Posts Tagged ‘syria’

US Missile Attack On Syrian Airbase

April 10, 2017

Resist US Attack on Syria

August 30, 2013

330517

Warmongering America

September 17, 2012

‘Congagement’

November 24, 2011

 

‘কন্‌গেজমেন্ট’

গৌতম দেব

    অন্তত ৫০ বছর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে সমানে টক্কর দিয়ে গেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মার্কিন আগ্রাসন রুখে দেবার ক্ষমতা ধরতো লেনিন-স্তালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিনীরা সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো পাকিস্তানী শাসকদের পিছনে। ভারত আক্রমণের প্রস্তুতিও চলছিলো। আর এক সুপার পাওয়ার, ভারতের অকৃত্রিম বন্ধু সোভিয়েত ইউনিয়ন এসে দাঁড়ালো ভারতের পাশে। মার্কিনী ছক বানচাল হলো। জন্ম নিলো বাংলাদেশ।

    ১৯৯১ সালে সোভিয়েতের পতনের পর স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন দেশের আনন্দ গোপন থাকলো না। দুই সুপার পাওয়ারের জায়গায় এখন বিশ্বে একমাত্র সুপার পাওয়ার — ইউ এস এ। দণ্ডমুণ্ডের একমাত্র কর্তা। আক্রমণ করলো পূর্বতন যুগোস্লাভিয়াকে; খণ্ডবিখণ্ড করলো সেই দেশটাকে। রাষ্ট্রপ্রধান মিলোসেভিচকে গ্রেপ্তার করে অন্য দেশের জেলে ঢোকালো। জেলের মধ্যে রহস্যজনকভাবে তিনি মারা গেলেন। সোভিয়েত নেই; আফগানিস্তান ধ্বংস করলো সাম্রাজ্যবাদ। সোভিয়েতের অনুপস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করে ইরাক দখল করলো; সাদ্দামকে খুন করলো। লিবিয়ায় গদ্দাফিকে খুন করলো। স্বাধীন দেশ পাকিস্তান। সেখান থেকে তুলে নিয়ে গেলো ওসামাকে এবং নিরস্ত্র লাদেনকে খুন করে সমুদ্রে ফেলে দি‍‌লো। এখন আক্রমণ শানাচ্ছে সিরিয়ার দিকে। অন্যদিকে বড় রকমের যুদ্ধ-প্রস্তুতি চলছে ইরানের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেদেশের আকাশে হানা দিচ্ছে প্রিডেটর (চালকহীন বিমান)। বোমা, মিশাইল ছুঁড়ছে; খুন করছে ইচ্ছামতোন। লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়ায় একের পর এক মার্কিন ঘাঁটি বানাচ্ছে ভে‍নেজুয়েলাসহ অন্যান্য বিদ্রোহী দেশগুলিকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেবার জন্য।

    কিন্তু সময় এগিয়ে যায়। ১৯৯১ থেকে আজ ২০১১। ২০টা বছর। মার্কিন দস্যুর সামনে উদ্ধত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে হাজির হয়েছে লাল চীন। মার্কিনীদেরও বলতে হচ্ছে আবার বিশ্বে জি-২ ফিরে আসছে! বিশ্ব ইতিহাসে মাত্র ২০-২৫ বছর সময়ের মধ্যে পিছন থেকে ঠেলে উঠে যেভাবে বিশ্বসভায় লাল চীন একনম্বর শক্তির মুখোমুখি উঠে এসেছে তা এককথায় অভূতপূর্ব।

    দুঃখজনক হলেও এটা ঘটনা যে, আন্তর্জাতিক দুনিয়ার দুই বৃহৎ কমিউনিস্ট পার্টি এবং সোভিয়েত ও চীনদেশ পরস্পরের সঙ্গে বিভিন্ন বিবাদের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে এবং সোভিয়েতের বিরুদ্ধে মার্কিন-চীন মিতালি হয়। আমেরিকার নানা রকমের সাহায্য চীন পায়। মার্কিন দেশও পায় চীনের বিরাট বাজার এবং বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের সমর্থন। এই সময়ে চীনে অর্থনীতি সংস্কারের বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হয় প্রধানত দেঙ শিয়াও পিঙ-এর নেতৃত্বে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে চীনের অর্থনৈতিক শক্তি। অফুরন্ত শ্রম দেবার লোক আছে চীনে। যোগ্য, শিক্ষিত কিন্তু সস্তা। খোলা অর্থনীতির দৌলতে আসতে থাকলো পুঁজি আর প্রযুক্তি। বিদেশের বাজার ঢেকে ‍‌দিলো চীনা পণ্যে। মার্কিন দেশ সহ নানান দেশ থেকে শিল্পপতিরা নিজ নিজ দেশের অনেক শিল্প গুটিয়ে চীনে গিয়ে পণ্য তৈরি শুরু করলো। আমদানির চা‍ইতে রপ্তানি অনেক অনেক গুণ বেশি। ফলে বিদেশী মুদ্রার বিশাল ভাণ্ডার গড়ে উঠলো। দেশ গঠনে, পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করতে লাগলো লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা। অকল্পনীয় নির্মাণযজ্ঞ শুরু হলো সারা চীনদেশজুড়ে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, অনেকেই বলাবলি শুরু করেছেন, চীন থেকে টাকা ধার করে মার্কিন দেশের ফুটানি চলছে।

    আফ্রিকা মহাদেশ থেকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে অনেকটাই হটিয়ে দিয়ে চীনদেশ সেখানে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন মাতব্বরি কমছে, চীনের প্রভাব বাড়ছে। পয়সা থাকলে, প্রযুক্তি থাকলে বোমা-বন্দুকের বা সৈন্যবাহিনী গড়তে অসুবিধা হয় না। ফলে মিলিটারি শক্তির ব্যাপারেও চীন এখন মার্কিন দেশকে খুব একটা ডরায় না।

    এমতাবস্থায়, মার্কিনমুলুকে এখন প্রধান বিষয় হচ্ছে কিভাবে চীনকে মোকাবিলা করা হবে। নানা মুনির নানা মত বেরিয়ে আসছে। অবশ্য সবাই চায় সর্বাগ্রে মার্কিন দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং সেটা মার্কিন আধিপত্য বিসর্জন দিয়ে নয়। কেউ জি-২ করে সহবাসের পক্ষে, কেউ জি-১-এর কৌলিন্য হারাতে প্রস্তুত নয়। তাই চীনের সাথে একটা লন্ডভন্ডের পক্ষে। লন্ডভন্ডওয়ালাদের রণনীতির নামকরণ হয়েছে কনগেজমেন্ট (congagement)। Containment (প্রভাব-সীমার বিস্তার রোধ করার নীতি) ‌‍‌+ Engagement (বিজড়িত করার নীতি)= Congagement! অর্থাৎ সাথে সাথে চলা আবার লেঠোলেঠি করা! সিনিয়র বুশ, ক্লিন্টন, জুনিয়র বুশ, ওবামা সবাই এই নীতিই নিয়ে চলেছেন।

    কমিউনিস্ট চীনের সাথে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন দেশের Congagement-এর কারণ কি? বুশ, ক্লিন্টনরা পরিষ্কার তিনটি কারণ মাথায় রেখেছেন। এক, জাতীয় স্বার্থ। প্রেসিডেন্ট নিকসন। যিনি চীনের প্রাচীর ভেদ করে প্রথম মার্কিন রাষ্ট্রপতি চীন সফর করেছিলেন। সঙ্গী অবশ্যই হেনরি কিসিংগার। বলেছিলেন, একটা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি দর্শন (‘‘Not a nation’s internal philosophy’’) বড় ব্যাপার না; যেটা দেখতে হবে তা হচ্ছে সেই দেশটা আমাদের সম্পর্কে এবং পৃথিবীর অন্য দেশ সম্পর্কে কি নীতি গ্রহণ করছে (‘‘its policy towards the rest of the world and toward us’’)। ব্যবসা-বাণিজ্য সহ পরিবেশ রক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, পরমাণু বোমা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি নানা বিষয় আছে যেখানে মার্কিন দেশ এবং চীন একসঙ্গে কাজ করতে পারে এবং তাতে মার্কিন দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হবে। দুই, চীনের সাথে লাগাতার যোগাযোগ রক্ষা করে চীনকে ভদ্রলোক বানানো যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চীন সদস্য হয়ে যাতায়াত শুরু করলে বিশ্ব সংস্কৃতির অংশীদার হয়ে পড়বে এবং একা থাকার বিকার থেকে মুক্ত হবে এবং পোষ মানবে (tame), শান্ত-নম্র হবে। তিন, তিয়েন-আন-মেনের পর মার্কিন দেশে চীনের সাথে সম্পর্কের প্রশ্নে তীব্র বিরোধিতা গড়ে ওঠে। চীনের বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু মার্কিন ব্যবসাদারদের একটা প্রভাবশালী অংশ চীনের সঙ্গে ব্যবসা করে পয়সা কামাচ্ছে। তারা বৈরিতার বিরুদ্ধে লবি শুরু করলো। অন্যদিকে চীন যুদ্ধং দেহী মনোভাব নিয়েই চললো। উলটো গীত গাইতে শুরু করলো ক্লিন্টন প্রশাসন। যোগাযোগ অথবা পুঁজি বিনিয়োগ বন্ধ করে নয়; বরং বাড়িয়ে চীনকে পরিবর্তন করার চেষ্টা চালাতে হবে। অবশ্য তিয়েন-আন-মেনের ঘটনার পর মার্কিন দেশ সামরিক এবং গোয়েন্দা সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে রাশ টেনেছিলো তা পরে আর তোলেনি।

    মধুর সম্পর্ক আর ফিরে আসছে না। অম্লমধুর। তিক্ত হচ্ছে। ২০০০ সালে জুনিয়র বুশ ঘোষণা করলেন চীন Strategic Competitor; Strategic Partner না। অন্যদিকে তাইওয়ান নিয়ে গন্ডগোলের মধ্যে এক চীনা সেনাধ্যক্ষ মন্তব্য করলেন যে, মার্কিন দেশ কি তাইওয়ানের জন্য লসএঞ্জেলসকে ত্যাগ করতে প্রস্তুত? অর্থাৎ যুদ্ধ বাধলে মার্কিন পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত লসএঞ্জেলস চীনা মিশাইলে ধ্বংস হবে। উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকলো। ফলে শুধু engagement নয়; Containment-এর প্রশ্নও বড় আকারে ওয়াশিংটনে কর্তাব্যক্তিদের সামনে হাজির হয়।

    চীনকে খর্ব করার প্রশ্নে তিন প্রকার ব্যবস্থা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গ্রহণ করে। প্রথম, নিজের শক্তি বাড়াও; দ্বিতীয়, সঙ্গী-সাথী বাড়াও। তৃতীয়, চীনের শক্তি কমাও।

    এক, শক্তি বাড়ানো। কথাটা বিশ্বময় এখন চালু যে, বিংশ শতাব্দীর শক্তির অক্ষরেখা ছিলো ইউরোপ এবং আতলান্তিক; কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে সেটা পালটে হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগর এবং এশিয়া। তাই প্রশান্ত মহাসাগর যেকোনো সময়ে অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়াও। তাই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত ১ লক্ষ মার্কিন সৈন্য মজুত রাখতে হবে। মার্কিন দেশের যতো যুদ্ধজাহাজ আছে তার অর্ধেক এখন প্রশান্ত মহাসাগরে নীল জলে প্রহরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ১১টি এয়ারক্রাফট কেরিয়ারের ৬টি সেখানে; ১৮টি সর্বাধুনিক ক্রুইজার এবং ডেস্ট্রয়ারের সব ক’টি; ৫৭টি আগ্রাসী সাবমেরিনের ২৬টি প্রশান্ত মহাসাগরে। এতো সাজসজ্জা কেন? ইউ এস এয়ারফোর্সের এক কমান্ডারের সোজাসাপ্টা জবাব — ‘‘The question is, how to deal with China’’

দুই, জোট বাঁধো। জাপান-মার্কিন মৈত্রী অনেক দিনের। জাপান-চীন সম্পর্কের ইতিহাস ভালো নয়। চীন-বিরোধী জোটে জাপানকে তাই চাই সর্বাগ্রে। একটাই ছোট্ট আপদ — জাপানের ‘‘Peace Constitution’’; যার নির্দেশ হচ্ছে যুদ্ধে নাম লেখানো চলবে না। কায়দা করে সময় সময় গাইড লাইন তৈরি করে সংবিধানকে পাশ কাটানোর চেষ্টা চলছে। জাপানের পর বড় শরিক অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া বেশ কিছুদিন ধরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে সাথে ঘুরছে। বিশেষ করে ৯/১১’র পর থেকে দেহ মন সঁপে দিয়েছে। ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ড একটু দূরে দূরে সরেছিলো। ওদের ম্যানেজ করে নিতে হবে, দুটো দেশকে মার্কিনীরা ঘোষণা করলো — ‘‘Non-NATO major allies’’ হিসাবে।

    আর এক শক্ত পিলার দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার সাথে ঝগড়া; চীনের অবস্থান এক হাত দূরে। তাই মার্কিন সৈন্য এনে রেখেছে নিজের ভূখণ্ডে। আর তাইওয়ান তো আছেই। ওরা তো টিকেই আছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বদান্যতায়। সিঙ্গাপুর ছোট দেশ। কিন্তু পয়সা আছে। দেশটার অবস্থানও জিও-পলিটিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। চীনকে সব মাল (তেলসহ) আনতে অথবা পাঠাতে হয় ওর পাশ দিয়ে মালাক্কা স্ট্রেইট হয়ে। মালাক্কা বন্ধ মানে, চীন শেষ। তাই ইন্দোনেশিয়াকেও জোটাতে চাইছে এই মহাজোটে। কত কিছুই না রাজনীতিতে ঘটে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ চীন ঘেরাও এর কাজে ভিয়েতনামকেও পেতে চাইছে। ভিয়েতনামের সাথে নানা ধরনের চুক্তি করছে।

    মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির পরামর্শদাতা Princeton University–র প্রফেসর এরন এল ফ্রিডবার্গ তার সদ্য প্রকাশিত বইতে লিখেছেন: ‘‘Of all the diplomatic balancing moves made during the late 1990s and early 2000s, the establishment of a quasi-alliance with India had the greatest long form potential.’’

    উনি দুঃখ করে লিখেছেন, ‘‘Throughout the Cold War, despite the fact that they shared a common language and commitment to democracy, the U.S and India had seldom been close.’’

    ভারত, চীন সম্পর্কে যেহেতু কিছু সমস্যা আছে, সীমান্ত সংঘর্ষও ঘটেছে অতএব সেই ক্ষত ধরে ভারতকে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড় করাও। সাম্রাজ্যবাদীদের এখন সাধ হয়েছে — ‘‘make India a Global Power’’ ভারত-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তির প্রশ্নে দরাজ হয়ে উঠলেন যুদ্ধবাজ বুশ। অথচ ভারত এবং চীনের উভয়ের অন্তরাত্মা চায় হাজার হাজার বছরের পুরাতন সভ্যতার দুটি দেশ বন্ধুত্বের প্রগাঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হোক। দুটো দেশের মাঝে শুধু উন্নতশীর হিমালয়। গৌতম বুদ্ধের উদারতার ত্যাগ, তিতিক্ষার স্নেহাশির্বাদ বর্ষিত হয়েছে দুটি দেশের প্রজ্ঞায়। চাল-চলনে, মননে বুদ্ধ, কনফুসিয়াসের দর্শনে সিঞ্চিত দুটি দেশ। তাই তো মাও জে দঙ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের সূচনায় সেনাপতিদের ডেকে বললেন — The lesson learned from the ancient campaign as Mao described it, was that China and India were not doomed to perpetual enmity – they could enjoy a long period of peace again. তিনি সেনাপতিদের স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, এর আগে দুটি দেশের মধ্যে ‘one and a half’ যুদ্ধ হয়েছে। সেই যুদ্ধের শিক্ষা যেন সেনাপতিদের মাথায় থাকে। ১৩০০ বছর আগে প্রথম যুদ্ধ হয়। এক ভারতীয় রাজন্যের সমর্থনে (তাকে অন্যায়ভাবে আর এক রাজন্য আক্রমণ করেছিলো) চীন সৈন্য পাঠিয়েছিলো। তারপর দু’দেশের সম্পর্ক আরও মধুর হয়। ‘Half war’ বলতে মাও বোঝান ৭০০ বছর পরে মঙ্গোলীয় তৈমুর লং-এর দিল্লি দখল (সে সময় চীন-মঙ্গোলীয়া এক ছিলো বলে ‘Half’!) এবং নৃশংসতার ইতিহাস সৃষ্টি করে। প্রায় ১ লক্ষ বন্দীকে তৈমুর লং-এর সেনারা হত্যা করে।

    এটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাও বোঝাতে চাইলেন যে, চীনা সৈন্যরা যেন ‘‘Restrained and Principled’’ অবস্থান নেয়। সেই চীনের সাথে মহাযুদ্ধে ঠেলতে চায় ভারতকে যুদ্ধবাজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। মার্কিনীরা তাদের যুদ্ধটা করাতে চায় ভারতের সৈন্যদের দিয়ে।

    তিন, চীনের শক্তি কমাও বা বাড়তে দিও না। চীন যাতে কোনোক্রমে মার্কিন দেশ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি না নিয়ে যেতে পারে সেটা দেখতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক সমরাস্ত্র বানাতে যে সব প্রযুক্তি লাগে তা চীনকে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। নিয়ন্ত্রিত হয় সরাসরি যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি। দুই কাজে লাগে অর্থাৎ সাধারণ পণ্য এবং মিলিটারি পণ্য এমন প্রযুক্তি রপ্তানিতেও নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা জারি হতে থাকে। স্যাটেলাইট রপ্তানিতে ক্লিন্টন বিধিনিষেধ জারি করেন। হাইস্পিড সুপার কম্পিউটারও। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চাপ দিয়ে চীনের অস্ত্র বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করান হয়।

    চীন এবং মার্কিন দেশের সম্পর্কের গতিমুখ এবং গতিপথ পর্যালোচনা করলে এটা পরিষ্কার যে, কেন আজকের দুনিয়ায় সমাজতন্ত্র বনাম সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্বকে প্রধান দ্বন্দ্ব হিসাবে আমরা মানি। সোভিয়েতের পতনের পর প্রায় একা কুম্ভ রক্ষা করার কায়দায় লাল চীন বিশ্বময় সমাজতন্ত্রের বিজয়-বৈজয়ন্তী তুলে ধরার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পতন থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং চীনের পশ্চাদ্‌পদতা বিবেচনা করে। সমাজতন্ত্র গঠনে তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড আমরা বুঝতে পারছি তা নয়, আমা‍‌দের মনে প্রশ্ন আছে, ভয়ও আছে। কারণ সোভিয়েত পতনের পর কেউ লাল চীনের পতন চায় না। চীন জিতুক এটাই আমরা চাই।

    আমাদের দেশ ভারত মহান। ভারত, চীন হাতে হাত মেলাক। ভারতে জনগণতন্ত্র কায়েম করতে চীনের শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।