব্যথা বিশেষ কারও নেই। ভাতের সঙ্গে কী দেশপ্রেম, নাগরিকত্বের কোনও সম্পর্ক নেই?

থাকার কথা। কে কত বড় দেশপ্রেমিক ঠিক করা উচিত, কে দেশের গরিবের জন্য কত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছে তার উপর। কিন্তু তা হয়নি গত ৬৮ বছরে। দেশপ্রেমের ঠিকাদাররা এখন মাংসের মানদণ্ডে দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। আর দেশপ্রেমের দিনমজুররা ভাতের লড়াইটা পৌঁছে দিচ্ছেন, দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন আজও। তা সে বর্ধমানে হোক, জঙ্গলমহলে হোক কিংবা চা বাগানে — ছবি একই। মাংসের কাজিয়া মূলত সেই ভাতের লড়াইকে ভুল দিকে ঘুরিয়ে দিতে।

দেশপ্রেমের দিনমজুর…

সাভারকারের সঙ্গে আমাদের লড়াই অনেকদিনের। ১৯২৫-এ আরএসএস-র জন্ম। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯২০-তে। সাভারকার ভারতে ‘হিন্দুত্ব’ ভাবনার স্থপতি। তিনি সেলুলার জেলে ছিলেন। গণেশ ঘোষও। সাভারকার জেল থেকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়েছিলেন। গণেশ ঘোষরা অবশ্য সেখান থেকেই, বিস্তর কষ্ট সহ্য করে কমিউনিস্ট হওয়ার রাস্তা তৈরি করেন। সাভারকারের ভাবশিষ্যরা এখন ঠিক করছে কে দেশপ্রেমিক, আর কে পাকিস্তানি। আর গণেশ ঘোষের উত্তরসূরিরা এখনও পদাতিক, দেশপ্রেমের দিনমজুর। রাষ্ট্র তাঁদের দেখে না। মোটা মাইনে দেয় না। কিন্তু দেশবাসীর ভাত, মোটা কাপড়, কাজ, এতটুকু ছাদের লড়াইটা এখনও, বিস্তর রক্তপাতের পরেও লড়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

এ’ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ’ লড়াই জিততে হবে — স্লোগানটা বস্তাপচা হয়নি। এখনও লাল পতাকা মানে এটাই।

সাক্ষী, প্রমাণ জঙ্গলমহলে। ২৩টি ব্লক। ২০০১-র ২৩শে জানুয়ারি থেকে ২০১১-র ৩০ শে নভেম্বর — সময়কাল মাত্র ১০ বছর ১০ মাস। মানে ১৩০ মাস। আর এই সময়ে জঙ্গলমহলে ২৭৫ জন শহীদ হয়েছেন। নির্দিষ্ট একটি এলাকায়। তাঁদের মধ্যে পার্টির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আছেন। আবার নেহাতই স্কুলছাত্র — তিনিও আছেন। অসমসাহসী মহিলা আছেন। সংখ্যালঘু আছেন। আদিবাসী তো আছেনই। সবচেয়ে বড় কথা — খেতমজুর আছেন অনেকে। গরিব কৃষক, ছোট ব্যবসায়ীও আছেন শহীদ তালিকায়।

তারপরও টিকে আছে পার্টি। সিপিআই(এম)। ‘টিকে থাকা’ শব্দটির মধ্যে একটি নেতিবাচক মনোভাব অনুরণিত হয়? তাই না। আসলে এতজন সংগঠককে হারিয়ে হাঁটু মুড়ে, দুমরে মুচড়ে পড়ে যাওয়ার কথা। কোথাও কোথাও মিশে যাওয়ার কথা লালমাটির সঙ্গে। লোধাশুলির অফিস বিস্ফোরণে উড়ে যেতে পারে। সে তো ইঁট, কাঠ, কংক্রিটের। কিন্তু জান আছে দেশপ্রেমের ধারণায়। দেশপ্রেম মানে মানুষ। তাই সিপিআই(এম)-র নেতা, কর্মী, সমর্থকদের গুলি ঝাঁঝরা করা মাওবাদী নেত্রী যখন তৃণমূল কংগ্রেস নেতার সুখী ঘরণীর জীবন কাটাচ্ছেন, তখনও, সেই ‘বিপ্লবী’দের ভয় জাগানো আঁকা বাঁকা মেঠো পথে প্রচার চালাচ্ছে সিপিআই(এম)।

জঙ্গলমহলে রেগার জবকার্ড আছে ৬লক্ষ ২৭ হাজার ৪০১টি পরিবারের। আর কাজ পেয়েছেন চলতি বছরে ৩৬ হাজার ৮০টি পরিবার। শতাংশের হিসাব করলে রাষ্ট্র, সরকারের লজ্জায় মাথা হেঁট হওয়া উচিত। নতুন ধানের দাম বস্তা(৬০ কেজি) ৫৫০ টাকা। নির্ধারিত দামের প্রায় অর্ধেক। আর ৩০ কেজি বীজধানের দাম ১২০০টাকা। প্রতিটি ব্লকে কিষান বাজারের প্রতিশ্রুতি ছিল। সব ব্লকে হয়নি। যে কটি ব্লকে হয়েছে, সেগুলির ভবনগুলি শুধু দাঁড়িয়ে আছে। কৃষক সেখানে যান না। সেখানে কোনও কেনাবেচার দেখা নেই। গোয়ালতোড়ে ১০০০ একর জমিতে শিল্পের ঘোষণা এখনও প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে রয়েছে। জঙ্গলমহলের জন্য পৃথক এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কের ঘোষণা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেটি হয়নি। ল্যাম্পস যা ছিল আদিবাসীদের উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম, সেগুলি এখন ধুঁকছে। গ্রামগুলিতে কর্জ, দাদনে জর্জরিত কৃষক ক্রমাগত মহাজনের দেনা-চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে রেগার মজুরি চাই, কাজ কোথায়, শিল্পের কী হলো, কেন ফসলের দাম পাচ্ছি না, এত যে প্রতিশ্রুতি দিলে তার কী হলো — নানা দাবি ধূমায়িত। আবার সভা, মিছিল দেখা যাচ্ছে জোরালো। প্রতিটি ব্লকে জমায়েত হয়েছে এই সময়ে। পুলিশের সাধ্য কী তাকে আটকায়? ডেপুটেশন দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা — সামনে পার্টির নেতা, কর্মীরা। সেই চেনা ঝান্ডা। শহীদদের পতাকা।

শিলদায় দেখা হলেই অনন্ত বলতো —‘‘শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো।’’ কমরেড অনন্ত মুখার্জি নেই। তাতে কী? এই হেমন্তেও ‘অনন্তরা’ থেমে নেই।

দেশে এমন উদাহরণ আছে? না। বিদেশে? হাতে গোনা যাবে।

ভয়ও হেরে যায়, রাস্তা ছেড়ে দেয় নতজানু হয়ে — এমন পার্টি দেশে একটিই আছে। কবিতা মনে হচ্ছে? মনে হচ্ছে বান এসেছে হৃৎকমলের সুবর্ণরেখায়? মোটেও না।

আমি হাজারও ঋত্বিক দেখেছিলাম। হাজারও ঋত্বিক দেখছি। দেশপ্রেমের পদাতিক তো তাঁরাই। তাই ভরসা থাকুক তাঁদের উপর। নজর থাকুক সামনে। জোয়ার আসছে কাঁসাইয়ে।

অপেক্ষাকে যত্ন করুন।

মাংসের কাজিয়া, মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা..

চা বাগানে ঠিক মত খাওয়াই জুটছে না। অনাহারে মারা যাচ্ছেন বন্ধ বাগানের শ্রমিক পরিবার। জঙ্গলমহলে কাজ নেই। রেগার মজুরি জুটছে না রাজ্যের কোনও জেলায়। বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূমে ধান পুড়ে খাক। অন্যত্র ধানের দাম নেই। আলুর দাম নেই। বাকি সব ফসলের একই হাল। ঠিক এখন, এই পশ্চিমবঙ্গে মাংসের চরিত্র নির্ধারণের সময় নেই বেশিরভাগের। দেশের অবস্থাও প্রায় এক। এ’ কথা ঠিক যে, দেশের অন্য কোনও রাজ্যেই এমন রাজ্য সরকার নেই। উৎসবের বিলাসিতায়, ঘোষণা-প্রতিশ্রুতির ভেলায় ভেসে চলা এমন রাজ্য প্রশাসন দেশে বেনজির। প্রতিবাদী আক্রান্ত হবেই, নির্ঘাৎ হবে — এমন নিশ্চয়তা দেশের প্রায় কোনও রাজ্যে নেই। চুরির দায়ে অভিযুক্ত মন্ত্রীর ‘পাশে থাকার’ পোস্টার সাঁটিয়ে অবলীলায় স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ছুটে চলা অটো দেশের কোথাও মিলবে না। আর এখানেই রাজ্য সরকারের অগণতন্ত্র, ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে রাজপথের লড়াইয়ে এত রক্তক্ষরণ, তীব্রতা সাম্প্রতিককালে দেশের আর কোথাও মেলেনি।

মোদীর হাতে দেশ বিপন্ন। মমতা ব্যানার্জির সরকারই বেসামাল।

কতটা বেসামাল তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার মুখ্যমন্ত্রী নিজে বুঝিয়ে দিয়েছেন উত্তরবঙ্গ সফরে। শিল্পপতিদের হাত জড়ো করে অনুনয়, বিনয় করেছেন বিনিয়োগের জন্য। অথচ ২০০৬-০৭-এ কী নিদারুণ ‘বীরত্ব’ আমরা দেখেছিলাম তাঁর মধ্যে। সিঙ্গুর সাক্ষী। কাটোয়া সাক্ষী। ভাঙড় সাক্ষী। সাক্ষী আরও অনেক জায়গা, যেখানে বামফ্রন্টের সরকার শিল্পের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন, নন্দীগ্রামের এক সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী বলেছিলেন,‘‘ভাতের কারখানা ধ্বংস করে মোটর গাড়ির কারখানা/ সে হবে না, সে হবে না।’’ ‘কৃষক-দরদী’ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, কর্মীরা সেই ছড়াকে নিজেদের উত্থানের রিং টোন করে ফেলেছিলেন।

এখন রাজ্যে বিনিয়োগের দেখা নেই। আর ‘ভাতের কারখানা’, অর্থাৎ খেতখামারের অবস্থা গত আটত্রিশ বছরের সবচেয়ে দুরবস্থার মুখোমুখি। একশোর বেশি কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ১৪১০ টাকা কুইন্টাল প্রতি হলেও, রাজ্যের কোথাও কুইন্টাল প্রতি ৯০০-৯৫০ টাকা ধানের দাম কৃষকরা পাচ্ছেন না। আসলে ভাতের কারখানা আর মোটর গাড়ির কারখানার একটি গভীর যোগাযোগ ছিল, যা মমতা ব্যানার্জি কিছুতেই রাজ্যের মানুষ বুঝে ফেলুন, তা চাননি। তাই কখনও মাওবাদী, কখনও আরএসএস, কখনও জামাতের সঙ্গে মিলে রাজ্য জুড়ে নৈরাজ্য তৈরি করেছিলেন।

বামফ্রন্ট সংবেদনশীল ছিল। অনেকে তাকে দুর্বলতা ভেবেছিল। আর সেই নৈরাজ্যের ফল এখন মিলছে। শিল্প গত। ভাতের কারখানাও পতিত হতে বসেছে। এমন সময়ে মাংসের কাজিয়া নিয়ে মমতা ব্যানার্জি কী করে কঠোর সমালোচনা করেন? দেশের নানা পর্যায়ের মানুষ প্রতিবাদ করছেন। বামপন্থীরা তো হিন্দুত্ববাদীদের পয়লা নম্বর দুশমন। তাঁরা তো প্রতিবাদে সোচ্চার হবেনই। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি বিলকুল চুপ। এই নীরবতা সন্দেহজনক। কিন্তু একেবারে বোঝা যাচ্ছে না নীরবতার কারণ, তা নয়। ‘মাংসের কারবারিরা’ই তাঁকে আবার রক্ষা করতে পারে, সেই অঙ্ক করে ফেলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর অনেক দিনের পুরোন বন্ধুরা আছেন এই মাংসের পরিচয়পত্র তৈরির কাজে।

বাঁটোয়ারাপন্থীরা বাড়ছে…

মাংস কার? গোরুর না মোষের? নাকি পাঁঠার? নাকি মুরগি, হাঁসের মাংস খাওয়া উচিত? বিতর্কের বল গড়াতে গড়াতে শেষ পর্যন্ত ‘দেশপ্রেমে’ পৌঁছে গেছে। কে পাকিস্তানি, কে ভারতীয় — ঠিক করছে মমতা ব্যানার্জির ‘দেশপ্রেমিকরা’। অর্থাৎ আরএসএস, সঙ্ঘ পরিবার। ২০০৩-র ১৫ই সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আরএসএস-র সভায় হাজির হয়ে আজকের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন,‘‘আপনারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। আমরা জানি আপনারা দেশকে ভালোবাসেন।’’ সেই আরএসএস ‘দেশপ্রেমের’ শংসাপত্র দিচ্ছে। কার কার পাকিস্তানে যাওয়া উচিত, তাও ঠিক করে দিচ্ছে। এদের কাছে মমতা ব্যানার্জি কমিউনিস্টদের সরানোর জন্য সহায়তা চেয়েছিলেন। বলেছিলেন,‘‘যদি আপনারা(আরএসএস) ১শতাংশও সহায়তা করেন আমরা কমিউনিস্টদের সরাতে পারবো।’’ আরএসএস সেদিন তাঁকে ‘সাক্ষাৎ দূর্গা’ বলে অভিহিত করেছিল।

সেই আরএসএস-র ‘মাংস বিতর্ক’ এবং দেশপ্রেমের অপপ্রচার মমতা ব্যানার্জিকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সহায়তা করবে, এমনটাই তৃণমূল কংগ্রেসের অভিজ্ঞ নেতারাও মনে করছেন। রাজ্যে আরএসএস বেড়েছে গত চারবছরে। গত চার বছরে তাঁদের শাখার সংখ্যা ৫৮০ থেকে হয়েছে ১৪৯০। বৃদ্ধি ১৫৭ শতাংশ। স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস-র এমন বিকাশ কখনও হয়নি। রাজ্যে আরএসএস ‘অনুপ্রবেশ’ সমস্যাকেই প্রধান বিপদ বলে প্রচার শুরু করেছে। আর খোদ মমতা ব্যানার্জিই সংসদে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে সঙ্ঘ পরিবারের বক্তব্য তৃণমূলের সাংসদ হিসাবে তুলে ধরেছিলেন।

দিনটি ছিল ২০০৫-র ৪ঠা আগস্ট। লোকসভায় অধ্যক্ষের মুখের উপরে কাগজের তাড়া ছুঁড়ে দিয়ে অভব্যতার এক নজির সৃষ্টি করেছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী। পুরো সংসদ বিস্মিত হয়েছিল তাঁর এই কাণ্ডে। কেন সেদিন তিনি এমন করেছিলেন? কারণ, সেদিন তিনি সংসদে ‘অনুপ্রবেশ সমস্যা’ নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। বামফ্রন্ট সরকার কিভাবে অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে, তার গল্প শোনাতে চেয়েছিলেন। অনুমতি মেলেনি। তাই ওই অভব্যতা। অর্থাৎ, রাজ্যে যখন শক্তিশালী বামপন্থী আন্দোলনের অবস্থানের কারণে সাম্প্রদায়িক শক্তি পা রাখার সামান্য জায়গা পাচ্ছে না, তখন ‘পশ্চিমবঙ্গের অনুপ্রবেশ’ নিয়ে সংসদে বলে সঙ্ঘ পরিবারের কাছে বার্তা দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি — ‘আমি তোমাদেরই লোক’।

গত চারবছরে রাজ্যে মৌলবাদীরাও বেড়েছে আরএসএস-র মত। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে এই মৌলবাদীদের সমর্থকরা কখনও মাথা তুলতে পারেনি। মমতা ব্যানার্জিকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য এই প্রবল স্বাধীন বাংলাদেশ বিরোধী, ধর্মান্ধ, উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী অংশের একটি সহযোগিতা ছিল। সম্প্রতি সারদার টাকা সেই উগ্রপন্থীদের হাতে পৌঁছোনর খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাতে আবার মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৭১-এ বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসা হাসান আহমেদ ইমরানের নাম জড়িয়েছে। তিনি রাজ্যে কট্টর মৌলবাদী সিমি-র প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ২০০৭-’০৮ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে আশ্রয় নেন। তসলিমা নাসরিনের ভিসার বিষয় নিয়ে বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে রাজ্যে এক উত্তেজনা, ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করেছিলেন ইদ্রিশ আলি। তাকেও মমতা ব্যানার্জি সাংসদ করেছেন। ফলে গত সাড়ে তিন বছরে রাজ্যে কট্টর মৌলবাদী একাংশ সরকার এবং শাসক দলের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। যা আসলে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যের পক্ষে ঘোর লজ্জার। তবু তাই হয়েছে।

দুই সাম্প্রদায়িক শক্তিই এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বেড়েছে। বেড়েছে সরকারের ব্যর্থতা, আর্থিক মন্দাকে ভিত্তি করে। এমন পরিস্থিতিতে সামনে বিধানসভা নির্বাচন। কাজের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন অনুঘটক হতে চলেছে সেখানে। ভাতের দাবিতে গর্জে ওঠা লড়াই হয়ে উঠতে চলেছে নিয়ন্ত্রক। আর ঠিক এখনই, মাংসের কাজিয়া, দেশপ্রেমের প্রচার জরুরি মমতা ব্যানার্জিরও। বিজেপি, আরএসএস সেই কাজই করছে।

তাই নীরবতা মুখ্যমন্ত্রীর। কোনও সন্দেহ নেই।

Advertisements

MLA Nayana Banerjee

September 12, 2014

362848

Unimaginable Electoral Fraud

August 30, 2013

330516

Trinamool’s Nexus with Fraudulant Chit Funds

April 21, 2013

318847

Dinesh Trivedi vs Mamata Banerjee

March 15, 2012

 

THE ART OF RILING

WHAT DINESH SAID, WHAT DIDI MAY HAVE HEARD

dinesh

    In his maiden budget speech that stretched up to two hours, Dinesh Trivedi tried to break from the past in an attempt to chart a new course for Indian Railways. In doing so, he made several statements, some of which might have irked Mamata. The Telegraph compiles the statements that would not have been music to Mamata’s ears.

Dinesh: I took a vow to eliminate recurrence of such painful happenings (accidents) and decided that my entire emphasis is going to be on strengthening Safety, Safety and Safety. The death on rail tracks just can never be tolerated and it is not acceptable.

Didi may decipher: Is he saying that earlier ministers, including me, did not pay enough attention to safety?didi

Dinesh: There has been considerable criticism of Indian Railways in regard to only partial implementation of recommendations of several committees set up in the past. In this context, the Safety Committee has also observed that Indian Railways suffers from an ‘implementation bug’.

Didi may decipher: It looks like he is saying I failed to ensure implementation of safety measures when I held charge.

Dinesh: The railways have a large basket of pending projects. A total of 487 projects of new lines, gauge conversion, doubling and railway electrification with a throw-forward liability of over one lakh crore have already been approved by this august House in the past and are at various stages of execution.

Didi may decipher: Once is happenstance, twice coincidence but third time is enemy action. This is the third putdown for me and my predecessors.

Dinesh: The choice before me was either just to keep the system dragging or build a new, safe and modern, passenger and freight transportation system which would contribute at least 2 to 2.5 per cent to the GDP of the nation as against less than 1 per cent at present, and provide much needed employment opportunity to our people.

Didi may decipher: He is suggesting I did not contribute significantly to national income. He is also putting a clever job spin.

Dinesh: To bring down the operating ratio from 95 per cent to 84.9 per cent in 2012-13 and to 74 per cent in the terminal year of 12th Plan which would be an improvement over the best ever achieved by Indian Railways.

Didi may decipher: By claiming he will pull off such a big turnaround, he is only bringing more attention to the railway mess he inherited.

Dinesh: Within the constraints of funds, the Annual Plan outlay for the year 2012-13 has been targeted at Rs 60,100 crore, which is highest ever plan investment.

Didi may decipher: Definitely, he is saying Dinesh will do better than Mamata.

Dinesh: With almost 80 per cent of the traffic carried on 40 per cent of the rail network, the high density network (HDN) routes are over-saturated and there is a crying need to upgrade and expand capacity to reduce congestion, provide time for maintenance and improve productivity and safety.

Didi may decipher: He might as well have bluntly said that we went on adding trains without thinking about adding to capacity.

Dinesh: Stations and freight terminals are our business centres. Indian Railways have often drawn flak for not providing an enabling ambience to these business centres, which are used by customers.

Didi may decipher: How dare he? Can anyone say the riot of colours I personally chose for Duronto does not make up for the lack of ambience anywhere else?

Dinesh: State governments have also been requested to come forward for sharing the cost of the respective projects and to provide land free of cost to facilitate early construction of projects.

Didi may decipher: Heresy, Dinesh, heresy. In one fell blow, you have desecrated federalism as well as our presiding deity called land. Hey Maa, Maati, Manush!

Dinesh: Funding constraints are likely to cause slippage in the target of 1017km for Gauge Conversion for 2011-12. It is expected that 825km of gauge conversion projects will be completed.

Didi may decipher: My minister is saying I left behind such a mess that the target cannot be met.

Dinesh: State governments have come forward to share cost of some more projects in their states. Those include governments of Karnataka, Andhra Pradesh, Madhya Pradesh, Rajasthan, Jharkhand and Maharashtra.

Didi may decipher: Dinesh has the nerve to say my beloved Bengal will get projects only if my government agrees to share the cost. He has rubbed it in by mentioning those Congress and BJP governments.

Dinesh: The results of the PPP efforts of the railways have not been encouraging.

Didi may decipher: Dinesh is trampling another of my pet themes: PPP (which helped me steer clear of the tricky standalone concept called “private”). Most of my proposals were yoked to PPP and he is suggesting the idea bombed.

Dinesh: Over the years, railways had come to have large number of vacancies in various categories of staff, including in technical and safety-related areas. These have an adverse impact on operational and safety performance of the organization.

Didi may decipher: Eeesh! He is actually saying I did not let people have jobs even though vacancies were there.

AND FINALLY

Dinesh: I propose to rationalize the fare to cause minimal impact on the common man and to keep the burden within tolerance limits in general.

Didi may decipher: The last nail. I have made a career out of my no-hike policy and he is striking at the very root of my Sonar Bangla.

After presenting his maiden railway budget, Trivedi gave an interview to CNN-IBN, where he tried to explain the logic behind the hike. Needless to say, Mamata will not be happy with what the Trinamul railway minister said in the interview.

Dinesh: I have done what I could for the betterment of railways and India. Everybody is on board, politicians from all parties complimented me for the hike. The hike is in paisa, people can afford this hike.

Didi may decipher: Oh! He is pitting the others against me? Let me see how many will compliment him in public. He is saying hike in paisa but monthly expenses of poor families will go up by around Rs 200.

Dinesh: I have done a conscious duty as a citizen of India…. Mamata has never ever interfered with my work. I did not consult anybody but the common man. I have confidence in myself, rest I don’t bother. Bhagat Singh lost his life, losing a chair is no big deal, Mamata is not so unreasonable.

Didi may decipher: He is playing the hero. And he has no qualms in borrowing the aam aadmi slogan of none other than the Congress, our principal opposition in government. Dinesh is also saying that if I sack him, I will appear unreasonable.

Dinesh: I have taken a conscious decision. I am in politics for the people. I cannot ensure safety if I do not hike the fares.

Didi may decipher: He is saying I didn’t care for safety and that is why I did not raise fares.

Dinesh: I didn’t want railways to go the Air India way. It’s not a political budget, it’s an economic budget.

Didi may decipher: He is the big economist now? And all of us know only to present political budgets. Must tell Amit-da to teach all of them a lesson on March 23 when he presents our budget.

Hypocrisy of Trinamool … তৃণমূলের ভণ্ডামি

March 29, 2011

 

    Trinamool Supremo Ms Mamata Banerjee has been seen recently telling in an interview that she is against the Pension Bill and privatisation of the Insurance Sector. But what was her & her party’s role in the Parliament on Thursday was seen by all who was watching Lokasabha TV channel. When CPI(M) leader Basudeb Acharia demanded ‘Division’ on the Bill, all the members of TMC present at that time in the parliament voted in favour, while all the left party MPs along with other non-Congress & non-BJP MPs voted against the bill.

basudebacharia

    দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের পেশ করা পেনশন বিলে নাকি সমর্থন নেই তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির। একটি বেসরকারী চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেছেন, ‘‘আমরা পেনশন বিল এবং বীমা ক্ষেত্র বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে। এখানে মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। সেটা বাইরের হাতে ছেড়ে দিলে মুশকিল। কারণ শেয়ারের ওঠানামা আছে। এটা মানুষের শেষ বয়সের টাকা। সেই টাকা নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া যায়না।’’

    তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি পেনশন বিলের বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কিন্তু বাস্তবে তাঁর এবং তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিল নিয়ে কী ভূমিকা আমরা দেখলাম? গত বৃহস্পতিবার ঐ বিপজ্জনক পেনশন বিল পেশ হয় সংসদে। পেশের সময়ই বামপন্থীরা প্রবল বিরোধিতা করেন। ভোটাভুটির দাবি জানান বামপন্থী সাংসদরা। বামপন্থীদের এই বিলের বিরোধিতায় সমর্থন জানায় অকংগ্রেস এবং অ বি জে পি দলগুলি। অপরদিকে বি জে পি’র সমর্থন নিয়ে বিল পেশের ভোটে জেতে ইউ পি এ সরকার। এই ভোটেও বিল পেশের পক্ষে ভোট দেন উপস্থিত দু’জন তৃণমূল সাংসদ অম্বিকা ব্যানার্জি, গোবিন্দ নস্কর। অথচ তৃণমূল নেত্রী বলেছেন, তাঁর ১৯ জন সাংসদ নিয়ে তিনি ঐ বিলকে সমর্থন করবেন না। অথচ কয়েকদিন আগেই সংসদে পেনশন বিলের সমর্থনে কংগ্রেস-তৃণমূল ও বি জে পি একজোট হয়ে ১১৫টি ভোট দিয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য সঠিক না সংসদে ভোটাভুটির অঙ্কটা সঠিক?

    বি জে পি’র বক্তব্য বিলটি এন ডি এ’র আমলেই আনা হয়েছিল। কংগ্রেস সেই বিলই এনেছে তাই বি জে পি’র সমর্থন দেওয়ার কোন অসুবিধা নেই। এন ডি এ’র আমলে পেনশন বিল আনার সময়ও তাদের সঙ্গী ছিল তৃণমূল। এখনও তারা ঐ বিলের কোন বিরোধিতা করেনি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সামান্য আপত্তিও করেননি তৃণমূল নেত্রী।

    এই বিলের সাহায্যে সাধারণ চাকরিজীবী মানুষের সারা জীবনের আয়ে কোপ বসিয়েছে কেন্দ্র। এই বিল কার্যকর হলে পেনশনের নিশ্চিত অঙ্ক আর থাকবে না। পেনশনের টাকা খাটানো হবে শেয়ার বাজারে। বিদেশী অর্থলগ্নী সংস্থাকে অবাধ সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। শেয়ার বাজারে খাটানোর ফলে লোকসান হলে তার দায় হবে গ্রাহকের। এই পেনশন বিলের বিরুদ্ধে এক দশক ধরে লড়াই করছেন বামপন্থীরা। আর এই একদশক ধরে বিলের সমর্থনে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম ইউ পি এ সরকারের আমলে বামপন্থীদের বিরোধিতার ফলে কেন্দ্র ঐ বিল পেশ করতে পারেনি। সংসদে পেশ হওয়ার পর এই বিলটি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রতিকূল পরিস্থিতি বুঝে তৃণমূল নেত্রী বিলের বিরোধিতা করে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাঁর এবং তৃণমূল দলের ভূমিকা সম্পূর্ণ বিপরীত। ভোটের স্বার্থে মানুষের কাছে মিথ্যা বলতে মুখে আটকায়না মমতা ব্যানার্জির।

    পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলেছে কেন্দ্রের আরোপ করা ১০% লেভি। তৃণমূল কংগ্রেস এব্যাপারেও সম্পূর্ণ নীরব। দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের আমলে পেট্রোপণ্যের দর বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক, বীমা বেসরকারীকরণ হতে চলেছে। গণবণ্টন ব্যবস্থা গত দুবছরে আরো দুর্বল হয়েছে। কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্য বেআইনী মজুত তথা কালোবাজারি আরো বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কৃষিক্ষেত্রে সঙ্কট আ‍‌রো তীব্র হয়েছে। চড়া হারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। কেন্দ্রের নীতি ও কাজগুলির ফলে মানুষের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের শরিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ নীরব। এটাই আসল চরিত্র তৃণমূলের। মুখে বিরোধিতা আর কাজে বিরোধিতা এক নয়।

Empty Vessel Sounds Much… Our Railway Minister…

February 25, 2011

 

টেবিল চাপড়ানোর পর এবার কপাল চাপড়ানোর পালা

নিজস্ব প্রতিনিধি

        কলকাতা, ২৫শে ফেব্রুয়ারি— আগের দু’বার মমতা ব্যানার্জির রেল বাজেট দেখে বিশেষ করে বাংলার যাঁরা টেবিল চাপড়েছিলেন, এবার তাঁদের কপাল চাপড়ানোর পালা।

        সবাই যে টেবিল চাপড়েছিলেন, তা নয়। ২০০৯ সালে যেমন মমতা ব্যানার্জির রেল বাজেট পেশের পর যখন দেখা গেলো, তার আগে ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও দু’শোরও বেশি প্রকল্প অর্থের অভাবে তখনও কার্যকর করা যায়নি, তারপরেও আরও নতুন নতুন প্রকল্প ঘোষণা, রেল বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য এস বি ঘোষদস্তিদার বলেছিলেন, ‘রেল লাইন এখন পরিবহন ক্ষমতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। স্যাচুরে‍‌টেড জায়গায়। রেল কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ছাড়া বাড়তি বোঝা নেওয়ার সুযোগ নেই। আর সেই পরিবর্তন করতে গেলে চাই বিপুল অর্থ।’ এবারে রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাজেট দেখে রেল বোর্ডের আরেক প্রাক্তন সদস্য সুভাষ ঠাকুর যেমন বলেছেন, ‘…দেখুন বাসন্তীতে রেল হবে, তা কলকাতায় বসে ভাবতে ভালোই লাগে। করতে পারলে তো ভালোই। কিন্তু বাস্তব কি আদৌ করতে পারবে?’

        রেলমন্ত্রী হিসাবে মমতা ব্যানার্জি যা-ই ঘোষণা করুন, বাস্তব যে তা নয়, সেই সত্যটাকেই চোখে আঙুল দিয়ে মানুষকে দেখিয়ে দেবার সময় এবার উপস্থিত হয়েছে। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ও ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এর আগে পর পর দুটো রেল বাজেট পেশ করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কী বলেছিলেন তখন, এখন কী অবস্থা, তা বোঝাবার জন্য একটা উদাহরণ তুলে দেওয়া যেতে পারে শুক্রবার মমতা ব্যানার্জি তৃতীয় যে রেল বাজেট পেশ করলেন, সেই ভাষণ থেকেই। মমতা ব্যানার্জি বললেন, ‘‘এর আগে আমি বেশ কিছু স্টেশনকে ‘বিশ্বমানের স্টেশন’ করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু দেখছি, তাতে অনেক সমস্যা রয়েছে। আন্তর্জাতিক যেসব কনসালটেন্সি সংস্থা আছে, তাদেরও ফি অত্যন্ত বেশি। আরও সমস্যা। তাই কাজ হচ্ছে না।’’ অথচ ২০১০ সালেও তিনি আগের বছরের ৫০টি’র সঙ্গে আরও ১৩টি স্টেশনের নাম ঘোষণা করেছিলেন বিশ্বমানের করবেন বলে!

        একথা শুনে প্রশ্ন তো উঠবেই, তাহলে কি এর আগে দু’দুটো বাজেটে সব কিছু খতিয়ে না দেখেই টেবিল চাপড়ানো শুনতে এমন ঘোষণা করেছিলেন? কী বলেছিলেন? সেই ২০০৯ সালের জুলাই মাসে বলেছিলেন, ‘আমরা দেশে ৫০টি স্টেশনকে বিশ্বমানের স্টেশন বানাবো। তাতে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবা। এগুলি বানানো হবে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পি পি পি মডেলে।’ মোট ৫০টি স্টেশনের নাম জানিয়েছিলেন মমতা। তার মধ্যে ‘বাংলার জন্য’ ছিলো হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা, নিউজলপাইগুড়ি ও মাঝেরহাট স্টেশনের নাম! ২০১১ সালে এসে মমতা জানালেন, হবে না। সমস্যা আছে!

        সেই ২০০৯ সালেই মমতা বলেছিলেন ৩৭৫টি স্টেশনকে ‘আদর্শ স্টেশন’ বানানো হবে। আদর্শ স্টেশন মানে ‘পর্যাপ্ত পানীয় জল, পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যকর শৌচাগার, খাওয়া-দাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা, ওয়েটিং রুম, মহিলা যাত্রীদের জন্য ডর্মিটরির সুবিধাসহ আনুষঙ্গিক সবরকম সুযোগ-সুবিধা’’। মমতাই সেই সংবাদ শুনিয়েছিলেন। ৩৭৫টির মধ্যে শ’তিনেক ছিলো ‘বাংলার জন্য’! তাতে ‘নানুর’ স্টেশনের নামও ছিলো। যদিও নানুর নামে কোনো স্টেশন নেই। যাই হোক। কেমন হয়েছে দু’বছরে ‘আদর্শ স্টেশন’? ধরুন কামারকুণ্ডু স্টেশনের কথা। বারো বগির ট্রেন দাঁড়ালে এই স্টেশনে চালককে দু’বার ট্রেন দাঁড় করাতে হয়! প্রথমে ৩০ সেকেন্ড দাঁড়ায়। তখন পেছনের দুটো কামরার যাত্রীরা প্ল্যাটফর্ম পান না। প্ল্যাটফর্ম তো ছোট! তারপর ট্রেন আরও একটু এগিয়ে দাঁড়ায়। যাতে পেছনের দুই কামরার যাত্রীরা নামতে পারেন। অতঃপর ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে ‘আদর্শ স্টেশন’ থেকে! রঙচঙে অবশ্য খামতি নেই!

        ২০০৯ সালেই ৫০টি স্টেশনে মালটি ফাংশনাল কমপ্লেক্স বানানোর কথা বলেছিলেন রেলমন্ত্রী তার বাজেট ভাষণে। সেই বস্তুটা কী? যেমন স্টেশন চত্বরে যাত্রীদের জন্য শপিং কমপ্লেক্স, ফুড স্টল, রেস্তোরাঁ, বুক স্টল, ফোন বুথ, ওষুধ ও স্টেশনারি দোকান, হোটেল, ভূগর্ভস্থ পার্কিং ইত্যাদি থাকবে। কাজ করবে ইরকন এবং আর এল ডি এ। সেই ৫০টি স্টেশনের তালিকায় ‘বাংলার জন্য’ ছিলো, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিঙ, দীঘা, সাগর ও তারাপীঠ। দু’বছরে কোথাও কিছু হয়েছে? শিলা পোঁতাও কি হয়েছে? ২০১০ সালের বাজেটে এর আওতায় আরও ৯৩টি স্টেশনকে আনার কথা বলেছিলেন মমতা। গোটা দেশে তিনটি ছাড়া আর কোথাও কিছু হয়নি। এরাজ্যে তো নয়ই!

        ২০০৯ সালেই ৭ খানা নার্সিং কলেজ গড়ে তোলার কথা বলেছিলো রেল। কলকাতায় নাকি হবে একটা। কী অবস্থা সেই ঘোষণার? কোনও খোঁজ নেই। বারাসত, খড়্গপুর, বি আর সিং হাসপাতালে রেলের মেডিক্যাল কলেজ গড়ার ঘোষণা ছিলো রেল পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য। কোনো খোঁজ নেই দু’বছরেও।

        ২০০৯ সালেই মমতার ঘোষণা ছিলো, নন্দীগ্রাম থেকে সিঙ্গুর নতুন রেলপথ হবে। দু’বছরে এক ইঞ্চিও রেলপথ পাতা হয়নি। মজার ব্যাপার দেখুন, শুক্রবার তিনি এবারের রেল বাজেটে, মানে তৃতীয় রেল বাজেটে বলেছেন, ‘ভাদুতলা থেকে লালগড় হয়ে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত রেলপথ বানানো হবে। তার কী হলো, সেটা না জানিয়ে পুরানো ঘোষণাটাই ফের এবার নতুন করে! শুধু ‘শালবনী’ নাম পালটে ‘ভাদুতলা’ বললেন এবার! কিন্তু যাঁরা জানেন, তাঁরা তো জানেনই যে, ভাদুতলাটা শালবনীতেই! সেই ২০০৯ সালেই তিনি ডানকুনি-ফুরফুরা শরিফ রেলপথ বানানোর কথা বলেছিলেন। দু’বছরে জমি পর্যন্ত জোগাড় হয়নি। বরং ‘রেলকে জমি দিলে চাকরি মিলবে’ ঘোষণা করে বিপদে পড়েছেন। চাকরি যে মিলবে, সরকারীভাবে এদিনও বাজেটে ঘোষণা করলেন না মমতা। মানুষ কেন তাহলে বিশ্বাস করবেন? ২০০৯ সালেই আদ্রায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মমতা। দু’বছরে শুধু শিলা পুঁততে পেরেছেন। এন টি পি সি’র সঙ্গে কাজ করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। কাজ এগিয়েছে কতটা? ওইটুকুই! যে কাঁচড়াপাড়ায় রেলের প্রকল্প এখন টাকার অভাবে ও প্রাইভেট পার্টনারশিপের অভাবে স্থগিত রেখেছে রেল, যেখানে এখন শুধুই জলা আর জমি, দু’বার শিলা পোঁতা হয়েছে সেখানে, তা বিলকুল চেপে গিয়ে মমতা এবার ব‍‌লেছেন, ‘কাঁচড়াপাড়ার প্রোজেক্ট অন প্রসেস’। সেই কাঁচড়াপাড়ার ঘোষণাও মমতা করেছিলেন সেই ২০০৯ সালেই। ২০০৯ সালেই রেলের ১২৪টি প্রকল্পের কাজ বাকি ছিলো। সেসব বিচার না করে, মমতা সেবার বসুমতী অধিগ্রহণের কথা বলেছিলেন। এখন আর বসুমতীর নামও নেন না। ২০০৯ সালেই দীঘা-জলেশ্বর, হাসনাবাদ-হিঙ্গলগঞ্জ, তারকেশ্বর-মগরাসহ বিভিন্ন রেলপথ বাজেটে সংযোজিত হয়েছিলো। কাজ কতদূর? কেউ জানেন না।

        ২০১০ সালে আরও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছুটিয়েছিলেন মমতা। ‘পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র’ ছাড়া আর প্রায় সবকিছু রেলই করতে পারবে বলে ভাব দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে শুরু করে স্পোর্টস আকাদেমি সবই গড়ার ঘোষণা ছিলো। কলকাতায় স্পোর্টস আকাদেমি, পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে লালগড় পর্যন্ত ২৭টি রেল স্টেশনে (যদিও লালগড় নামে কোনো স্টেশন নেই) ‘নতুন আউটডোর হাসপাতাল ও ডায়গনোস্টিক সেন্টার’, শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে সিউড়ি পর্যন্ত ২৫টি স্টেশন ‘জেনারেল স্পেশালিটি হাসপাতাল’ ১৬টি স্টেশনে ‘মালটি স্পেশালিটি হাসপাতাল’ গড়ার ঘোষণা ছিলো। এবারের বাজেটে সেইসব কাজ কোথায় কী এগোলো, তার কোনও উল্লেখ নেই। আদতে কিছুই হয়নি। ২০১০ সালেই সাঁকরাইলে ডি এম ইউ কারখানা থেকে শুরু করে নিউ জলপাইগুড়িতে এক্সেল কারখানা, ৭টি কারখানার ঘোষণা ছিলো ‘বাংলার জন্য’! শুধুই শিলা পুঁতেছেন রেলমন্ত্রী। আর সাঁকরাইলে তো তাঁর দল তৃণমূলীরাই কারখানা করতে দেয়নি। কেন না জমির বিনিময়ে রেলে চাকরি দেওয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে সরকারী ঘোষণা করেনি রেল! মেট্রো রেল যে নিউ টাউনের উপর দিয়ে যাবে, তার শিলা পোঁতা হলে কী হবে, হিডকো কর্তৃপক্ষ ডিটেলস প্রোজেক্ট রিপোর্ট চেয়েছিলো, তা হয়নি বলে আজও দিতে পারেনি রেল! ফ্রেট করিডরের পূর্ব প্রান্তে শুধু শিলা পোঁতা ডানকুনিতে!

        তাহলে সব মিলিয়ে গত দু’বারের রেল বাজেট থেকে পুরানো কামরা আর ইঞ্জিন লাগিয়ে নতুন ট্রেন ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রাপ্তি এই দু’বছরে কী?

        শুধুই পি পি পি অর্থাৎ পাথর পোঁতা পার্টি।

No Employment (in Railways)! চাকরী নেই!

February 16, 2011

rail-chakri-nei

Employment in Railways is a Big Hoax!

February 14, 2011

            During the past few months Mamata Banerjee, our colourful Railways Minister is tomtoming about lakhs of employment in various railway zones. For instance, on 30th January, 2011 in Siliguri in a foundation-stone (for which she has been nicknamed in Bengal as Shila-Didi) laying ceremony she had announced publicly, “There is a total vacancy of 2 lakhs 37 thousand posts in the Railways. Those will be filled up. Applications will be invited in March & written examinations and interviews will be conducted in April. Everything has been decided.

            Now it is revealed by a circular of the Railway Board to all the Zonal Managers that the Railways wants “Re-engagement of retired staff on daily remuneration basis in exigencies of services” as there is “Acute shortage of staff in various categories” and as result of which there have been “hampering of railway services”. The circular is dated 13th January, 2011 and its no. is ‘E(NG)/2010/RC-4/6’.

            If this happens, that is, if retired staff is re-engaged, then how millions of unemployed youths of this country could hope to secure any employment in Indian Railway? We have not forgotten the hunger strike on the streets of Kolkata at Fairley Place by 400-odd candidates who were successful in all examinations and interviews for various posts in Chittaranjan Loco Factory at Chittaranjan, West Bengal but denied employment.

            Please read on in vernacular and comment…….

rail-reengagement of retired employees1

rail-reengagement of retired employees2

Trinamool Ekai 250!

November 24, 2010