Posts Tagged ‘working class’

CPI(M)’s Income From ‘Unknown Sources’

February 3, 2017

লক্ষ লক্ষ মানুষের সাহায্যই আমাদের ‘অজানা উৎস’

অভীক দত্ত

বছরখানেক আগে কাঁচড়াপাড়ায় সি পি আই (এম)-র এক কর্মী নিজের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ বাঁচিয়ে ২৫হাজার টাকা পার্টির জন্য দান করেছেন। অবসর গ্রহণের পরে বারাসতের এক রেলকর্মী প্রাপ্ত টাকা থেকে ২৫হাজার টাকা সাহায্য করেছেন। কলকাতায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মৃদুলা ঘোষ কদিন আগেই তাঁর প্রয়াত কন্যা সুরঞ্জনা ভট্টাচার্যের স্মৃতিতে ২লক্ষ টাকা দিয়ে গেছেন। উদাহরণ এরকম অজস্র রয়েছে। কেউ নিজের পি এফ গ্র্যাচুইটির টাকা হাতে পেয়ে দান করেছেন, কেউ মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ স্মৃতি পুরস্কার পেয়ে সেই অর্থ পার্টি তহবিলে দিয়েছেন, কেউ বা নিজের সারাজীবনের সঞ্চয় পার্টিকে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বামপন্থী আন্দোলনের জন্য সাহায্যের এমন অসংখ্য উদাহরণ ছড়িয়ে আছে। টাকার অঙ্ক বড় কথা নয়, কিন্তু মানুষের সাহায্য কী শক্তিধর হতে পারে তা যারা গ্রহণ করে তারাই টের পায়। টাকা আর মানুষের শুভকামনা এখানে একাকার হয়ে মিলেমিশে আমাদের শক্তি দিয়েছে। সি পি আই (এম) তার সংগঠন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনার জন্য মানুষের কাছ থেকে এভাবেই অর্থসাহায্য পেয়ে থাকে।কিন্তু কিছু সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে, অন্য সব রাজনৈতিক দলের মতো সি পি আই (এম)-র আয়ও রহস্যময়, অস্বচ্ছ। সি পি আই (এম)-রও আয়ের বেশিরভাগই নাকি ‘অজানা উৎস’ থেকে। এক কথায় ভূতুড়ে। উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার, এই রাজনৈতিক চৌর্যবৃত্তির রমরমা বাজারে সি পি আই (এম)-র গায়েও কালির ছিটে লাগানো। বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, দুর্নীতিতে সব রাজনৈতিক দলই সমান। মুড়ি আর মিছরি এক করে দেখানোর চেষ্টা।

সম্প্রতি দু-একটি সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, ‘‘২০০৪-’০৫ থেকে ২০১৪-’১৫। এই ১১ বছরে দেশের রাজনৈতিক দলগুলির তহবিলে মোট ১১,৩৬৭ কোটি টাকা চাঁদা জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই চাঁদার উৎস কী, তা কেউ জানে না।’’ অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এ ডি আর) নামের একটি সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্ট উদ্ধৃত করে ঐ সংবাদে অজানা উৎস থেকে আয়ের ক্ষেত্রে বি জে পি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং অন্যান্য দক্ষিণপন্থী দলের সঙ্গে সি পি আই (এম)-রও নাম উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, এই ১১ বছরে সি পি আই (এম)-র মোট আয় প্রায় ৮৯৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৪৭১.১৫ কোটি টাকা ‘অজানা উৎস থেকে’।

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে সি পি আই (এম)-র আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রায় প্রতি বছরের একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও কিছু সংবাদমাধ্যম সি পি আই (এম)-র আয়ের উৎস নিয়ে অপপ্রচার করেছে। কিছু আর্থিক পরিসংখ্যানকে তারা ‘অজানা উৎস’ জাতীয় তকমা লাগিয়ে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে এই অপপ্রচার সেরেছে এবং অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সি পি আই (এম)-কে এক পঙ্‌ক্তিতে বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল তাদের আয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের তোলা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করে না, বরং এড়িয়ে যায়। কিন্তু সি পি আই (এম) প্রতিবারই নিজেদের আয়ের উৎস ব্যাখ্যা করে জোরের সঙ্গে এর জবাব দিয়েছে, যদিও সংবাদমাধ্যমগুলি কখনোই সেই জবাব উল্লেখ করার সৌজন্যটুকুও দেখায় না।

অথচ আয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে সি পি আই (এম) রীতিমতো গর্ববোধ করতে পারে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলি যে প্রশ্নে অস্বস্তিতে কুঁকড়ে যেতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তরে সি পি আই (এম) গর্বের সঙ্গে বলতে পারে, আমরা কোনো পুঁজিপতি বা কর্পোরেট সংস্থার থেকে টাকা নিয়ে চলি না। সি পি আই (এম) তার সদস্যদের দেওয়া লেভি এবং শ্রমজীবী জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকায় পার্টি ও পার্টির সংগ্রামের কর্মসূচি পরিচালনা করে। রাজনৈতিক দলগুলিকে স্বচ্ছভাবে অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে টাটা শিল্পগোষ্ঠী একবার জাতীয়স্তরে স্বীকৃত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে চাঁদা হিসাবে চেক পাঠিয়েছিল। দিল্লিতে সি পি আই (এম)-র কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর এ কে গোপালন ভবনেও সেই চেক এসেছিল। কিন্তু সি পি আই (এম)-ই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা নিজেদের অপারগতার কথা জানিয়ে সেই চেক টাটাদের ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল। অন্য কোনো জাতীয় দল এই বলিষ্ঠতা দেখাতে পেরেছে? জনগণের সংগ্রাম পরিচালনার জন্য কেবলমাত্র জনগণের অর্থের ওপরেই নির্ভরশীলতায় বিশ্বাসী সি পি আই (এম)। এটা যদি গর্বের না হয় তবে রাজনীতিতে গর্বের আর কি থাকতে পারে!

অন্য রাজনৈতিক দলগুলির আয়ের উৎসের সঙ্গে সি পি আই (এম)-র আয়ের উৎসের মিল খুঁজতে গেলে গোড়াতেই হোঁচট খাওয়াটা অবশ্য স্বাভাবিক। একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে, কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের প্রতিমাসে নিয়মিত লেভি দেওয়াটা বাধ্যতামূলক। পার্টির গঠনতন্ত্রের ১০নং ধারায় স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে কোনো ব্যক্তিকে সি পি আই (এম)-র সদস্য থাকতে গেলে তাঁকে পার্টির দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সঙ্গে সঙ্গে আয় অনুসারে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি নির্ধারিত হারে প্রতি মাসে লেভি দিতে হবে। পরপর তিন মাস কোনো কারণ ছাড়া কেউ লেভি জমা না দিলে এমনকি তাঁর সদস্যপদও খারিজ হয়ে যেতে পারে। সি পি আই (এম) গঠিত হওয়ার পরে ছয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবঙ্গে পার্টির সদস্য সংখ্যা ছিল ১১হাজারের মতো। এখন পার্টি সদস্যের সংখ্যা আড়াই লক্ষের কাছাকাছি। বিভিন্ন আয়ের পার্টি সদস্য রয়েছেন। ৫০০০ টাকা আয় করেন এমন সদস্যও ন্যূনতম ২৫ টাকা লেভি দেন প্রতি মাসে। প্রতিটি পার্টি সদস্যকে প্রতি মাসের লেভি এবং প্রতিবছর সদস্যপদ পুনর্নবীকরণের জন্য ৫টাকা করে জমা দিতে হয়। যে-কোনো কমিউনিস্ট পার্টির মতই সি পি আই (এম)-র আয়ের মূল উৎস পার্টি সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া এই লেভি। গণসংগ্রহ প্রত্যেক পার্টি সদস্যের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য ও শৃঙ্খলা। মোট সংগ্রহের ৭০ভাগই আসে ক্ষুদ্র সংগ্রহ থেকে।

লেভি ছাড়াও মাঝে মাঝেই পার্টির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিশেষ তহবিলের ডাক দেওয়া হয়। তাতেও কখনো এক দিনের আয় অথবা অর্ধেক দিনের আয় পার্টি সদস্যদের পার্টি তহবিলে জমা দিতে হয়। তাছাড়া, পার্টির প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদ, বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধিদের প্রাপ্য সরকারি বেতন বা ভাতার টাকাও সাধারণভাবে পার্টির তহবিলেই জমা দিতে হয়। এমনকি, অবসরপ্রাপ্ত সাংসদ বা বিধায়করা পেনশন বাবদ যে টাকা পান, তারও সবটা বা অধিকাংশ টাকাই পার্টি তহবিলে জমা পড়ে। কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া অন্য দলে এমন প্রক্রিয়ার কথা কেউ ভাবতে পারে? ভাবুন, সমর মুখার্জি, নীরেন ঘোষ এবং অনেক আত্মোৎসর্গী সাংসদ নেতার কথা, যাদের এক টাকাও সঞ্চয় ছিল না। অন্য কোন দলে এমন দৃষ্টান্ত আছে! প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মানুষের সাহায্যে গণ-অর্থসংগ্রহে সাড়া পায় আমাদের পার্টি।

এর চাইতে এমন ভাবা এবং ভাবানো হয়তো অনেক সহজ যে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি যেভাবে টাকা সংগ্রহ করে উৎস গোপন করে থাকে, সেভাবেই উৎস গোপন করে আয় করছে সি পি আই (এম)।

কিন্তু আয়কর আইন এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ২০হাজার টাকার বেশি অঙ্কের অর্থদাতাদের নাম জানাতে বাধ্য যে-কোনো রাজনৈতিক দল। সি পি আই (এম) এই অর্থদাতাদের নাম নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশন এবং আয়কর দপ্তরকে জানিয়ে আসছে আইন মেনে। যদিও সি পি আই (এম)-র মোট আয়ের মাত্র ১শতাংশেরও মতো আসে এমন অর্থদাতাদের দান থেকে। মুখ্য আয় হয়ে থাকে, পার্টি সদস্যদের লেভি (৪০শতাংশের মতো) এবং গণসংগ্রহ থেকে। কমিউনিস্ট পার্টির ভাণ্ডার প্রকৃত অর্থেই রয়েছে গরিবের ঘরে ঘরে। অসংখ্য গরিব মানুষ পার্টির সংগ্রামকে নিজেদের সংগ্রাম মনে করে দশটাকা বিশ টাকা করে দান করে থাকেন। বহু গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের সাহায্য এবং কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রতি দৃঢ় সমর্থন থেকে কিছু সচ্ছল মানুষের নিজেদের সর্বস্ব দেওয়ার অজস্র নজির এরাজ্যে রয়েছে। ২০১৫ সালের ৬ই আগস্টের সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের জন্মদিন উপলক্ষ সভার মঞ্চে এক সদ্য পুত্রহারা বৃদ্ধা জননী ২লক্ষ টাকা তুলে দিচ্ছেন সূর্য মিশ্র এবং বিমান বসুর হাতে।

জেলায় জেলায় সি পি আই (এম)-র অজস্র পার্টি দপ্তর এবং স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে যা গড়ে উঠেছে পার্টি নিবেদিত প্রাণ কোনো ব্যক্তির দান করা জমি অথবা বাড়িতে। এই সমস্ত আয় এবং সম্পদ এসেছে অন্য দলের মতোই ‘অজানা উৎস’ থেকে বলে দেওয়ার সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই। কমরেড সরোজ মুখোপাধ্যায়ের কথায় ‘এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে পার্টির অর্থের প্রয়োজনের কথা বোঝাতে হবে। কি কি কাজে টাকা খরচ হয় তা সাধারণভাবে তাঁদের বোঝাতে হবে’। শ্রমিকশ্রেণির পার্টি গরিবের পার্টি হলেও এ পার্টির ভাণ্ডার অফুরন্ত। এজন্য শত আক্রমণেও এই পার্টি ভেঙে পড়ে না। কারণ শ্রমজীবী জনগণের সংখ্যা শোষক শ্রেণির জনসংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। প্রত্যেকে দশ টাকা বা পাঁচ টাকা করে দিলেও লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছ থেকে কমিউনিস্ট পার্টির অর্থসংগ্রহ সম্ভব, কমরেড সরোজ মুখোপাধ্যায়ের শেখানো পথ এলাকায় এলাকায় আমরা অনুসরণ করে চলেছি।

খনি অথবা স্পেকট্রামের বরাত দিতে মন্ত্রীদের যখন ঘুষ নিতে দেখা গেছে, আম্বানি আদানিদের টাকায় যখন রাজনৈতিক দলের রমরমা চলছে, যখন মানুষ চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন চিট ফান্ডের টাকা লুটে একটি রাজনৈতিক দল দাপটের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে সরকার চালাচ্ছে, চোখের সামনে টেলিভিশনের পর্দায় ঘুষ নিতে দেখা যাচ্ছে শাসকদলের মন্ত্রী সাংসদদের, তখন রাজনীতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কোন্‌ মনোভাব তৈরি হচ্ছে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।সর্বশেষ সাধারণ বাজেটে মোদী সরকার রাজনৈতিক দলকে ২হাজার টাকার বেশি নগদে অনুদান দেওয়া যাবে না বলে যে ঘোষণা করেছে সেটা নেহাতই মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া ছাড়া কিছু নয়। নয়া উদারনীতির যুগে নির্বাচনে সীমাহীন অর্থশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার, মাফিয়াদের পেশিশক্তি, রাজনীতির অপরাধীকরণ জনগণের অধিকারকে প্রহসনে পরিণত করছে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের সামনে গুরুতর বিপদ তৈরি করছে। তা ঠেকানোর কোনো প্রচেষ্টা সরকারের তরফে দেখা যাচ্ছে না। একমাত্র বামপন্থীরাই এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধির কাজ ছাড়াও আমূল নির্বাচনী সংস্কারের দাবি করেছে।

সি পি আই (এম) চায় রাজনৈতিক দলকে কর্পোরেটের দান সবদিক থেকে নিষিদ্ধ করা হোক। তার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় তহবিল তৈরি করে নির্বাচনে ব্যবহার করা হোক। যাতে টাকা নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলকে কর্পোরেটের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে না হয়।এই জটিল পরিস্থিতিতে দুর্নীতির মূলে থাকা রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চিনিয়ে দেওয়াটাই জনগণের কাছে প্রয়োজনীয় ছিলো। দক্ষিণপন্থী রাজনীতি আর বামপন্থী রাজনীতির ফারাকটা আরও স্পষ্টভাবে চেনানোর দরকার ছিলো। কিন্তু সংবাদমাধ্যম করছে তার উলটোটাই। তারা সাধারণভাবে সমগ্র রাজনীতিকেই চুরির দায়ে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা করছে, সাদা-কালো মিশিয়ে দিচ্ছে, ভিন্নধরনের প্রক্রিয়ায় আয় সংগ্রহ করা রাজনৈতিক দল সি পি আই (এম)-কে এক পঙ্‌ক্তিতে বসাচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে ‘সবাই সমান’ বলে বিরাজনীতির স্রোত তৈরির চেষ্টা করছে

এমন অপচেষ্টা রাজনীতিতে দুর্নীতি বন্ধ করতে সাহায্য করবে না, বরং ‘সবাই সমান’ রটনার আড়ালে প্রকৃত দুর্নীতিগ্রস্তদের পার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

এই লেখা শেষ করবো, গান্ধীজীকে লেখা পি সি যোশীর একটি চিঠির অংশ উল্লেখ করে। একদল কমিউনিস্ট-বিদ্বেষীর কাছ থেকে ক্রমাগত কুৎসা শুনে ১৯৪৪ সালে গান্ধীজী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক পি সি যোশীকে চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘আপনাদের পার্টির আয় ব্যয়ের হিসাব কি আমি দেখতে পারি?’ সশ্রদ্ধ নম্রতা নিয়ে যোশী তাঁকে ইতিবাচক জবাবই দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটি অনুরোধ করেছিলেন। যোশী লিখেছিলেন, ‘আমি আপনাকে আরেকটি পালটা অনুরোধ করার লোভ সামলাতে পারছি না। আমি যখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াবো আপনি আপনার একজন প্রতিনিধি পাঠাবেন। তিনি দেখতে পাবেন, আমাদের পার্টির কথা শুনতে কীভাবে দশ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার মানুষ বের হয়ে আসছেন। তাঁদের উৎসাহ উদ্দীপনা আপনাকে ১৯২০ সালের দিনগুলির কথা মনে পড়িয়ে দেবে। সবশেষে আমি তাঁদের কাছে পার্টি তহবিলে দান করার জন্য অনুরোধ করবো। হাজার হাজার মানুষ কীভাবে দান করছেন তা দেখে আপনার প্রতিনিধির চোখে জল চলে আসবে।’

আজকে যারা সি পি আই (এম)-র আয়ের ‘অজানা উৎস’ সন্ধান করতে চাইছেন, তাঁদেরকেও যোশীর মতোই পালটা অনুরোধ করতে ইচ্ছা করে। গর্ব করে বলতে পারি, দেখতে পাবেন সেই ঐতিহ্য সি পি আই (এম) রক্ষা করেই চলেছে। তবে মোদী বা মমতার দেওয়া চশমাটা খুলে আসবেন। খোলা চোখে দেখলে আপনার কাছে ‘অজানা’ তথ্য জানা হয়ে যাবে।

আমরা বিশ্বাস করি, শ্রেণিশত্রুর আক্রমণের ফলে কমিউনিস্ট পার্টি কোনদিন দুর্বল হয় না। আরো শক্তিশালী হয়। আরো পরিণত, সুদৃঢ় পার্টিতে পরিণত হয়। সেই আক্রমণের মধ্য দিয়েই আমরা পথ হাঁটছি।


   সৌজন্যেঃ গণশক্তি

Indian Working Class Creates New History

February 29, 2012

 

28th February Strike Reveals the Class Character of the Ruling Parties

February 27, 2012

 

বিভাজনের ধর্মঘটে উন্মোচিত শাসকের শ্রেণীচরিত্রও

নিজস্ব প্রতিনিধি

    এক অংশের সক্রিয় ক্ষোভ আরও আরও অনেক বড় অংশে ছড়িয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। দ্রুত, বড়ই দ্রুত। জেদ যে বড়ই অদম্য। কি শাসকের, কি শোষিতের। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। কার কাছে ? কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষের কবজির জোর যে একটু বেশিই। আগামী ২৮শে প্রমাণ হবে গোটা দেশে তো বটেই, এরাজ্যেও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ ছাড়া দেশ অচল।

    এখন ধর্মঘটে আপত্তি তাঁর। কিন্তু বরাবরই কি তাই? বাংলার মানুষের স্মৃতি এতটা ফিকে নয়। তাই সাবলীলভাবেই স্মরণ করা যেতে পারে ১১বছর আগে গত ২০০১সালের ৫ই জানুয়ারি দিনটি। রাজ্যে ৩৫৬ধারা জারির দাবিতে ১২ঘণ্টার বাংলা বন্‌ধ ডেকেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। ৩৬টি সরকারী বাস, ট্রাম ভাঙচুর পোড়ানো হয়েছিল। ২০জন চালক, কন্ডাক্টর গুরুতর আহত হয়েছিলেন ধর্মঘটী তৃণমূলীদের আক্রমণে। বোমা মেরে এক ছাত্রীকে গুরুতর আহত করা হয়েছিল। ঝাড়গ্রামে এক সি আই টি ইউ কর্মীর হাত কেটে নেওয়া হয়েছিল। বন্‌ধ সমর্থকদের আক্রমণে ২৬জন সরকারী কর্মচারী সেদিন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই রক্তাক্ত ধর্মঘটের মাস ছয়েক আগেই ২০০০সালের ৩১শে আগস্ট আনন্দবাজারের লেখনীতে ‘রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী’ শিল্পপতিদের সঙ্গেই বৈঠকে ঘোষণা করেছিলেন ‘আর কখনও বন্‌ধ ডাকবো না।’ কিন্তু সেই মেরুতে অবস্থানের মেয়াদ কতদিনের ছিল? সাকুল্যে ৬মাস।

    শুধু সেই বছরেই নয়, তার আগে পরেও রয়েছে সেই তৃণমূল নেত্রীর বাংলা বন্‌ধ অবরোধ তাণ্ডবের কর্মসূচীর একাধিক নজির। অতীতের পাতা ওলটালে দেখা যাবে ঠিক তার পরের বছর ২০০২-এর ১০ই জানুয়ারি মমতা ব্যানার্জি এবং এস ইউ সি ১২ঘণ্টার বাংলা বন্‌ধ ডেকেছিলেন। ফের ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবলীলা চলেছিল। এর ঠিক পাঁচ মাস পরেই একা মমতার ফের ১২ঘণ্টার বাংলা বন্‌ধ। ফের হামলা, ভাঙচুর। এমন কোন বছর যায়নি যে বছর তৃণমূল বন্‌ধ ডাকেনি। ২০০৪ সালে তিন তিনবার বন্‌ধ ডেকেছিল মমতা ব্যানার্জির দল। শুধু তাই নয়, তৃণমূল নেত্রীর অতীতের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বাস পোড়ানো, পথ অবরোধ করা, বন্‌ধের নামে হিংসা ছড়ানোর কর্মসূচী। জড়িয়ে রয়েছে রাষ্ট্রের সম্পত্তি ধ্বংস, বিধানসভা ভাঙচুর করার বেনজির তাণ্ডবের ইতিহাস। তাঁর দলীয় অনুগামীদের বর্বর হামলায় ঐতিহ্য খুইয়েছিল রাজ্য বিধানসভা।

    যদিও এই দেশজোড়া ধর্মঘট তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেনি এই ধর্মঘট। কেন্দ্রে যে সরকারের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন, সেই সরকার ফেলাও এই ধর্মঘটের লক্ষ্য নয়। অর্থাৎ তাঁর এক কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রী, ৭আধামন্ত্রীর চাকরি যাওয়ারও উদ্বেগ থাকার কথা নয়। বরং ধর্মঘটের সঙ্গে থাকা দাবি তো এরাজ্যের আম জনতার, খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে। শুধুমাত্র কেন্দ্রের সরকারের নীতি বদলের লক্ষ্যেই এই দেশজোড়া সাধারণ ধর্মঘট। তবু কেন এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমন দেশজোড়া শ্রমিকশ্রেণীর বেনজির ঐক্যের ভিত্তিতে ডাক দেওয়া ধর্মঘটের কর্মসূচী ভাঙতে সরকারী ও দলীয় সর্বশক্তি প্রয়োগে নেমেছেন? এরাজ্যের মতো দেশের আর কোনো রাজ্য সরকার খুল্লাম খুল্লা ধর্মঘট বানচাল করতে পথে নামেনি। এমনকি কেন্দ্রের সরকারও এই দেশজোড়া ধর্মঘট বানচাল করতে রাষ্ট্রশক্তি নিয়ে সর্বাত্মক প্রয়োগে নামেনি। কিন্তু মায়ের চেয়ে মাসির দরদ একটু বেশিই।

    ধর্মঘট বানচাল করতে ধর্মঘটের দুই সক্রিয় নেতাকে খুন করতে হল দলীয়বাহিনী দিয়ে? ধর্মঘটের পথ আটকাতে সার্ভিস ব্রেক-এর হুমকি ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে সরকারী কর্মচারীদের উদ্দেশে। রাজ্যের পরিবহন কর্মীদের বেতন বন্ধের ফতোয়া জারি হয়েছে। বেআইনী অটোকে ‘আইনী’ অটো বানানোর প্রলোভন আর আইনী অটোর গায়ে ‘বেআইনী’ ছাপ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও এসেছে এই ধর্মঘটকে বানচাল করতেই। এখানেই শেষ নয়। তারপরও শুরু হয়েছে পাড়ায় পাড়ায় আক্রমণ, হুমকি, জুলুমের নলের নিচে ২৮শে ঘর ছেড়ে বেরনোর। রাজ্যে এর আগের ১৩টি দেশজোড়া ধর্মঘটের সঙ্গে এবারকার ধর্মঘটের ফারাক এখানেই। এর আগের ১৩টি ধর্মঘটের সময় রাজ্যে ছিল বামফ্রন্টের সরকার। আর সেই সরকারের মেয়াদে কোন ধর্মঘটীকে খুন হতে হয়নি। তফাত এটাই যে আজ হিংস্র আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়েই রাজ্যের মানুষ এই ঐতিহাসিক ধর্মঘটের সাথী হচ্ছেন। এই আন্দোলন সংগ্রামের পথেই হারানো দুই সাথীকে স্মরণ করেই তাই রাজ্যের সাধারণ মানুষ নিজেদের সংগ্রামী পরিচিতি সত্তাকে জাগিয়েই ২৮শে’র ডাকে সাড়া দেবেন। দেবেনই।

    বড় ঐক্যের জমিতে দাঁড়িয়েই এবারের ২৮শে’র লড়াই। দেশের শাসকদলের পক্ষের শ্রমিক সংগঠনও (INTUC) এই লড়াইতে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ধর্মঘট সংগঠিত করছে। শুধু এদেশে নয়, গোটা দুনিয়া জুড়েই শ্রমজীবীর ঐক্যের প্রক্রিয়া আজ জারি। এক হয়ে যাচ্ছে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন। দুই মেরুর এই বিভাজনেই স্পষ্ট অবস্থান ফুটে উঠছে এরাজ্যের শাসকদলের চরিত্র। স্পষ্ট হচ্ছে অসংগঠিত শ্রমিকের স্বার্থের পক্ষে নেই কেন্দ্রের ও রাজ্যের সরকার। দেশজোড়া শ্রমিক কর্মচারীদের পেনশনের নিরাপত্তা চায়না এই দুই সরকার। শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিও চায় না এই শাসক দল। এই স্পষ্ট বিভাজনের রাজনীতিতেই দেশের খেটে খাওয়া মানুষও আজ স্পষ্ট অবস্থান নিতে চলেছে। তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে চলেছে। বেপরোয়া স্বৈরাচারীর চাবুক দিয়ে সেই ক্ষোভকে সামলানো যাবে তো?

We are 99%

February 1, 2012

 

Manmohan Wants Soft Labour Laws

November 7, 2011

 

‘নমনীয়’ শ্রম আইনের ষড়যন্ত্র রুখছেন ঐক্যবদ্ধ শ্রমজীবীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি

    ৬ই নভেম্বর— শ্রমিক থাকবে, কিন্তু শ্রম আইন থাকবে না। ফতোয়ার ভাষা তা-ই। কেন্দ্রের মনমোহন সিং সরকার সরাসরি তা বলছেও। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শ্রম সম্মেলনের মঞ্চেই বলছেন, ‘নমনীয়’ করতে হবে শ্রম আইন। তা না হ’লে কর্মসংস্থান বাড়বে না।

    দেশজুড়ে ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বের পালটা প্রশ্ন, নমনীয় মানে কী? আইন তো মানাই হচ্ছে না। যা খোলাখুলি অমান্য করা যায়, তা-ই তো শ্রম আইন। অভিযোগ যে কেবল ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বের নয় বরং, দেশের কলে-কারখানায় কর্মরত মানুষের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা তার প্রমাণও রয়েছে। ৮ই নভেম্বরের আগে তো বটেই, এমনকি দেশের নতুন সরকার দু’বছরও পার করার আগে দেশজুড়ে ধর্মঘট করেছেন শ্রমজীবী মানুষ। শামিল হচ্ছেন একের পর এক আন্দোলনে। ক্ষোভের অভিঘাত এতটাই যে প্রধানমন্ত্রীর নিজের দলেরই ট্রেড ইউনিয়নকে ধর্মঘটে খোলা সমর্থন জানাতে হচ্ছে।

    এদেশে বড়জোর শ্রমজীবী মানুষের আট শতাংশ খাতায় কলমে শ্রম আইনের আওতায় থাকেন। নয়া-উদারনীতির সময়ে আয়তন সমানে কমেছে সংগঠিত ক্ষেত্রের। বন্ধ কারখানার শ্রমিক কাজ হারিয়ে শহরে রিকশাচালক হতে বাধ্য হয়েছেন। হচ্ছেন। সমানে বাড়ছে অসংগঠিত ক্ষেত্র। ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্ব কড়া অভিযোগ তুলে বলেছেন, এমনকি ওই আট শতাংশও কাজের সময়, কাজের নিরাপত্তা, ন্যূনতম বেতন বা অবসরকালীন সুবিধার মতো বিষয়ে আইনী সুরক্ষা পান না। রাজধানী দিল্লির পাশে গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদের মতো শিল্পাঞ্চলের বহু ইউনিটে কারখানার খাতায় অনেক শ্রমিকের নামই রাখা হয় না। তার আবার আইন!

    ইউ পি এ- ২ সরকারের স্থির লক্ষ্য, যেটুকু আছে। তা-ও তুলে দিতে হবে। এ’বছরের গোড়ায় সংসদে সেই অভিমুখেই বিল আনা হয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থার সংজ্ঞা বদল করতে। সংসদেই সি আই টি ইউ সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বলেছিলেন, আটাত্তর শতাংশ কারখানাই চলে যাবে শ্রম আইনের আওতার বাইরে। ‘নমনীয়তা’র মানেও তাই। বিভিন্ন শ্রম আইন এমনভাবে বদল হবে যাতে বেতন, মজুরী বা বিধিবদ্ধ পাওনা তো বটেই। এমনকি, সংগঠিত ইউনিয়ন গড়ার অধিকারও ছাড়তে হবে শ্রমিকদের। আর মালিকদের হয়ে যে কোনো অসন্তোষ দমনে কড়া, আরো কড়া পন্থা নিতে বাধা থাকবে না সরকারের।

    সরকারের সঙ্গে মালিকদের নিবিড় যোগ বারেবার সামনে আসছে। সে তথ্য তুলে ধরছেন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শামিল ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্ব। যেমন কিছুদিন আগেই হলো হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের মারুতি কারখানায়। যেখানে রুষে ওঠা শ্রমিকরা লড়ে গিয়েছেন মালিকের পেটোয়া ইউনিয়নের বদলে নির্বাচিত ইউনিয়নের অধিকার চেয়ে। আর হরিয়ানার কংগ্রেস সরকার সেঁটে থেকেছে মালিকদের পাশে। যে লক্ষণ খুলে-আম দেখাতে শুরু করেছে এ’ রাজ্যের চারমাসের কংগ্রেস-তৃণমূল সরকারও। কানোরিয়া জুট মিল থেকে চা বাগানে।

    কেবল সুজুকি ইন্ডিয়ার মারুতিই নয়। এমনই হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে হুন্ডাই মোটরস, ফক্সকন, নোকিয়ার মতো বহুজাতিকদের কারখানায়। যার অনেকগুলি আবার ‘সেজ’ চিহ্নিত এলাকায়। যেখানে শ্রম আইন না মানার ছাড়পত্র দিয়েই আনা হয়েছে বিনিয়োগ। গাজিয়াবাদে অ্যালায়েড নিপ্পন সংস্থায় আবার দাগী দুষ্কৃতীকে করে দেওয়া হয়েছে ম্যানেজার। শ্রমিকদের মুখ চাপা রাখতে দুষ্কৃতীদের দায়িত্ব দেওয়ার বহু খবর ঘুরছে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলিতে।

    দেশের শ্রমিক আন্দোলন জানিয়ে দিয়েছে কেন মানা যাচ্ছে না মনমোহন সিংয়ের যুক্তি। তাঁরা বলছেন, নয়া উদারনীতির বাধ্য অনুষঙ্গ হিসেবে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগে চোখ বুঁজে থাকা হয়েছে। কিন্তু, তাতে সংগঠিত ক্ষেত্র বাড়েনি। বরং, বিপন্ন হয়েছে শ্রমজীবী মানুষের কোটি কোটি পরিবার। শিল্প সমীক্ষার তথ্যও তো জানাচ্ছে সার সত্য- কমছে মজুরী, বাড়ছে মুনাফা। মডেল গুজরাট মজুরীর অংশের বিচারে দেশের ২০টি বড় রাজ্যের মধ্যে ১৫-তে। আর, দারিদ্র্য কমানোর হারে ১১তম।

    সরকার কার পাশে তা-ও আরো স্পষ্ট করেছিল ২০০৮’র মন্দা। কেবল প্রথম দফায় দেশের শিল্প সংস্থার জন্য ৬০হাজার কোটি টাকার ছাড়ের প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। সি আই টি ইউ-র দাবি ছিল, প্যাকেজের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হোক শ্রমিক ছাঁটাই না করার শর্ত। তথ্য বলছে, মন্দার সময়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ হারিয়েছেন ১৫লক্ষ মানুষ। সে দাবিতে কান দেয়নি সরকার। মালিকরা একদিকে প্যাকেজের ছাড় রেখেছে। অন্যদিকে, সঙ্কটের কথা বলে ছাঁটাইও চালিয়েছে। ছাঁটাই সহজ, কারণ শ্রম আইন তো ‘নমনীয়’।

    ইওরোপ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন সঙ্কট। যে সঙ্কট কেবল কোনো সরকার বা সংস্থার নয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার। ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি জানিয়েই দিয়েছেন, সঙ্কটের প্রভাব পড়বে ভারতেও। মানে আবার ‘বেল আউট প্যাকেজ’। আর অন্যদিকে আবার ছাঁটাই।

    সে আক্রমণ মোকাবিলারও ডাক দিচ্ছে ৮ই নভেম্বর।